খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এ দুঃসময়ে রাতদিন ছুটছেন বোয়ালখালীর দুই মানবিক কর্মকর্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
এ দুঃসময়ে রাতদিন ছুটছেন বোয়ালখালীর দুই মানবিক কর্মকর্তা

বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

পূজন সেন, বোয়ালখালী প্রতিনিধি : প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের আঘাতে থমকে গেছে পুরো বিশ্ব। মৃত্যুর মিছিলে হাহাকার করছে প্রতিটি দেশ। করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে বাংলাদেশে।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সহজ সরল মানুষগুলোকে এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করে চলছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া মরণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে শুধুমাত্র দায়িত্ব বা কর্তব্যের খাতিরে নয় প্রাণের তাগিদে এ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন এ দুই মানবিক কর্মকর্তা।

উপজেলার মানুষগুলোকে এ সংক্রমণ থেকে রক্ষায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা প্রয়োজন। সেই চিন্তা থেকে সবার প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬০ পিস পিপিই ( পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন। এছাড়া তারই আহ্বানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়, বিদ্যানন্দ ৮ পিস ও এস আলম ৫০ পিস পিপিই দিয়ে সহযোগীতা করেন।

প্রবাসীদের হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করা, স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা, জনসমাগম কমানো, অসহায় পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা প্রদান, দ্রব্যমূল্যের কৃত্রিম সংকট এবং ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.মোজাম্মেল হক চৌধুরী নিরলস কাজ করে চলেছেন। চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলার প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এসব কাজে করতে মোকাবেলা করতে হচ্ছে গুজব ও কুসংস্কারসহ নানা ধরণের প্রতিকূলতার সাথে।

তবে এ যুদ্ধ যে প্রতিটি নাগরিকের। তাই একাজে অন্যদেরও সম্পৃক্ত করতে লাগলেন নানাভাবে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে। তাৎক্ষণিক খবরাখবর পেতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলছেন এলাকাবাসীর সাথে। একই সাথে দেশ বিদেশের খবরও রাখতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে ছড়িয়ে পড়ে কভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস। বাংলাদেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়। ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সেনাবাহিনী মাঠে নামে। ভালোই কাটছিলো দিন তবে গত বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) রাতে বোয়ালখালী উপজেলার এক বৃদ্ধ শনাক্ত হন করোনা আক্রান্ত হিসেবে।

১৫ এপ্রিল ফেসবুক স্ট্যাটাসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী লিখেছেন, ” সাধারণ ছুটির পর সেনাবাহিনী মাঠে নামলে কাজ গতি আরো বেড়ে যায়। ১৪ এপ্রিল রাত ৯টায় যখন বাসায় ফিরি তখন পর্যন্ত মানসিক প্রশান্তি ছিলো যে বোয়ালখালী এখনো ‘করোনা’মুক্ত।”

‘কিছুক্ষণ পর যখন জানলাম (বোয়ালখালী উপজেলার এক ব্যক্তির শরীরে করোনা পজেটিভ) তখন একরাশ হতাশা ঘিরে ধরলো।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, নিজেদের ঝুঁকিও কম নেই এতে। ভাবতে হচ্ছে এ কাজে সম্পৃক্ত প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কথাও। তাদেরও পরিবার পরিজন রয়েছে। এ সংক্রমণ প্রতিরোধ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে একা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না আমরা প্রত্যেকে সচেতন না হই।

সরকার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে সহযোগিতা করছে। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরও দায়িত্ব রয়েছে নিজের পরিবার ও সমাজের প্রতি।

বিনাকারণে ঘোরাফেরা বন্ধে, আইন অমান্য করায়, দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে বোয়ালখালীবাসীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে জরিমানাও করেছে উপজেলা প্রশাসনের এ দুই কর্মকর্তা। নিয়েছেন সামাজিক দূরত্ব মেনে খোলা মাঠে অস্থায়ী কাঁচাবাজার বসানো, উপজেলা পরিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানায় যাতায়াতকারীদের নিশ্চিতকরণে হাতধোয়ার বেসিন বসানো ও উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস এবং পৌরসভার সহায়তায় জীবাণুনাশক ছিটানোসহ সামাজিক নানা উদ্যােগ। এছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি কমিটিও গঠন করা হয় চৌকস পরিশ্রমী ব্যক্তিদের নিয়ে।

তারপরও যেন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। এক শ্রেণির লোকজন বাইরে ঘোরাফেরা করছেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে পড়লে নানান অজুহাত দিচ্ছেন অথবা ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ওই মানুষগুলো সংক্রমিত হতে পারেন এমন আশঙ্কায় ভুগছেন উপজেলার সচেতন নাগরিকরা।

গতকাল ১৮ এপ্রিল ফেসবুক লাইভে এসে এনিয়ে শঙ্কা আর হতাশার কথা শোনালেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, ‘মনে হচ্ছে সরকারের আদেশ অমান্য করে বাজারে বাজারে ঘোরা, আড্ডা দেওয়া, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া, সেনা-পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট দেখে পালিয়ে যাওয়া মানুষগুলোই সঠিক, আমরা বেঠিক। আমরাই মনে হয় বোকার মত পরিবার ও নিজের কথা না ভেবে রাস্তায় রাস্তায় হেঁটে চলেছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষ খুবই আতঙ্কিত। উপজেলা ও পৌরসভাসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ভ্যানচালক, রিক্সাচালক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ, ভিক্ষুক, অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, এই সংকটময় সময়ে পৌরসভার কাউন্সিলর, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, সচিব, উদ্যোক্তা এবং গ্রাম পুলিশ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ত্রাণের তালিকা প্রস্তুত, বিতরণ, হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ সহ সকল কাজে সকলের সহযোগিতা পেয়েছি। তারা সকলেই রাত-দিন কাজ করে চলেছেন।

তিনি আরো বলেন, বোয়ালখালীবাসীকে ভালো ও নিরাপদে রাখতে আমার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। তবে বোয়ালখালীবাসী যদি আমাদের সহযোগিতা না করেন তাহলে সব চেষ্টা, কাজ বৃথা হয়ে যাবে। পাশাপাশি সকল ধরণের অভিযান অব্যাহত রেখেছি। সামনে রমজান। সেদিকেও আমার নজর আছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।

সংকটময় এ মুহূর্তে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

Feb2

সন্ত্রাসীরা যতই ঝামেলার দিকে যাক, আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসীরা যতই ঝামেলার দিকে যাক, আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করব

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাতে ‘ইয়াসিন বাহিনী’র একদল সন্ত্রাসী যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে এবং বুলডোজার দিয়ে একটি নির্মাণাধীন ক্যাম্পের দেয়াল ভেঙে দেয়।

সোমবার (২৫ মে) সকালে জঙ্গল সলিমপুরের ফের হামলার এই ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। এসময় তিনি ঘটনাটিকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য হারাতে বসা সন্ত্রাসীদের ঝাঁকুনি বলে অভিহিত করেন।

এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘এই জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের একটা বড় স্বার্থের এবং ইন্টারেস্টের জায়গা। এগুলো প্রতিটা টাকার বিষয়। কোটি কোটি টাকার বিশাল এ সাম্রাজ্য যখন তাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে, তখন হাতছাড়া হওয়ার আগে তারা একটা ঝামেলার দিকে যাচ্ছে। তারা যতই ঝামেলার দিকে যাক, আমরা প্রতিহত করতে চেষ্টা করব।’

এসময় তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছে। সামনে প্রয়োজনে আরও বেশি পরিমাণে ফোর্স মোতায়েন করা হবে এবং সে অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

হামলার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত ইয়াসিন নামের ওই ব্যক্তির বিষয়ে এসপি বলেন, ‘এই ইয়াসিন নামের ব্যক্তিটি সম্প্রতি এখানে তৎপরতা শুরু করেছে। আমাদের মনে হচ্ছে, ওর ব্যাকগ্রাউন্ড বা ওর পেছনে কেউ থাকতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে আমরা তা শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল উদ্দেশ্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই জনপদে যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। একে যেন আবার দেশের ভেতরে আরেক দেশ বা কোনো রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র না বানানো হয়, তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা করবো।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ঠেকাতে সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশমুখের অন্তত চারটি রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তবে সেই বাঁধা উপেক্ষা করেই ভোররাত থেকে যৌথবাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকাটিতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে জড়িত সন্দেহে ১৫ থেকে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

র‌্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত আনুমানিক ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকায় সদ্য স্থাপন করা যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ শুরু করে সন্ত্রাসীরা। একপর্যায়ে হামলাকারীরা এস্কেভেটর ও বুলডোজার দিয়ে বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত করে। এতে যৌথবাহিনীর একটি ক্যাম্পের অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেয় তারা। আগামী ঈদের পর ক্যাম্পটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধন করার কথা ছিল।

সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়লে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এভাবে গুলিবিনিময় চলে। তবে প্রধান সড়কগুলো কেটে ফেলার কারণে যৌথবাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্সকে গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। ফলে হামলাকারীরা পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ তিন দশক ধরে জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাস জমি দখল করে ভূমিদস্যু ও বিভিন্ন সন্ত্রাসীগোষ্ঠী নিজস্ব রাজত্ব চালিয়ে আসছিল। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি এখানে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর গত ৯ মার্চ যৌথবাহিনীর প্রায় ৪ হাজার সদস্য অভিযান চালিয়ে এলাকাটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর সেখানে স্থায়ী ক্যাম্প নির্মাণ করা হলেও তা ভেঙে দেয় সন্ত্রাসীরা। তাদের আধিপত্য ফিরে পেতে এই দুঃসাহসিক হামলা চালায় তারা।

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।