খুঁজুন
, ,

এ দুঃসময়ে রাতদিন ছুটছেন বোয়ালখালীর দুই মানবিক কর্মকর্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 April, 2020, 12:57 pm
এ দুঃসময়ে রাতদিন ছুটছেন বোয়ালখালীর দুই মানবিক কর্মকর্তা

বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

পূজন সেন, বোয়ালখালী প্রতিনিধি : প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের আঘাতে থমকে গেছে পুরো বিশ্ব। মৃত্যুর মিছিলে হাহাকার করছে প্রতিটি দেশ। করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে বাংলাদেশে।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সহজ সরল মানুষগুলোকে এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করে চলছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া মরণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে শুধুমাত্র দায়িত্ব বা কর্তব্যের খাতিরে নয় প্রাণের তাগিদে এ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন এ দুই মানবিক কর্মকর্তা।

উপজেলার মানুষগুলোকে এ সংক্রমণ থেকে রক্ষায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা প্রয়োজন। সেই চিন্তা থেকে সবার প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬০ পিস পিপিই ( পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন। এছাড়া তারই আহ্বানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়, বিদ্যানন্দ ৮ পিস ও এস আলম ৫০ পিস পিপিই দিয়ে সহযোগীতা করেন।

প্রবাসীদের হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করা, স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা, জনসমাগম কমানো, অসহায় পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা প্রদান, দ্রব্যমূল্যের কৃত্রিম সংকট এবং ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.মোজাম্মেল হক চৌধুরী নিরলস কাজ করে চলেছেন। চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলার প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এসব কাজে করতে মোকাবেলা করতে হচ্ছে গুজব ও কুসংস্কারসহ নানা ধরণের প্রতিকূলতার সাথে।

তবে এ যুদ্ধ যে প্রতিটি নাগরিকের। তাই একাজে অন্যদেরও সম্পৃক্ত করতে লাগলেন নানাভাবে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে। তাৎক্ষণিক খবরাখবর পেতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলছেন এলাকাবাসীর সাথে। একই সাথে দেশ বিদেশের খবরও রাখতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে ছড়িয়ে পড়ে কভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস। বাংলাদেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়। ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সেনাবাহিনী মাঠে নামে। ভালোই কাটছিলো দিন তবে গত বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) রাতে বোয়ালখালী উপজেলার এক বৃদ্ধ শনাক্ত হন করোনা আক্রান্ত হিসেবে।

১৫ এপ্রিল ফেসবুক স্ট্যাটাসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী লিখেছেন, ” সাধারণ ছুটির পর সেনাবাহিনী মাঠে নামলে কাজ গতি আরো বেড়ে যায়। ১৪ এপ্রিল রাত ৯টায় যখন বাসায় ফিরি তখন পর্যন্ত মানসিক প্রশান্তি ছিলো যে বোয়ালখালী এখনো ‘করোনা’মুক্ত।”

‘কিছুক্ষণ পর যখন জানলাম (বোয়ালখালী উপজেলার এক ব্যক্তির শরীরে করোনা পজেটিভ) তখন একরাশ হতাশা ঘিরে ধরলো।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, নিজেদের ঝুঁকিও কম নেই এতে। ভাবতে হচ্ছে এ কাজে সম্পৃক্ত প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কথাও। তাদেরও পরিবার পরিজন রয়েছে। এ সংক্রমণ প্রতিরোধ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে একা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না আমরা প্রত্যেকে সচেতন না হই।

সরকার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে সহযোগিতা করছে। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরও দায়িত্ব রয়েছে নিজের পরিবার ও সমাজের প্রতি।

বিনাকারণে ঘোরাফেরা বন্ধে, আইন অমান্য করায়, দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে বোয়ালখালীবাসীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে জরিমানাও করেছে উপজেলা প্রশাসনের এ দুই কর্মকর্তা। নিয়েছেন সামাজিক দূরত্ব মেনে খোলা মাঠে অস্থায়ী কাঁচাবাজার বসানো, উপজেলা পরিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানায় যাতায়াতকারীদের নিশ্চিতকরণে হাতধোয়ার বেসিন বসানো ও উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস এবং পৌরসভার সহায়তায় জীবাণুনাশক ছিটানোসহ সামাজিক নানা উদ্যােগ। এছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি কমিটিও গঠন করা হয় চৌকস পরিশ্রমী ব্যক্তিদের নিয়ে।

তারপরও যেন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। এক শ্রেণির লোকজন বাইরে ঘোরাফেরা করছেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে পড়লে নানান অজুহাত দিচ্ছেন অথবা ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ওই মানুষগুলো সংক্রমিত হতে পারেন এমন আশঙ্কায় ভুগছেন উপজেলার সচেতন নাগরিকরা।

গতকাল ১৮ এপ্রিল ফেসবুক লাইভে এসে এনিয়ে শঙ্কা আর হতাশার কথা শোনালেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, ‘মনে হচ্ছে সরকারের আদেশ অমান্য করে বাজারে বাজারে ঘোরা, আড্ডা দেওয়া, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া, সেনা-পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট দেখে পালিয়ে যাওয়া মানুষগুলোই সঠিক, আমরা বেঠিক। আমরাই মনে হয় বোকার মত পরিবার ও নিজের কথা না ভেবে রাস্তায় রাস্তায় হেঁটে চলেছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষ খুবই আতঙ্কিত। উপজেলা ও পৌরসভাসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ভ্যানচালক, রিক্সাচালক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ, ভিক্ষুক, অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, এই সংকটময় সময়ে পৌরসভার কাউন্সিলর, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, সচিব, উদ্যোক্তা এবং গ্রাম পুলিশ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ত্রাণের তালিকা প্রস্তুত, বিতরণ, হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ সহ সকল কাজে সকলের সহযোগিতা পেয়েছি। তারা সকলেই রাত-দিন কাজ করে চলেছেন।

তিনি আরো বলেন, বোয়ালখালীবাসীকে ভালো ও নিরাপদে রাখতে আমার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। তবে বোয়ালখালীবাসী যদি আমাদের সহযোগিতা না করেন তাহলে সব চেষ্টা, কাজ বৃথা হয়ে যাবে। পাশাপাশি সকল ধরণের অভিযান অব্যাহত রেখেছি। সামনে রমজান। সেদিকেও আমার নজর আছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।

সংকটময় এ মুহূর্তে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।