খুঁজুন
, ,

এ দুঃসময়ে রাতদিন ছুটছেন বোয়ালখালীর দুই মানবিক কর্মকর্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 April, 2020, 12:57 pm
এ দুঃসময়ে রাতদিন ছুটছেন বোয়ালখালীর দুই মানবিক কর্মকর্তা

বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

পূজন সেন, বোয়ালখালী প্রতিনিধি : প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের আঘাতে থমকে গেছে পুরো বিশ্ব। মৃত্যুর মিছিলে হাহাকার করছে প্রতিটি দেশ। করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে বাংলাদেশে।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সহজ সরল মানুষগুলোকে এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করে চলছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া মরণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে শুধুমাত্র দায়িত্ব বা কর্তব্যের খাতিরে নয় প্রাণের তাগিদে এ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন এ দুই মানবিক কর্মকর্তা।

উপজেলার মানুষগুলোকে এ সংক্রমণ থেকে রক্ষায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা প্রয়োজন। সেই চিন্তা থেকে সবার প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬০ পিস পিপিই ( পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন। এছাড়া তারই আহ্বানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়, বিদ্যানন্দ ৮ পিস ও এস আলম ৫০ পিস পিপিই দিয়ে সহযোগীতা করেন।

প্রবাসীদের হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করা, স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা, জনসমাগম কমানো, অসহায় পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা প্রদান, দ্রব্যমূল্যের কৃত্রিম সংকট এবং ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.মোজাম্মেল হক চৌধুরী নিরলস কাজ করে চলেছেন। চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলার প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এসব কাজে করতে মোকাবেলা করতে হচ্ছে গুজব ও কুসংস্কারসহ নানা ধরণের প্রতিকূলতার সাথে।

তবে এ যুদ্ধ যে প্রতিটি নাগরিকের। তাই একাজে অন্যদেরও সম্পৃক্ত করতে লাগলেন নানাভাবে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে। তাৎক্ষণিক খবরাখবর পেতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলছেন এলাকাবাসীর সাথে। একই সাথে দেশ বিদেশের খবরও রাখতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে ছড়িয়ে পড়ে কভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস। বাংলাদেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়। ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সেনাবাহিনী মাঠে নামে। ভালোই কাটছিলো দিন তবে গত বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) রাতে বোয়ালখালী উপজেলার এক বৃদ্ধ শনাক্ত হন করোনা আক্রান্ত হিসেবে।

১৫ এপ্রিল ফেসবুক স্ট্যাটাসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী লিখেছেন, ” সাধারণ ছুটির পর সেনাবাহিনী মাঠে নামলে কাজ গতি আরো বেড়ে যায়। ১৪ এপ্রিল রাত ৯টায় যখন বাসায় ফিরি তখন পর্যন্ত মানসিক প্রশান্তি ছিলো যে বোয়ালখালী এখনো ‘করোনা’মুক্ত।”

‘কিছুক্ষণ পর যখন জানলাম (বোয়ালখালী উপজেলার এক ব্যক্তির শরীরে করোনা পজেটিভ) তখন একরাশ হতাশা ঘিরে ধরলো।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, নিজেদের ঝুঁকিও কম নেই এতে। ভাবতে হচ্ছে এ কাজে সম্পৃক্ত প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কথাও। তাদেরও পরিবার পরিজন রয়েছে। এ সংক্রমণ প্রতিরোধ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে একা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না আমরা প্রত্যেকে সচেতন না হই।

সরকার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে সহযোগিতা করছে। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরও দায়িত্ব রয়েছে নিজের পরিবার ও সমাজের প্রতি।

বিনাকারণে ঘোরাফেরা বন্ধে, আইন অমান্য করায়, দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে বোয়ালখালীবাসীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে জরিমানাও করেছে উপজেলা প্রশাসনের এ দুই কর্মকর্তা। নিয়েছেন সামাজিক দূরত্ব মেনে খোলা মাঠে অস্থায়ী কাঁচাবাজার বসানো, উপজেলা পরিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানায় যাতায়াতকারীদের নিশ্চিতকরণে হাতধোয়ার বেসিন বসানো ও উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস এবং পৌরসভার সহায়তায় জীবাণুনাশক ছিটানোসহ সামাজিক নানা উদ্যােগ। এছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি কমিটিও গঠন করা হয় চৌকস পরিশ্রমী ব্যক্তিদের নিয়ে।

তারপরও যেন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। এক শ্রেণির লোকজন বাইরে ঘোরাফেরা করছেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে পড়লে নানান অজুহাত দিচ্ছেন অথবা ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ওই মানুষগুলো সংক্রমিত হতে পারেন এমন আশঙ্কায় ভুগছেন উপজেলার সচেতন নাগরিকরা।

গতকাল ১৮ এপ্রিল ফেসবুক লাইভে এসে এনিয়ে শঙ্কা আর হতাশার কথা শোনালেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, ‘মনে হচ্ছে সরকারের আদেশ অমান্য করে বাজারে বাজারে ঘোরা, আড্ডা দেওয়া, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া, সেনা-পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট দেখে পালিয়ে যাওয়া মানুষগুলোই সঠিক, আমরা বেঠিক। আমরাই মনে হয় বোকার মত পরিবার ও নিজের কথা না ভেবে রাস্তায় রাস্তায় হেঁটে চলেছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষ খুবই আতঙ্কিত। উপজেলা ও পৌরসভাসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ভ্যানচালক, রিক্সাচালক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ, ভিক্ষুক, অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, এই সংকটময় সময়ে পৌরসভার কাউন্সিলর, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, সচিব, উদ্যোক্তা এবং গ্রাম পুলিশ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ত্রাণের তালিকা প্রস্তুত, বিতরণ, হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ সহ সকল কাজে সকলের সহযোগিতা পেয়েছি। তারা সকলেই রাত-দিন কাজ করে চলেছেন।

তিনি আরো বলেন, বোয়ালখালীবাসীকে ভালো ও নিরাপদে রাখতে আমার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। তবে বোয়ালখালীবাসী যদি আমাদের সহযোগিতা না করেন তাহলে সব চেষ্টা, কাজ বৃথা হয়ে যাবে। পাশাপাশি সকল ধরণের অভিযান অব্যাহত রেখেছি। সামনে রমজান। সেদিকেও আমার নজর আছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।

সংকটময় এ মুহূর্তে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

Feb2
Feb2

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাতের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 2:51 pm
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাতের

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশার ওষুধ ছিটিয়ে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, নগরীকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে হলে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে পানি জমে মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড়ের শান্তিনগর এলাকায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রামে ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। নিজের ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

তিনি বলেন, মশক নিধন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। শুধু সিটি কর্পোরেশনের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে উদ্যোগী হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

মেয়র বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এসব কার্যক্রমের সুফল পেতে হলে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাকলিয়ায় আয়োজিত এ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নগরবাসীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ খোরশেদ আলম, ইসমাইল বাবুল, মোহাম্মদ সেকান্দর, আবদুর রহিম, ফরিদুল হক লিটন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক হাজী মোহাম্মদ ইমরান উদ্দিন, সদস্য সচিব মহিউদ্দিন মিজান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল কাদের, আরিফুল ইসলাম ডিউক, নাসরিন আক্তার প্রমুখ।

৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চলছে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 1:05 pm
৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চলছে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও কয়েকটি মাঠের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

শনিবার কল্পলোক আবাসিক এলাকার ১ নম্বর খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারকাজের উদ্বোধন এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কল্পলোক মডেল মসজিদ চত্বর মাঠ প্রাঙ্গণে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতি (১ম পর্যায়) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আমি অঙ্গীকার করেছিলাম, চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তুলব। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হালিশহর এইচ ব্লক মাঠ, হালিশহর বহুরূপী মাঠ, ফিরোজশাহ মাঠ, হালিশহর এস ব্লক মাঠ (বি ব্লক সংলগ্ন) এবং হালিশহর বিডিআর মাঠসহ বেশ কয়েকটি মাঠ উন্নয়ন করে খেলার উপযোগী করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হালিশহর শিশু পার্ক মাঠ, হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ মাঠ, বাকলিয়া স্টেডিয়াম ও বাকলিয়া স্কুল মাঠের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের উন্নয়নকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডেও নতুন খেলার মাঠ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

খেলাধুলার সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনের অন্যতম হাতিয়ার। শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ গড়ে তোলা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।”

তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব। আমাদের লক্ষ্য, খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তোলা।”

অনুষ্ঠানে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতি (১ম পর্যায়)-এর সভাপতি এম. আব্দু শুক্কুর সভাপতিত্ব করেন। এতে মুখ্য উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। সংস্কারকাজের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন লিপু, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা কল্পলোক আবাসিক এলাকার খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁরা বলেন, মাঠ ও পার্কের উন্নয়ন এলাকার শিশু-কিশোর, তরুণ এবং সাধারণ বাসিন্দাদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ বাড়াবে। পাশাপাশি এসব উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

কল্পলোকের খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারের এ উদ্যোগ নগরীতে পরিকল্পিত উন্মুক্ত স্থান সম্প্রসারণ এবং নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতির (১ম পর্যায়) সভাপতি এম. এ. শুক্কুরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আবদুল্লাহ আল হারুন, অ্যাডভোকেট আজিজুল হক, আমির হক ও মোহাম্মদ আবুল হোসাইন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আলী আকবর।

ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে জিতল ক্যারিবীয়রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 7:04 am
ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে জিতল ক্যারিবীয়রা

লক্ষ্য ২৫০ রান। ১৮ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৪০। ভারতের বিপক্ষে রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে জয় পেতে শেষ দুই ওভারে ক্যারিবীয়দের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০ রান। একই ব্যবধান ছিল সেঞ্চুরি থেকেও দূরত্বে থাকা অধিনায়ক শাই হোপের। অক্ষর প্যাটেলের করা ১৯তম ওভারের প্রথম ও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জেতানোর পাশাপাশি শতকও পূর্ণ করেন তিনি।

অক্ষরের ওভারের প্রথম বলটি ডিপ মিডউইকেট দিয়ে সীমানাছাড়া করেন হোপ। পরের বলটি এক্সট্রা কাভারে ঠেলে দিলেও রান নেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। তৃতীয় বলে ওয়াইড লং অন দিয়ে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি ও জয়—দুটিই একসঙ্গে উদ্‌যাপন করেন তিনি। মাত্র ৪৫ বলে শতক পূর্ণ করা হোপের দুর্দান্ত ইনিংসে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ক্যারিবীয়রা। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়া করে জয়ের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের লক্ষ্য অতিক্রম করার ঘটনা।

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়ার বিশ্ব রেকর্ডের ম্যাচেও ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়ানে সেই রেকর্ড গড়েছিল তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৫৯ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ম্যাচটি জিতেছিল স্বাগতিকেরা।

রাঁচিতে আজকের ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের এমন দাপুটে জয়ের আভাস পাওয়া যায়নি। ভারতের পেসার মায়াঙ্ক যাদব প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ক্যারিবীয়দের স্কোর ৫ রানে ২ উইকেটে নামিয়ে দেন। এরপর রোভম্যান পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ২৭ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন হোপ। পাওয়েল ১৩ বলে ২৪ রান করে ফিরলে ক্রিজে আসেন শেরফান রাদারফোর্ড।

রাদারফোর্ডকে নিয়ে পরের ৯ ওভারে ১২০ রান যোগ করেন হোপ। ৩৭ বলে ৭টি ছক্কায় ৮৪ রান করে রাদারফোর্ড যখন আউট হন, তখনও জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ৩৫ বলে ৭২ রান।

সেই চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন হোপ। রোমারিও শেফার্ডের সঙ্গে তাঁর জুটিতে মাত্র ২৬ বলে আসে ৭৪ রান। শেফার্ডও ছিলেন আক্রমণাত্মক; ১৩ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এটি হোপের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাঁর ৪৫ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায়। এর আগে গত বছর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন এই ক্যারিবীয় অধিনায়ক।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন ওপেনার সঞ্জু স্যামসন। ৪১ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন তিনি।

এ ছাড়া তিলক বর্মা ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪, ঈশান কিষান ২২ বলে ৪৩ এবং অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ১৮ বলে ৪০ রান করেন। ভারতের বড় সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি হোপের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সামনে।