অনাবাদি জমিতে রাউজানের বিশ যুবকের স্বপ্ন বুনন!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২০, ৫:৪২ সন্ধ্যা
অনাবাদি জমিতে রাউজানের বিশ যুবকের স্বপ্ন বুনন!

অনাবাদি জমিতে রাউজানের বিশ যুবকের স্বপ্ন বুনন

নেজাম উদ্দিন রানা, রাউজান (চট্টগ্রাম): উৎপল মহাজন অরুণ। বাড়ি রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নে। হালদা বাজার ডটকম নামে অনলাইন ভিত্তিক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর ব্যাবসা আছে তার। তবে সবকিছু ছাপিয়ে মানবিক কাজে তার সার্বিক সহযোগিতার কথা অজানা নেই এলাকার মানুষের। সাম্প্রতিক সময়ে করোনা পরিস্থিতিতে নিজ উদ্যোগে বেকারি পণ্য ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে।

সফল ব্যবসায়ী উৎপল মহাজন অরুণ করোনা পরিস্থিতির ফলে এলাকার গরীব,অসহায় ও দুস্থ পরিবারগুলোর ভাবনা মন থেকে ফেলতে পারেনা কিছুতেই। যেভাবে মহামারি করোনার প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে তাতে করে সামনের দিনগুলোতে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়তে পারে মানুষ।

এহেন পরিস্থিতিতে ঘরে হাত গুটিয়ে বসে না থেকে ভাবতে লাগলেন এমন কিছু করবেন যা দ্বারা শুধু নিজেরাই নয়, সুফল ভোগ করবেন পাড়া-প্রতিবেশীরাও।

ভাবনার এক পর্যায়ে মাথায় এলো, এলাকায় প্রচুর অনাবাদি জমি বছরের পর বছর চাষাবাদহীন পড়ে আছে। এলাকার কিছু যুবককে এই কাজে সম্পৃক্ত করে যদি পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে মানুষের কিছু চাহিদা হয়তো মেটানো যাবে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে যুবক অরুণ একদিন ছুটে যান চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটাস্থ রাউজানের সাংসদ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বাসায়। অরুণের পরিকল্পনা শুনে সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী খুব খুশী হলেন এবং তাকে উৎসাহ দিয়ে সার্বিক সহযোগিতার কথা বলে কাজ শুরু করতে বলেন।

বাড়ি ফিরে তিনি বিষয়টি নিয়ে এলাকার কিছু যুবকদের সাথে কথা বললেন। শুরুতেই সহযোগিতার হাত বাড়ালেন এলাকার এক ছোট ভাই মো: নুরুল আজম। পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা নুরুল আজম তার পারিবারিক ১২ গন্ডা অনাবাদি জমি আমাদেরকে চাষাবাদের জন্য দেওয়ার সিন্ধান্ত নিলেন।

নুরুল আজমের দেখাদেখি আরো অনেকেই অনাবাদি জমি যুবকদের কৃষি কাজে দেওয়ার আগ্রহ দেখালেন।

এর পর সবাই মিলে একটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারন করে মো: সাইফুর রহমান খোকন, মো: নুরুল আজম, রক্সী মহাজন, সৌরভ মহাজন, মো: সেকান্দর, মো: ইরফান, রানা বৈদ্য, শৈশব মহাজন, অভি সেন, মো: ওয়াহিদ, মো: আরমান, রনী দেওয়ানজী, মো: জামাল, মো: মুন্না, রাজীব মুহুরী, রাহুল মহাজনসহ ২০ জনের একটা দল গঠন করা হয়।

বিশ জনের সম্মতি নিয়ে প্রতিটি সদস্য ৫০০০ টাকা করে মোট এক লক্ষ টাকার একটা ফান্ড গঠন করলেন। শুরু হয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ। অনাবাদি ২ কানি জমি দিয়ে এলাকার বিশ যুবকের স্বপ্ন বুননের কাজ এগিয়ে চলে। নিজেদের শ্রমে আগাছা পরিষ্কার করে প্রথমেই জমিগুলো কৃষি কাজের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়।

বর্তমানে জমিগুলোতে বরবটি, ঢেঁড়শ, পেপেঁসহ বিভিন্ন সবজি, কলা, মোসাম্বি এবং কিছু জায়গায় মাছ চাষেরও পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছেন বিশ যুবক।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এগ্রো বেইজইড প্রকল্পের উদ্যোক্তা উৎপল মহাজন অরুণ বলেন,
আমার অনেক দিনের স্বপ্ন যুবকদের নিয়ে কিছু একটা করার। করোনা পরিস্থিতিতে আগামীর কঠিন দিনগুলির কথা মাথায় রেখে নিজ নিজ বাড়ি-ঘরের আঙ্গিনায়, অনাবাদি জমিতে শাক-সব্জির আবাদ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবান দেখে আমি এলাকার পরিত্যক্ত জমিগুলোতে বিভিন্ন জাতের শাক-সব্জির আবাদ করার উদ্যোগটি গ্রহণ করি। বিষয়টি নিয়ে গত বছর জুলাই মাসের শেষের দিকে আমি রাউজানের সাংসদ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে আমার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরি। দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের এলাকায় চাষাবাদ হয়না, কারন বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানিতে ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়। এই কারনে অনেক কৃষক চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। আমি চাইছিলাম এই অনাবাদি জমিগুলোতে এলাকার যুব সমাজদের সাথে নিয়ে কিছু একটা করার। শুরুতেই আমার প্রস্তাব শুনে কেউ রাজি হচ্ছিল না। কিন্তু সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী আমার কথাগুলো শুনে আমাকে বললেন, তোমার উদ্যোগটা খুবই ভালো। তুমি কাজ শুরু করো, আমি তোমার কাজে সার্বিক সহযোগিতা করবো। সাংসদের অনুপ্রেরণায় আশান্বিত হয়েই আমি কাজ শুরু করি। এই অঘোষিত লকডাউনের সময় সবাই যখন বাড়ীতে অবস্থান করছে এই সুযোগটাতে সবাইকে নিয়ে প্রথমে গরীব দিনমজুরদের জন্য কিছু একটা করার জন্য সবাই একত্রিত হলাম। তখন আমি আবার সবাইকে এই প্রস্তাব দিলাম। আমি আমার কাজের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা তাদের জানালাম। তারা সবাই রাজি হলে আমরা একত্রিত হয়ে কাজ শুরু করি।

তিনি আরো বলেন, অনাবাদি/ প‌রিত্যক্ত কৃ‌ষি জ‌মিগুলো আবা‌দের ল‌ক্ষ্যে এগ্রো বেইজইড প্রকল্পের যাত্রা শুরু ক‌রে‌ছি। আমরা আপাতত ৪০শতক জ‌মি‌তে চাষাবা‌দের জন্য তৈরী কর‌তে যা‌চ্ছি যে জ‌মিগু‌লো বি‌ভিন্ন কার‌নে অ‌নেক‌দিন যাবত প‌রিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে র‌য়ে‌ছে। আ‌মরা আমা‌দের এলাকায় যে সমস্ত জ‌মি দীর্ঘ দিন ধরে আবাদ হ‌চ্ছে না সেগুলোর মালিকদের অনুরোধ করেছি যাতে আমাদের এই প্রকল্পের জন্য দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ান।

অরুণ বলেন,অ‌ামাদের পরিকল্পনা যদি আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি তাহ‌লে শুধু আমরাই উপকৃত হ‌বো তা না পাশাপাশি এলাকার বেকার সমস্যা দুর হবে এবং মহামারি পরবর্তী দূর্ভিক্ষ মোকা‌বেলায় কিছুটা হলেও আমরা সফল হবো। আশা করি আগামীতে এলাকার যুবকদের অংশগ্রহণে প্রতিটি অনাবাদি জমিতে আমরা বিভিন্ন সব্জির আবাদ করে মানুষের চাহিদার যোগান দিতে সক্ষম হবো ।

Feb2
Feb2