স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামাদির দুস্প্রাপ্যতা ও উচ্চমূল্য ত্রাণের চেয়েও বড়ো সংকট : সুজন
খোরশেদ আলম সুজন
২৪ ঘন্টা ডট নিউজ::::করোনাভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামাদির দুস্প্রাপ্যতা ও উচ্চমূল্য ত্রাণের চেয়েও বড়ো সংকট বলে মত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।
তিনি আজ মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপরোক্ত মত প্রকাশ করেন।
এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে বাঁচতে বেশ কিছু অভ্যাসের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে হাত পরিস্কার করা। কারণ সাবান পানি দিয়ে হাত পরিস্কার করা হলে এতে করে হাতে থাকা জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। এছাড়া সাবান পানি না থাকলে অ্যালকোহল সমৃদ্ধ হ্যান্ড রাব বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। তাছাড়া ভিড় কিংবা জনসমাগমে যেতে হলে আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরে থাকার পক্ষেও মতে দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। স্বাভাবিকভাবেই দেশের নাগরিকগণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব সংস্থা কর্তৃক নির্দেশনা মেনে চলে দৈনন্দিন জীবন যাপন করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব সংস্থার নির্দেশনার সাথে সাথেই জনগনের ব্যবহার্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম যেমন মাস্ক, সাবান, তরল সাবান, হেক্সিসল, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ডেটল এবং স্যাভলনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগনকে ভোগান্তিতে ফেলেছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। তাছাড়া অনেক সময় উচ্চমূল্যে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে এসব পন্য। আবার অনেক সময় উচ্চমূল্যেও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না এসব সুরক্ষা সরঞ্জামাদি।
ফলতঃ জনগন বাধ্য হয়েই বাজার থেকে ভেজাল এবং নিম্নমানের এসব পণ্য কিনে হরহামেশাই প্রতারিত হচ্ছে।
তাছাড়া অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত এসব পন্য ব্যবহারের ফলে জনগনের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে বরাবরই আশংকা থেকে যায়।
এর ফলে চর্ম রোগসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হতে পারেন ব্যবহারকারীরা।
দেখা যাচ্ছে এসব অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়তই অভিযান পরিচালনা করছেন সরকারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ।
ম্যাজিস্ট্রেটগণ অভিযান পরিচালনা করে চলে যাওয়ার পর পূণরায় চড়া দামে এসব ভেজাল সুরক্ষা সরঞ্জামাদি ভোক্তাগণের নিকট বিক্রয় করে অসাধু ব্যবসায়ীগণ।
যারা জনগনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামাদির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগনকে মৃত্যুর মুখোমুখি ঠেলে দিচ্ছে তারা এক প্রকার হত্যাকান্ডের সাথেও সংশ্লিষ্ট বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
নিশ্চিতভাবেই বলা যায় এসব ব্যবসায়ীরা ভোগ্যপণ্য সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী। এ ব্যপারে সরকারকে দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করে অবিলম্বে এসব দুষ্টচক্রের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়ার জন্যও সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত আবেদন জানান তিনি।
তাছাড়া যে সকল প্রতিষ্ঠান এসব সুরক্ষা সরঞ্জামাদি উৎপাদন করে সে সকল প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎপাদিত মূল্যে সহজলভ্য স্থানে এসব পণ্য সরাসরি জনগনের নিকট বিপণনের অনুরোধ জানান তিনি।
এছাড়া যারা এসব ভেজাল পন্য উৎপাদন এবং কৃত্রিম সংকটের সাথে জড়িত তাদেরকে সামাজিক লজ্জ্বাজনক শাস্তি সহ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনগনের নিকট উদাত্ত আহবান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমাদেরকে একদিকে করোনার সাথে যুদ্ধ করতে হচ্ছে অন্যদিকে করোনাকে পুঁজি করে যারা মানুষের জীবন মৃত্যুকে জিম্মি করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের আইনগত এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া দেখা যাচ্ছে যে বিভিন্ন অনলাইন প্রতিষ্ঠান এসব পণ্যের দুস্প্রাপ্যতার সুযোগ নিয়ে বাহারি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ভেজাল এন৯৫ মাস্ক, নানারকম তরল সাবান, হেক্সিসল, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহের নামে জনগনকে প্রতারিত করছে।
এসব অনলাইন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও সময়ের দাবী বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি জনগনের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সামগ্রী নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরী করার মাধ্যমে এদের মুখোশ উম্মোচন করে দেওয়ার জন্য সাংবাদিক সমাজের নিকট বিনীত আহবান জানান।
তিনি আরো বলেন, দেখা যাচ্ছে যে বিভিন্ন এলাকায় করোনা উপসর্গ থাকা সত্বেও কিছু অসুস্থ রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন না। এতে করে ঐ রোগীর পরিবার এবং প্রতিবেশীরা মারাত্নক হুমকির মধ্যে পড়ার সম্ভাবনা প্রকট। এ রকম কোন রোগীর সন্ধান পেলে নাগরিক উদ্যোগকে জানানোর অনুরোধ জানান তিনি।
এছাড়া করোনা আক্রান্ত কোন রোগীর হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে কোন প্রকার অসুবিধার সম্মূখীন হলেও নাগরিক উদ্যোগের সহযোগিতা নেওয়ার আহবান জানান সুজন।
২৪ ঘণ্টা/এম আর


আপনার মতামত লিখুন