মনিরামপুরে করোনা সংক্রমণের ভয় উপেক্ষা করে ঈদের বাজারে উঁপচে পড়া ভীড়
নিলয় ধর,যশোর প্রতিনিধি:যশোরের মনিরামপুরে মহামারি করোনাভাইরাস উপেক্ষা করে ঈদবাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের বিপনী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড় লেগেই চলেছে। এক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না কোন প্রকার সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব।
অন্যদিকে পৌরশহর ও বাজারসমূহে যাত্রীবাহী ভ্যান,ইজিবাইক,পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বৃদ্ধির কারণে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের। তবে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বেশ তৎপরতা রয়েছে।
তারপরও মানুষের মধ্যে বিন্দুমাত্র সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না এখানে। ফলে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পৌরশহর এবং উপজেলার রাজগঞ্জ, খেদাপাড়া, চিনাটোলা,নেহালপুর,ঢাকুরিয়া, কুয়াদাসহ, মনিরামপুর, নওয়াপাড়া বিভিন্ন বাজারের বিপনী বিতানগুলোতে বেচাকেনা জমে উঠেছে। ক্রেতাদের ভিড়ে দোকানগুলো এখন সরগরম। ঈদ যতই এগিয়ে আসছে, ততই ভিড় বাড়ছে।
মহামারি করোনাভাইরাসকে তুচ্ছ মনে করে ক্রেতাদের পদচারণায় কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত চলছে ধুমছে বেচাকেনা। তার ওপর কোন প্রকার সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার তোয়াক্কা করছে না ত্রেতারা। গাদাগাদি হুড়োহুড়ি করে তারা পছন্দের পণ্যটি কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তারা। কিছু বিপনী বিতানে হ্যান্ডস্যানিটাইজার থাকলেও কাউকে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।
মনিরামপুর পৌরশহরের খান গার্মেন্টস, আল-আমীন বস্ত্রালয়, দোলা গার্মেন্টস, চঞ্চল গার্মেন্টস, রিবাত গার্মেন্টস, ভাই ভাই গার্মেন্টস, নিউ শাড়ি প্যালেস, জননী বস্ত্রালয়, শাহআলম বস্ত্রালয়, প্রিয়া গার্মেন্টস, রবি ফ্যাশন, এমএম কথ, শরিফ কথ স্টোরসহ বিভিন্ন বিপনী বিতানেও শনিবার ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে শিশু ও নারী ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে দোকানদারদের রীতিমত হিমশিম খেতে হয়।
তৈরি পোশাক,শাড়ি,লুঙ্গি,পাঞ্জাবী,জুতা, প্রসাধনীর পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দোকানেও ছিল ভিড়।
গৃহবধূ রাশিদা খাতুন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে একনাগাড়ে ঘরে বন্দি জীবন আর ভাল লাগে না। তাই সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে সন্তানদের নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছি।
নাসরিন সুলতানা বলেন, এত নিয়মকানুন মেনে কেনাকাটা করা সম্ভব নয়।
খান গার্মেন্টস’র মালিক মহিউদ্দিন খান জানান, দোকানে হ্যান্ডস্যানিটাইজার থাকলেও ক্রেতারা তা ব্যবহার করতে অনীহা প্রকাশ করছে।এছাড়াও অনেক ক্রেতা মুখে মাস্ক ব্যবহার করছে না।
রবি ফ্যাশানের মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, চেষ্টা করছি ক্রেতাদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে।
মনি ফ্যাশানের মালিক ইকবাল হোসেন বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সক্রিয়তায় কোন ধনের অপ্রীতিকর ঘটনা এই পর্যন্ত ঘটেনি। জুতার দোকানের মধ্যে লিবার্টি,সম্রাট,প্রাইম,নাজ,বাটা, পাদুকাভবনে বেচাকেনা চোখে পড়ার মত। তবে অধিকাংশ দোকানে ক্রেতারা সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব মানছেন না।
তার ওপর পৌরশহরে যাত্রীবাহী ভ্যান, ইজিবাইক, পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বৃদ্ধির কারণে শনিবার সকাল থেকেই সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের।
ফলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফীর নেতৃত্বে সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌরশহরে ঝটিকা অভিযানে নামেন। এসময় সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব না মানায় বেশ কয়েকজন দোকানিকে ভৎর্সনা করা হয়। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একটু দূরে সরে গেলে আবারও সেখানে ভিড় শুরু হয়।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (আহসান উল্লাহ শরিফী) জানিয়েছেন, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে করোনা মোকাবেলায় সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বাস্তবায়ন করা দুরহ।
২৪ ঘণ্টা/এম আর


আপনার মতামত লিখুন