খুঁজুন
, ,

মিরসরাইয়ে আকষ্মিক কর্মী ছাটাই : প্রতিবাদে ও বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ(ভিডিও)

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 19 May, 2020, 2:28 pm
মিরসরাইয়ে আকষ্মিক কর্মী ছাটাই : প্রতিবাদে ও বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ(ভিডিও)

আশরাফ উদ্দিন,মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:মিরসরাইয়ের করেরহাটে অবস্থিত কোরিয়ান ক্যাপ কারখানা নামে পরিচিত পিএনজি (বিড়ি) লিমিটেড নামক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন দাবিতে ও ৪শ শ্রমিককে বিনা নোটিশে আকষ্মিক ছাটাইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনে নেমেছে।

শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতনের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে, বিনা নোটিশে আকষ্মিক শ্রমিক ছাটাইয়ের প্রতিবাদে প্রতিষ্ঠানের কার্যনির্বাহি পরিচালক ‘চিয়াঙ্গ ও’র অপসারণ দাবি করে।

এসময় শ্রমিক-কর্মচারীরা বারৈয়াহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) মিরসরাইয়ের করের হাট এলাকার কোরিয়ান ক্যাপ কারখানা নামে পরিচিত পিএনজি (বিড়ি) লি: কারখানায় সকাল থেকে আকস্মিক শ্রমিক ছাটাইয়ের প্রতিবাদে ও বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করছে কারখানার সাড়ে ৭শত শ্রমিক কর্মচারী।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, কোরিয়ান মালিকানাধিন পিএনজি বিড়ি লি:-এ ৭শ ৯৫ জনের অধিক শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োজিত।

কিন্তু করোনা ভাইরাসের এমন মহাদূর্যোগে গত ১৬মে শনিবার কারখানার প্রায় ৪শ শ্রমিক-কর্মচারীকে বিনা নোটিশে ছাটাই করা হয়েছে তাদের বেতন ভাতা পরিশোধ না করেই। অন্যায় ভাবে আকষ্মিক এমন ছাটাইয়ে ঘোর বিপদে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে শ্রমিকরা।

ঈদের আগে ছাটাই করে ও কর্মরত সকল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধের পায়তারা করছে কারখানার কার্যনির্বাহি পরিচালক ‘চিয়াঙ্গ ও’।

গত ১৮ মেএই ব্যাপারে শ্রমিকদের পক্ষথেকে একটি অভিযোগ পত্রও প্রেরণ করা হয়েছে কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক বরাবরে।

শ্রমিকরা মানববন্ধনও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে অবিলম্বে মানবিক দিক বিবেচনায় ২৫ রোজার মধ্যে শ্রমিকদের মে মাসের ১৫ দিনের বেতন ও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি জানায়।

কারখানার একজন মেশিন অপারেটর কাশেম জানান, কোন কথাছাড়াই আমাদের ৪শ জনকে ছাটাই করেছে বেতন ভাতা কিছুই দেয় নাই, আমরা কি খেয়ে থাকবো আমাদের পরিবার পরিজন কি খেয়ে বাচবে, এই সময় আমরা কোথায় কাজ পাবো এক নাগাড়ে বলেন তিনি।

যোগকরেন আমরা এখন নিজেদের চাকরি বাচাতে রাস্তায় নেমিছি আমাদের চাকরি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুম স্বামি হারা তিন সন্তানের জননি কারখানায় কাজ করে সন্তানদের মুখে দু বেলা ভাত তুলেদেন, আকষ্মিক চাকরি চলেযাওয়াতে তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। দুচোখে ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে। বাচ্ছাদের কথা বলে বলে বার বার মুচ্ছা যাচ্ছেন। এপ্রিলের পুরো বেতন পান নাই, মে মাসের বেতন ছাড়াই ছাটাই করা হয়েছে তাকে। চোখের পানি মুছে বলেন জিবন যাবে তবু হার মানবো আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের বেতন দিতে হবে কারন চাড়া ছাটাই মানবো না।

সেকশন ইনচার্জের একজন সুশমিতা তিনি বলেন, থানা পুলিশের অনুরোধে আমরা সড়ক অন্মুক্ত করেদিয়েছি। তবে আমাদের মে মাসের পুরো বেতন দিতে হবে। আমরা গত একবছর কাজ করেছি তাই আমাদের ঈদ বোনাস প্রাপ্ত আমাদের ঈদ বোনাস দিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে কোন প্রকার ছাটাই চলবে না। লকডাউনের পূর্বে আমাদের অতিরিক্ত কাজ করিয়েছে শুক্রবারেও আমাদের কাজ করিয়েছে। এখন বলছে কাজ নেই। আমাদের এপ্রির মাসের বেতনও কম দিয়েছে এখন বলছে মে মাসের বেতন দিবে মাত্র ১৫দিনের আবার ঈদ বোনাস দিবে না। এটা কি অন্যায় না?আমরা কি ভাবে চলবো বলেন, আমাদের বাসা ভাড়া, বাচ্ছাদের খরচ কিভাবে সমলাবো? চাকরি চলেগেলে কি হবে আমাদের? আমরা সরকারি সকল নিয়ম মেনে কাজ করছি কিন্তু কারখানা পরিচালকরা কোন কিছুই মানছেনা। দেশে কি আইন নেই? আমরা তো গরিব মানুষ আমরা কাজ করে খাই। আপনারা আমাদের জন্য একটু কথা বলেন।

স্থানিয় জনপ্রতিনিধি ও করেরহাট ইউনিয়নের নয়ন চেয়ারম্যান জানান, স্থানিয় প্রতিনিধি হিসেবে আমি ঘটনা স্থলে এসে শ্রমিকদের শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করি। কারখানা পরিচালকরা ঈদ বোনাস দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এছাড়া সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ি মে মাসের ১৬ দিনের তেবন দেয়ার সিদ্যান্ত হয়েছে তবে শ্রমিক ছাটাই করার সিদ্যান্ত বাতিল করা হয়ছে। এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে শ্রমিকদের পক্ষেই কথা বলেছি যাতে কারো চাকরি হারাতে না হয়।

যোরারগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনা স্থলে পৌছে শ্রমিক ও কারখানা পরিচালকদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়েছি। কারখানা কর্তৃপক্ষ ঈদ বোনাসের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি, সরকারি নিয়ম মেনে ৬৫ শতাংশ বেতন পরিশোধে করতে রাজি হয়েছে এছাড়া শ্রমিক ছাটাই না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কারখারনার মানবসম্পদ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে কারখানায় কাজকম তার তুলনায় শ্রমিক বেশি। গত কিছুদিন পূর্বে সেকশান ইনচার্জদের নিয়ে একটা মিটিং হয়েছে সেখানে কার্যনির্বাহী পরিচালক ‘চিয়াঙ্গ ও’ সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন একবছরের মধ্যে নিয়োগ কৃত ২শ৬০ জনের তালিকা দিতে এছাড়া এক বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করতেছে যারা তাদের থেকে যাদের বাদ দেওয়া যায় তাদেরও তালিকা দিতে। বর্তমানে কারখানায় শ্রমিক কর্মচারীরর সংখ্যা সাড়ে ৭শত। কাজ না থাকায় এই শ্রমিক কর্মচারী ছাটাই করে অর্ধেকে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে কারখানা পরিচালাকরা।

তিনি আরো জানান, এপ্রিল মাসের শ্রমিকদের বেতন ৩৫শতাংশ কর্তন করা হয়েছে, মে মাসের অর্ধমাসের বেতন দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে তবে ঈদ বোনাস দেওয়া হবে না।

তবে কারখানা কার্যনির্বাহী পরিচালক চিয়াঙ্গ ও এর সাথে ফোনো জানতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয়ে পেয়ে তার কারখানার বিষয়ে কোন প্রকার তথ্য দিতে পারবে না বলেন জানিয়ে বলেন, সরি টু সে আই উড় নট গিভ ইউ এনি ইনফরমেশন এবাউট মাই ফ্যাক্টরি (দুখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমার কারখানার ব্যাপারে কোন তথ্য আপনাকে দিতে পারছি না)।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:56 pm
চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের মুনছুরাবাদে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত জয় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক জাত দ্রব্য বিক্রি হয় কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রেশন স্টোর ও পুলিশের ব্র্যাক থেকেও ইয়াবা সাপ্লাই করে জয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় এর এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কিছু অসাধু গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জড়িত । ফলে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জয়।

‎অনুসন্ধানে জানাযায়, গনি আহামদের ছেলে জাবেদ ওরফে জয়, কাজীর দেউড়ি ২ নং গলির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকায় বসবাস করে।

সুত্র জানায়, ডিবি পুলিশের কনেস্টেবল আজাদ, রবিউল,  হানিফ, সঞ্জয়, আব্দুর রহিম, ইয়াবা সম্রাট জাবেদ ওরফে জয় এর সহযোগী বলে জানা গেছে।

‎এছাড়া কর্ণফুলী ক্লাব থেকে রূপসা বেকারী পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জয়কে ডিবি অফিসার হিসাবে চিনে ও জানে, অনেকেই আবার জয়কে জয় স্যার বলে সম্বোধন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বলেন, আইনের লোকেরা যখন বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন কিছুই বলার থাকে না। পুলিশের ব্র্যাকে মাদক দ্রব্য রেখে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে চট্টগ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মিস্ত্রী পাড়ার বিপ্লব ও বউ বাজারে ডাইল নুরুকে নিয়ে জয় যে মাদকের হাট বসায় তা মেনে নেওয়ার নয়। গোয়েন্দা পুলিশের যে সদস্যরা জয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক তাদের টাকার দাপটে আমরা অসহায়। খোদ উর্ধ্বতনরাও টাকার কাছে জিম্মি বলে মনে হয়।

‎নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জয় যখন পুলিশ ব্র্যাকে শুয়ে থাকে তখনও কিছুই বলার থাকেনা। সন্ধ্যা হলে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আসে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে ।

‎সিএমপিতে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মাদক সম্ম্রাট ইছহাক, সোবহান, ও পাহারতলীর মাদক সম্ম্রাট টেক্সি জসিম আলমগীর ও কদম তলীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি আলো সহ আরো অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট মাদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করে আসছে।

ক্লাবের ভিতরে মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, জয় , ডাইল নুরু ও ইয়াবা সম্রাট বিপ্লব। পার্টি আসলে ব্র্যাক থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

‎এই বিষয়ে জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একবার বলেন আমি ফার্নিচার ব্যবসায়ী, আবার বলেন আমি এইসব ছেড়ে দিয়েছি। আবার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, আমি জানি কে এইসব আমার ব্যাপারে বলেছে। আপনার খবর নিয়ে দেখবো আপনি কে ?

‎মাদকের ব্যাপারে সারাদেশের প্রসাশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করলেও সিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে এমন কান্ডকে ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে।

‎এই বিষয়ে ডিসি (ডিবি উত্তর) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 8:20 pm
পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে সরকার ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের সুনাগরিক ও মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

আজ রোববার রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার বৃহৎ দর্শন নিয়ে ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যেন তারা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারেন এবং এই আয়কে সরকার করমুক্ত ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নয়ন বোর্ডকে নতুন নতুন স্কিম গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা নিয়ে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে যেন জনগণকে সেবার জন্য বারবার অফিসে আসতে না হয়, বরং সেবা পৌঁছে যায় মানুষের দোরগোড়ায়। এসডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিত পরিবারের মতো কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি বোর্ডের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা, পেনশন সুবিধার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ এবং পাড়া কেন্দ্রের কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ডিপিপি (DPP) সংশোধনের আশ্বাস দেন।

দিনব্যাপী সফরকালে প্রতিমন্ত্রী ৫০ জন নারীকে সেলাই মেশিন ও ২৫০টি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার, জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার এবং খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে মহাপুরম খালের ওপর ব্রিজের উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবালসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।