খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনাযুদ্ধ: মানুষ আপনাদের জন্য শুভ কামনা করুক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২০, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
করোনাযুদ্ধ: মানুষ আপনাদের জন্য শুভ কামনা করুক

প্রদীপ চৌধুরী:গোটা পৃথিবীই বলা চলে ঘোরতর বিপদে। মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের অদৃশ্য হানায় অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও সমূহ সংকটে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিশেবে বাংলাদেশ জাতি-রাষ্ট্র যতোটা সক্ষমতা আছে, তার সবটা দিয়েই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে চলেছে।

রাজনৈতিক বোঝাপড়া, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অতীত অভিজ্ঞতা, দক্ষ জনবল, অপেক্ষাকৃত অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকলে বর্তমান বাস্তবতায় হয়তো আর একটু ভালো পারফর্ম করা যেতো। তারপরও দেশের বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি গবেষক, সরকারি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জীবনবাজি রেখে যা করছেন, তা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। যে পুলিশ সদস্যদেরকে আমরা কথায় কথায় নানা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করি, যে চিকিৎসকদের পেশা ও সেবা নিয়ে নানা সমালোচনা করি; আজকের করোনা অকালে তাঁরাই আমাদের সবচেয়ে নির্ভরতার ঠিকানা।

এখন পর্যন্ত মাঠ প্রশাসনে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশ এবং চিকিৎসা সেবার সাথে সংশ্লিষ্টরাই। অনাকাঙ্খিত অকাল মৃত্যুর কাছে হেরে চলেছেন এখনো।

করোনার দুর্যোগের প্রথম থেকে কোন প্রকারের সুরক্ষা ছাড়াই নিজের জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এই জাতির জন্য যা করে চলেছেন; তার ঋণ জাতি শোধ করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।

একজন পেশাদার সংবাদকর্মী হিশেবে বাসায় যতোক্ষণ থাকি ততক্ষণই হয় টেলিভিশন নয় অনলাইনে দেশ-বিদেশের খবরের দিকেই আমার মনোযোগ থাকে বেশি। যখন একজন চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে কোন মানবিক প্রতিবেদন দেখি বা পড়ি, সত্যিই তখন চোখে জল এসে যায়। একজন সন্তান সম্ভবা নারী চিকিৎসক, একজন দুধের শিশুকে ঘরে রেখে দিনের পর দিন হাসপাতাল আর হোটেল কোয়ারেন্টিনে কাটিয়ে দেয়া জীবনের কথা কী ভাবা যায়?

আর এসব মানুষকে এই রোজার মাসেও অনেক নিষ্ঠুর বাড়িওয়ালা ও প্রতিবেশীর হাতে চরম নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে।
যখন দেখি করোনায় আক্রান্ত স্বজনকে নিজের সন্তানরাই ছুঁড়ে ফেলছেন, সৎক্রিয়া দূরে থাক, হাসপাতাল থেকে মরদেহ গ্রহণ করার মতো কেউ থাকে না; তখন তো সবার আগে ছুটে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরাই।

ঝড়-বৃষ্টি-রোদ্দুর মাথায় নিয়ে রাতদিন খোলা আকাশের নিচে দায়িত্ব পালনকারী এসব মানুষ আমাদেরই কারো না কারো স্বজন। তাঁদেরও মা-বাবা-সন্তানসহ আমার আপনার মতো পরিবার সমাজ আছে। রক্ত-মাংসের প্রাণি হিশেবে তাঁদেরও পারিবারিক-সামাজিক অনুভূতি আছে।শুধু কী একটি ডিউটি! নাহ. পুুলিশকে সামাল দিতে হচ্ছে অনেকটা ‘জুতা সেলাই থেকে চন্ডী পাঠ পর্যন্ত’।

দেশের সবচেয়ে পয়সাওয়ালা গরিব ‘গার্মেন্টস মালিক’-দের কারো কারো অমানবিক শ্রমিক শোষণের ফলে সৃষ্ট ক্ষতগুলোও উপশম করার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে সেই পুলিশকেই। এতোসব দায়-দায়িত্বের বাইরেও পুলিশ বাহিনী দেশে করোনাকালে ত্রাণ কার্যক্রমেও দেখিয়েছে অন্যরকম উদারতা।

জনপ্রতিনিধি-রাজনীতিক-শিল্পপতি আর কর্পোরেট হাউজের মালিকরা (সবাই নয়) যেখানে করোনাকালে করুণার এক অস্বস্তিকর ‘ফটোশেসন’-এ ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন. তখন পুলিশের বিশেষায়িতসহ সবকটি ইউনিট মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নিরেট মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই।

এদেশের বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধি (বিশেষ করে মাননীয় সংসদ সদস্য) নিজ এলাকায় কখন আসছেন আর কখন যাচ্ছেন; সেটি সাধারণ জনগণ জানতেই পারছেন না। অনেকে এলাকায় থাকলেও জনগণের পাশে কতোটা আছেন. তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে মূল ধারার গণমাধ্যমগুলোতে।
আর এসব কারণেই দেশে পুলিশ বাহিনীর প্রতি মানুষের অন্য এক ভালোবাসার নাম উচ্চারিত হচ্ছে ‘মানবিক পুলিশ’।

দেশের এই দুর্যোগে সরকার একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেটি হলো পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হবার আগেই দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী মাঠে নামিয়ে। যেকোন দেশেতো বটেই অধিকন্তু আমাদের দেশে যেকোন দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সক্ষমতা ও দক্ষতা বর্হিবিশ্বেই স্বীকৃত। করোনাযুদ্ধে সেটি আরো একবার প্রমাণ হতে চলেছে।

সারাদেশে মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদের অর্থায়নে সেনাবাহিনীর ব্যতিক্রমী ‘এক মিনিটের বাজার’ অভাবী মানুষের দারুণ আস্থা অর্জন করেছে।

আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক হোক আর সামরিক। সব শাসনামলেই জনগণের কাছে সবচেয়ে বেশি জবাবদিহিতার মুখোমুখে হতে হয় সিভিল প্রশাসনকে। এবারও কোনো জানি সরকার জনপ্রতিনিধির চেয়ে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপরই বেশি ভরসা রেখেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখন পর্যন্ত সবকটি ভিডিও কনফারেন্সে তার প্রতিফলনই দেখতে পেয়েছেন দেশবাসী। এই উদ্যোগটিও সাধারণ মানুষ বেশ ভালোভাবেই নিয়েছেন। তবু দেশের অনেক জনপ্রতিনিধি (মাননীয় মন্ত্রী- সংসদ সদস্য -সিটি মেয়র-জেলা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান-পৌর মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান) নিজের এলাকার মানুষ-দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী সক্রিয় আছেন। যাঁরা সক্রিয় আছেন-ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন; তাঁদের প্রতি মানুষের শুভ কামনা বাড়বে বৈই কমবে না।

আমার নিজের পেশার কলম সৈনিকরা যাঁরা এরিমধ্যে অকালে পরপারে চলে গেলেন. তাঁদের আত্মার সদগতি কামনা করা ছাড়া তো আর কিছুই দিতে পারবো না। কিন্তু যাঁরা এখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সংবাদ ক্ষুধা, পাঠকের সংবাদ চাহিদা মেটাতে নিরন্তর পথ পাড়ি দিচ্ছেন… নিশ্চয়ই মানুষ তাঁদেরকেও মন থেকে শুভ কামনা জানাবেন।

সবশেষে একটি আবেদন, এই লেখার যাঁদের চোখে পড়বে তাঁদের প্রতি। আপনি যেই ধর্মের অনুসারী হোন নিশ্চয়ই সপ্তাহের-দিনের কোন না কোন সময় একটু হলেও পরম সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করেন। আর রাত পোহালেই তো পবিত্র ঈদের নামাজ। পবিত্র কোরান শরীফে রোজার মাসকে ‘রহমত-ফযিলতের মাস’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই বাংলার কোটি কোটি মানুষ পুরো একটি সংযম সাধন করে কাটিয়েছেন। দেশের প্রতিটি মসজিদে কোটি কোটি হাত পাতা হবে পরম দয়ালের কাছে রহমত-বরকতের জন্য।

সেই প্রার্থনার উছিলায় দেশের করোনা যোদ্ধাদের জন্য সৃষ্টিকর্তার সামান্যতম করুণাও যদি মেলে তাহলেই আমরা সবাই ভালো থাকবো। ভালো থাকবে স্বদেশের জীবনবাজি রাখা করোনা যোদ্ধা ও তাঁদের প্রিয়তম স্বজনরা।

এই মুর্হুতে আমি-আপনি কোন ধর্মাবলম্বী সেটার চেয়ে বড়ো পরিচয় হোক, ‘আমরা সবাই মানুষ, একই রক্তমাংসে এক সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি’।

আর যাঁরা আমাদের বাঁচাতে অকালে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এবং এখনো যাঁরা জীবনের নিশ্চিত ঝুঁকি জেনেও আমাদের পাশে আছেন; তাঁদের জন্য সম্মিলিতভাবে পরম দয়ালের কাছে শুভ কামনা চাইছি।

প্রদীপ চৌধুরী: খাগড়াছড়ির সংবাদকর্মী।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার ঘটনায় আগে থেকে যথাযথ নজরদারি করতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব এবং পুলিশের চৌকি ছিল। ঠিকভাবেই কাজ করা হচ্ছিল। তবে আমাদের কিছু দুর্বলতা ছিল। সেভাবে মনিটর করতে পারিনি।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘কোনোভাবেই ইয়াসিন বাহিনী বা অবৈধ দখলদার কেউ জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করতে পারবে না, টিকতেও পারবে না। আমরা তাদেরকে যেভাবেই হোক উচ্ছেদ করবই। এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন কোনো শক্তি নেই যে, সেখানে নতুন করে ঢুকতে পারবে।’

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানান র‍্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঈদের জামাত ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, রাতের টহল ও নিরাপত্তা চৌকি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক কোনো হাটে নিতে না পারে, সে বিষয়েও র‍্যাব সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ফাঁকা ঢাকায় চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে দিন-রাত বাড়তি পেট্রোল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।