খুঁজুন
, ,

করোনাযুদ্ধ: মানুষ আপনাদের জন্য শুভ কামনা করুক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 24 May, 2020, 8:52 pm
করোনাযুদ্ধ: মানুষ আপনাদের জন্য শুভ কামনা করুক

প্রদীপ চৌধুরী:গোটা পৃথিবীই বলা চলে ঘোরতর বিপদে। মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের অদৃশ্য হানায় অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও সমূহ সংকটে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিশেবে বাংলাদেশ জাতি-রাষ্ট্র যতোটা সক্ষমতা আছে, তার সবটা দিয়েই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে চলেছে।

রাজনৈতিক বোঝাপড়া, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অতীত অভিজ্ঞতা, দক্ষ জনবল, অপেক্ষাকৃত অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকলে বর্তমান বাস্তবতায় হয়তো আর একটু ভালো পারফর্ম করা যেতো। তারপরও দেশের বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি গবেষক, সরকারি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জীবনবাজি রেখে যা করছেন, তা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। যে পুলিশ সদস্যদেরকে আমরা কথায় কথায় নানা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করি, যে চিকিৎসকদের পেশা ও সেবা নিয়ে নানা সমালোচনা করি; আজকের করোনা অকালে তাঁরাই আমাদের সবচেয়ে নির্ভরতার ঠিকানা।

এখন পর্যন্ত মাঠ প্রশাসনে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশ এবং চিকিৎসা সেবার সাথে সংশ্লিষ্টরাই। অনাকাঙ্খিত অকাল মৃত্যুর কাছে হেরে চলেছেন এখনো।

করোনার দুর্যোগের প্রথম থেকে কোন প্রকারের সুরক্ষা ছাড়াই নিজের জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এই জাতির জন্য যা করে চলেছেন; তার ঋণ জাতি শোধ করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।

একজন পেশাদার সংবাদকর্মী হিশেবে বাসায় যতোক্ষণ থাকি ততক্ষণই হয় টেলিভিশন নয় অনলাইনে দেশ-বিদেশের খবরের দিকেই আমার মনোযোগ থাকে বেশি। যখন একজন চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে কোন মানবিক প্রতিবেদন দেখি বা পড়ি, সত্যিই তখন চোখে জল এসে যায়। একজন সন্তান সম্ভবা নারী চিকিৎসক, একজন দুধের শিশুকে ঘরে রেখে দিনের পর দিন হাসপাতাল আর হোটেল কোয়ারেন্টিনে কাটিয়ে দেয়া জীবনের কথা কী ভাবা যায়?

আর এসব মানুষকে এই রোজার মাসেও অনেক নিষ্ঠুর বাড়িওয়ালা ও প্রতিবেশীর হাতে চরম নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে।
যখন দেখি করোনায় আক্রান্ত স্বজনকে নিজের সন্তানরাই ছুঁড়ে ফেলছেন, সৎক্রিয়া দূরে থাক, হাসপাতাল থেকে মরদেহ গ্রহণ করার মতো কেউ থাকে না; তখন তো সবার আগে ছুটে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরাই।

ঝড়-বৃষ্টি-রোদ্দুর মাথায় নিয়ে রাতদিন খোলা আকাশের নিচে দায়িত্ব পালনকারী এসব মানুষ আমাদেরই কারো না কারো স্বজন। তাঁদেরও মা-বাবা-সন্তানসহ আমার আপনার মতো পরিবার সমাজ আছে। রক্ত-মাংসের প্রাণি হিশেবে তাঁদেরও পারিবারিক-সামাজিক অনুভূতি আছে।শুধু কী একটি ডিউটি! নাহ. পুুলিশকে সামাল দিতে হচ্ছে অনেকটা ‘জুতা সেলাই থেকে চন্ডী পাঠ পর্যন্ত’।

দেশের সবচেয়ে পয়সাওয়ালা গরিব ‘গার্মেন্টস মালিক’-দের কারো কারো অমানবিক শ্রমিক শোষণের ফলে সৃষ্ট ক্ষতগুলোও উপশম করার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে সেই পুলিশকেই। এতোসব দায়-দায়িত্বের বাইরেও পুলিশ বাহিনী দেশে করোনাকালে ত্রাণ কার্যক্রমেও দেখিয়েছে অন্যরকম উদারতা।

জনপ্রতিনিধি-রাজনীতিক-শিল্পপতি আর কর্পোরেট হাউজের মালিকরা (সবাই নয়) যেখানে করোনাকালে করুণার এক অস্বস্তিকর ‘ফটোশেসন’-এ ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন. তখন পুলিশের বিশেষায়িতসহ সবকটি ইউনিট মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নিরেট মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই।

এদেশের বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধি (বিশেষ করে মাননীয় সংসদ সদস্য) নিজ এলাকায় কখন আসছেন আর কখন যাচ্ছেন; সেটি সাধারণ জনগণ জানতেই পারছেন না। অনেকে এলাকায় থাকলেও জনগণের পাশে কতোটা আছেন. তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে মূল ধারার গণমাধ্যমগুলোতে।
আর এসব কারণেই দেশে পুলিশ বাহিনীর প্রতি মানুষের অন্য এক ভালোবাসার নাম উচ্চারিত হচ্ছে ‘মানবিক পুলিশ’।

দেশের এই দুর্যোগে সরকার একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেটি হলো পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হবার আগেই দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী মাঠে নামিয়ে। যেকোন দেশেতো বটেই অধিকন্তু আমাদের দেশে যেকোন দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সক্ষমতা ও দক্ষতা বর্হিবিশ্বেই স্বীকৃত। করোনাযুদ্ধে সেটি আরো একবার প্রমাণ হতে চলেছে।

সারাদেশে মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদের অর্থায়নে সেনাবাহিনীর ব্যতিক্রমী ‘এক মিনিটের বাজার’ অভাবী মানুষের দারুণ আস্থা অর্জন করেছে।

আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক হোক আর সামরিক। সব শাসনামলেই জনগণের কাছে সবচেয়ে বেশি জবাবদিহিতার মুখোমুখে হতে হয় সিভিল প্রশাসনকে। এবারও কোনো জানি সরকার জনপ্রতিনিধির চেয়ে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপরই বেশি ভরসা রেখেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখন পর্যন্ত সবকটি ভিডিও কনফারেন্সে তার প্রতিফলনই দেখতে পেয়েছেন দেশবাসী। এই উদ্যোগটিও সাধারণ মানুষ বেশ ভালোভাবেই নিয়েছেন। তবু দেশের অনেক জনপ্রতিনিধি (মাননীয় মন্ত্রী- সংসদ সদস্য -সিটি মেয়র-জেলা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান-পৌর মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান) নিজের এলাকার মানুষ-দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী সক্রিয় আছেন। যাঁরা সক্রিয় আছেন-ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন; তাঁদের প্রতি মানুষের শুভ কামনা বাড়বে বৈই কমবে না।

আমার নিজের পেশার কলম সৈনিকরা যাঁরা এরিমধ্যে অকালে পরপারে চলে গেলেন. তাঁদের আত্মার সদগতি কামনা করা ছাড়া তো আর কিছুই দিতে পারবো না। কিন্তু যাঁরা এখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সংবাদ ক্ষুধা, পাঠকের সংবাদ চাহিদা মেটাতে নিরন্তর পথ পাড়ি দিচ্ছেন… নিশ্চয়ই মানুষ তাঁদেরকেও মন থেকে শুভ কামনা জানাবেন।

সবশেষে একটি আবেদন, এই লেখার যাঁদের চোখে পড়বে তাঁদের প্রতি। আপনি যেই ধর্মের অনুসারী হোন নিশ্চয়ই সপ্তাহের-দিনের কোন না কোন সময় একটু হলেও পরম সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করেন। আর রাত পোহালেই তো পবিত্র ঈদের নামাজ। পবিত্র কোরান শরীফে রোজার মাসকে ‘রহমত-ফযিলতের মাস’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই বাংলার কোটি কোটি মানুষ পুরো একটি সংযম সাধন করে কাটিয়েছেন। দেশের প্রতিটি মসজিদে কোটি কোটি হাত পাতা হবে পরম দয়ালের কাছে রহমত-বরকতের জন্য।

সেই প্রার্থনার উছিলায় দেশের করোনা যোদ্ধাদের জন্য সৃষ্টিকর্তার সামান্যতম করুণাও যদি মেলে তাহলেই আমরা সবাই ভালো থাকবো। ভালো থাকবে স্বদেশের জীবনবাজি রাখা করোনা যোদ্ধা ও তাঁদের প্রিয়তম স্বজনরা।

এই মুর্হুতে আমি-আপনি কোন ধর্মাবলম্বী সেটার চেয়ে বড়ো পরিচয় হোক, ‘আমরা সবাই মানুষ, একই রক্তমাংসে এক সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি’।

আর যাঁরা আমাদের বাঁচাতে অকালে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এবং এখনো যাঁরা জীবনের নিশ্চিত ঝুঁকি জেনেও আমাদের পাশে আছেন; তাঁদের জন্য সম্মিলিতভাবে পরম দয়ালের কাছে শুভ কামনা চাইছি।

প্রদীপ চৌধুরী: খাগড়াছড়ির সংবাদকর্মী।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

১ দিনে ১৩৫ টন বর্জ্য সরিয়ে রেকর্ড গড়লেন ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 9:06 pm
১ দিনে ১৩৫ টন বর্জ্য সরিয়ে রেকর্ড গড়লেন ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক জেলায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের প্রথম দিনেই ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে শনিবার (২৫ জুলাই) জেলাজুড়ে একযোগে চালানো এ অভিযানে অংশ নেন প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। জেলা প্রশাসনের হিসাবে, এক দিনে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে সম্পৃক্ত করে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণের মধ্য দিয়ে বড় পরিসরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে জেলার সরকারি দপ্তর, সরকারি আবাসিক এলাকা, উপজেলা পর্যায়ের ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে চলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা কারও ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা জোরপূর্বক এটি করাতে চাই না। আমরা পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে চাই।’

৩,২২৫ ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভিযানের আওতায়

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতায় রয়েছে ১৩১টি সরকারি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, আটটি সরকারি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, উপজেলা পর্যায়ের ৪০৬টি ভবন এবং ২ হাজার ২৯৫টি বিদ্যালয়। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ২২৫টি ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এসব ভবন ও বিদ্যালয়ের ছাদ, আঙিনা এবং আশপাশের জায়গায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রথম দিনের কার্যক্রমে সব মিলিয়ে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

অভিযানটি শুধু উদ্বোধনী দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। পুরো কার্যক্রম চলবে মাসব্যাপী। প্রতি শনিবার কোথা থেকে কী পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হলো, তার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবন ও এলাকার পরিচ্ছন্নতার আগের ও পরের ছবিও সংরক্ষণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কী পরিমাণ ময়লা অপসারণ ও সংগ্রহ করা হলো, তার প্রতিবেদন নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবনের আগের চিত্র কী ছিল এবং পরিচ্ছন্নতার পর কী পরিবর্তন হলো, সেই ছবিগুলোও আমরা সংগ্রহ করছি। সে অনুযায়ী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

শোভাযাত্রায় মেয়র, বিভাগীয় কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

দিনের কর্মসূচির শুরুতে সার্কিট হাউস থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। সেটি কাজীর দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার সার্কিট হাউসে এসে শেষ হয়।

পরে কোর্ট হিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আঙিনা, আইনজীবী ভবন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।

কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

‘সুস্থ জাতি গড়তে প্রয়োজন সুস্থ পরিবেশ’

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু ময়লা-আবর্জনা অপসারণ নয়। একটি সুস্থ জাতি ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার স্থায়ী অভ্যাস তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সুস্থ চিন্তার জন্য সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন প্রয়োজন। আর পরিবেশ যদি অস্বাস্থ্যকর হয়, সেখানে সুস্থ চিন্তা, সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন—কোনোটিই সম্ভব নয়।’

আগামী প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ বাংলাদেশ ও একটি সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে নিয়ে আমরা এই কার্যক্রম শুরু করেছি।’

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করে নয়, মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পৃক্ত করেই পরিচ্ছন্নতাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত করতে চান তাঁরা।

বিশ্বায়নের যুগে একটি দেশের পরিবেশ ও নাগরিক জীবনযাত্রা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেও যুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ চাই। আমরা বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে চাই। বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশের একটি দৃঢ় অবস্থান, একটি সুস্থ পরিবেশ এবং একটি সুন্দর সমাজের চিত্র তুলে ধরার জন্য আমরা কাজ করছি।’

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথম দিনের ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পরও অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাসজুড়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সরকারি আবাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতি শনিবার অপসারণ করা বর্জ্যের পরিমাণ এবং পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরের ছবি সংগ্রহের মাধ্যমে কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে।

চন্দনাইশে ১৫০০ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 8:26 pm
চন্দনাইশে ১৫০০ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত চন্দনাইশের পশ্চিম হারলা এলাকার ১৫০০ অসহায় পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে চন্দনাইশের পশ্চিম হারলা এলাকায় স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ হতদরিদ্র ১৫০০ শতাধিক পরিবারের হাতে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এসব খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। বিতরণকৃত খাদ্য তালিকার মধ্যে চাল, ডাল, পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় শুকনা খাবার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

চন্দনাইশ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবে আমরা সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাই দল মত নির্বিশেষে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মেয়র বলেন, জনগণের কল্যাণই আমাদের অঙ্গীকার। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের পাশে থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ইখতিয়ার হোসেন ইফতুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মনজুর আলম তালুকদার, জেলা বিএনপি নেতা আবদুল মাবুদ মাহাবু, সৌদি আরব বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাঈন উদ্দিন মাঈনু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শহিদ খান, বাহাউদ্দিন চৌধুরী, সাইফুল করিম, পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক অলি হোসেন মুন্সি, জহিরুল আলম শহিদ, মোরশেদুল আলম, পৌরসভা বিএনপির সদস্য হাবিব রহমান, আবু ছালেহ, সাইফুল, মোহাম্মদ শওকত, উপজেলা বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, মাহাবুল করিম সোহেল, দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মজিদ, আবু বক্কর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাদ্দাম হোসেন, মো. আসাদ, জিল্লুর রহমান খোকন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোনায়েম খান, পলিটেকনিক ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইন্জিনিয়ার আবুল কালাম, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মো. সেলিম, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবদল নেতা সেলিম আলদীন, পৌরসভা শ্রমিকদলের সভাপতি হাজী মো. আবু সিদ্দিক, মো, ফারুক মিয়া, আবদুর রহমান, পৌরসভা যুবদল নেতা আব্দুল মান্নান, আকবর, সিরাজুল ইসলাম, আবদুল আজিজ, মো. মানিক, রাজিব উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সরোয়ার উদ্দিন, আবু তৈয়ব রিপন, এবিএম রহিম, আবদুল আজিজ, বিএনপি নেতা সায়েম সেলিম, হামিদ, মান্নান, জেলা ছাত্রদলের সদস্য জাভেদ চৌধুরী রহিম, এরফান চৌধুরী, ছাত্রদলনেতা অভি, আজিজ, মিসবাহ, আমিন, হেফাজ প্রমুখ।

আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত, ঘাতক আটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 6:05 pm
আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত, ঘাতক আটক

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিয়ে না দেওয়ায় কথা কাটাকাটির জেরে ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে স্বপন দাশগুপ্ত (৬৫) ও কল্পনা দাশগুপ্ত (৫৫) নামের এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। 

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা গ্রামের মহাজন বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে রোমি রাজ দাশগুপ্তকে (৩০) আটক করে আনোয়ারা থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর পৌনে ২টার দিকে নিজ বাড়িতে বিয়ে না দেওয়ার জেরে ছেলে রোমি রাজ দাশগুপ্তের সঙ্গে তার মা কল্পনা দাশগুপ্তের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কাঁচি দিয়ে মায়ের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান রোমি রাজ। এতে ঘটনাস্থলেই কল্পনা দাশগুপ্তের মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে বাঁচাতে বাবা স্বপন দাশগুপ্ত এগিয়ে এলে তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনে লুটিয়ে পড়েন।

পরবর্তী সময়ে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর স্বপন দাশগুপ্তের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত রোমি রাজ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। এর আগেও তাকে একাধিকবার পাবনার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে প্রায় তিন-চার মাস আগে তিনি বাড়িতে ফিরেছিলেন।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন উদ্দীন বলেন, আহত অবস্থায় স্বপন দাশগুপ্তকে আনা হয়। তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল, তবে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।