খুঁজুন
, ,

করোনাকালীয় সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন যে তিন তারকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 24 May, 2020, 9:44 pm
করোনাকালীয় সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন যে তিন তারকা

সারাবিশ্ব যখন অদৃশ্য শক্তি করোনাভাইরাসের আক্রমণে পুরোপুরি বিপর্যস্ত। ঠিক তখনই ছোট ছোট কিছু সংবাদ মুসলিম হিসেবে আমাদেরকে আপ্লুত করেছে।

তা হল, করোনার এ সময়ে বিভিন্ন দেশের একাধিক জনপ্রিয় মডেল, তারকা ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। শুধু ইসলাম গ্রহণ করেই তারা ক্ষান্ত হননি। জাঁকজমকভাবে তা তারা উদযাপনও করেছেন।

তাদের কেউ কেউ জীবনের প্রথম ইফতার, রমজানের অনুভূতিও মিডিয়াতে প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করে ও সঙ্গীত গেয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন।

এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন তানাশা দোনা। পুরো নাম তানাশা দোনা বারবিয়ারি অকেচ। মুসলিম হওয়ার পর তার নাম রাখেন আয়েশা।

তিনি কেনিয়ার জনপ্রিয় একজন রেডিও উপস্থাপক। উদ্যোক্তা ও মডেল। ‘ফর হার লাক্সারি হেয়ার’ নামক একটি হেয়ার ব্রান্ডের সিইও এবং ফাউন্ডার।

তানাশার জন্ম ১৯৯৫ সনের ৭ই জুলাই। তানাশা জন্মসূত্রে একজন কেনিয়ান নাগরিক। তাকে অনেকেই মজা করে অর্ধেক কেনিয়ান ও অর্ধেক ইতালিয়ানও বলে।

তার শৈশবের রঙিন দিনগুলো কাটে কেনিয়াতেই। এরপর ১১ বৎসর বয়সে বাবা মার সঙ্গে চলে যান ইতালিতে। সেখানে টুরিজম ম্যানেজমেন্ট ও ফরেন অ্যাফায়ার্স বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০ বৎসর বয়সে আবার চলে আসেন কেনিয়াতে।

ইংরেজি ভাষাতে তো পারদর্শিতা ছিলোই। এছাড়াও ফ্রান্স, স্পেনিশ, ওলন্দাজ ও সোয়াহিলি ভাষাও ভালভাবে রপ্ত করেছিলেন তানাশা।

তিনি অমুসলিম হলেও তার স্বামী একজন মুসলিম। তানজানিয়ার বিখ্যাত শিল্পী ও অভিনেতা ডায়মন্ড প্লাথনামজ। নাসিবু আব্দুল জুমা নামেও বেশ পরিচিত তিনি।

তানাশা তার ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে প্রথম জানিয়ে ছিলেন তার স্বামীর বোন ইসমাকে। গত ২৫ এ এপ্রিল সর্বপ্রথম তিনি তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি বন্ধু মহলে প্রকাশ করেন। সেদিনই জীবনের প্রথম রোজাটি তিনি পূর্ণ করেন এবং KTN TV এর উপস্থাপক জামাল গাদ্দাফিসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইফতার করেন।

জামাল গাদ্দাফি ইফতারের ছবিটি তার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পর বিষয়টি ব্যপকভাবে মিডিয়াতে প্রচার হয়। এরপর এক টিভি প্রোগ্রামেও তিনি ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত অনুভূতি পেশ করেন।

তানাশার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে স্বামী ডায়মন্ড বলেন, আমি কখনো তাকে ইসলাম গ্রহণ করতে চাপ দেইনি তবে পরামর্শ দিয়েছিলাম। সে যদি তা গ্রহণ করতে চায় করবে। আমি তার জন্য দোয়া করব।

এরপর সে যখন ইসলাম গ্রহণ করল আমরা তখন কিগমা শহরে ছিলাম। যখনআমাকে এসে বলল যে, সে ইসলাম গ্রহণ করতে চায় তখন আমি বললাম ভালোভাবে জেনে-শুনে পরে আসো। এরপর সে চলে গেল।

কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে বলল আমি ভালোভাবে জেনে শুনেই নিজের ভেতর পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি।

কোভিড-১৯ এর আক্রমনে সারাবিশ্বের অন্যান্য মানুষের মতো অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় রেসলিং তারকা উইলহেলমও লকডাউনে হয়ে যান ঘরবন্দী। ঘরবন্দী সময়টাকে তিনি অযথা বসে না থেকে শুরু করে দেন ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা ও গবেষণা।

একপর্যায়ে তিনি নিজের বিবেকের সঙ্গে বুঝা পড়া করে গ্রহণও করে ফেলেন চির সত্য ধর্ম ইসলামকে।

শুধু তাই নয়। গত ১৬ এপ্রিল কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করে তার ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।

ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বলেন, করোনার সংকট আমাকে আমার বিশ্বাস খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। ইসলাম বহু বছর ধরেই আমার মনোজগতের দখলে ছিল। যখনই আমার কঠিন সময় যাচ্ছিল তখনই ইসলামিক বিশ্বাস আমাকে প্রয়োজনীয় শক্তি দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন,আমার ধর্মবিশ্বাস এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। আমি আমার প্রকৃত ইশ্বরকে চিনতে পেরেছি। গর্বের সঙ্গে কালেমায়ে শাহাদাতও পাঠ করতে পেরেছি। হ্যাঁ,এখন থেকে আমি একজন মুসলিম।

ইলহেলমের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ প্রচার হওয়ার পর অস্ট্রিয়ার মুসলিমসহ বিভিন্ন দেশের তার অসংখ্য ভক্তরা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে সমর্থন ও অভ্যর্থনা জানিয়েছে। উইলহেলমও তার এক পোস্টে তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

উইলহেলমের পূর্ণ নাম উইলহেলম ওট। মুসলিম হওয়ার পর নাম রাখেন খালিদ উইলহেলম ওট।

তিনি অস্ট্রিয়ার MMA (মিক্সড মার্শাল আর্ট) এর একজন জনপ্রিয় রেসলিং খেলোয়ার।

তার জন্ম ১৯৮২ সনে। পেশাদারিত্বের সঙ্গে তিনি রেসলিং শুরু করেন ২০০৮ সালে।

MMA( মিক্সড মার্শাল আর্ট) এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৩৩ ম্যাচের ১৬টিতেই তিনি বিজয়ী হয়েছেন। মার্শাল আর্ট র্যাংকিংয়ে ৬১৫ জনের মধ্যেও হয়েছেন ৭৮তম।

এ কয়েকদিনের ব্যবধানে যে কয়েকজন তারকা ইসলাম গ্রণের সংবাদ প্রকাশ করেছেন তাদের আরেকজন হলেন লিসা মার্সেদেজ।

তিনি বৃটিশ জ্যামাইকার একজন প্রসিদ্ধ নৃত্যশিল্পী। ইসলাম গ্রহণের দুই মাস পর গত মাসের ৩ তারিখে ‘শাহাদা’ নামে একটি সঙ্গীত ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি প্রকাশ করেন।

লিসার জন্ম জ্যামাইকার কিংস্টন শহরে। জন্মসুত্রে একজন খৃস্টান। তার মার সঙ্গে বাবার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর তার বাবার কাছেই সে বড় হতে থাকেন। ১৬ বৎসর বয়সে তার বাবা মারা যাওয়ার সে চলে যান লন্ডনে। সেখানে অনেক মুসলিমদের সাথে গাঢ় বন্ধুত্ব তৈরী হয়ে।

২০১৪ সনে তার ‘লেটস গেট মাতাল’ প্রকাশ হওয়ার পর ডিজে জগতে সে প্রসিদ্ধি লাভ করে।

তার ইসলাম গ্রহণ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি গবেষণা করে দেখেছি, ইশ্বরের নিকটবর্তী হওয়ার জন্য এটিই একমাত্র সঠিক ধর্ম।

তিনি আরো বলেন, আমি একজন নৃত্যশিল্পী। আগে হট পোশাক পরতাম। এখন যেখানে সম্ভব হয় স্কার্ফ পরার চেষ্টা করি। তবে নিজেকে আগের তুলনায় আরো বেশি ঢেকে রাখি। আমি এখনো প্রতিনিয়ত শিখছি। পুরোপুরি ফিরে আসতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।

ইসলাম গ্রহণের পর ভক্তদের সমর্থন পেয়ে তিনি দারুণ খুশি। শাহাদা গানটি রিলিজের পর এক ফেইক অ্যাকাউন্ট থেকে মৃত্যুর হুমকিও পান তিনি।

তথ্যসূত্র: অল আফ্রিকা ডটকম, কেটিএন টিভি

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:56 pm
চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের মুনছুরাবাদে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত জয় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক জাত দ্রব্য বিক্রি হয় কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রেশন স্টোর ও পুলিশের ব্র্যাক থেকেও ইয়াবা সাপ্লাই করে জয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় এর এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কিছু অসাধু গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জড়িত । ফলে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জয়।

‎অনুসন্ধানে জানাযায়, গনি আহামদের ছেলে জাবেদ ওরফে জয়, কাজীর দেউড়ি ২ নং গলির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকায় বসবাস করে।

সুত্র জানায়, ডিবি পুলিশের কনেস্টেবল আজাদ, রবিউল,  হানিফ, সঞ্জয়, আব্দুর রহিম, ইয়াবা সম্রাট জাবেদ ওরফে জয় এর সহযোগী বলে জানা গেছে।

‎এছাড়া কর্ণফুলী ক্লাব থেকে রূপসা বেকারী পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জয়কে ডিবি অফিসার হিসাবে চিনে ও জানে, অনেকেই আবার জয়কে জয় স্যার বলে সম্বোধন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বলেন, আইনের লোকেরা যখন বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন কিছুই বলার থাকে না। পুলিশের ব্র্যাকে মাদক দ্রব্য রেখে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে চট্টগ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মিস্ত্রী পাড়ার বিপ্লব ও বউ বাজারে ডাইল নুরুকে নিয়ে জয় যে মাদকের হাট বসায় তা মেনে নেওয়ার নয়। গোয়েন্দা পুলিশের যে সদস্যরা জয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক তাদের টাকার দাপটে আমরা অসহায়। খোদ উর্ধ্বতনরাও টাকার কাছে জিম্মি বলে মনে হয়।

‎নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জয় যখন পুলিশ ব্র্যাকে শুয়ে থাকে তখনও কিছুই বলার থাকেনা। সন্ধ্যা হলে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আসে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে ।

‎সিএমপিতে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মাদক সম্ম্রাট ইছহাক, সোবহান, ও পাহারতলীর মাদক সম্ম্রাট টেক্সি জসিম আলমগীর ও কদম তলীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি আলো সহ আরো অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট মাদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করে আসছে।

ক্লাবের ভিতরে মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, জয় , ডাইল নুরু ও ইয়াবা সম্রাট বিপ্লব। পার্টি আসলে ব্র্যাক থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

‎এই বিষয়ে জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একবার বলেন আমি ফার্নিচার ব্যবসায়ী, আবার বলেন আমি এইসব ছেড়ে দিয়েছি। আবার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, আমি জানি কে এইসব আমার ব্যাপারে বলেছে। আপনার খবর নিয়ে দেখবো আপনি কে ?

‎মাদকের ব্যাপারে সারাদেশের প্রসাশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করলেও সিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে এমন কান্ডকে ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে।

‎এই বিষয়ে ডিসি (ডিবি উত্তর) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 8:20 pm
পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে সরকার ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের সুনাগরিক ও মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

আজ রোববার রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার বৃহৎ দর্শন নিয়ে ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যেন তারা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারেন এবং এই আয়কে সরকার করমুক্ত ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নয়ন বোর্ডকে নতুন নতুন স্কিম গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা নিয়ে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে যেন জনগণকে সেবার জন্য বারবার অফিসে আসতে না হয়, বরং সেবা পৌঁছে যায় মানুষের দোরগোড়ায়। এসডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিত পরিবারের মতো কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি বোর্ডের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা, পেনশন সুবিধার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ এবং পাড়া কেন্দ্রের কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ডিপিপি (DPP) সংশোধনের আশ্বাস দেন।

দিনব্যাপী সফরকালে প্রতিমন্ত্রী ৫০ জন নারীকে সেলাই মেশিন ও ২৫০টি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার, জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার এবং খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে মহাপুরম খালের ওপর ব্রিজের উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবালসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।