খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি রাজনৈতিক আইসোলেশনে আছে: কাদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২০, ৭:১২ অপরাহ্ণ
বিএনপি রাজনৈতিক আইসোলেশনে আছে: কাদের

বিএনপি রাজনৈতিক আইসোলেশনে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘যেকোনও দুর্যোগে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করাই বিএনপির রাজনীতি। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের জনগণ তাদেরকে কর্মহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ধারে-কাছেও দেখেনি। তারা রাজনৈতিক আইসোলেশনে ছিল এবং আছে।

বুধবার (২৭ মে) সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিওবার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। ভিডিও বার্তায় মূলত তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা বক্তব্যের জবাব দেন।

দুর্যোগে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করাই বিএনপির রাজনীতি উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘অসহায় জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমে কথামালার ফুলঝুরি বর্ষণ তাদের জননিন্দিত হাতিয়ার। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে কর্মহীন মানুষের জন্য এবং ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ধারেকাছেও তাদেরকে দেশের জনগণ দেখেনি। তারা রাজনৈতিক আইসোলেশনে ছিল এবং আছে। লকডাউনের নামে দেশ ও জনগণের জীবনকে স্তব্ধ করার পাশাপাশি জীবিকা রুদ্ধ করে অর্থনৈতিক স্থবিরতা সৃষ্টির অপকৌশল তাদের মনের কথা। শেখ হাসিনার সরকার দক্ষতা ও সহযোগিতার সঙ্গে অভিজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেই জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করার চেষ্টা করছে।’

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘আন্দোলন সংগ্রামে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি নেতারা সবসময় ঝাঁঝালো কিছু শব্দ চাতুর্যের সঙ্গে বলে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করে। মির্জা ফখরুল সাহেব সমন্বয়হীনতার কথা বলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট না করে বরাবরের মতো কথামালার চাতুরি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন।’

দুর্যোগ মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের সক্ষমতা ও মানবিক প্রয়াস দেশবাসীর জানা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘অতীতে দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে শেখ হাসিনা ও তার দল জনমানুষের পাশে সবার আগে দাঁড়িয়েছে। সরকারে থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় যে সক্ষমতা দেখিয়েছে, তা অতীতে ও বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। করোনা সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে, করোনার বিস্তার রোধ ও আক্রান্তদের চিকিৎসা ও অন্যান্য কার্যক্রমে।’

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সরকার অর্থনৈতিক লোকসানের কথা জেনেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। অর্থনীতির স্থিতি ক্ষতি পুষিয়ে জনগণের কল্যাণে কয়েক স্তরে ঘোষণা করেছে প্রণোদনা প্যাকেজ। সাধারণ ছুটি তথা লকডাউন যে নামেই বলা হোক, এর উদ্দেশ্য হলো শারীরিক তথা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। সরকার জনগণের সচেতনতার দুর্গ গড়ে তোলাকে দুর্যোগ মোকাবিলার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করলেও মির্জা ফখরুল সাহেব সরকারের বিরুদ্ধে অবিরাম মিথ্যাচার করছেন। বিএনপি’র রাজনৈতিক ভাবনা আজ লকডাউনে আটকে রয়েছে। তারা সরকারের কোনও ইতিবাচক প্রয়াস খুঁজে পান না।’

কাদের বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো করোনা তহবিল গঠন, হেল্পলাইন চালুসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এসবের কোনোটাই বিএনপি করতে পারেনি। তবে কি দেশের জনগণের প্রতি তাদের কোনও দায়িত্ব নেই।’

গণস্বাস্থ্য উদ্ভাবিত করোনা পরীক্ষা পদ্ধতির অনুমোদন প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার চলমান করোনা সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষিত নীতি অনুসরণ করছে। করোনা পরীক্ষায় রাপিড টেস্ট কিটের ব্যবহার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত নয়। তবুও সরকার জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে গণস্বাস্থ্য উদ্ভাবিত কিট পরীক্ষার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। কিট অনুমোদনের জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি। সে পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য ওষুধ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, যা উদ্ভাবক ডাক্তার বিজন মিডিয়ায় বলেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের উদ্যোগ ও সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন। সরকার স্বাস্থ্য খাতসহ যে কোনও খাতে জনহিতকর গবেষণা উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে স্বাগত জানায়।’

দেশবাসীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘অন্ধকার সুরঙ্গ দেখে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। সুরঙ্গের শেষেই রয়েছে আশার আলো। আমি সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি। আহ্বান জানাচ্ছি, কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার। আপনারা মনে সাহস রাখুন। দুর্যোগের অমানিশায় আমাদের সঙ্গে আছেন একজন শেখ হাসিনা, যিনি আলো হাতে আঁধারের কান্ডারি।’

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

উজবেকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চ চেনাল কলম্বিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
উজবেকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চ চেনাল কলম্বিয়া

ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমবার চমক দেখানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল উজবেকিস্তান। তবে নবাগতদের সেই রঙিন স্বপ্নকে লাতিন আমেরিকার মাঠের কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল কলম্বিয়া। উজবেক ডিফেন্সের সব প্রতিরোধ ভেঙে ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা লাতিন ছন্দে আক্রমণ চালাতে থাকে কলম্বিয়া। এরপরও প্রথম গোলে র জন্য ৪০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাদের। এসময় গোল করে দলকে লিড এনে দেন ড্যানিয়াল মুনোজ। লুইস দিয়াজের দেওয়া পাসে গোলটি করেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে।

ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ বাড়াতে থাকে উজবেকিস্তান। সেই সুবাদে ৬০তম মিনিটে আসে সমতাসূচক গোলটি। গোলটি করেন আববোসবেক ফয়জুললভ।

কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা দলটির। এরপর উজবেকিস্তানের জালে আরও দুবার বল পাঠায় কলম্বিয়া। ৬৫তম মিনিটে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন লুইস দিয়াজ। আর ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে ব্যবধান ৩-০ করেন জেমিনটন ক্যাম্পাজ।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান অনেকটাই মজবুত করল কলম্বিয়া। সর্বোচ্চ তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান তাদের। আর টেবিলের তলানিতে রয়েছে উজবেকিস্তান।

৯৫তম মিনিটের গোলে পানামাকে হারাল ঘানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ
৯৫তম মিনিটের গোলে পানামাকে হারাল ঘানা

পানামা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার খুব কাছে ছিল। ঘানাকে রুখে দেওয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে ছিল তারা। কিন্তু যোগ করা সময়ে আচমকা গোল হজম করল দলটি। তাতে ৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে জয়শূন্যই থাকতে হলো তাদেরকে।

বদলি গোলকিপারের বীরত্বের পর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গোল করে ঘানা। তাতে ১-০ ব্যবধানে জিতে ‘এল’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতল তারা।

২০১০ সালের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট ঘানা যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করে। টরন্টোতে কালেব ইয়েরেঙ্কির একমাত্র গোল গড়ে দেয় ম্যাচের পার্থক্য। বেঞ্চ থেকে উঠে এসে তাকে গোল বানিয়ে দেন ব্রান্ডন থমাস আসান্তে।

অথচ পুরো ম্যাচজুড়ে পানামার দাপট ছিল। ৬২ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল তারা। ১১টি শটও নিয়েছিল পানামা, বিপরীতে ঘানার আটটি। ঘানার বদলি গোলকিপার বেঞ্জামিন আসারে শেষ ৪৫ মিনিট গোলপোস্টে থেকে তিন সেভে পানামাকে হতাশ করেন।

এর মধ্যে তিনি বক্সের মধ্যে থেকে নেওয়া দুটি শট ঠেকান। দলের উদ্ধারকর্তা হিসেবে ম্যাচে ছাপ রাখেন আসারে। তারপর অপ্রত্যাশিতভাবে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে বসে পানামা। থমাস আসান্তে আলগা বল পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে ঢোকেন এবং গোলমুখের সামনে বল ঠেলে দেন। সেখান থেকে ইয়েরেঙ্কি জাল কাঁপান।

ঘানা তাদের মিডফিল্ডার থমাস পার্টিকে ছাড়া মাঠে নামে। ইংল্যান্ডে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এই ফুটবলারকে ভিসা দেয়নি কানাডা।

প্রথমার্ধে গোলে নেওয়া একমাত্র শট এসেছিল দুই মিনিটের মধ্যে। পানামা ফরোয়ার্ড সিসিলিও ওয়াটারম্যান নিচু ক্রস পান আমির মুরিলোর কাছ থেকে। বক্সের মাঝ থেকে শট নেন তিনি। কিন্তু আতি জিগি ডানপাশে ডাইভ দিয়ে বল ফিরিয়ে দেন।

এই গোলকিপার কয়েকটি সংঘর্ষের ধাক্কা সামলানোর পর হাফটাইমে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন। তার পরিবর্তে নেমে নায়কের ভূমিকা পালন করেন আসারে।

কেইনের জোড়া গোলে আট ও আঠারোর হারের শোধ নিলো ইংল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
কেইনের জোড়া গোলে আট ও আঠারোর হারের শোধ নিলো ইংল্যান্ড

২০০৮ সালে বাছাইপর্বের হোম-অ্যাওয়ে দুটি ম্যাচেই হেরে ইউরোর টিকিট বঞ্চিত হয়েছিল ইংল্যান্ড। ২০১৮ সালে তো আরও বড় হৃদয়ভঙ্গের গল্প লেখা হলো—বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হেরে গিয়েছিল তারা। সেই দুটি হারের শোধ এবার তুলে নিলো থ্রি লায়নরা। ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারাল তারা। ১৯৬৬ সালের পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে ৪-২ ব্যবধানে জিতল ইংলিশরা।

ক্রোয়েশিয়া ডালাস স্টেডিয়ামে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নেমেছিল। ইংল্যান্ড প্রথমার্ধে দুইবার এগিয়েছে, দুইবারই গোল শোধ দিয়েছে ক্রোটরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইংলিশরা এবং সেই লিড ধরে রেখে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল ইংল্যান্ড।

১২ মিনিটে পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। বক্সের ভেতরে লুকা মদ্রিচ নোনি মাদুয়েকেকে ফাউল করলে ইংল্যান্ড একটি পেনাল্টি পায়।

তবে কেইন শট নেওয়ার সময় কিছুটা ইতস্তত করছিলেন। তাকে হতাশ করে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ সঠিক দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে শটটি ঠেকিয়ে দেন। ইংল্যান্ডের সমর্থকরা একই সঙ্গে চরম হতাশ ও বিস্মিত হয়।

যদিও রেফারি ক্লেমেন্ট টার্পিন ভিএআর পরীক্ষার জন্য খেলা পুনরায় শুরু করতে একটু সময় নেন। যেখানে দেখা যায়, কেইন শট নেওয়ার আগেই লিভাকোভিচ তার গোললাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসেছিলেন। এই কারণে ইংলিশ তারকা ১২ গজ দূর থেকে পেনাল্টি নেওয়ার আরেকটি সুযোগ পাবেন।

দ্বিতীয়বার কেইন আর কোনো ভুল করেননি। তিনি আগেরবারের মতো একই দিকে শট নিয়েছিলেন। বলটি নিখুঁতভাবে জালের নিচের ডান কোণায় জড়ায়।

ক্রোয়েশিয়া পাল্টা জবাব দিতে সময় নেয়নি। ৩৬ মিনিটে পিটার সুচিচের অ্যাসিস্টে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান বাতুরিনা। ঘণ্টায় ৭৫ মাইল বেগের শট ঠেকাতে পারেননি ইংলিশ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড।

ছয় মিনিট পর কর্নার থেকে ডেকলান রাইসের অ্যাসিস্টে কেইনের হেডে ক্রোয়েশিয়ার জাল কাঁপে। জাতীয় দলের জার্সিতে ৮১তম গোল করেন তিনি এবং বিশ্বকাপে দশম গোল করে দেশের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা গ্যারি লিনেকারের পাশে বসেন।

যোগ করা পাঁচ মিনিটের একেবারে শেষ মুহূর্তে পিটার মুসা ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান। ইভান পেরিসিচের হেড পাসে ডান পায়ের শটে স্কোর ২-২ করেন তিনি।

হাফটাইমের পর শুরুতেই গোল, এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৪৭ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে অ্যান্ডারসনের বাড়ানো একটি বল বেলিংহাম নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং ফাঁকা জায়গায় গতি বাড়িয়ে গোলপোস্টের দিকে এগিয়ে যান। এরপর কোনাকুনি এক শটে বলটিকে গোলপোস্টের কোণ ঘেঁষে দূরের পোস্টে জড়িয়ে দেন।

এগিয়ে যাওয়ার ঠিক পরপরই ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন বেলিংহাম ও ও’রেইলি। প্রথমে বেলিংহামের শট রুখে দেন ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক লিভাকোভিচ। এরপর রাইসের নেওয়া কর্নার থেকে ও’রেইলি হেড করলেও বলটি দূরের পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।

দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের পর ইংল্যান্ড তাদের আক্রমণ ধরে রাখে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে রাইসের একটি বাঁকানো শট লিভাকোভিচ তার বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে পোস্টের ওপর দিয়ে পার করে দেন। এরপর ইংল্যান্ড পরপর কয়েকটি কর্নার পেলেও গোল করতে পারেনি।

ডান দিক থেকে রাইসের ক্রসে ও’রেইলির হেড লিভাকোভিচ কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বলে গর্ডন হেড করলেও ক্রোট গোলকিপার দ্রুত উঠে এসে সেটিও রুখে দেন এবং শেষ পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডাররা বলটি ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত হন।

পরে বাম প্রান্ত থেকে কেইনের নেওয়া একটি কোনাকুনি শট লিভাকোভিচ দারুণ দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন। এরপর ইংলিশ ফরোয়ার্ডের নেওয়া ফিরতি বাউন্সিং শটটিও তিনি কোনোমতে ফিরিয়ে দেন এবং স্তানিসিচ এসে কেইনের নিশ্চিত ট্যাপ-ইন গোল করা রুখে দেন। ততক্ষণে ইংল্যান্ড গোলপোস্টে ১৮টি শট নিয়ে ফেলেছে।

লিভাকোভিচের বীরত্বে গোল করতে ব্যর্থ ইংল্যান্ড এক গোলের ব্যবধান আরও বড় করতে মরিয়া। তিনি না থাকলে ততক্ষণে আরও গোল পেত থ্রি লায়নরা। আর এক গোলের লিড তাদেরকে চাপে রেখেছিল। এমন সময় পাশালিচ ডান দিক থেকে কাট-ইন করে একটি শক্তিশালী বাম পায়ের শট নিলে পিকফোর্ড দারুণভাবে ঠেকিয়ে ইংল্যান্ডের উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।

স্পেনস মাঝমাঠ দিয়ে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে একটি শট নিলেও বলটি গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ফিরে আসে এবং ডিফেন্ডাররা তা ক্লিয়ার করেন। অন্যদিকে সমতায় ফেরার জন্য ক্রোয়েশিয়ানরা একের পর এক আক্রমণ করতে থাকায় ইংল্যান্ডের শিবিরেও চাপ বাড়ছিল। কোভাসিচ দূর থেকে একটি নিচু শট নিয়ে পিকফোর্ডকে পরীক্ষা করলেও ইংলিশ কিপার ডান দিকে নিচু হয়ে বলটি গ্লাভসবন্দী করেন।

অবশেষে ইংল্যান্ড আবারও দুর্দান্তভাবে ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য ফিরে পায়। ডান দিক থেকে আক্রমণ চালিয়ে সাকা বল নিয়ে ভেতরে ঢোকেন এবং বক্সের বাম পাশে ফাঁকায় থাকা র‍্যাশফোর্ডকে পাস দেন। র‍্যাশফোর্ড অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় কিছুটা জায়গা তৈরি করে লিভাকোভিচের বাম দিক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। তাতে ইংল্যান্ড দুই গোলের লিড পায়।

শেষদিকে ক্রোয়েশিয়া উইং দিয়ে আক্রমণ শাণিয়ে একটি কর্নার আদায় করলেও দূরের পোস্টে জিভার্দিওলের শটটি কেইন চমৎকারভাবে ব্লক করেন। পিকফোর্ড একটি বাউন্সিং বল লুফে যখন নিলেন, ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী ম্যাচ জয় নিশ্চিত হতে তখন আর মাত্র দুই মিনিট বাকি ছিল।