খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপি রাজনৈতিক আইসোলেশনে আছে: কাদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২০, ৭:১২ অপরাহ্ণ
বিএনপি রাজনৈতিক আইসোলেশনে আছে: কাদের

বিএনপি রাজনৈতিক আইসোলেশনে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘যেকোনও দুর্যোগে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করাই বিএনপির রাজনীতি। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের জনগণ তাদেরকে কর্মহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ধারে-কাছেও দেখেনি। তারা রাজনৈতিক আইসোলেশনে ছিল এবং আছে।

বুধবার (২৭ মে) সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিওবার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। ভিডিও বার্তায় মূলত তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা বক্তব্যের জবাব দেন।

দুর্যোগে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করাই বিএনপির রাজনীতি উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘অসহায় জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমে কথামালার ফুলঝুরি বর্ষণ তাদের জননিন্দিত হাতিয়ার। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে কর্মহীন মানুষের জন্য এবং ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ধারেকাছেও তাদেরকে দেশের জনগণ দেখেনি। তারা রাজনৈতিক আইসোলেশনে ছিল এবং আছে। লকডাউনের নামে দেশ ও জনগণের জীবনকে স্তব্ধ করার পাশাপাশি জীবিকা রুদ্ধ করে অর্থনৈতিক স্থবিরতা সৃষ্টির অপকৌশল তাদের মনের কথা। শেখ হাসিনার সরকার দক্ষতা ও সহযোগিতার সঙ্গে অভিজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেই জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করার চেষ্টা করছে।’

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘আন্দোলন সংগ্রামে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি নেতারা সবসময় ঝাঁঝালো কিছু শব্দ চাতুর্যের সঙ্গে বলে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করে। মির্জা ফখরুল সাহেব সমন্বয়হীনতার কথা বলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট না করে বরাবরের মতো কথামালার চাতুরি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন।’

দুর্যোগ মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের সক্ষমতা ও মানবিক প্রয়াস দেশবাসীর জানা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘অতীতে দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে শেখ হাসিনা ও তার দল জনমানুষের পাশে সবার আগে দাঁড়িয়েছে। সরকারে থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় যে সক্ষমতা দেখিয়েছে, তা অতীতে ও বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। করোনা সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে, করোনার বিস্তার রোধ ও আক্রান্তদের চিকিৎসা ও অন্যান্য কার্যক্রমে।’

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সরকার অর্থনৈতিক লোকসানের কথা জেনেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। অর্থনীতির স্থিতি ক্ষতি পুষিয়ে জনগণের কল্যাণে কয়েক স্তরে ঘোষণা করেছে প্রণোদনা প্যাকেজ। সাধারণ ছুটি তথা লকডাউন যে নামেই বলা হোক, এর উদ্দেশ্য হলো শারীরিক তথা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। সরকার জনগণের সচেতনতার দুর্গ গড়ে তোলাকে দুর্যোগ মোকাবিলার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করলেও মির্জা ফখরুল সাহেব সরকারের বিরুদ্ধে অবিরাম মিথ্যাচার করছেন। বিএনপি’র রাজনৈতিক ভাবনা আজ লকডাউনে আটকে রয়েছে। তারা সরকারের কোনও ইতিবাচক প্রয়াস খুঁজে পান না।’

কাদের বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো করোনা তহবিল গঠন, হেল্পলাইন চালুসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এসবের কোনোটাই বিএনপি করতে পারেনি। তবে কি দেশের জনগণের প্রতি তাদের কোনও দায়িত্ব নেই।’

গণস্বাস্থ্য উদ্ভাবিত করোনা পরীক্ষা পদ্ধতির অনুমোদন প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার চলমান করোনা সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষিত নীতি অনুসরণ করছে। করোনা পরীক্ষায় রাপিড টেস্ট কিটের ব্যবহার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত নয়। তবুও সরকার জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে গণস্বাস্থ্য উদ্ভাবিত কিট পরীক্ষার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। কিট অনুমোদনের জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি। সে পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য ওষুধ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, যা উদ্ভাবক ডাক্তার বিজন মিডিয়ায় বলেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের উদ্যোগ ও সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন। সরকার স্বাস্থ্য খাতসহ যে কোনও খাতে জনহিতকর গবেষণা উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে স্বাগত জানায়।’

দেশবাসীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘অন্ধকার সুরঙ্গ দেখে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। সুরঙ্গের শেষেই রয়েছে আশার আলো। আমি সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি। আহ্বান জানাচ্ছি, কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার। আপনারা মনে সাহস রাখুন। দুর্যোগের অমানিশায় আমাদের সঙ্গে আছেন একজন শেখ হাসিনা, যিনি আলো হাতে আঁধারের কান্ডারি।’

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

সব আন্দোলনে প্রেরণার উৎস নজরুল: চট্টগ্রামের ডিসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
সব আন্দোলনে প্রেরণার উৎস নজরুল: চট্টগ্রামের ডিসি

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে তাদের সামনে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা তুলে ধরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, কবি নজরুলকে তাঁর প্রাপ্য সম্মানের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

আজ বুধবার ( ১১ শে মার্চ) নগরীর ডিসি হিলে জাতীয় কবির নামে নির্মিত “নজরুল স্কয়ার” সংস্কার শেষে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা চাই নতুন প্রজন্ম জানুক—কার গান গেয়ে তারা উদ্দীপ্ত হয়, কার লেখনী তাদের আন্দোলিত করে এবং কার চেতনা তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শক্তি দেয়। সেই লক্ষ্যেই নজরুল স্কয়ারকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।”

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সমাজে কোনো অন্যায় বা অবিচার দেখা দিলে তরুণ প্রজন্ম আবারও নজরুলের চেতনাকে সামনে রেখেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ারকে নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান অসামান্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, এমনকি ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও
তাঁর চেতনা মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। “বিদ্রোহী” কবিতার মাধ্যমে তিনি যে প্রতিবাদের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন, প্রায় এক শতাব্দী পরও সেই চেতনা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ১৯২৫ সালে রচিত ‘নারী’ কবিতাও আজকের সমাজে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আবার রমজান মাস এলেই যে গান গেয়ে মানুষ ঈদের আনন্দ উদ্‌যাপন করে—“…. রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”—সেটিও জাতীয় কবির সৃষ্টি।

তিনি বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও গণজাগরণের কবি নজরুলের সাহিত্যকর্ম যুগে যুগে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশের নানা অর্জনের পেছনেও তাঁর চিন্তা ও চেতনার গভীর প্রভাব রয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, ডিসি হিলের এই এলাকাটি মূলত একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে ২০০৫ সালে “নজরুল স্কয়ার” স্থাপন করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে আশপাশের সড়কের উচ্চতা বাড়ার ফলে স্কয়ারের মনুমেন্টটি তুলনামূলক নিচু হয়ে পড়ে এবং স্থানটি ধীরে ধীরে অন্ধকারাচ্ছন্ন ও জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় চলে যায়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংসদে সরকারি দল বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ ও পুরনো রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে রংপুর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে জাতীয় নাগরিক পার্টির রংপুর বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আগামী দিন থেকে শুরু হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের যাত্রা। সরকারি দল সংবিধান সংস্কারের শপথ নিতে সম্মত হবে বলে আশা করছি। যদি এর ব্যতয় ঘটে, তাহলে দেশের মানুষ জানে কারা এর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে। সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটকে কার্যকর করা সংসদ সদস্যদের অন্যতম দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা সংসদে যাচ্ছি। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য সংসদে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধ চলছে। আমাদের দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। এই সময় ঐক্য না থাকলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। সরকার একাই দেশ পরিচালনা করতে পারবে না। জাতীয় ঐক্যে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। দেশে শিশু হত্যা, নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় অপরাধীদের বিচার করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশে স্বৈরতন্ত্রের উদ্ভব হয়েছিল। যে সকল জায়গায় মা-বোনদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে সেখানে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী কাজ করবে। বিরোধী দলকে কথা বলতে দিতে হবে। গণভোটের অঙ্গীকার জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধীদলকে মিলে বাস্তবায়ন করতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সাদিয়া ফারজানা দিনাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এদিকে, বিভাগীয় এই ইফতার মাহফিলে খাবার সামগ্রী ও বসার আসন না পাওয়া নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একাংশকে হট্টগোল করতে দেখা যায়। তবে সেখানে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এছাড়াও আমন্ত্রিত গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে ইফতারের আগ মুহূর্তে পানি ও খাবার না দেওয়ায় শতাধিকের বেশি সাংবাদিক অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। তারা এ ধরনের আয়োজনে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।

থার্ড টার্মিনাল চালু করতে ৬ থেকে ৯ মাস লাগবে : বিমান প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
থার্ড টার্মিনাল চালু করতে ৬ থেকে ৯ মাস লাগবে : বিমান প্রতিমন্ত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু করতে ৬ থেকে ৯ মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

দ্রুত সময়ের মধ্যে থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রথম বৈঠকেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন—এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে গেলেও আমরা যেটা দেখেছি, ৬ থেকে ৯ মাস লাগবে। ৯ মাসের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বৈঠকে পর্যটন খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পর্যটন খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল, তবে সেটির কোনো অগ্রগতি হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সে প্রসঙ্গেই তারা এসেছে। পর্যটন শিল্পে তারা বিনিয়োগ করতে চায়। বিশেষ করে আমাদের সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে উন্নীত করতে তাদের বিনিয়োগকারীরা একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে চায়—কীভাবে এটিকে একটি আন্তর্জাতিক উপযোগী বিচে রূপ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিমান চলাচল নিয়েও আলোচনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের কিছু ফ্লাইট আছে আমাদের সঙ্গে। সপ্তাহে ১২টা ফ্লাইট যায়। সেক্ষেত্রে তারা ৩টি ফ্লাইট আরও বর্ধিত করতে চায়।

তিনি বলেন, তারা তিনটি অতিরিক্ত ফ্লাইটের জন্য ফ্রিকোয়েন্সি চেয়েছে। আমরা তাদের আবেদন করতে বলেছি। বিষয়টি যাচাই করে দেখব। এতে দুই দেশের যাতায়াত সুবিধা বাড়বে এবং পর্যটন ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

নতুন ফ্লাইটগুলোর রুট সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুটি ফ্লাইট হবে গুয়াংজুতে এবং একটি বেইজিংয়ে।

কবে থেকে এসব ফ্লাইট চালু হতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করবে। এরপর বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এলে সিভিল এভিয়েশন থেকে অনুমতি দেওয়া হবে।

চীনের সঙ্গে অন্য কোনো চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চীনের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু তার বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়নি।

তিনি বলেন, তারা দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে পিপিপি মডেলে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার কথা বলেছিল। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই তারা আবার আলোচনা করতে এসেছে।

কক্সবাজারে পর্যটন সুবিধা বাড়াতে ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছি, আপনারা প্রস্তাব দিন। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। যদি এটি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হয়, তাহলে আমরা তা বিবেচনা করব।