খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থ পাচারের ভয়ংকর মাধ্যম হুন্ডি! বাড়ছে পাচারকারীদের দৌরাত্ম্যে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
অর্থ পাচারের ভয়ংকর মাধ্যম হুন্ডি! বাড়ছে পাচারকারীদের দৌরাত্ম্যে

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হুন্ডি ও অবৈধ পথে ডলার পাচারের ঘটনা বাড়ছে। আর এই হুন্ডি অর্থ পাচারের একটি ভয়ংকর মাধ্যম। যে মাধ্যমে অবৈধ পথে দেশের টাকা পাচার হচ্ছে। হুন্ডিতে মূলত এজেন্টের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়। এটি পুরোপুরি চলে বিশ্বাসের ওপর। এখানে কোনো কাগজপত্রের লেনদেন হয় না।

এ প্রক্রিয়ায় টাকা পাচার হওয়ায় পাচারকারীদের শনাক্ত করা খুবই কঠিন কাজ। এছাড়া হুন্ডির মাধ্যমে টাকা স্থানান্তরে খরচও আবার তুলনামূলক কম। এ কারণেই পাচারকারীরা হুন্ডিকেই পছন্দ করে বেশি। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচারে রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশ থেকে প্রতিবছর টাকা পাচার হচ্ছে। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও গড়ে উঠেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

বিদেশ গমন, চিকিৎসা ব্যয় মেটানো, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, বৈদেশিক কেনাকাটা থেকে শুরু করে জীবনযাত্রার নানাক্ষেত্র এখন হুন্ডি ও অবৈধ ডলার পাচারের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে পড়েছে। এসব টাকা হুন্ডি ব্যবসায়ীরা সোনাসহ বিভিন্ন চোরাচালানে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বেশিরভাগ মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানকে সোনা চোরাচালানে অর্থের জোগানদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে তারা ডলার পাচার করছে বলেও উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের একটি অংশ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠায় হুন্ডির মাধ্যমে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, চট্টপ্রামে বছরে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা আসে হুন্ডির মাধ্যমে। হুন্ডির ইতিহাস সম্পর্কে যতটুকু জানা যায় তাতে দেখা যায়, মুঘল অর্থনীতির অধীনে বিকশিত হওয়া একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থ লেনদেনপত্র হলো হুন্ডি। এটি ব্যক্তিপর্যায়ে অর্থ প্রেরণের একটি কৌশল হলেও মুঘল সাম্রাজ্যের রাজস্ব কর্মকর্তারা এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে অর্থ প্রেরণের জন্য প্রায়ই হুন্ডি ব্যবহার করতেন। সে সময় মুঘল সাম্রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই হুন্ডি ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল।

হুন্ডি বলতে সাধারণত বাণিজ্য ও ঋণ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আর্থিক দলিলগুলোকে বোঝানো হতো। কৌশলগতভাবে বলা হয়ে থাকে, হুন্ডি বলতে এমন একটি লিখিত শর্তহীন আদেশকে বোঝানো হয়ে থাকে, যা এক ব্যক্তির নির্দেশ অনুযায়ী অন্য এক ব্যক্তি লিপিবদ্ধ করে থাকেন এবং নির্দেশনামায় উল্লেখিত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত কিছু অসৎ ব্যবসায়ী হুন্ডির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি করে চলেছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, বিশ্বের নামিদামি সব জুয়ার আসরেও দেশ থেকে টাকা যাচ্ছে হুন্ডিতে। শীর্ষস্থানীয় জুয়াড়িরা হংকং, লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্যাসিনোয় দুই হাতে টাকা ব্যয় করে যাচ্ছেন। তথ্যপ্রযুক্তি মাধ্যম ছাড়াও হুন্ডিতেও বিপুল অঙ্কের টাকা পাচার করে নিচ্ছে তারা বিদেশের ক্যাসিনোয়।

সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ মতে, লন্ডনের গ্রসভেনর ভিক্টোরিয়া ক্যাসিনো, পাম বিচ ক্যাসিনো, ক্রকফোর্ডস, গোল্ডেন নাগেট, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যাসিনো হংকংয়ের ভেনটিয়ান ম্যাকাওসহ উইন ম্যাকাও, গ্রান্ড লিসবোয়া ও স্যান্ডস ম্যাকাওয়ে জুয়াড়িদের উপস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও হতবাক হন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দামি ক্যাসিনো লাস ভেগাসের নাভেদা, নিউজার্সির আটলান্টিক সিটি, শিকাগোর ইলিয়নস, মিশিগানের ডেটরয়েটেও বাংলাদেশি জুয়াড়িরা পাল্টা দিয়ে বড় বড় দানে জুয়া খেলেন। আর জুয়াড়িরা জুয়ার এসব টাকা নিচ্ছেন হুন্ডিতে।

এছাড়া বিদেশি নিয়োগের নামেও দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে টাকা পাচার হচ্ছে। মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৮.৮ শতাংশ অর্থ পাচার হয়ে যায়। যা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিবেচনাতে ভয়ঙ্কর।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশের অর্থনীতিবিদদের নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে তাদের পরামর্শক্রমে ১৯৭৪ সালে ‘ওয়েজ আর্নার্স স্কিম’ চালু করা হয় এবং তখন থেকে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসার প্রবণতা বাড়তে থাকে।

১৯৭৪-৭৫ সালে বিদেশ থেকে প্রবাসীদের প্রেরিত মোট অর্থ ছিল ১১.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার আস্তে আস্তে সমৃদ্ধ হতে থাকে। নিজেদের বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে এবং আয়ের উৎস বের করতে বিপুলসংখ্যক মানুষ কুয়েত, মালয়েশিয়া, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, মালদ্বীপ, লিবিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেতে আরম্ভ করেন। তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফলে দেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আসতে শুরু হয়।

তখন কিছু বৈধ লাইসেন্সধারী বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের মাধ্যমে ব্যাংকে নিলাম পদ্ধতি চালু ছিল। প্রতিদিন নিলামে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারদর ওঠানামা করত। এতে একদিকে যেমন প্রবাসীদের বেনিফিশিয়ারিরা তাদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকে নিজের হিসাবে জমা রেখে সুবিধামতো সময় বিক্রি করতে পারতেন, অন্যদিকে ব্যাংক ফ্লোরে নিলামেও বিক্রি করার সুবিধা ভোগ করতেন। এভাবে বেশি করে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসার ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সমৃদ্ধ হতে থাকে।

দেশের উন্নয়নমূলক কাজে এ মুদ্রার ব্যবহার হতো। এছাড়া বেশকিছু শিক্ষিত যুবক এ ব্যবসার মাধ্যমে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতে পারতেন। এভাবে দেখা যায়, সরকার প্রবর্তিত ‘ওয়েজ আর্নার্স স্কিম’ দেশ-বিদেশে জনপ্রিয়তা লাভ করে। মানুষের আগ্রহও ক্রমে এ স্কিমে বাড়তে থাকে। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে এক অশুভ চক্র এ সহজ প্রথার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এতে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসা কমতে থাকে। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা তৎপর হয়ে ওঠে। দেশ বঞ্চিত হতে থাকে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা থেকে।

এক সমীক্ষা অনুযায়ী, হুন্ডি ব্যবসায়ীরা দেশের ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে বিদেশে তাদের কার্যক্রম চালাতে থাকে। সহজে বাড়িতে টাকা পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে থাকে প্রবাসীদের। বিদেশের যেসব শহরে বাংলাদেশিদের অবস্থান বেশি, সেসব স্থানে তারা ব্যাংকের মতোই বুথ খুলে বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশিদের কাছ থেকে নিয়ে তার বিপরীতে সাংকেতিক চিহ্নসংবলিত ‘টুকা’ ইস্যু করার কাজ করে। এ টুকাই বাংলাদেশে তাদের টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা প্রদানের নিদর্শন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশিদের বেতন, ফি বাবদ প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে হুন্ডিতে পাচার হয়ে যাচ্ছে অনেক টাকা।

দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য হুন্ডি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ব্যবসায়ীর কারণে বাংলাদেশ প্রতি বছর অনেক রাজস্ব হারাচ্ছে। এ ব্যবসা দীর্ঘদিন থেকে দেশের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।

হুন্ডি ও ডলার পাচারের ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত আছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়, তাদের ব্যাপারে নিরপেক্ষ তদন্ত করে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের একান্ত প্রত্যাশা। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচারের এটি হলো খণ্ডচিত্র। এমন অসংখ্য পদ্ধতিতে দেশ থেকে টাকা পাচার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। হুন্ডির মাধ্যমে যেমন পাচার হচ্ছে টাকা, তেমনি বিদেশি নাগরিকদের চাকরি দেওয়া বা কনসালটেন্ট নিয়োগের নামেও অর্থ পাচার হচ্ছে। সেকেন্ড হোমের সুবিধা নিয়েও দেশ থেকে টাকা পাচার হচ্ছে। আর এসব অর্থ পাচারকারীকে দেখানো হচ্ছে ঋণখেলাপি হিসেবে।

জানা গেছে, দেশের অন্যতম আর্থিক কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে একটি হলো শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি। এর পরে রয়েছে, একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট। হলমার্ক, বেসিক ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংগুলোতে একের পর এক কেলেঙ্কারি। দেশ থেকে অর্থ পাচার ও সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভের অর্থ চুরি।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা অর্থসম্পদ গড়েন, তারাই মূলত এ টাকা পাচার করেন। পাশাপাশি দেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ নিজেদের পরিবার এবং সন্তানদের নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তার জন্য বিভিন্নভাবে অর্থ বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় দেশে না পাঠিয়ে বিদেশেই সেগুলো রেখে দিয়ে দেশ থেকে টাকা পরিশোধের মাধ্যমে, পণ্যের চোরাচালানের মাধ্যমে, নগদ আকারে বৈদেশিক মুদ্রা বা টাকা স্থানান্তর করার মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাচার হচ্ছে। যখন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মীদের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। যখন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মীদের পাঠানো অর্থে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে, অর্থনীতির চাকা ঘুরছে, তখন অন্য এক শ্রেণির লোক ব্যাংক লোপাট করে, দুর্নীতি ও লুটপাট করে অর্থ পাচার করছেন, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, আমলা যারাই অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকুন না কেন, তারা দেশের অর্থনীতিকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তাদের প্রতি সদয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচারকারীদের চরম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, অনিয়ম দুর্নীতি, নৈরাজ্য বিশৃঙ্খলা দূর করে সুশাসন নিশ্চিত করণের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

অর্থনীতিতে যে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে বিদেশে লাগামহীন অর্থ পাচারের মাধ্যমে তা কাটিয়ে উঠতে না পারলে বাংলাদেশের অগ্রগতির যে ধারা সৃষ্টি হয়েছে তা মাঝ পথে থেমে যেতে পারে। দেশের টাকা দেশে থাকবে, বিনিয়োগ হবে, অর্থনীতি আরো চাঙ্গা হবে, গতিশীল হবে অগ্রগতির চাকা, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এভাবে নন-ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাচারের প্রধান একটি উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয় হুন্ডি। তাই হুন্ডি ব্যবসা বন্ধ করতে জনসাধারণের সচেতনতা বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন। পাশাপশি হুন্ডির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

নুর মোহাম্মদ রানা

প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, সাংবাদিক।

Feb2

চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

মাসুদ আলম বিসিএস পুলিশের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার বাড়ি বগুড়া জেলায়। রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা কারণে আলোচনায় আসেন এবং কর্মদক্ষতার জন্য সুনাম অর্জন করেন।

বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যমুনা, সচিবালয়, হাইকোর্ট ও টিএসসি এলাকায় বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে হওয়া আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়।

রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে যোগদানের আগে মাসুদ আলম পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৬) ঝিনাইদহ ক্যাম্পেও কর্মরত ছিলেন।

স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অনেক মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তিনি উল্লেখ করেন, মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

ঢাকা-১৭ এলাকার মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, কড়াইল, ভাষানটেক, সাততলার মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প, নির্মাণ… সবখানে তাদের শ্রম। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

তিনি আরও বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের বড় একটি অংশ প্রায় ৪২.৬ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তারা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পায় না কারণ অসুস্থতা মানেই আয় বন্ধ।

ডা. জুবাইদা বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাচাঁতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান আশা প্রকাশ করেন, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘মতিঝিলের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।’

মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, নিহতদের পরিবারের বক্তব্য এবং সকল হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। হেফাজতে ইসলামের যে প্রোগ্রামটা তারা আগে থেকেই প্রতিবাদ করে জানিয়ে আসছিলেন এবং তারা ঢাকায় এসে সেখানে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল- সেই প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল, কোনোভাবে তাদের সেখানে অবস্থান নিলে মোকাবিলা করতে হবে। তা না পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল- এটিকে তিনি সিস্টেমেটিক, ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক এবং টার্গেটেড কিলিং হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, প্রত্যেক নিহতের পরিবারের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন এবং যেসব হেফাজতে ইসলামের সদস্য নিহত হয়েছেন, প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অতএব প্রত্যেক নিহত হওয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।