খুঁজুন
, ,

মনিরামপুরে ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে রাস্তার ২ লক্ষাধিক টাকার ৩১ টি সরকারি গাছ কর্তন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 3 June, 2020, 11:54 pm
মনিরামপুরে ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে রাস্তার ২ লক্ষাধিক টাকার ৩১ টি সরকারি গাছ কর্তন

নিলয় ধর,যশোর প্রতিনিধি:ঝড়ের দোহায় দিয়ে যশোরের মনিরামপুরে সড়কের সরকারি ৩১ টি মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে উপজেলার হরিহরনগর ইউপির ১ জন ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে গাছ কেটে ভাগাভাগি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ পিচ মেহগনির লগ পার্শ্ববর্তি রোহিতা ইউনিয়নের মুড়াগাছা বাজারে একটি স -মিলে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। আর এই বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

জানা যায় যে ,উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের পুটিমারা বটতলা থেকে মদনপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে যশোর জেলা পরিষদের আওতাধিন প্রায় কয়েক শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতের গাছ রয়েছে। জেলা পরিষদ থেকে এসব গাছপালা রক্ষনাবেক্ষন করা হয়ে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি ঝড়ের প্রভাবে এই সড়কের বেশ কিছু গাছ হেলে পড়ে।

অভিযোগ করা হয়েছে, এই সুযোগে স্থানীয় ইউপি সদস্য শামছুর রহমানের নেতৃত্বে জামিল হোসেন, আকবর আলী,সেকেন্দার আলী, বারীক হোসেন,আলীম হোসেন,শফিকুল ইসলাম,ইমন হোসেনসহ বেশ কয়েকজন (২৮ মে) ৩১ টি মেহগনি গাছ কেটে নিয়েছেন।জানা গেছে গাছ কাটার পর অধিকাংশ বিক্রী করা হয়। বাকী কাঠ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছে।

এর মধ্যে ইউপি সদস্য শামছুর রহমান নিজে নেন ৫০ মন, কিছু দেওয়া হয় সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ছবিরোন্নেছাকে,ঝিকরগাছার মহিনকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বিদুর কুমারকে দেয়া হয় ৫০ মন।

তবে বিদুর কুমার জানিয়েছেন,তিনি ইউপি সদস্য শামছুর রহমানের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকায় ৫০ মন জ্বালানী কাঠ ক্রয় করেছেন।

ইউপি সদস্য শামছুর রহমান জানান, ১৩ জন শ্রমিক নিয়ে সড়ক থেকে গাছসমুহ কাটা হয়।

ফলে বিদুর কুমারের কাছে ৪ হাজার টাকার জ্বালানী কাঠ বিক্রি করে ওই শ্রমিকদের দেয়া হয়। গাছকাটার বিষয়টি জানা জানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। ফলে ইউপি সদস্য শামছুর রহমান রাতের অন্ধকারে ৩১ পিচ লগ গত বৃহস্পতিবার ২টি আলমসাধুতে বোঝাই দিয়ে পার্শ্ববর্তি রোহিতা ইউনিয়নের মুড়াগাছা বাজারের আবদুল মান্নানের সমিলে এনে স্তুপ করে রাখে।

তবে সমিলের মালিক আবদুল মান্নান জানান, তার অনুমতি না নিয়েই রাতের অন্ধকারে ইউপি সদস্য শামছুর রহমান ৩১ পিচ মেহগনির লগ তার সমিলে রাখেন।

এই ব্যাপারে কথা হয় ইউপি সদস্য শামছুর রহমানের সাথে গাছ বিক্রি করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানিয়েছেন, ঝড়ে গাছ পড়ে যাবার কারনে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হরিহরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের নির্দেশে তিনি শ্রমিক নিয়ে গাছ কাটেন।

হরিহরনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন,গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হওয়ায় ইউপি সদস্যকে বলা হয়েছিল অপসারন করতে। কিন্তু বিক্রি করতে বলা হয়নি।

জেলা পরিষদ সদস্য শহিদুল ইসলাম মিলন জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ওই কাঠ জব্দ করা হয়েছে।

জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার এমএ মনজু জানান,খবর পেয়ে তিনি মুড়াগাছা বাজারের আবদুল মান্নানের সমিলে গিয়ে ৩১ পিচ মেহগনির লগ জব্দ করেন।

তিনি আরো জানিয়েছেন, এই ব্যাপারে ২/১ মধ্যে দোষিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।