খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে মেস ভাড়া নিয়ে চাপা ক্ষোভ অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষার্থীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
যশোরে মেস ভাড়া নিয়ে চাপা ক্ষোভ অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষার্থীর

নিলয় ধর,যশোর প্রতিনিধি:মেস ভাড়া নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে যশোরের অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষার্থীর। ভাড়ার ২৫ শতাংশ মওকুফের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করেছে তারা। দুর্দশাগ্রস্ত মালিকদের আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে হলেও পূর্বঘোষিত ৬০ শতাংশ মওকুফের দাবি তাদের। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে নামার হুশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্র নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া, কিছু বাড়ির মালিক শিক্ষার্থীদের মেসভাড়ায় কোনো ছাড় দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে কোনো মালিক পুরোপুরি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশা দিয়েছেন মেস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

বুধবার মেস ভাড়া মওকুফ বিষয়ে সমাজত্রান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট,বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের পক্ষ থেকে যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর ১টি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। আজও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেস ভাড়া মওকুফের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেবেন বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি,তাদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। করোনায় গভীর সঙ্কটে জীবনযাপন করছেন অভিভাকরা। এর মধ্যে টিউশনি না থাকায় আয়ের কোনো উৎস নেই শিক্ষার্থীদের। এই সঙ্কটের মধ্যে আম্পান ঝড় দরিদ্র মানুষকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পরিবার একবেলা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে। তার মধ্যে মেসে না থেকেও ভাড়া টানা একেবারেই অসম্ভব। কিন্তু মালিকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ৪০ শতাংশ টাকা দিতে চায় শিক্ষার্থীরা। প্রয়োজনে মালিকদের সরকারিভাবে আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার দাবিও জানান তারা। শিক্ষার্থীদের দাবি, ৬০ শতাংশ ভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্ত ৩০ জুনের মধ্যে কার্যকর করে তা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , গত (১৭ মার্চ) থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর মেস ছেড়ে শিক্ষার্থীরা যার যার বাড়ি চলে যায়। আবাসন সঙ্কট থাকায় যশোরের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৩ হাজার মেসে বা বাসায় অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষার্থী ভাড়া থেকে পড়াশোনা করে। মেসে না থেকেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুরোপুরি ভাড়া নেওয়ার জন্যে চাপ দেয় মালিকপক্ষ। এই নিয়ে যশোরের বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এরপর গত (৪ মে) জেলা প্রশাসন, মেস মালিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে মেস ভাড়ার ৬০ শতাংশ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে ছাত্র প্রতিনিধিদের পাশ কাটিয়ে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে এক পক্ষের স্বার্থে মেস ভাড়ার শতকরা ২৫ ভাগ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি অবজ্ঞা করে এমন সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে, কিছু বাড়ির মালিক শিক্ষার্থীদের মেসভাড়ায় কোনো ছাড় দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর দাবি, পালবাড়ীর বাসা মালিক মোহাম্মদ রাজু এপ্রিল মাসে ২ রুমের ভাড়াবাবদ তাদের কাছ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা,বিদ্যুৎ ও পানির বিলসহ মোট প্রায় ৭ হাজার টাকা আদায় করেছে। অথচ, মার্চের মধ্যবর্তী সময় থেকে তারা নিজ গ্রামে রয়েছে।

এছাড়া ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, সরকারি এমএম কলেজ, সিটি কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুরোপুরি মেস ভাড়া নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ এসেছে। যদিও অধিকাংশ মেস মালিক প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাড়া নিচ্ছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে অনেকে ভাড়া পুরোপুরি মওকুফও করেছেন।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পলাশ বিশ্বাস, জেলা সভাপতি কৌশিক রায়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের জেলা সভাপতি অনুপম আইচ বলেন, শিক্ষার্থীরা মেস ভাড়ার ২৫ শতাংশ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। শুধু মালিক নয়, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের কথাও চিন্তা করতে হবে। বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীদের ৫০ বা ৬০ শতাংশ মেস ভাড়া মওকুফ করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি ২৫ শতাংশ মওকুফের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে তবে ছাত্র সংগঠন তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করবে বলে জানান তারা।

এই বিষয়ে যশোর মেস মালিক সমিতির সভাপতি মফিজুর রহমান ডাবলু বলেছেন, যদি কোনো মালিক পুরোপুরি ভাড়া নেন তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, ভাড়া থেকে মালিকদের সংসার চলে। সর্বশেষ বৈঠকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হয়ে একজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের স্বার্থে সবার উপস্থিতিতে মালিকরা সে সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। ছাত্রপ্রতিনিধরা কেনো উপস্থিত ছিলেন না এ বিষয়ে তিনি জানেন না বলে দাবি করেন। তবে মেস মালিক সমিতি ভবিষ্যতে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বাবদ বৃত্তির ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছে তিনি।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস ও বাকি ৩ দিন সশরীরে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সপ্তাহের শনিবার, সোমবার ও বুধবার অফলাইন বা সশরীরে ক্লাস নেয়া হবে। আর রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেয়া হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ঢাকা মহানগরীতে চালু হচ্ছে এই পদ্ধতি। জোড়-বিজোড় দিন ভাগ করে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।

এছাড়াও মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত পরে জানানো।

জানা যায়, আগামী সপ্তাহে তা শুরু হবে । ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল করেছেন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা।

দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা পরে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হওয়ার সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করেন।

এ সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বলেন, আমরা এ রায় মানি না। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বিস্তারিত আসছে…