খুঁজুন
, ,

যশোরে স্কুল ছাত্রী অপহরনের ১১ দিন পর ভারতীয় সীমান্ত থেকে উদ্ধার: আটক এক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 13 June, 2020, 2:19 pm
যশোরে স্কুল ছাত্রী অপহরনের ১১ দিন পর ভারতীয় সীমান্ত থেকে উদ্ধার: আটক এক

নিলয় ধর, যশোর প্রতিনিধি:যশোরের মণিরামপুরে ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরনের ১১ দিন পর বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাতে শার্শা উপজেলার ভারতীয় সিমান্তের এক ইটভাটার ঘর থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাকির হোসেন জাকির নামে এক ভাটা শ্রমিককে আটক করে।

এ ব্যাপারে স্কুল ছাত্রীর পিতা বাদি হয়ে বাকির হোসেন জাকিরের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ শুক্রবার দুপুরে বাকিরকে আদালতে সোপর্দ করে।

আটক বাকির হোসেন জাকির নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার বান্টি গ্রামের মৃত আবদুল আজিজের ছেলে। সে শার্শা উপজেলায় ভাটা শ্রমিকের কাজ করতো।

মামলার তদন্তকারী অফিসার (এসআই) আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, মনিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের এক স্কুল শিক্ষকের মেয়ে ৮ ম শ্রেণির ছাত্রী তুচ্ছ ১টি বিষয় নিয়ে মায়ের উপর অভিমান করে (৩ জুন) সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি।

সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুজি করেও তার কোন সন্ধ্যান না পেয়ে ৫ জুন থানায় ১টি জিডি করেন ছাত্রীর বাবা (হিন্দু সম্প্রদায়)
(৯ জুন) রাতে ওই ছাত্রী অপরিচিত একটি মোবাইলফোন নম্বর থেকে তার বাবাকে মোবাইল করে জানায় তাকে ৩জন যুবক অপহরন করে একটি ইটভাটার ঘরে আটকিয়ে রেখেছে। মনিরামপুর থানার (এসআই) তপন কুমার সিংহ জানিয়েছে, এই খবর জানতে পেরে ওই মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তার নেতৃত্বে পুলিশের ১টি টিম বৃহস্পতিবার(১১ জুন) বিকেলে শার্শা উপজেলায় রওনা হন।

রাত ১০ টার দিকে উপজেলার ভারতীয় সিমান্ত খামারপাড়া গ্রামের জেএএবি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ১টি ঘর থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময় সেখান থেকে আটক করা হয় বাকির হোসেন জাকির নামে এক ভাটা শ্রমিককে।

মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, উদ্ধারকরা ওই ছাত্রী জানিয়েছে, (৩ জুন) সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে সে এক নিকট আত্বিয়ের বাড়ি যাবার জন্য মনিরামপুর পৌরশহরের মোহনপুর বটতলা মোড়ে বাসের অপেক্ষায় ছিল। এই সময় তার সাথে পরিচয় হয় বাকির হোসেন জাকির এবং অপর দুই যুবকের সাথে।

এক পর্যায়ে তারা ওই ছাত্রীকে ফুসলিয়ে বাসে করে নিয়ে যায় খুলনার পাইকগাছা উপজেলায়। সেখানে একটি ঘরে তাকে তিনদিন আটকিয়ে রাখা হয়। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় যশোরের শার্শা উপজেলার খামারপাড়া গ্রামের জেএএপি ইটভাটায়। ওই ছাত্রী জানায় ইটভাটার একটি ঘরে তাকে আটকিয়ে রেখে বাকির হোসেন জাকির তার সাথে খারাপ আচরণ করে। (১১ জুন) রাতে পুলিশ সেখান থেকে ছাত্রীকে উদ্ধার করে।

মনিরামপুর থানার ওসি(তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা স্কুল শিক্ষক বাদি হয়ে বাকির হোসেন জাকিরের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২ ব্যক্তির নামে বৃহস্পতিবার রাতে মামলা করেছেন।

শুক্রবার(১২ জুন) দুপুরে পুলিশ বাকিরকে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে ওই ছাত্রীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে জবানবন্দি প্রদান এবং ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্নের জন্য।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।