স্বেচ্ছায় রক্তদাতা ও কোভিড-১৯ যোদ্ধাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালিত
বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষ্যে বন্দর এলাকার তরুন উদ্যমী সংগঠকদের সংগঠন স্বেচ্ছা রক্তদাতা ফোরাম কর্তৃক বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদাতা ও কোভিড-১৯ যোদ্ধাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন আজ রবিবার (১৪ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টায় স্থানীয় বন্দর বয়েজ কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্টিত হয়।
স্বেচ্ছা রক্তদাতা ফোরামের সংগঠক আশীষ কান্তি মুহুরীর সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র বিজ্ঞাণ শিক্ষক মোঃ আবছার উদ্দিন, সমাজকর্মী স্বরূপ দত্ত রাজু, ইয়াছিন আহমেদ জীবন, জহিরুল হক, অপূর্ব চন্দ্র নাথ প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন প্রতি বছর ১৪ জুন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী রক্তদান দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশেও বিভিন্ন সংগঠন জাঁকজমকপূর্ণভাবে রক্তদাতা দিবস পালন করে। ঠিক তেমনি ভাবে নগরীর রক্তের অন্যতম যোগানদাতা সংগঠন স্বেচ্ছা রক্তদাতা ফোরামও প্রতি বছর র্যালি, আলোচনা সভা, রক্তদাতাদের সম্মাননাসহ মনোমুগ্ধকর আয়োজন করে থাকে। কিন্তু বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে যা একেবারেই অসম্ভব। তাই সকল স্বেচ্ছায় রক্তদাতা ও কোভিট-১৯ যোদ্ধাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছে সংগঠনটি।
বক্তারা আরো বলেন, করোনার এই দুঃসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসছে স্বেচ্ছায় রক্তদান করে মানুষের পাশে থাকতে। ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস, যারা স্বেচ্ছায় ও বিনা মূল্যে রক্তদান করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাচ্ছেন তাদের সহ সাধারণ জনগণকে রক্তদানে উৎসাহিত করাই এ দিবসের উদ্দেশ্য। প্রতি বছর সারা পৃথিবীতে ৮ কোটি ইউনিট রক্ত স্বেচ্ছায় দান হয়। উন্নত দেশে বেশির ভাগ রক্তদাতাই হলেন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা, যারা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে রক্তদান করেন, রক্তদাতাই সমাজ সেবামূলক কাজ হিসেবে রক্তদান করেন।
এক সময় আমাদের দেশেও পেশাদার রক্তদাতাদের কাছ থেকে রক্ত কিনেই মুমূর্ষ রোগীর চাহিদা পূরণ করা হতো। সেই চাহিদা মিটাতে গিয়ে রোগী এবং রোগীর আত্নীয়স্বজন আরো বড় বিপদের সম্মুখীন হতে হতো। পেশাদার রক্তদাতাদের রক্ত রোগী গ্রহণ করার কারণে মুমূর্ষ রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে উঠে বিভিন্ন নিত্যনতুন রোগের উপসর্গ দেখা দেয় ফলে রোগীর বাঁচা-মরার অবস্থা সৃষ্টি হয়।
বিশ্বের অনেক দেশে মানুষের রক্তের প্রয়োজন হলে নির্ভর করতে হতো নিজের পরিবারের সদস্যদের বা পেশাদার রক্তদাতাদের উপর। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন এখন রক্তের প্রয়োজন হলে নিজের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে রক্ত না নিয়ে যে মানুষ গুলো বিপদের দিনে মানুষকে নিঃস্বার্থ ভাবে রক্তদান করেন তাদের দারস্থ হয়। নিরাপদ রক্ত সরবরাহের মূল ভিত্তি হলো স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে দান করা রক্ত। কারণ তাদের রক্ত তুলনামূলক ভাবে নিরাপদ এবং এসব রক্তের মধ্য দিয়ে গ্রহীতার মধ্যে জীবন সংশয়ী সংক্রমণ যেমন এইচআইভি ও হেপাটাইটিস সি সংক্রমনের আংশঙ্কা খুবই কম থাকে।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে স্বেচ্ছায় রক্তদাতা ও কোভিড-১৯ যোদ্ধাদের করতালির মাধ্যমে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।
২৪ ঘণ্টা/এম আর


আপনার মতামত লিখুন