খুঁজুন
, ,

এক মহীয়সী মায়ের বিদায়/ মানব কল্যাণে নিয়োজিত সমাজের সর্ব উচ্চ শিখরে থাকা ৪ সন্তান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 17 June, 2020, 2:27 pm
এক মহীয়সী মায়ের বিদায়/ মানব কল্যাণে নিয়োজিত সমাজের সর্ব উচ্চ শিখরে থাকা ৪ সন্তান

২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ। আলীউর রহমান : ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ডাক্তার তাহমিনা বানু, ডাক্তার মহসীন জিল্লুর করিম, ড. আদনান মোর্শেদ চারজনই দেশের নক্ষত্র। তাদের মা জোহরা বেগম (৮৭) মঙ্গলবার রাত দুইটায় পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন।

নিরবে আড়ালে থেকে আজীবন তিনি নিজ সন্তানদের মানুষের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। একজন মায়ের চার সন্তান সমাজের সর্ব উচ্চ শিখরে অবস্থান করে গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে এমন নজির দেশে বিরল। তিনি চন্দনাইশের বড়মা গ্রামের ডাক্তার আবদুল মতিন স্ত্রী।

চার সন্তানের পরিচিতি :

(১) ড. হোসেন জিল্লুর রহমান : জন্ম ২৬ জুলাই ১৯৫১। তিনি একজন শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের চেয়ারম্যান। তিনি ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন এবং বাণিজ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ, ডেনিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, সুইডিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা, টেকসই উন্নয়ন কমিশন, অ্যাকশন এইড, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থার পরামর্শদাতা ছিলেন। তাছাড়াও বাংলাদেশের নীতি নির্ধারক ও সুশীলদের একজন হিসেবে পরিচিত ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

(২) ডাক্তার তাহমিনা বানু : চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে অধ্যাপক হিসাবে অবসর গ্রহনকারী এই মহিয়সী নিজে ঘর সংসার করেননি। দেশের ক্রটি নিয়ে জন্মগ্রহণ কারী কঠিন রোগে কষ্ট পাওয়া শিশুরাই তার সন্তান।

১৯৯৩ সালে ডা. তাহমিনা বানুর হাত দিয়ে যাত্রা করে শিশু সার্জারি বিভাগ। দেশে অসংখ্য শিশুর ক্রিটিক্যাল অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে ‘শিশুবন্ধু’ খ্যাত এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে। অবিরাম চালিয়ে যাচ্ছেন শিশু সার্জারিসহ চিকিৎসা নিয়ে নানা গবেষণা।

শিশু সার্জারি জগতে আন্তর্জাতিক আঙিনায় ইতিমধ্যে তৈরি করেছেন নিজের সর্বোচ্চ অবস্থান। দেশি ৬৯টি এবং আন্তর্জাতিক ৪১টি চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ।

বিশ্বে প্রথম তিনি জন্মগত ত্রুটির ওপর গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন ২০১৩ সালে। এর আগে বিষয়টি ভারতে আলোচনা হলেও লিখিতভাবে প্রথম আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ হয়। তাছাড়া, বর্তমানে দেশের একমাত্র চিকিৎসক তিনি, যিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অক্সফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে ক্লাস নেন।

তাঁর ‘লো কস্ট কোলাবোরেট’ ফান্ড ২০১৭ সালে যাত্রা করা এ ফান্ডের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ২৫০ জন রোগীর সেবা দেওয়া হয়েছে। যেখানে কোটি টাকার চিকিৎসা খরচ হয় শিশুদের এমন জটিল রোগ বিনা পয়সায় অথবা সামর্থ্য অনুযায়ী ফিতে করা হয়।

(৩) ডাক্তার মহসীন জিল্লুর করিম : MBBS, MRCP, FRCP, FACC. Cardiacare Heart and General HospitalSt। দেশের নাম করা কার্ডিয়াক বিশেষজ্ঞ। তিনি গত ১৫ বছর ধরে নিজ এলাকা চন্দনাইশে ফ্রি ক্লিনিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চট্টগ্রামে যে কোন চ্যারিটি চিকিৎসা ক্যাম্পে ডাকলেই চলে আসেন।

(৪) ড. আদনান মোর্শেদ : তিনি বর্তমানে স্কুল অফ আর্কিটেকচার অ্যান্ড প্ল্যানিং, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াশিংটন ডিসির সহযোগী অধ্যাপক। এমআইটি, এবং বি আর্চ থেকে আর্কিটেকচারে মাস্টার্স ওপিএইচডি করেছেন।

তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। ওয়াশিংটন, ডিসির স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের জাতীয় বায়ু ও মহাকাশ যাদুঘরে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন তিনি।

তিনি সোসাইটি অফ আর্কিটেকচারাল হিস্টোরিস্টসের পরিচালনা পর্ষদে, মানবিক অনুদানের জন্য জাতীয় অনুদানের জন্য জুরি এবং সম্প্রতি, অ্যালিস ডেভিস হিচকক বই পুরস্কারের জন্য সোসাইটি অব আর্কিটেকচারাল হিস্টোরিয়ানস কমিটির সভাপতিত্ব করেছেন।

আদনান মোর্শেদকে ন্যাশনাল গ্যালারী অফ আর্টের ভিজ্যুয়াল আর্টস (সিএএসভিএ) এর সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিতে ওয়াইথ ফেলোশিপ, অন্যদের মধ্যে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ফেলোশিপ প্রদান করা হয়েছে। স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন; ওল্ফসোনিয়ান-ফ্লোরিডা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়; আর সোসাইটি অফ আর্কিটেকচারাল হিস্টোরিয়ানস।

তাঁর গবেষণা গ্রাহাম ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল এন্ডোমেন্ট ফর হিউম্যানিটিস এবং এমআইটি থেকে সম্মানজনক গবেষণা অনুদান পেয়েছে। তিনি ইম্পসিবল হাইটস: স্কাইস্ক্রেপার্স, ফ্লাইট এবং মাস্টার বিল্ডার (ইউনিভার্সিটি মিনেসোটা প্রেস, ২০১৫) এবং ওকুলাস: অ্যাডসাইড অফ ইনসাইটস ইন বাংলাদেশি অ্যাফেয়ার্স (ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, ২০১২)।

তিনি আধুনিক স্থাপত্য ও নগরবাদের ইতিহাস এবং তত্ত্ব, নগর পরিবেশ ও জেন্ডার ন্যায়বিচার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিতে টেকসই নগর পরিকল্পনার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে বক্তৃতা দিয়েছেন।

তাঁর নিবন্ধগুলি সোসাইটি অফ আর্কিটেকচারাল হিস্টোরিয়ানস, জার্নাল অফ আর্কিটেকচারাল এডুকেশন, জার্নাল অফ সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ, থ্রেশহোল্ডস (এমআইটি), সেন্টার (আর্ট গ্যালারী অফ আর্ট), কনস্ট্রাক্টস (ইয়েল), নিউ জিওগ্রাফিজ (হার্ভার্ড), স্থাপত্য নকশা এবং dition ঐতিহ্যগত আবাসন এবং সেটেলমেন্ট পর্যালোচনা। আরো পড়ুন : মারা গেছেন ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের মা

তিনি বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক রেফার্ড জার্নালের জন্য পর্যালোচক হিসাবে কাজ করেছেন। ২০১২ সালে, তিনি দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি শহর: ঢাকা, দিল্লি এবং চণ্ডীগড়ে সোসাইটি অব আর্কিটেকচারাল হিস্টোরিয়ান্সের অধ্যয়ন সফরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

বর্তমানে তিনি প্রফেসর মার্ক জারজমবেকের নেতৃত্বে এমআইটি’র গ্লোবাল আর্কিটেকচার হিস্ট্রি টিচিং কোলাবরেটিভকে M1M মেলন ফাউন্ডেশন মঞ্জুরি বোর্ডেও কাজ করছেন। একজন অনুশীলনকারী স্থপতি এবং নগরবিদ, আদনান মোর্শেদ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, লেবানন, মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশে ভবনগুলি নকশা করেছেন।

২৪ ঘণ্টা/রাজীব প্রিন্স

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।