খুঁজুন
, ,

গরুর লাম্পি স্কিন রোগে ক্ষতির আশঙ্কায় নীলফামারীর কৃষক ও খামারিরা,মৃত্যু ৯

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 23 June, 2020, 5:52 pm
গরুর লাম্পি স্কিন রোগে ক্ষতির আশঙ্কায় নীলফামারীর কৃষক ও খামারিরা,মৃত্যু ৯

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : ক্যাপরী ফক্স ভাইরাসের সংক্রমনে নীলফামারীর ছয় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে,ওয়ার্ড ও গ্রামে সহস্রাধিক গবাদি পশু আক্রান্ত হয়েছে। কোরবানীর ঈদের আগেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিপাকে ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক-খামারিরা।

সোমবার(২২ জুন) জানা গেছে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর গ্রামে ৫টি, জেলা সদরের বাহালিপাড়া গ্রামে ২টি ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলার নিতাই গ্রামে ২টি সহ মোট ৯টি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

সদর উপজেলা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জানায়, ক্যাপরী ফক্স ভাইরাসের মাধ্যমে ‘লাম্পি স্কিন’ নামের রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এর সুনির্দিষ্ট কোন কিকিৎসা নেই। লক্ষন দেখে (সিড্রোমেটিক ট্রিটমেন্ট) আক্রান্ত পশুকে পেনিসিলিন, এন্টি হিস্টামিন ও জ্বড় হলে প্যারাসিটামল দিয়ে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।এন্টিসেপটিক হিসেবে খাবার সোডা পরিমান মত পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত পশুর শরীর পরিস্কার রাখার পরামর্শ দেন খামারীদের।

জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া সরকার পাড়া গ্রামের কৃষক সেকেন্দার আলী জানায়, আমার তিনটি গরু ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়াও এই গ্রামের প্রত্যেক বাড়ীতে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে শতাধিক গরু। গরু তিনটির পিছনে ১০ হাজার টাকা খরচ করেও সুস্থ হয়নি।

একই পাড়ার আশরাফ আলী জানান, খামারীসহ ব্যক্তি পর্যায় কোরবানীর জন্য পালন করা গবাদী পশুর মধ্যে নতুন এই ভাইরাসের সংক্রমন দেখা দিয়েছে। আবার অনেকেই বাদ্য হয়ে আক্রান্ত পশু বিক্রিও করছে।

তিনি জানান, এই পাড়ায় কিছুদিন আগে মঞ্জুরুল নামে এক কৃষকের ৭০ হাজার টাকা দামের শাহি ওয়াল জাতের একটি গরু ও সুবল চন্দ্র রায়ের একটি বকনা বাছুর মারা গিয়েছে। তারা গরু মরার শোকে কাতর।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রাণী সম্পদের লোকজনকে খবর দিলেও পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।

কৃষক মঞ্জুরুল আলম জানায়, গত ১৫ দিন আগে চামড়া ফুলা রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার একটি শাহী ওয়াল জাতের গরু মারা গিয়েছে। গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়ে কোন ফল হয়নি। টাকাও খরচ হয়েছে প্রায় ৫-৭ হাজার। তবুও গরুটিকে বাঁচাতে পারিনি। যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৭০ হাজার টাকা। গরুর মুত্যতে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সুবল চন্দ্র রায়ও একই কথা বলেন। তারা দুইজনে প্রণোদনার দাবি জানান।

উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের গৃহিনী আনোয়ারা বেগম, লতিফুর রহমান জানান, কোন বাড়ী বাদ নেই সবার গরুর অসুখ হয়েছে। উপসর্গের কথা জানতে চাইলে বলেন, প্রথমে জ্বড় হয় তারপর গুটি গুটি হয়ে ফুলে যায়। তারপর ঘা হয়ে পেকে ফেটে গিয়ে পুঁজ বের হয়। সাথে কাঁপুনি ও ব্যাথা অনুভব হয়।

তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারী ডাক্তারকে ফোন দিলে বলে, কোন দিকে যাব ভাই, সবদিকে একই অবস্থা। বারবার ফোন দিয়েও দেখা মেলিনি সরকারী ডাক্তারের।

উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের দিঘলটারী গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রতিটি বাড়ীতে এই রোগ দেখা দিয়েছে। ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের পর গ্রাম। গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছে মানুষ।

তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতে টাকা পয়শা হাতে না থাকায় আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পশুর মালিককে। দেখা মেলেনি সরকারী চিকিৎসকের।

জেলার সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক মুঠোফোনে জানান, এবারে নতুন এই ‘লাম্পি স্কিন’ রোগটি দেখা গিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে মেডিকেল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি গোট-টিস্যু ভ্যাকসিন পশুর ওজন ভেদে প্রতিটি গরুকে ২-৩ মিলিঃ করে দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত পশুকে লক্ষন দেখে চিকিৎসায় ভাল ফল পাওয়া যায়।

উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ছইল পলি পাড়া গ্রামের মকবুল হোসেন শাহ জানান, এই রোগে ভূল চিকিৎসায় আমার একটি গরু মারা গেছে। যার বাজার মূল্য ৫৫ হাজার টাকা মাত্র।

সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম কৃষকের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভ্যাপসা গরম আর অনাবরত বৃষ্টির ফলে ‘লাম্পি স্কিন’ রোগটি স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। জনবল সংকটের কারনে কিছুটা বিলম্ব হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনটি ভ্যাটেনারী মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এতে তিনজন ডাক্তারের নেতৃত্বে উপজেলার পৌরসভাসহ ১৬টি ইউনিয়নে গোট-টিস্যু ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নীলফামারী সদরে ১ লাখ ৫০ হাজার গরু রয়েছে।এর মধ্যে ১৪৫ টি গরুর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।অপরদিকে জেলার ডিমলা,ডোমার,জলঢাকা,সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এলাকাতেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব দিনে দিনে বেড়েই চলেছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। এতে আক্রান্ত গরু গুলোর মালিকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এলাকার কৃষক-খামারিরা সহ সাধারন মানুষেরা গরু পুশে(লালন-পালন করে)মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।

তারা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের গুরুত্ব সহকারে ও আন্তরিক ভাবে কৃষক,খামারিদের সাথে যোগাযোগ করে নিয়মিত আক্রান্ত গরু গুলোর এই রোগ প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক চিকিৎসা সেবা পৌছে দেবার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোনাক্কা আলী জানান, প্রায় এক মাস ধরে এই ক্যাপরী ফক্স ভাইরাসটি গ্রাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অসুখটিকে ‘ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ বলে জানিয়েছেন বিষেষজ্ঞরা। এই রোগে আক্রান্ত পশুর চামড়া ফুলে গোটা গোটা হচ্ছে। পরে তা ঘায়ে পরিনত হয়ে ফেটে রস বের হয়। এমনকি পশুর জ্বড় হচ্ছে।

তিনি জানান, রোগ প্রতিরোধে মশা, মাছি থেকে পশুকে দূরে রাখতে মশারী ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর/মহিনুল ইসলাম

Feb2
Feb2

বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 9:58 pm
বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তবে সেখানে বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলা করেছিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দেশে ফেরার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন বাঁধন নিজেই।

পোস্ট দিয়ে বাঁধন লিখেছেন, ‘আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিতে আমাদের বাসায় এসেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির সাহেব। তার এই আন্তরিকতা, সৌজন্য এবং দায়িত্বশীলতার জন্য আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ।’

তার কথায়, ‘এই কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেমন আশ্বস্ত করেছে, তেমনি একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আমার আস্থাকেও আরও দৃঢ় করেছে। আমি বিশ্বাস করি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনগণ। আর সেই জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র যখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন নাগরিকের আস্থার জায়গাটি আরও শক্তিশালী হয়।’

তিনি বলেন, ‘ইতালিতে সাম্প্রতিক কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার, মাননীয় সরকার প্রধান, বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালীয় সরকার ও পুলিশ বিভাগ এবং দেশে-বিদেশে যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছেন আমি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘এই অভিজ্ঞতা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে অন্যায়, ভয় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য, সাহস এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ। মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একজন নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না।’

শেষে বলেন, ‘আজ আমরা আবারও দেখেছি, মানুষ যখন ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শহরের জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 7:40 pm
দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শহরের জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

একসময় চট্টগ্রাম নগরের অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিল পুকুর, দিঘি, ডোবা ও জলাধার। নগর যত বেড়েছে, ততই সংকুচিত হয়েছে এসব প্রাকৃতিক জলভূমি। কোথাও উঠেছে বহুতল ভবন, কোথাও দোকান-গুদাম, কোথাও গড়ে উঠেছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। এতে শুধু দেশীয় মাছের আবাসস্থলই হারায়নি, বৃষ্টির পানি ধারণ ও ভূগর্ভে পানি প্রবেশের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও ক্রমে দুর্বল হয়েছে। এমন বাস্তবতায় চট্টগ্রামের একটি শতবর্ষী ঐতিহাসিক জলাধারে মাছের পোনা অবমুক্ত করে জলজ জীববৈচিত্র্য ও নগরের জলাধার সংরক্ষণের গুরুত্ব সামনে আনল চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ঐতিহাসিক আগ্রাবাদ ডেবায় এ মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি আয়োজন করে মহানগর বিএনপি।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও জীবিকার সঙ্গে মৎস্যসম্পদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির একটি বার্তা দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সারাদেশে খাল খননসহ নদী-নালা দখলমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। নদী ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা গেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকাও আরও সমৃদ্ধ হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে নাজিমুর রহমান বলেন, নদী, খাল-বিল ও জলাশয় দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে পরিকল্পিতভাবে পোনা অবমুক্তকরণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার সারাদেশে নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন এবং দখলমুক্ত করার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই পোনা অবমুক্তকরণ। নদী ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে। এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শওকত আজম খাজা ও ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মহানগর বিএনপির সদস্য নুরুদ্দীন হোসেন নুরু, আবু মুসা ও জাফর আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক হাজী নুরুল হক, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া, মো. জাফর, সাইদুর রহমান, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, তৈয়ব চৌধুরী, মো. শাহজাহান ও সেকান্দর সুমনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 7:24 pm
স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ

সমাজে মানবিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঠেকাতে ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা থেকে বেরিয়ে বিবেকের চর্চায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, অন্যের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করলেও নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকেই শুরু করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার পটিয়ায় এক অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুধীজন ও উপকারভোগীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন একটা সময় পার করছি, যখন মূল্যবোধ ও মানবিকতার ভয়াবহ অবক্ষয় হচ্ছে। আমরা বিবেকের চর্চা থেকে দূরে সরে এসেছি। আমাদের চিন্তাভাবনা এখন নিজের স্বার্থের চর্চাকে ঘিরে।’

মানুষ অন্যের কাছ থেকে সেবা নেওয়ার সময় নিজের প্রাপ্তির বিষয়ে সচেতন থাকলেও অন্যকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একই দায়িত্ববোধ অনেক সময় দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সেবা যিনি দিচ্ছেন এবং যিনি নিচ্ছেন, দুজনই একই সমাজের অংশ। তাই অন্যকে দোষারোপ না করে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব নিয়ে ভাবতে হবে।

‘করিম কী করল, রহিম কী করল—সেটা না ভেবে আমার কী করা উচিত, সেটি যদি আমি ভাবি, তাহলে পরিবর্তন হবে,’ বলেন তিনি।

মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মমত্ববোধ কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিজের স্বার্থের বাইরে সমাজ ও মানুষের প্রতিও মায়া ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ৪০ কেজি ওজনের একটি বস্তা তুলতে কষ্ট হলেও ৬০ কেজি ওজনের নিজের সন্তানকে কোলে নিতে সেই কষ্ট অনুভূত হয় না। কারণ, সন্তানের প্রতি মায়া আছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি দপ্তরে গেলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন—এমন আস্থা এখনো পুরোপুরি তৈরি করা যায়নি। শুধু সকাল ৯টায় অফিসে এসে বিকেল ৫টায় চলে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘গভীরভাবে ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।’

সরকারি কর্মকর্তারা শুধু রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেন না উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে তাঁরা ও তাঁদের পরিবার সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা পান। তাই সমাজ ও মানুষের প্রতিও তাঁদের দায়িত্ব রয়েছে। একজন কর্মকর্তা তাঁর কর্মক্ষেত্রে নতুন কী যোগ করলেন এবং তাঁর কাজে সমাজ ও দেশ কীভাবে উপকৃত হলো, সেটিও ভাবতে হবে।

সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে কারও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আইনের মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব, তা করতে হবে। সমাধান সম্ভব না হলেও সেবাপ্রত্যাশীর কথা শুনে তাঁকে সঠিক পরামর্শ দিতে হবে।

সরকারি প্রকল্পে অর্থের অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না; সেই প্রকল্প সমাজ ও মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে, তা দেখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কোনো অর্থের যেন অপচয় না হয়। প্রতিটি চালের হিসাব আমরা চাই। প্রত্যেক জায়গায় সততা ও স্বচ্ছতা দেখতে চাই।’

পদ ও দায়িত্ব স্থায়ী নয়—এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, একসময় চাকরি শেষ হবে, চেয়ারও থাকবে না। তখন যেন আফসোস করতে না হয় যে দায়িত্বে থাকার সময় মানুষের জন্য আরও কিছু করা যেত।

তরুণ প্রজন্মকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু ভালো ফল ও ডিগ্রি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না। তরুণদের মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একজন শিক্ষার্থী ভালো ফল করার পাশাপাশি সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠছেন কি না, সমাজের জন্য কাজ করছেন কি না এবং মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ তৈরি হচ্ছে কি না—সেটিও দেখতে হবে।

সন্তান ও আর্থিক সামর্থ্য থাকার পরও অনেক মা-বাবার পাশে কেউ থাকেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন তাঁদের বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হচ্ছে, সেটিও সমাজকে ভাবতে হবে। পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নতুন প্রজন্মের সামনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে হবে। শুধু ভালো হওয়ার উপদেশ না দিয়ে নিজেদের আচরণের মধ্য দিয়েও সেই দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে।

মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মাদকসেবীদের ধরে নিয়ে এলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। পরিবার ও সমাজে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

অভিভাবকদের নিজেদের আচরণেও পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি রাত ১২টায় ফিরবেন আর বলবেন, আমার সন্তান সন্ধ্যা ৬টায় ফিরবে—এটা কি হয়? আপনাকে পরিবর্তন হতে হবে, আমাকে পরিবর্তন হতে হবে।’

বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংক ও এস আলমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও তোলেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় তাঁদের কথা শোনা হয়েছে এবং বিষয়টি যথাযথ পর্যায়ে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় করণীয় নিয়ে চেষ্টা করা হবে।

তবে দাবি আদায়ে আইন লঙ্ঘন বা সড়ক বন্ধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন।

পটিয়াকে ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে এটি বড় একটি এলাকা। স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন, সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

বক্তব্যের শেষ দিকে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু একে অন্যকে দায়ী করে সমাজের পরিবর্তন হবে না। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

‘আমরা সমাজের চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করে আগামী দিনে একটি নতুন বাংলাদেশ, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে আপনি-আমি এবং আমাদের সন্তানেরা নিরাপদে বসবাস করবে,’ বলেন জাহিদুল ইসলাম।