খুঁজুন
, ,

দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন বাঁচিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে: চসিক মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2020, 8:58 pm
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন বাঁচিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়িত কার্যক্রম নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষের উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, ইউএনডিপি ও ইউকে এইডের সহায়তাপুষ্ট নগরীর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প সব সময়েই নগরের ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের পাশে থেকে কাজ করছে এবং করবে।

তিনি ধৈর্যশীলতার সহিত কোভিড-১৯ দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য এবং প্রত্যেককে মাস্ক পরিধান করে ও সঠিক দুরত্ব বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন যে, এই প্রকল্পের আওতায় খুব শীঘ্রই আরো দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ন মানুষকে জরুরি খাদ্য সহায়তার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

মেয়র বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিপর্যস্থ করে চলেছে। বাধ্যতামূলক ছুটির কারণে অর্থনীতির গতি নিম্নমুখী। স্বল্প আয়ের এবং শ্রমঘন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সঙ্গে যুক্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগস্থ। এসব চাকরির বড় অংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে যুক্ত। বলা যায়, এ সব খাতের কর্মজীবী ও উদ্যোক্তা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলে তাদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বর্ধিত বেকারত্ব ও মৌলিক প্রয়োজন যথাযথ মেটাতে না পারার কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীতে নতুন একটি ধারা যুক্ত করবে, যাদের ‘নব্য দরিদ্র’ হিসেবে অভিহিত করা যায়। কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার কারণে উপার্জন হারিয়ে তারা দারিদ্র সীমার নিচে চলে এসেছে। তাই সরকারের নীতিনির্ধারকরা আর্থিক প্রণোদনা ও খাদ্য সহায়তার সমন্বয়ে একটি প্যাকেজ ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে। কর্মসংস্থানবিহীন পুনরুদ্ধার গত এক দশকে অর্জিত আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিকে চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মহারানো পরিবারের ছেলে-মেয়েদের লেখ-পড়ার খরচ চালানো বড়ই কষ্টকর। এমনকি ঝরে পড়তে পারে অনেক শিক্ষার্থী। তাই কোভিড-১৯ দূর্যোগকালীন সময়ে ইউএনডিপি ইউকে-এইড এর সহায়তায় প্রান্তিক জনগোষ্টি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন বাঁচিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

আজ বুধবার দুপুরে চসিক সম্মেলন কক্ষে ইউএনডিপি ইউকে-এইড এর সহায়তায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রান্তিক জনগোষ্টি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।

আজ প্রদত্ত প্রতিজনকে ৩ হাজার ৩ শত ৩৭ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ২০২০ সালের দ্বিতীয় দফা অনুদান হিসেবে ৮২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৩০০ টাকা ১ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত যাদের মধ্যে ৮৬৮ জন ছেলে এবং ২৫৩৬ জন মেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ অনুদান বিতরণ করা হয়। এই অর্থ সহায়তা উপকারভোগীদের মোবাইল একাউন্টে পৌঁছে যাবে।

অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের টাউন ম্যানেজার মো. সারোয়ার হোসেন খান, সোসিও ইকোনমিক ও নিউট্রিশন এক্সপার্ট মোহাম্মদ হানিফ, টাউন ফেডারেশন এর চেয়ারপার্সন কোহিনুর আক্তারসহ এলআইইউপিসি প্রকল্পের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রান্তিকজনগোষ্টির জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ৮৪ হাজার পরিবারের মাঝে ৫ টি করে প্রায় ৪ লক্ষ ২৩ হাজার সাবান, ৩৬৪ সিডিসিতে ৩৮৪টি হাত ধোয়ার পয়েন্ট স্থাপন, কয়েকটি এতিমখানায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে দেয়া হয়েছে ৪৫ হাজার সাবান। এছাড়াও গর্ভবতী মায়েদের জন্য ১ হাজার দিনের জরুরী পুষ্টি খাদ্য সহায়তায় ১ হাজার ৬শ ৭৪ জন গর্ভবর্তী মাকে মাসিক জরুরী খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
লকডাউন চলাকালীন সময়ে স্বেচ্ছাসেবীরা হলেন অবরুদ্ধ মানুষের কাছের স্বজ্জন-মেয়র
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় অঞ্চলভিত্তিক লকডাউন চলাকালীন সময়ে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরা হলেন অবরুদ্ধ মানুষের কাছের স্বজ্জন ও ভালো বন্ধু। এ জন্য তাদের জানতে হবে, শিখতে হবে কীভাবে মানুষের মন জয় করে তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন না করে করোনা সংক্রমণ মুক্ত থাকা যায়। মনে রাখতে হবে পরিস্থিতি অনুযায়ী আচরণ ও অভ্যাসগত নেতিবাচক প্রবণতা পরিহার এবং প্রচলিত বেপরোয়া জীবনাচারের পরিবর্তন না হলে কাঙ্খিত মুক্তি সুদূর পরাহত এই বার্তাটি স্বেচ্ছাসেবকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তবে লকডাউন কোথায় কিভাবে-কখন হবে এবং সংক্রমেণের হার প্রবণ এলাকা সু-নির্দ্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে শুধু সেখানে তা প্রয়োগ করার বিষয়টি মাথায় রাখতে হচ্ছে।

তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলাই পজেটিভ ক্যাম্পেইন পাওয়ার হিসেবে অবিহিত করে বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে সারা বিশ্বের কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। আমাদেরও ছিল না। তাই পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে সে সম্পর্কে ধারানাও ছিল না। শুরুতেই কোন কোন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়হীনতা ছিল। এসব নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে, তবে পরামর্শও থাকতে হবে। তাই কখন-কোথায়-কী ভুল হয়েছে, কেন হয়েছে সে কথা বার বার না লিখে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়, কী করা যায় সেই পরামর্শ ও পথ বাতলে দিলে আমরা অবশ্যই গ্রহণ করবো।

আজ বুধবার দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আইইডিসিআর ও সিভিল সার্জন চট্টগ্রাম এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রস্তাবিত রেডজোন ৪,৮,২০,২১ ও ২২ নং ওয়ার্ড এলাকার ২৫০জন স্বেচ্ছাসেবকদের কোভিড-১৯ কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং সংক্রান্ত ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, রেডজোন চিহ্নিত এলাকায় লকডাউন কার্যকর করণে প্রশিক্ষিত ও সুশৃংখল স্বেচ্ছাসেবকরাই অবদান রাখতে পারে। এ পরিস্থিতি প্রত্যেকের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নিজের সুরক্ষা নিজেরই হাতে। এই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাকে অনেকেই আমলে আনছেন না। এই উদাসিনতাও একটি মারাত্মক ব্যাধি। তিনি একাজটি করতে গিয়ে স্ব্চ্ছোসেবকদের স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাদেরকে সংক্রমণ প্রবণ এলাকায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও পরিবারের কাছে শারীরিকভাবে সরাসরি যেতে হবে না। এক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হবে।

কর্মশালায় কাউন্সিলর সলিম উল্লাহ বাচ্চু, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আসিফ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, কর্মশালার আইইডিসিআর এর প্রশিক্ষক ডা. মোহাম্মদ ওমর কাইয়ুম, ডা: তৌহিদুল আনোয়ার খান, ডা. তাহমিনা করীম, ডা, হায়দার, ডা.নাবিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিটি মেয়রের নিকট করোনা সুরক্ষা সামগ্রী দিল
চট্টগ্রাম আইন কলেজের ২০১৮-১৯ এলএলবি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেছেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। তবে চসিকের পাশাশি বিভিন্ন কর্পোরেট হাউস,ব্যক্তি,প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এসব কার্যক্রমে অবদান রেখে চলেছেন। যা একটি আশাজাগানীয়া উদ্যোগ। এথেকে অন্যরাও উদ্ভুদ্ধ হয়ে সামাজিক ও মানবিক কাজে এগিয়ে আসছে। আজ বিকেলে চসিক নগরভবনের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম আইন কলেজের ২০১৮-১৯ এলএলবি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা করোনা মোকাবেলায় বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

এসময় কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, আইন কলেজের ভিপি আবদুল খালেক সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন, মোহাম্মদ সোহেল, আবদুর শুক্কুর চৌধুরী, সাবিহা সুলতানা রক্সি উপস্থিত ছিলেন।

সিটি মেয়রকে স্মারকলিপি দিল গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ

গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনকে চট্টগ্রাম নগরীতে কোভিড-১৯ সনাক্তদের জন্য আইসোলেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এই সময় মেয়র বলেন, করোনাকালে যারা মানবিকতার মাহর্ত্ম নিয়ে সেবাব্রতে নিবেদিত তারা অবশ্যই সমাজ-বান্ধব ইতিবাচক দূত। তাদের সকল শুভ উদ্যোগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সহযাত্রী হবে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব পেয়ার মোহাম্মদ, উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আবু তালেব বেলাল, এরশাদ খতিবী, মোহাম্মদ আহসান হাবীব চৌধুরী, এড.মোছাহেব উদ্দিন বখেতেয়ার উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

এক কক্ষে মানুষের আর্তনাদ, মানবিক ডিসির গণশুনানিতে ফিরল আশার আলো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 11:02 pm
এক কক্ষে মানুষের আর্তনাদ, মানবিক ডিসির গণশুনানিতে ফিরল আশার আলো

একজন নারী কথা বলতে বলতে বারবার চোখের পানি মুছছিলেন। প্রায় এক বছর আগে ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন তাঁর স্বামী। তিনি জানেন না, স্বামী বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। ঘরে অপেক্ষায় দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান। নিজেও স্ট্রোকে আক্রান্ত। চিকিৎসা ও সন্তানদের খাবারের খরচ জোগাতে তাঁকে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হচ্ছে।

তাঁর কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক যুবক। সাম্প্রতিক বন্যায় তাঁদের কাঁচা বসতঘর ভেঙে গেছে, নষ্ট হয়েছে ফসল। স্ট্রোকে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে অক্ষম বাবা এখন অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আরেক পাশে অপেক্ষা করছিলেন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা এক বিধবা মা। কারও প্রয়োজন কিডনির চিকিৎসা, কারও জরুরি অস্ত্রোপচার। এক কলেজছাত্রী বই ও কলেজ ড্রেস কিনতে না পেরে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কায়; আরেকজনের কাছে দিনাজপুরে ফিরে যাওয়ার গাড়িভাড়াটুকুও নেই।

জীবনের এমন ভিন্ন ভিন্ন সংকট নিয়ে বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়েছিলেন অসহায় মানুষেরা। তাঁদের কথা ধৈর্য ও মনোযোগের সঙ্গে শোনেন মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১৮ জন সেবাপ্রত্যাশী তাঁদের আবেদন, অভাব-অনটন ও অভিযোগ তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক প্রতিটি বিষয় শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। কয়েকটি আবেদন ও অভিযোগের বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে ফলাফল আবেদনকারীদের জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।

গণশুনানিতে সাতজন অসহায় ব্যক্তি ও একজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২১ জনকে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়াগুঁড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়।

মোসাম্মৎ মাইনা খাতুনের স্বামী আজাদ ট্রলারে মাছ ধরার কাজ করতেন। প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিখোঁজ। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর দুই ছোট সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন মাইনা। নিজেও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই তাঁর।

জেলা প্রশাসকের কাছে তিনি সন্তানদের খাবার, ভরণ-পোষণ ও নিজের চিকিৎসার জন্য সহায়তার পাশাপাশি নিখোঁজ স্বামীর সন্ধানে প্রশাসনিক সহযোগিতা চান। তাঁর দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক আর্থিক সহায়তা দেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বাঁশখালীর ইলশা গ্রামের রেয়াজুল জান্নাত রাহাতের বাড়িতে সাম্প্রতিক বন্যায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট পানি ওঠে। এতে তাঁদের কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত এবং ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়।

রাহাতের বাবা রেয়াজ আহামদ দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে অক্ষম। ঘর হারিয়ে পরিবারটি অস্থায়ীভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাবার জন্য বসতঘর নির্মাণ ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সহায়তার আবেদন করেন রাহাত। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসনের বিষয়টি দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বোয়ালখালীর পশ্চিম শাকপুরার মো. শাহাজাহান কিডনি জটিলতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ একাধিক রোগে ভুগছেন। নিয়মিত চিকিৎসা, পরীক্ষা ও ওষুধের খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় তাঁর আবেদন মানবিক বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

বাঁশখালীর মিনজিরিতলার মিফতাহুল জান্নাত রিয়া সরকারি সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। তাঁর এক ভাই ফাজিল প্রথম বর্ষে এবং এক বোন দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

২০১৬ সালের ১৯ জুলাই বাবার মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। বসতভিটার চার শতক জমি ছাড়া তাঁদের কোনো স্থায়ী সম্পদ বা আয়ের উৎস নেই। সাম্প্রতিক বন্যায় ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থের অভাবে বই, কলেজ ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ কিনতে না পারায় রিয়ার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। জেলা প্রশাসক তাঁকে বিশেষ আর্থিক অনুদান দেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আরএম শাখার অফিস সহায়ক নিলুফার ইয়াসমিন কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন কন্যা ও এক পুত্রের দায়িত্ব তাঁর ওপর।

তিনি চট্টগ্রামের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. বাসকর চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। নিয়মিত কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও ব্যয়বহুল ওষুধের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় গিয়ে পিইটি স্ক্যান করাতে হবে। চিকিৎসা সম্পন্ন করতে আরও প্রায় তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। তাঁর আবেদন বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক আর্থিক সহায়তা দেন।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ মোহাম্মদ আবু কাউছারের ডান পায়ের গোড়ালির হাড় সড়ক দুর্ঘটনায় ভেঙে যায়। চিকিৎসায় সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়ে গেছে। জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছিল না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মো. শফিকুল ইসলাম জীবিকার সন্ধানে চট্টগ্রামে এসে কোনো কাজ পাননি। একপর্যায়ে তাঁর কাছে দৈনন্দিন খরচ কিংবা বাড়ি ফেরার অর্থও ছিল না। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে তাঁকে দিনাজপুরে ফেরার প্রয়োজনীয় গাড়িভাড়া দেওয়া হয়।

একই দিন জেলা প্রশাসক প্রবাসীদের অভিযোগ নিয়ে অনলাইন গণশুনানিও করেন। এতে এক প্রবাসী পারিবারিক জমিজমার বিরোধ ও সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ তুলে ধরেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি এখন শুধু আবেদন গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নেই। সমস্যা সরাসরি শোনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া এবং সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এটি অসহায় মানুষের নির্ভরতার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

কেউ ফিরেছেন চিকিৎসার অর্থ নিয়ে, কেউ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সাহস নিয়ে, কেউ ঘর পুনর্নির্মাণের আশা নিয়ে, আবার কেউ বাড়ি ফেরার ভাড়া হাতে নিয়ে। সহায়তার অঙ্ক হয়তো তাঁদের সব সংকট দূর করবে না; তবে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ তাঁদের মনে এই বিশ্বাস ফিরিয়েছে—রাষ্ট্রের দরজা এখনো তাঁদের জন্য খোলা।

চট্টগ্রাম ওয়াসার বিলিং সিস্টেমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ : এমডি 

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:09 pm
চট্টগ্রাম ওয়াসার বিলিং সিস্টেমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ : এমডি 

চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (চট্টগ্রাম ওয়াসা) গ্রাহকসেবা আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করার লক্ষ্যে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম ওয়াসার যৌথ উদ্যোগে ‘বিলিং সিস্টেম উন্নয়ন কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ভবনের ৩য় তলার সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় ৩৬ জন মিটার পরিদর্শক, চট্টগ্রাম ওয়াসার ১২ জন কর্মকর্তা উক্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক(অর্থ) মিজ্ শারমিন আক্তার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় বিদ্যমান বিলিং প্রক্রিয়া, বর্তমানে ম্যানুয়ালি পরিচালিত বিভিন্ন সেবা এবং প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় মিটার পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় মতামত তুলে ধরেন। তাঁদের এসব পরামর্শ চট্টগ্রাম ওয়াসার সেবাদানের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি উন্নয়নে সহায়ক হবে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে ডিজিটাল সেবাব্যবস্থায় রূপান্তরিত হতে হবে এবং এ লক্ষ্যে ওয়াটারএইডের প্রস্তাবটি ইতিবাচক।
আমরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে চট্টগ্রাম ওয়াসার স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে চাই এবং ডিজিটালাইজেশন ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবার মান উন্নত করতে চাই। বিলিং সিস্টেম উন্নত হলে গ্রাহক সেবার মানও উন্নত হবে এটা নিশ্চিত।

তিনি ডিজিটাল ব্যবস্থাটি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও মতামত প্রদানের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে রাজস্ব সংগ্রহের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন। এ ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর রাজস্ব সংগ্রহে ওয়াটারএইডের পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিলিং সিস্টেম উন্নয়ন কর্মশালাটি ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম ওয়াসার মধ্যকার সহযোগিতা আরও জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মিটার পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে ‘মাদককে না বলুন, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ুন’ শীর্ষক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 7:49 pm
চট্টগ্রামে ‘মাদককে না বলুন, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ুন’ শীর্ষক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা ও ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক আজ ২২ জুলাই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

“মাদককে না বলুন, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ুন”-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ (কর্ণফুলী এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) এবং স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সিডিসি, সংশপ্তক, অপরাজেয় বাংলাদেশ, ঘাসফুল, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা এবং ঊষা নারী উন্নয়ন সংস্থা।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর কর্ণফুলী এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনি রোজারিও-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), চট্টগ্রামের প্রসিকিউটর নেজাম উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন মোল্লা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি তরুণ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে এবং সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই সামাজিক মহামারী থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; বরং খেলাধুলা, সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা এবং ইতিবাচক বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। বক্তারা সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সভায় চট্টগ্রাম এলাকার প্রায় ২৫০ জন যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করেন, যাদেরকে মাদকের বিরুদ্ধে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়।

আলোচনা পর্ব শেষে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যুব ফোরামের সদস্যবৃন্দ এবং দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পলি শারমিন-এর মনোজ্ঞ পরিবেশনায় এক মাদকবিরোধী কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ ও মাদকমুক্ত জীবন গড়ার অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন সিডিসি-র নির্বাহী পরিচালক লুৎফুন্নেছা রূপসা,ঘাসফুলের উপ-পরিচালক মারুফুল করিম চৌধুরী, স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো: আলী সিকদার, সংশপ্তকের প্রধান নির্বাহী লিটন চৌধুরী, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমীন পারভিন, অপরাজেয় বাংলাদেশের ইনচার্জ জিন্নাত আরা বেগম, এবং ঊষা নারী উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার পিযুষ দাশ গুপ্ত।

এছাড়াও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পক্ষে ডেনিস তপ্ন, রীতা দোলন রোজারিও, শারমিন আক্তার, রিপা চাকমা, পায়েলে খ্রীস্টিনা দাশ ও স্মীতা দে ও ঘাসফুলের প্রকল্প সমন্বয়কারী সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সার্বিক সমন্বয় করেন।