চট্টগ্রামে কিট সংকটে বন্ধের পথে নমুনা পরীক্ষা
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে করোনার নমুনা পরীক্ষার কিটের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। করোনা সংক্রমণ বাড়ার পর দৈনিক কমপক্ষে পাঁচ হাজার পরীক্ষার দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। সেখানে দুই দিন আগে প্রায় এক হাজার ১০০ পরীক্ষা করতেই কিট সংকটে পরীক্ষা আবার কমতে শুরু করেছে।
আজ রোববার রাতের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কিট পাওয়া না গেলে সরকারি চার ল্যাবে করোনা পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে।
এদিকে, কিট বাঁচাতে একটি কিট দিয়ে দুটি করে নমুনা পরীক্ষা করছে চট্টগ্রামের কোনো কোনো ল্যাব। এমনিতেই চট্টগ্রামে করোনা পরীক্ষার নমুনা জটের স্তূপ জমেছে ল্যাবগুলোতে। ১৪ থেকে ১৫ দিনের আগে রিপোর্ট মিলছে না। তার ওপর কিট সংকট এ সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রামে যেভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে সেভাবে নেই করোনা পরীক্ষাগার।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ছয়টি ল্যাবে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করানো হয়। এর মধ্যে সরকারিভাবে চারটি এবং বেসরকারিভাবে দুটি ল্যাবে এ পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে সরকারি চারটি ল্যাব হচ্ছে- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বিআইটিআইডি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ইউনিভাসিটি। এছাড়া বেসরকারিভাবে ইমপেরিয়াল হাসপাতাল ও শেভরন ডায়গনস্টিক সেন্টারের ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করানো হয়। সরকারি ল্যাবে ফ্রিতে করোনা পরীক্ষা করানো হলেও বেসরকারি ল্যাব দুটিতে নেয়া হয় তিন হাজার ৫০০ টাকা করে। সরকারি চারটি ল্যাবেই কিট সংকট শুরু হয়েছে।
বিআইটিআইডি ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাকিল আহমেদ বলেন, এ ল্যাবে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনিবার ল্যাবে ৩০০টি কিট ছিল, এর মধ্যে ওইদিন ২৫০টি কিটের পরীক্ষা হয়। বাকি আছে আর মাত্র ৫০টি কিট। ইতোমধ্যে কিটের জন্য ঢাকায় চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাব থেকে কিট ধার করে এনে রোববার পরীক্ষা কার্যক্রম চালানো হবে।
এদিকে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ড. জুনায়েদ সিদ্দিকী বলেন, আমরা একটি কিট দিয়ে দুটি নমুনা পরীক্ষা করছি। এখানে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ ল্যাবে আর মাত্র ৩০০টি কিট আছে। যা দিয়ে দু’দিন (সোমবার) পর্যন্ত চালানো যাবে।
তিনি আরও জানান, সিভাসু ল্যাবে দুই শিফটে করোনা পরীক্ষা হয়। প্রতি শিফটে সাতজন করে ১৪ জন কাজ করছে। এতদিন সরকার থেকে শুধুমাত্র কিট দেয়া হয়েছিল। দেয়া হয়নি গ্লাভস, মাস্কসহ অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম। প্রথম দিকে (২ মাস আগে) শুধু ৫০টি মাস্ক দেয়া হয়। অথচ দৈনিক ১০টি করে মাস্ক প্রয়োজন হয়।
এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবেও ফুরিয়ে এসেছে কিট। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায় ল্যাব প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ল্যাবে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০টি নমুনা পরীক্ষা হয়। এখানে ৩৫০টি কিট অবশিষ্ট আছে। যা দিয়ে আর মাত্র দু’দিন চালানো যাবে। ইতোমধ্যে কিট স্বল্পতার কথা ঢাকায় জানানো হয়েছে। সময় মতো কিট পাওয়া না গেলে বন্ধ হয়ে যাবে পরীক্ষা কার্যক্রম। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাব প্রধান আহসানুল হক কাজল বলেন, কিট আনার জন্য ঢাকায় লোক পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) করোনাবিষয়ক মনিটরিং কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, কিট শুধু চট্টগ্রামেই সংকট নয়; সারা দেশে এ সংকট বিদ্যমান। আশা করছি দ্রুত এ সমস্যা কেটে যাবে।
২৪ ঘণ্টা/এম আর


আপনার মতামত লিখুন