খুঁজুন
, ,

স্মৃতির অষ্টপ্রহরে কণ্ঠরাজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 7 July, 2020, 8:14 pm
স্মৃতির অষ্টপ্রহরে কণ্ঠরাজ

অ আ আবীর আকাশ : এন্ড্রু কিশোর। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। এটুকু বললে ভুল হবে, রীতিমতো বাংলা ভাষাভাষীদের কাছেই নয় বিদেশি এমন লক্ষ লক্ষ শ্রোতা রয়েছে যে এন্ড্রু কিশোরের গানে, কণ্ঠে ব্যাকুল, মুগ্ধ। এমন দরদমাখা শিল্পী বাংলাদেশ তথা বাংলা সংগীতাঙ্গন আর পাবে কিনা সন্দিহান! এন্ড্রু কিশোর গানের প্রতিটি শব্দ বুঝে,দরদ দিয়ে, জাদুময়ী কন্ঠে সুর তুলে এমনভাবে উপস্থাপন করতেন যে, একেবারে সাধারণ কথায় বাধা গীতও শ্রোতারা লুফে নিতে বাধ্য হতো।এন্ডু কিশোর নিজেকে ‘কণ্ঠশ্রমিক’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। কখনো ততার চচলন বলনে ভাবভঙ্গিমায় অহংকারের ছিটেফোঁটাও ছিলনা। যেকোনো সময় তিনি মানুষের সাথে অসাধারণ নৈপুণ্যতাশ মিশে যেতে পারতেন। তার কাছে গান নিয়ে কেউ ফিরে এসেছেন এমন শোনা যায়নি।

কেবলমাত্র বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী সহ অগণিত অসংখ্য ভক্ত শ্রোতার হৃদয় হরণকারী শিল্পী এন্ডু কিশোর। তার অকাল প্রয়াণে ভক্তকূল শোকে, বেদনায় হতবিহবল। শ্রোতারা এন্ডুকিশোরকে এতটাই ভালবেসে যে তার গলায় তোলা যে কোন গানকে লুফে নিতো। এতে করে জনপ্রিয়তা ভালবাসায় ভালোলাগার শীর্ষে পৌঁছে যাওয়া এ গায়কের উপাধি ছিল ‘কন্ঠরাজ’। তার মত করে দরাজ কণ্ঠে গান গাওয়া শিল্পীর অভাব এতটাই যে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তা আর কাটিয়ে উঠতে পারবে না। অপূরণীয় ক্ষতিসাধনে ফেলে, সবার ভালবাসার জাল ছিন্ন করে,ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে অনন্তলোকে অনন্ত জীবনে পাড়ি দিয়েছেন এন্ড্রু কিশোর।

আমার কৈশোর জীবন জুড়ে রয়েছে এন্ড্রোকিশোরের গান। আমার শৈশব কৈশোরের সহযোদ্ধা নাসির উদ্দিন। আমরা দুজনে চলার পথে সব সময় এন্ড্রো কিশোরের গান আওড়াতাম। যখন যে ক্যাসেট বাজারে আসতে সেটা কিনে এনে গান মুখস্ত করতাম। একটা গান প্রায় একশত বারের মত শুনতাম। সিনেমা দেখতাম। যে ছবিতে এন্ড্রোকিশোরের গান ব্যবহার করা হয়েছে সে ছবি পাঁচ সাত বার করে দেখতাম। যদি এন্ড্রোকিশোরের গান না থাকতো তাহলে আমরা বলাবলি করতাম- অমুক নায়ক এর মুখে অমুক শিল্পীর গান ম্যাচিং হয়নি। আফসোস করতাম। পরিচালক এন্ড্রোকিশোরের গান ব্যবহার করেননি। আমাদের মত এরকম বহু দর্শক-শ্রোতার কারণেই হয়তো এন্ডুকিশোরকে প্লেব্যাক সম্রাট উপাধি দিতে বাধ্য হয়েছে। এরকম ভালোবাসার কথা আমি এফবি’র মেসেঞ্জার করে এন্ড্রু কিশোরকে জানিয়েছি।

বাংলা ভাষায় সর্বধিক গাওয়া গানের শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। ১৫ হাজার গান গেয়েছেন এই শিল্পী। তিনি বাংলাদেশকে ছেড়ে কোথাও থাকতে চাননি। বহু দেশের বহু নামিদামী পরিচালক প্রযোজক গীতিকার ক্যাসেট কোম্পানি তার গলা কিনে নিতে চেয়েছিলো, এন্ড্রকিশোর সস্তা জনপ্রিয়তায় গা ভাসিয়ে দেননি। তিনি তাঁর জন্মভূমি মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ভালোবেসে আমৃত্যু এদেশেই রয়ে গেছেন

দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগে না ফেরার দেশে চলে গেছেন আটবারের চলচ্চিত্র পুরষ্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। তিনি বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের বহু চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। যেজন্য তিনি ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে পরিচিত।

এতোটাই আঞ্চলিক প্রীতি ছিলো এন্ড্রু কিশোরের যে সবসময় তিনি রাজশাহীকে বুকে ধারণ করতেন। তার শেষ ইচ্ছে ছিল রাজশাহীর মাটিতেই শায়িত থাকবেন। কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোর জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠেও একদিনের জন্য রাজশাহীকে ভুলেননি। জন্ম, শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের শত স্মৃতি বুকে ধারণ করেই সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে ৬৫ বছর বয়সে লক্ষ কোটি ভক্তকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে পরলোকে চলে গেলেন এন্ড্রু কিশোর।

এন্ড্রু কিশোরের কথা মনে পড়লে প্রথম গান শোনার স্মৃতির কথা মনে পড়ে। আমার প্রথম গান শোনার স্মৃতি, ওই সব দুপুরে—মাঠের ধারে পুকুরপাড়ে। মনে আছে, ওদের বাইরের ঘরটায় চিত হয়ে বিছানায় শুয়ে গান শুনছি। সম্ভবত বন্ধুর বোনেরাই শুনত। নইলে আমাদের মতো পিচ্চির রেডিওতে গান শোনার কথা না। তখন রেডিও ভরপুর থাকত নতুন নতুন সিনেমার গানে।

এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত মেইল ট্রেন চলচ্চিত্রের “অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ” গানের মধ্য দিয়ে। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতীজ্ঞা চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানে প্রথম দর্শক তার গান শুনে এবং গানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। তিনি অন্যান্য প্লেব্যাক গান রেকর্ড করেন যেমন ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘ভালবেসে গেলাম শুধু’ এর মতো জনপ্রিয় সব গান।

আরও পরে, যখন স্কুলে পড়ি, তখনকার একটা গান মনে ধরেছিল: ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, রইব না আর বেশি দিন তোদের মাঝারে’। এখানেও সেই চলে যাওয়ার বিষাদ। তবে স্কুলে আমরা এই গান নিয়ে মজাই করতাম। খেলার পিরিয়ডে কারও বাথরুম চাপলে সে গাইত, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে…’।

তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে, জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙের ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় প্রভৃতি।

রেডিওর দিনের পরে আমাদের শৈশব তখন টিভিময়। শুক্রবার সকালে আমরা দেখতাম ‘টারজান’, আর মা-বাবারা রাতে দেখতেন ‘ছায়াছন্দ’। ঢাকাই সিনেমার গানের অনুষ্ঠান। সেখানেও দুটি গানের স্মৃতি খুব জ্বলজ্বলে, সাবিনা ইয়াসমীনের গাওয়া ‘ওই চাঁদ ডাকে ওই রাত ডাকে, আজ তুমি কোথাও’ আর এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস দম ফুরাইলেই ঠুস’। শিল্পীদের নাম তো পরে জানা, তবে মনে রাখার কারণ বোধ করি দুটি গানেরই আধিভৌতিক আমেজ। আমার মনে হতো, কেউ মারা গেছে, চাঁদ আর রাত মিলে ডেকেও তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। হায়রে মানুষ রঙিন ফানুসও মৃত্যুচিন্তার গান। কিশোর বয়সে বোধ হয় একবার করে মৃত্যুচিন্তা সবারই আসে। আমার মৃত্যুচিন্তার উদ্বোধনী সংগীত, সেই অর্থে, এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া।

এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া একেকটি গান আমার মতো অনেকের হাঁটি হাঁটি পায়ের একেকটি পদক্ষেপের দাগ ধরে আছে। যেমন তাঁর গাওয়া ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়, কেউ পায় কেউবা হারায়, তাতে প্রেমিকের কী আসে-যায়’ অনেক দিন হয়ে ছিল কচি তারুণ্যের বিষাদের কাব্য। কচি মনে এই গান এই বোধ জুড়েছিল যে, ভালবাসা কেবল পাওয়ার না, দেওয়ারও। কিশোরের গান আমাদের শৈশবের, তারুণ্যের একেকটি পর্বকে চিহ্নিত করে আছে। আমাদের কিশোরবেলার গানের রাজকুমারের নামটা তাই এন্ড্রু কিশোর। ঢাকাই সিনেমার গান মানেই তাই এন্ড্রু কিশোর। তাঁর একটা গান থাকলেই সিনেমা অনেকটা হিট। একটা সময় তো সুরকার আলম খান আর এন্ড্রু কিশোরের গলা, দুজনে দুজনার হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু এহেন রাজকুমারকেও চিকিৎসার জন্য হাত পাততে হয়েছে। তাঁকে মুম্বাইয়ে রেখে দিতে চেয়েছিলেন উপমহাদেশের গানের মায়েস্ত্রো আর ডি বর্মন। কিন্তু তিনি সে প্রস্তাব ফিরিয়ে ঢাকাইয়া শিল্পী হিসেবেই থেকে যেতে চেয়েছেন এবং সেটাই থেকে গেছেন আমৃত্যু।

মুম্বাইয়ে গিয়ে তিনি দেখেছেন জনপ্রিয় গীতিকার, সুরকার, গায়ক-গায়িকার কী প্রতাপ, কী শানশওকত। অথচ এই ঢাকা আমাদের রাজকুমার আমাদের রাজকন্যাদের কী দিয়েছে? জনগণের অফুরান ভালোবাসা তাঁরা পেয়েছেন সত্য, কিন্তু জনসমক্ষে না থাকলেই সেই ভালোবাসাও মুখ লুকিয়েছে। রেডিও-টিভি ও ক্যাসেটের যুগে শীর্ষে থাকতেন এন্ড্রু কিশোর। একজন তো বলেইছেন, এন্ড্রু কিশোরের গান শোনার জন্য দেশে রেডিও বিক্রির ব্যবসা চাঙা হয়েছিল।

আমাদের সাবিনা ইয়াসমীন, রুনা লায়লা, আব্দুল জব্বার, সুবীর নন্দী, এন্ড্রু কিশোর, আব্দুল হাদী, খুরশিদ আলম, নীনা হামিদদের মধ্যে এন্ড্রু কিশোর ছিলেন রক আর মেলডি মেশানো বাংলার রোমান্টিক বিরহী ঘরানার শিল্পী। আফসোস, বাংলা গানের অপর দিগন্ত, পশ্চিম বাংলা এই উদয়ভূমির ‘উদিত দুঃখের দেশের গান’ খুব একটা চিনল না। ‘চিনলাই না তুমি চিনলাই না।’ এন্ড্রু কিশোরের তুলনা করতে হলে আরেক কিংবদন্তি কিশোর কুমারের সঙ্গেই হয়। বাংলা গানের মুক্তির একটা সুর যাকে তারা বলে পুর্ব বাংলা, তা সেই বাংলাদেশেই হয়েছে। এটা মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়েই হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পর লোকের মুডই অন্য রকম হয়ে গেছে এই দেশে। সেই সপ্রাণতার, তেজবান গায়কি, একধরনের মুক্তির আসওয়াদ এন্ড্রু কিশোরের গলায় পাওয়া যায়। যেন বিরাট কোনো দুঃখ দিগন্তকে বাজায়ে চলে যাচ্ছে, কিন্তু তাঁর গলায় ফুর্তির, মুক্তির সুর। এন্ড্রু কিশোরের গান ঢাকার আধুনিকতার খুব লাবণ্যময় ও ধারালো গলার স্বাক্ষর।শিল্পীর স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী অধ্যাপক দীপকেন্দ্র নাথ দাস বলছিলেন, এন্ড্রু কিশোর রাজশাহীর কথা, রাজশাহীর বন্ধুদের কথা, রাজশাহীর সব শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে মিশতেন। সময় কাটাতেন। তুমুল ব্যস্ততার সময়েও ছুটে আসতেন রাজশাহীতে। সবাইকে ডেকে নিয়ে আড্ডায় মেতে উঠতেন।

এন্ড্রু কিশোর গত বছর মার্চে সিঙ্গাপুর থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেই রাজশাহীতে যান। ওই সময় স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সঙ্গে আগের মতোই সময় কাটিয়েছেন। আড্ডা হৈ হুল্লোড় খাওয়া দাওয়া কোনো কিছুই বাদ যায়নি।

রাজশাহীতেও ব্যক্তি এন্ড্রু কিশোর ছিলেন সবার ভালোবাসার মানুষ।

১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর। তিনি আব্দুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে প্রাথমিকভাবে সঙ্গীত পাঠ গ্রহণ শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর কিশোর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওতে তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর কিশোর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গান শ্রেণিতে রাজশাহী বেতারের সঙ্গে তালিকাভুক্ত ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে এন্ড্রু কিশোরের দুটি সন্তান রয়েছে। প্রথম সন্তানের নাম সংজ্ঞা আর দ্বিতীয় জনের নাম সপ্তক। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।

এ গুঁণী শিল্পী দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় তার বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাড়িতে এন্ড্রু কিশোর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শুভ বিদায় প্রিয় গানের রাজা।

অ আ আবীর আকাশ : লেখক কবি প্রাবন্ধিক কলামিস্ট ও সাংবাদিক।
সম্পাদক: আবীর আকাশ জার্নাল

Feb2
Feb2

১ দিনে ১৩৫ টন বর্জ্য সরিয়ে রেকর্ড গড়লেন ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 9:06 pm
১ দিনে ১৩৫ টন বর্জ্য সরিয়ে রেকর্ড গড়লেন ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক জেলায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের প্রথম দিনেই ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে শনিবার (২৫ জুলাই) জেলাজুড়ে একযোগে চালানো এ অভিযানে অংশ নেন প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। জেলা প্রশাসনের হিসাবে, এক দিনে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে সম্পৃক্ত করে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণের মধ্য দিয়ে বড় পরিসরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে জেলার সরকারি দপ্তর, সরকারি আবাসিক এলাকা, উপজেলা পর্যায়ের ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে চলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা কারও ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা জোরপূর্বক এটি করাতে চাই না। আমরা পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে চাই।’

৩,২২৫ ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভিযানের আওতায়

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতায় রয়েছে ১৩১টি সরকারি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, আটটি সরকারি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, উপজেলা পর্যায়ের ৪০৬টি ভবন এবং ২ হাজার ২৯৫টি বিদ্যালয়। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ২২৫টি ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এসব ভবন ও বিদ্যালয়ের ছাদ, আঙিনা এবং আশপাশের জায়গায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রথম দিনের কার্যক্রমে সব মিলিয়ে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

অভিযানটি শুধু উদ্বোধনী দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। পুরো কার্যক্রম চলবে মাসব্যাপী। প্রতি শনিবার কোথা থেকে কী পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হলো, তার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবন ও এলাকার পরিচ্ছন্নতার আগের ও পরের ছবিও সংরক্ষণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কী পরিমাণ ময়লা অপসারণ ও সংগ্রহ করা হলো, তার প্রতিবেদন নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবনের আগের চিত্র কী ছিল এবং পরিচ্ছন্নতার পর কী পরিবর্তন হলো, সেই ছবিগুলোও আমরা সংগ্রহ করছি। সে অনুযায়ী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

শোভাযাত্রায় মেয়র, বিভাগীয় কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

দিনের কর্মসূচির শুরুতে সার্কিট হাউস থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। সেটি কাজীর দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার সার্কিট হাউসে এসে শেষ হয়।

পরে কোর্ট হিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আঙিনা, আইনজীবী ভবন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।

কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

‘সুস্থ জাতি গড়তে প্রয়োজন সুস্থ পরিবেশ’

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু ময়লা-আবর্জনা অপসারণ নয়। একটি সুস্থ জাতি ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার স্থায়ী অভ্যাস তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সুস্থ চিন্তার জন্য সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন প্রয়োজন। আর পরিবেশ যদি অস্বাস্থ্যকর হয়, সেখানে সুস্থ চিন্তা, সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন—কোনোটিই সম্ভব নয়।’

আগামী প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ বাংলাদেশ ও একটি সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে নিয়ে আমরা এই কার্যক্রম শুরু করেছি।’

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করে নয়, মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পৃক্ত করেই পরিচ্ছন্নতাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত করতে চান তাঁরা।

বিশ্বায়নের যুগে একটি দেশের পরিবেশ ও নাগরিক জীবনযাত্রা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেও যুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ চাই। আমরা বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে চাই। বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশের একটি দৃঢ় অবস্থান, একটি সুস্থ পরিবেশ এবং একটি সুন্দর সমাজের চিত্র তুলে ধরার জন্য আমরা কাজ করছি।’

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথম দিনের ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পরও অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাসজুড়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সরকারি আবাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতি শনিবার অপসারণ করা বর্জ্যের পরিমাণ এবং পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরের ছবি সংগ্রহের মাধ্যমে কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে।

চন্দনাইশে ১৫০০ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 8:26 pm
চন্দনাইশে ১৫০০ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত চন্দনাইশের পশ্চিম হারলা এলাকার ১৫০০ অসহায় পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে চন্দনাইশের পশ্চিম হারলা এলাকায় স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ হতদরিদ্র ১৫০০ শতাধিক পরিবারের হাতে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এসব খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। বিতরণকৃত খাদ্য তালিকার মধ্যে চাল, ডাল, পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় শুকনা খাবার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

চন্দনাইশ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবে আমরা সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাই দল মত নির্বিশেষে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মেয়র বলেন, জনগণের কল্যাণই আমাদের অঙ্গীকার। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের পাশে থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ইখতিয়ার হোসেন ইফতুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মনজুর আলম তালুকদার, জেলা বিএনপি নেতা আবদুল মাবুদ মাহাবু, সৌদি আরব বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাঈন উদ্দিন মাঈনু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শহিদ খান, বাহাউদ্দিন চৌধুরী, সাইফুল করিম, পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক অলি হোসেন মুন্সি, জহিরুল আলম শহিদ, মোরশেদুল আলম, পৌরসভা বিএনপির সদস্য হাবিব রহমান, আবু ছালেহ, সাইফুল, মোহাম্মদ শওকত, উপজেলা বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, মাহাবুল করিম সোহেল, দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মজিদ, আবু বক্কর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাদ্দাম হোসেন, মো. আসাদ, জিল্লুর রহমান খোকন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোনায়েম খান, পলিটেকনিক ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইন্জিনিয়ার আবুল কালাম, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মো. সেলিম, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবদল নেতা সেলিম আলদীন, পৌরসভা শ্রমিকদলের সভাপতি হাজী মো. আবু সিদ্দিক, মো, ফারুক মিয়া, আবদুর রহমান, পৌরসভা যুবদল নেতা আব্দুল মান্নান, আকবর, সিরাজুল ইসলাম, আবদুল আজিজ, মো. মানিক, রাজিব উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সরোয়ার উদ্দিন, আবু তৈয়ব রিপন, এবিএম রহিম, আবদুল আজিজ, বিএনপি নেতা সায়েম সেলিম, হামিদ, মান্নান, জেলা ছাত্রদলের সদস্য জাভেদ চৌধুরী রহিম, এরফান চৌধুরী, ছাত্রদলনেতা অভি, আজিজ, মিসবাহ, আমিন, হেফাজ প্রমুখ।

আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত, ঘাতক আটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 6:05 pm
আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত, ঘাতক আটক

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিয়ে না দেওয়ায় কথা কাটাকাটির জেরে ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে স্বপন দাশগুপ্ত (৬৫) ও কল্পনা দাশগুপ্ত (৫৫) নামের এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। 

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা গ্রামের মহাজন বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে রোমি রাজ দাশগুপ্তকে (৩০) আটক করে আনোয়ারা থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর পৌনে ২টার দিকে নিজ বাড়িতে বিয়ে না দেওয়ার জেরে ছেলে রোমি রাজ দাশগুপ্তের সঙ্গে তার মা কল্পনা দাশগুপ্তের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কাঁচি দিয়ে মায়ের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান রোমি রাজ। এতে ঘটনাস্থলেই কল্পনা দাশগুপ্তের মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে বাঁচাতে বাবা স্বপন দাশগুপ্ত এগিয়ে এলে তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনে লুটিয়ে পড়েন।

পরবর্তী সময়ে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর স্বপন দাশগুপ্তের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত রোমি রাজ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। এর আগেও তাকে একাধিকবার পাবনার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে প্রায় তিন-চার মাস আগে তিনি বাড়িতে ফিরেছিলেন।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন উদ্দীন বলেন, আহত অবস্থায় স্বপন দাশগুপ্তকে আনা হয়। তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল, তবে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।