খুঁজুন
, ,

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে চাই সমন্বিত উদ্যোগ : চসিক মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2020, 9:31 pm
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে চাই সমন্বিত উদ্যোগ : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, ভূ-প্রকৃতিগত ভাবে চট্টগ্রাম হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক জনপদ। প্রায় ৭০ লক্ষ জনঅধ্যুষিত এই জনপদের কল্যাণ ও উন্নয়নে আমি আমার সামর্থ্য উজাড় করে দিয়েছি। নগরীর প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা, তা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় কিছু মেগা প্রকল্প সংয্ক্তু হয়েছে। এগুলো বাস্তাবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ওয়াসাসহ যে সরকারি স্বায়ত্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো আছে তার পারস্পরিক সমন্বয় প্রয়োজন।

নগর উন্নয়নে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে যেভাবে যা কিছু দরকার তা করতে আমি উদ্যোগী হয়েছি। আমি আশা করি এই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা থাকবে। এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে পরবর্তীতে যারা দায়িত্ব পালন করবেন রাজনীতিক হিসেবে আমি যে অবস্থানে থাকি না কেন তাতে আমি একাত্ব হবো।

তিনি আরো বলেন, আমাদের এ নগরীর উপর প্রবাহিত ৩৬টি খাল পানি নিষ্কাশনের প্রধান নির্গমন পথ। এ নগরীতে যেগুলো পাহাড় পরিবেষ্টিত এলাকা রয়েছে তাথেকে যে মাটি নিচে নেমে আসে তার ফলে পানি নিষ্কাশন পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য একটি সঠিক পরিকল্পনা আগেই গ্রহন করা উচিত ছিল। তবে এখন যা হয়েছে তার বাস্তবায়ন যদি সম্ভবপর হয় তাহলে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি সমন্বয়ের উপরেই গুরুত্ব দিই।

চট্টগ্রামের উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি ও আধাসরকারি সংস্থার কর্তৃপক্ষগণ সরকার নিযুক্ত ও নিয়োগকৃত। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মেয়র পদে থেকে জবাবদিহিতার সকল দায়ভার আমার কাঁধে চেপে বসেছে। এই দায় বহন করে আমি কি করতে পেরেছি বা কি করতে পারিনি তার মূল্যায়ন নগরবাসীর উপর ছেড়ে দিলাম।

তিনি আরো বলেন, পরিকল্পিত নগরায়নের ক্ষেত্রে যে কোন আবাসিক এলাকায় যুগোপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে যেখানে অধিবাসীদের জীবন স্বাচ্ছন্দ হবে। এই যোগাযোগ ব্যবস্থাপনাকে সক্রিয় রাখতেই আজ যে প্রকল্প শুরু হলো তার সুষ্ঠু ও যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হলে সকলেই উপকৃত হবেন।

মেয়র আজ সকালে শুলকবহর ওয়ার্ডস্থ নাছিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৪ ও ৫ নং সংযোগ সড়কে ব্রিজ নির্মাণ কাজ, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরিন উন্নয়নকৃত রাস্তা ও দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির ৪র্থ প্রকল্পের মাটি ভরাট কাজের উদ্ভোধনকালে এসব কথা বলেন।

মেয়র প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেন।

এসময় কাউন্সিলর মোরশেদ আলম,সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেসমিন পারভীন জেসী, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চসিক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো.কামরুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আবু সিদ্দিক, সহকারী প্রকৌশলী মিসবা উল আলম, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির সেক্রেটারি মো. শাহাজাহান, মো. ইদ্রিস, যুবনেতা ওয়াহিদুল আলম শিমুল, এস এম মামুনুর রশিদ, আনিসুর রহমান,জাফর সাদেক,তাজ উদ্দিন মোহাম্মদ শিমুল, রাইসুল উদ্দিন,মেহাম্মদ রাশেদুল আমিন, আলাউদ্দিন আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

সিটি মেয়রকে স্মারকলিপি দিল
চট্টগ্রাম কমিউনিটি সেন্টার মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীনের কাছে চট্টগ্রামের কমিউনিটি সেন্টার সমূহ পুনরায় চালু করার অনুমতিসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে স্মারক লিপি দিয়েছেন চট্টগ্রামের কমিউনিটি সেন্টার মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

আজ সকালে টাইগারপাসস্থ চসিক নগর ভবনে মেয়র দপ্তরে এই স্মারকলিপি গ্রহণকালে মেয়র বলেন, আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের সুবিধা-অসুবিধা ও দুর্ভোগের কথা জানি। করোনাকালে যে দুর্ভোগ শুরু হয়েছে তাতে আজ অনেক কাজ ও উন্নয়নের গতি থেমে গেছে। বিশেষ করে কমিউনিটি সেন্টারগুলো বন্ধ থাকার কারনে এর সাথে সংশ্লিষ্ট ডেকোরেশন শ্রমিক, বাবুর্চী,বয়সহ অনেকেই বেকার হয়ে দুরাবস্থায় জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। তাই আপনাদের দাবী দাওয়ার প্রতি আমার সহানুভুতি এবং দায়িত্ব নিয়ে কিছু করা দরকার। আমি আপনাদের কথা শুনতে এসেছি, দাবি-দাওয়া শুনেছি। আমি, আপনি, আপনারা সংকট জয় করে বেঁচে থাকলে সবকিছু পূরণ করতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় পাশে থাকব। এখন আমাদের প্রত্যেককে আগে বাঁচতে হবে এবং বেঁচে থাকার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজের ও সমাজের সুরক্ষা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলেই আবার নতুন বাংলাদেশ গড়বো।

তিনি তাদের আশ্বস্থ করে বলেন, শুধু কমিউনিটি সেন্টার মালিক, শ্রমিক নয় জীবন বাঁচাতে সকল জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহে সংশ্লিষ্টদের শরণাপন্ন হয়ে আপনাদের চাওয়া পাওয়া তুলে ধরব। আশা করছি বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এই গুরুত্বপূর্ণ খাতকে রক্ষায় সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

এসময় চট্টগ্রাম কমিউনিটি সেন্টার মালিক সমিতির উপদেষ্টা, প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, সভাপতি হাজী মো. সাহবুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন চৌধুরী দুলাল, সহ-সভাপতি আবদুল মালেক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ মালিক, মো. মাসুদ, রাজেন দাশ গুপ্ত, খোকন দেবনাথ, নুরুল ইসলাম, মো. মাসুম, মো. গিয়াস উদ্দিন, এস এম মোস্তফা, মো. নাসের, সাজেদুল আলম চৌধুরী ও মো. সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 11:57 am
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আজ থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) থেকে ছেড়ে যাওয়া পর্যটক এক্সপ্রেস বেলা ১১টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে ২০ মিনিট যাত্রাবিরতি শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেবে।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন।

তিনি বলেন, আজ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যাবে। এরপর থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব ট্রেন কক্সবাজারে চলাচল করবে।

মো. সুবক্তগীন আরও বলেন, যে স্থানে রেললাইন পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল সেখানে ব্যালাস্ট ফেলে লাইন উঁচু করা হয়েছে। ফলে ট্রেন চলাচলে আর কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে গত ৭ জুলাই চট্টগ্রাম ও জানআলীহাট স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন প্লাবিত হয়। রেললাইনের ওপর প্রায় দুই ফুট পানি জমে যাওয়ায় প্রথমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ট্রেনগুলোকে পেছনের স্টেশনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

পরদিন, ৮ জুলাই ভোরে রেলওয়ে জানায়, ষোলশহর-জানআলীহাট সেকশনে রেললাইনের ওপর জমে থাকা পানির উচ্চতা না কমা পর্যন্ত কক্সবাজারমুখী ট্রেন চলাচল সম্ভব হবে না। আটকে পড়া যাত্রীরা চাইলে চট্টগ্রাম স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিটের মূল্য ফেরত নিতে পারেন। আর যারা ঢাকায় ফিরতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাদের জন্য বিকেল ৪টায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।

এরপর থেকেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। পাঁচ দিন পর আজ আবার চালু হচ্ছে এ রুটের ট্রেন চলাচল।

চট্টগ্রামের বন্যা কবলিতদের পাশে ফেনীবাসী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 11:32 am
চট্টগ্রামের বন্যা কবলিতদের পাশে ফেনীবাসী

দুই বছর আগেই স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল দেশের দক্ষিণের জেলা ফেনী। ওই সময় সেখানকার বন্যার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছিল সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষ। এবার সেই কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ থেকে চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ফেনীর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনগুলো একযোগে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) থেকে বন্যাদুর্গত অঞ্চলে গিয়ে ফেনীর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তির আর্থিক সহায়তায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তরুণরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফেনীর বন্যায় দেশবাসী সহায়তা করায় সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে চট্টগ্রামের বন্যার্তদের সহযোগিতায় জেলার প্রায় সব উপজেলায় পৃথক পৃথক ত্রাণ কর্মসূচি চলছে। স্বেচ্ছাসেবকরা খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন বন্যাদুর্গত এলাকায়। বিভিন্ন টিমে ফেনী থেকে পাঠানো হচ্ছে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, চিড়া, মুড়ি, গুড়, বিস্কুট, ওষুধ ও পানিসহ বন্যার্তদের জন্য নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

রোববার (১২ জুলাই) ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারকে আর্থিক সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে— তারুণ্যের বন্ধন, পরিবর্তন, এফবিডিএ, গ্রিন ফোকাস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, লাইফ ফর হিউম্যান ফেনী, মধুই ফাউন্ডেশন, পশ্চিম সুলাখালী যুব সমাজ কল্যাণ সংঘ (প্রত্যয় ব্লাড ডোনার ক্লাব), একতা সামাজিক সংগঠন, জি.ভা. সমাজকল্যাণ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, যুবশক্তি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (মুন্সীরহাট, ফুলগাজী), ইলামিত্র যুব মহিলা সমাজকল্যাণ সংস্থা, ফেনী, নেয়ামতপুর ইয়াং স্টার স্পোর্টিং ক্লাব, রক্তকণিকা, আজগর, প্রত্যাশা ক্লাব (মুন্সীরহাট), আশার আলো ফাউন্ডেশন, রিভার ডেল্টা ডিএক্স ক্লাব ফেনী, উম্মাহ ব্লাড ডোনেশন ক্লাব, উচ্ছ্বাস (কেএমহাট, ফেনী সদর), হিউম্যানিটি ইজ লাইফ, এফডিএ, ফেনী ওয়েলফেয়ার ব্লাড ফাইটার্স, আমাদের সমাজ আমাদের পরিবার এবং পাঁচগাছিয়া ব্লাড ডোনেট ক্লাব ফেনীসহ অন্যান্য সংগঠন।

এছাড়া সাতবাড়িয়া মানবিক ফাউন্ডেশন, ফ্রেন্ডস ইউনিটি ব্লাড ডোনার ক্লাব, ফেনী জেলা ছাত্র ফোরাম, জামেয়া, আমাদের ফেনী ব্লাড গ্রুপ, আল ইসার সোসাইটি, আল হুদা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, নাইনটিন স্কোয়াড, আমরা মোল্লা তাকিয়া পরিবার, ফেনী টার্ফ এক্সপ্রেস, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ফেনী, এইচডিএফবি ফাউন্ডেশন, দাগনভূঞা আল আমিন সংস্থাসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই এই মানবিক কার্যক্রমে সহায়তা করছেন।

ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকার অন্তত তিন শতাধিক মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, মোমবাতি এবং নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের প্রতিনিধি নিশাদ আদনান বলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ ফেনীর অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই মানবিক সহায়তা ও ভালোবাসার ঋণ আমরা কখনো ভুলতে পারি না। চট্টগ্রামের মানুষ দুর্যোগের মুখে পড়েছেন। সেই দায়বদ্ধতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।

আরেক প্রতিনিধি খন্দকার সুমন বলেন, আমরা শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, ম্যাচ, স্যালাইন এবং নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে যাচ্ছি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা দুর্গম এলাকাতেও পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে এসব সহায়তা তুলে দেবেন। যতদিন প্রয়োজন, ততদিন আমাদের মানবিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

ওমর সিফাত নামে আরেক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন সাধারণ মানুষ। তাদের অনেকেই খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এই কঠিন সময়ে শুধু সহানুভূতি প্রকাশ করলেই হবে না, সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবার সবসময় মানুষের পাশে ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

এর আগে গতকাল শনিবার নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ফেনীর উদ্যোগে এবং ফেনী টার্ফ এক্সপ্রেস ও এইচডিএফবি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সংগঠনটির প্রতিনিধিরা ত্রাণসামগ্রী নিয়ে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সংগঠনটির প্রতিনিধিদের সূত্রে জানা যায়, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য স্যালাইন, শুকনো খাবার, মোমবাতিসহ বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী প্যাকেজিং করা হয়েছে। এসব ত্রাণসামগ্রী প্রায় ২৫০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে।

একই দিন চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের সেবায় ছাগলনাইয়া ব্লাড ডোনার্স ক্লাব একটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত করে। দলটি প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধপত্র সঙ্গে নিয়ে দুর্গত এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যাদুর্গত প্রায় ২২০টি পরিবারের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০০ জন রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মেডিকেল টিমের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফ্রেন্ডস ইউনিটি ব্লাড ডোনার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমরা বন্যার্ত মানুষের পাশে থাকার উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের এ কার্যক্রমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষজন সহযোগিতা করেছে। প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবারসহ জরুরি কিছু জিনিস নিয়ে আমরা বন্যা কবলিত এলাকায় যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জেলার দক্ষিণাঞ্চলের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে তিনদিন পানিবন্দি থাকার পর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্রাণ সংকটের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মানবিক দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 11:10 am
বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মানবিক দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতিতে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্মুখসারিতে থেকে কাজ করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান এই তথ‍্য জানান।

তিনি বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে রেখেও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে মানুষের জানমাল রক্ষায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ জেলায় সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর, পানিবন্দী মানুষের উদ্ধার, গৃহপালিত পশু রক্ষা, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা বিতরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

আশিকুজ্জামান জানান, কক্সবাজারের উখিয়া, সদর, পেকুয়া, চকরিয়া ও মহেশখালী এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা পানিবন্দী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ ও পাহাড়ধসের মাটি অপসারণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতেও তারা সহযোগিতা করছেন।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা আরও জানান,এই সমন্বিত তৎপরতা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সহায়তা করছে না, বরং দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সাধারণ মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত করেছে।