খুঁজুন
, ,

দীঘিনালায় বিদ্যুতের লাইন দিতে নেওয়া হয়েছে ৮ লাখ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 26 July, 2020, 6:52 pm
দীঘিনালায় বিদ্যুতের লাইন দিতে নেওয়া হয়েছে ৮ লাখ টাকা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার রশিক নগর এলাকার ৪টি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সাধারণ জনগণ থেকে নেওয়া হয়েছে ৮ লাখ টাকা। বাকি রয়েছে আরও প্রায় ৩ লাখ টাকা। বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় দুটি লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না এবং অপর দুটি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুটি পাইলিং বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের নিকট মৌখিক অভিযোগও করেছে এলাকাবাসী। তবে বিষয়টির এখনো কোন সুরাহা হয়নি। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেই এ অনিয়ম ও দূর্নীতি।

শনিবার (২৫ জুলাই) অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, রশিক নগরের ৪টি গ্রামে (রশিক নগর বটতলা বাজার, উত্তর রশিক নগর, রশিক নগর গুলছরি ও রশিক নগর সিলেটি পাড়ায়) বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য গ্রামবাসীর নিকট হতে পরিবার প্রতি বিদ্যুতের খুটি বাবদ ৫-৮ হাজার টাকা লাগবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। আবার এ টাকা উত্তোলনের জন্য এলাকায় কমিটিও করা হয়। কমিটির মাধ্যমে এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা চাঁদা উত্তোলন করে হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত মিজানসহ স্থানীয় একটি চক্র।

এলাকাবাসী আরো জানান, রশিক নগর বটতলা বাজার এলাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার, উত্তর রশিক নগর এলাকা থেকে ২ লাখ, রশিক নগর গুলছড়ি হিন্দু পাড়া থেকে ৩ লাখ, রশিক নগর সিলেটি পাড়া থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এখনো আরও ৩ লাখ টাকার মত বাকি রয়েছে। যার জন্য বৈদ্যুতিক কাজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

রশিক নগর গুলছড়ির বাসিন্দা দিনমজুর মনিরুল বলেন, ”আমি দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। কাম-কাজ করেই আমার সংসার চলে। বিদ্যুতের টাকা উত্তোলনের জন্য গঠিত কমিটির সদস্য জালালের নিকট ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে আমাকে। তা না হলে এলাকায় বিদ্যুৎ আসলে আমি বিদ্যুৎ পাব না। করোনা মহামারিতে আমি খুব কষ্টে আছি। আমার টাকা ফেরত পেলে খুব উপকার হত।”

রশিক নগর সিলেটি পাড়া এলাকার মনসুর আলম বলেন, ”আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলে বিদ্যুৎ দালাল মিজান ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাবী করেছে। আমরা আমাদের এলাকার আমিনুলের মাধ্যমে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। বাকী টাকা দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ দিবে বলে জানায়।

অপরদিকে গুলছড়ি হিন্দু পাড়া এলাকা থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়েছে তারা। এখন কাজ বন্ধ রেখেছে। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই এবং দ্রুত অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা চাই। পাশাপাশি এদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তিনি।”

দীঘিনালা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রশিক নগর বাজার এলাকার বাসিন্দা মাহমুদা বেগম লাকী বলেন, ”মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে বলেছেন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে। অথচ সেখানে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল সিন্ডিকেট চক্র। এ এলাকার অধিকাংশ মানুষই গরীব, তারা দিন আনে দিন খায়। আমার এলাকা থেকে নতুন বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ট্রান্সফরমার বসিয়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার কথা বলে শফিকের মাধ্যমে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছে মিজান। কিন্তু সে এখন বিদ্যুতের লাইন দিচ্ছে না। এখানে দ্রুত বিদ্যুতের লাইন চালু করে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি মিজান সহ এই চক্রের সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।”

এদিকে বৈদ্যুতিক লাইন নিয়ে সাংবাদিকের কাছে টাকা উত্তোলনের তথ্য প্রকাশ করায় এলাকাবাসীকে বিদ্যুতের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে দালাল চক্রটি। পাশাপাশি বকেয়া টাকা দ্রুত পরিশোধ করতেও বলেন তারা। এ নিয়ে রশিক নগর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়া নিয়ে আতংকে রয়েছে সাধারণ মানুষ। তাই যত দ্রুত সম্ভব এসমস্ত দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবী এলাকাবাসীর।

এ ব্যাপারে মিজান-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ”এখানে মূলত উত্তর রশিক নগর এলাকার শফিকুল, সিলেটি পাড়ার আমিনুল, বাজার এলাকার সোবহান, এবং গুলছড়ি হিন্দু পাড়া এলাকার অমল কৃষ্ণ (খলিফা)-রা টাকা উত্তোলন করেছে। আমি শুধু আমার খরচের টাকাটাই নিয়েছি। এর বাইরে আমি কোন টাকা নেইনি, এ ব্যাপারে আমি আর কিছুই জানিনা। আপনি গ্রামের কমিটির সাথে কথা বলেন।”

কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, ”মিজানের সাথে আমাদের ১০ লক্ষ একটি চুক্তি হয়েছিল। আমরা তাকে অনেকগুলো টাকা দিয়েছি। এখনো কিছু টাকা বাকি আছে। যার জন্য আমাদের বিদ্যুতের কাজ বন্ধ রয়েছে। আমি আপনার সাথে সাক্ষাতে কথা বলব।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বটতলী গুলছড়ি হিন্দু পাড়া এলাকার ”অমল কৃষ্ণ (খলিফা) বলেন, আমাকে কেউ টাকা দেয়নি এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আপনি আমিনুলের সাথে কথা বলেন। আপনাকে কে বলছে তাদের নাম বলেন। এ অভিযোগের বাদী কে এদেরকে আমার দরকার বলে ফোন কেটে দেন তিনি।”

এ বিষয়ে অপর অভিযুক্ত উত্তর রশিক নগর এলাকার শফিকুল বলেন, ”টাকা নেওয়ার বিষয় সত্য। তবে এখানে অন্য একটি বিষয় আছে। আমি আপনাকে ফোনে বলতে চাই না। আপনাকে আমি পরে ফোন দিয়ে কথা বলব বলে ফোন কেটে দেন তিনি।”

দীঘিনালা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ সিরাজ বলেন, ”মিজানের বিরুদ্ধে আমরা অনেক অভিযোগ পেয়েছি। সে আমাদের বিদ্যুৎ অফিসের কেউ না। তিনি রাঙ্গামাটি এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রজেক্টের ঠিকাদারদের হয়ে মেস্ত্রী হিসেবে কাজ করে বলে জেনেছি। তাদের এ চক্রটির জন্য আমাদের বিদ্যুৎ অফিসের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। তার এবং তার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। এজন্য আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ”এ বিষয়ে মৌখিক একটি অভিযোগ পেয়েছি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তার নাম মিজান। এই মিজানের নামে এর আগেও দুদকের কাছে অভিযোগ উঠেছিল। তার এসব দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ কাশেম বলেন, ”বিদ্যুতের জন্য টাকা নেওয়ার একটি অভিযোগ শুনেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছেন সেখানে বিদ্যুতের জন্য টাকা উত্তোলন করা খুবই অন্যায় এবং জঘন্য একটি কাজ। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা এসব দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”

২৪ ঘণ্টা/এম আর/প্রদীপ

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।