খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্ণফুলীতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের হামলার শিকার প্রকৌশল অফিসের হিসাবরক্ষক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
কর্ণফুলীতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের হামলার শিকার প্রকৌশল অফিসের হিসাবরক্ষক

চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী বানাজা বেগমের হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা প্রকৌশল অফিসের হিসাবরক্ষক মো. রফিক।

মারধরের শিকার এলজিইডি অফিসের হিসাবরক্ষক মো. রফিক জানান, উপজেলা অফিসে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও তার স্বামী আমার রুমে এসে আমাকে মারধর করে রুমের কম্পিউটার ও জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন।

রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ অস্থায়ী কার্যালয় রিভারভিউ কমিউনিটি সেন্টারের অফিস রুমে (২য় তলা) উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান।

ঘটনার বিষয়ে খবর নিয়ে জানা যায়, মেম্বারদের করা কাজের দুটি পিআইসি ফাইলে স্বাক্ষর হওয়া নিয়ে উপজেলা প্রকৌশল অফিসে তাদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে।এক বছর পর পিআইসি প্রকল্পের জামানতের অর্থ ছাড় নিতে গেলে ওয়ার্ক এ্যাসিসটেন্ট মাঠের কাজ দেখে নোট দিলে পরে বিল হবে। এমন কথায় হিসাবরক্ষক ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

হামলার শিকার এলজিইডি অফিসের মো. রফিক বলেন, ‘দুপুরে আমি অফিসে বসে কম্পিউটারে কাজ করছিলাম। এমন সময় উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানাজা বেগম রুমে এসে গত বছরের দুটি পিআইসি ফাইলের বিল পাসে স্বাক্ষর হয়েছে কিনা জানতে চান। আমি তখন বললাম ফাইলে স্বাক্ষর হয়নি। সব ফাইল প্রকৌশলী ম্যাডামের টেবিলে। উনি আজ অফিসে আসেননি। কাল আসলে হয়ত হবে।

এরপর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রুম থেকে চলে যায়। তার ২০ মিনিট পরপরই হঠাৎ দেখি আবার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উনার স্বামী রুমে ডুকে জানতে চান ফাইলে স্বাক্ষর হবে না কেন, কেন স্বাক্ষর হয়নি। এসব বলতে বলতে আমি কিছু বলার আগেই হঠাৎ দেখি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আমার উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। এভাবে উপর্যুপরি কয়েকবার আমাকে মারধর করে রুমের জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তবে তিনি কিছু বলেননি। পরে আমি বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন কাজ তথা সাইট ভিজিট করে বিলের বিষয়ে মন্তব্য লিখে উপজেলা প্রকৌশলী ম্যাডামের কাছে পাঠানো ওয়ার্ক এ্যাসিসটেন্ট এর দায়িত্ব। সে কাজটি করতে গিয়ে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কর্তৃক আমি হামলার শিকার হলাম।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানাজা বেগম সাংবাদিককে জানান, আমার নিশাম এন্টারপ্রাইজের করা কাজের ফাইল প্রসেসিং করে প্রকৌশল অফিসে পাঠালেও বিলে স্বাক্ষর হয়নি। অথচ ইউএনও অফিসের সিও’র অফিসে দেখলাম জাইমা এন্টারপ্রাইজের ৩টি ও থ্রি স্টার এন্টারপ্রাইজের ১টি ফাইলে স্বাক্ষর হয়েছে। এটা দেখে পরে রুমে গিয়ে আমার প্রসেসিং করা ফাইলে কেন স্বাক্ষর হয়নি জানতে চাইলে প্রকৌশলী অফিসের রফিক অনেক্ষণ চুপ থাকে তাই মারধর করেছি।’

কর্ণফুলী উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রী দে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা মনে হয় এখানকার এলজিইডি অফিসে আর চাকরি করতে পারব না। এ বিষয়ে খুবই সন্ধিহান আমি। প্রায় সময় আমার অফিসে এসে আমার একাউন্টসকে মারধর, গালিগালাজ ও তুই তুকারি করছেন। রিপিটেটলি এইসমস্ত ঘটনাগুলো এরা প্রায় ঘটাচ্ছেন। জুন মাসে কাজের চাপ বেশি। তারপরেও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অফিসে ঢুকে হিসাবরক্ষককে মারধর করেছেন বলে শুনেছি। ঘটনার সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। আমি সাথে সাথে ইউএনও স্যারকে বিষয়টি জানাতে মোবাইলে কল দিলাম কিন্তু উনি ফোন রিসিভ করেননি কিংবা পরে কল ব্যাকও করেননি।

উপজেলা প্রকৌশলী আরো বলেন, আমরা এ বিষয়ে উপরের প্রশাসনকে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছি। তারপরেও প্রায় সময় এধরনের ঘটনা বারবার ঘটতেছে। আমরা থানায় যেতে যাচ্ছিলাম না। তবে আজকে যে ঘটনা ঘটলো আমি খুব মর্মাহত। আমি আসলে আমার অফিসের কর্মচারীদের প্রটেকশন দিতে পারিনি। যা দুঃখজনক।’

প্রসঙ্গত, এরপূর্বেও কর্ণফুলী থানার পুলিশের এক এসআইকে গালিগালাজ করার অপরাধে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

২০১৯ সালের ২৩ জুলাই আবারও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের সাথে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মোস্তাফিজের হাতাহাতি ঘটনা ঘটেছিল। যা সে সময় বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিলো।

ঘটনার বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘মারধরের ঘটনাটি শুনেছি। তবে ঘটনার সময় আমি ডিসি অফিসে ছিলাম। এখনো কেউ আমাকে বিষয়টি লিখিত বা মৌখিক ভাবে জানায়নি।’

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।