খুঁজুন
, ,

করোনা আক্রান্ত খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 15 August, 2020, 11:16 am
করোনা আক্রান্ত খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর আর নেই

খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর মারা গেছেন। করোনা আক্রান্ত এ শিল্পী রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। হাসপাতাল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, দেশের চিত্রকলার বিকাশে মুর্তজা বশীর যে অনন্য অবদান রেখেছেন তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

জানা গেছে, মুর্তজা বশীর দীর্ঘদিন ধরেই হৃদরোগ, ফুসফুস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনি সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

শুক্রবার তার করোনা পরীক্ষা করা হলে ফলাফল পজিটিভ আসে। শুক্রবার থেকে তার পালস পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে একাধিকবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে। তিনি ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

চিত্রকলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৮০ সালে একুশে পদক পান তিনি। একই কাজে স্বাধীনতা পুরস্কার পান ২০১৯ সালে। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মুর্তজা বশীরের শিক্ষা জীবন শুরু হয় ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউশনে, এরপর তিনি শিক্ষাগ্রহণ করেছেন বগুড়ার করোনেশন ইনস্টিটিউশন, ঢাকা গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অব আর্টস (এখন যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) ও কলকাতা আশুতোষ মিউজিয়ামে।

এছাড়াও ইতালির ফ্লোরেন্স একাডেমি দেল্লে বেল্লে আরতিতে চিত্রকলা ও ফ্রেস্কো বিষয়ে ও পরে প্যারিসের ইকোলে ন্যাশিওনাল সুপিরিয়র দ্য বোজার্ট এবং আকাদেমি গোয়েৎসে মোজাইক ও ছাপচিত্রে অধ্যয়ন করেন তিনি। ১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে এক মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৮টি রাজ্যের বিভিন্ন জাদুঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রদর্শন করেন তিনি।

পরে আইসিসিআর ফেলোশিপে তিনি ‘বাংলার শিল্প ঐতিহ্যের’র ওপর গবেষণার জন্য ভারতের বিভিন্ন জাদুঘর প্রদর্শন করেন। পরে ‘মন্দির টেরাকোটা শিল্প’ বিষয়েও তিনি ভারতে গিয়ে গবেষণা করেন।

১৯৫৫ সালে ঢাকার নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ড্রইং শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ দেন। ১৯৯৮ সালে অধ্যাপক হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন।

বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে, প্রতিবাদে মুর্তজা বশীর ছিলেন অগ্রভাগে। ১৯৫০ সালে কমিউনিস্ট পার্টি আহুত ময়মনসিংহের হাজং, ভারতের তেলেঙ্গানা ও পশ্চিমবঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগণার কাকদ্বীপে মুক্ত এলাকা দিবস এই প্রচার অভিযান চলছিল। ওই সময়ে গ্রেফতার হন মুর্তজা বশীর। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঁচ মাস জেল খাটেন তিনি।

১৯৫২ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত সুভাষ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘পরিচয়’ পত্রিকায় ভাষা আন্দোলনের ওপর ‘পারবে না’ শিরোনামে তার কবিতা ছাপা হয়। কলকাতা থেকে প্রকাশিত একুশের স্মরণিকায় ‘ওরা প্রাণ দিল’ কবিতাটি পুনর্মুদ্রিত হয়।

১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ভাষা আন্দোলনে শহীদ আবুল বরকতকে রক্তাক্ত অবস্থায় অন্যদের সঙ্গে তিনি হাসপাতালে নিয়ে যান। ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের ছাদে কালো পতাকা উত্তোলনকারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন।

২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনার ওপর ‘রক্তাক্ত ২১শে’ শিরোনামে ১২৫২ সালে তিনি লিনোকোটে চিত্রটি আঁকেন, যা হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ শীর্ষক সংকলনে ১৯৫৩ সালে প্রথম মুদ্রিত হয়।

‘রক্তাক্ত ২১’ কে ভাষা আন্দোলনের ওপর আঁকা প্রথম ছবি হিসেবে গণ্য করা হয় বলে এশিয়াটিক সোসাইটি জানিয়েছে।

১৯৭১ সালে ১৬ মার্চ শহীদ মিনার থেকে বাহাদুর শাহ পার্ক পর্যন্ত বাংলাদেশে চারু ও কারুশিল্পী পরিষদের উদ্যোগে ‘স্বা-ধী- ন-তা’ মিছিলে নেতৃত্ব দানকারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। মুর্তজা বশীর বাংলা একাডেমি ও এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের আজীবন সদস্য।

এছাড়াও তিনি জাপানের ফুকুওকা এশিয়ান কালচারাল প্রাইজ কমিটির নমিনেটর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কলা ও মানবিক গবেষণা মূল্যায়ন কমিটি ও কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নির্বাচন কমিটির সদস্য ছিলেন।

মুর্তজা বশীর ১৯৬২ সালে আমিনা বশীরকে বিয়ে করেন। তিনি দুই মেয়ে মুনীরা বশীর ও মুনিজা বশীর ও এক ছেলে মেহরাজ বশীর যামীর বাবা।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 2:20 pm
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা প্রসারিত করুন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক ‘এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তা কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী—যে কেউ বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে তাদের পাশে থাকবে। এটি কেবল একটি আশ্বাস নয়, ইনশাআল্লাহ এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, আজকের সম্মেলনে দেশি-বিদেশি করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠছে।

তারেক রহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এজন্য তিনি বিনিয়োগকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, কোনো ব্যবসার সফলতা শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না; বরং সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রয়েছে দ্রুত বিকাশমান বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনগণের সমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এসব শক্তি বাংলাদেশকে টেকসই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। নির্বাচনী ইশতেহারে সেই অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুস্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শুধু বিনিয়োগ নয়, বরং বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

সরকারের পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগেই অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা থেকে সরকার বিনিয়োগবান্ধব সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের প্রধান চাহিদা ছিল আইনি সুরক্ষা জোরদার, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজ কর ব্যবস্থা, মুনাফা নির্বিঘ্নে নিজ দেশে পাঠানোর সুযোগ, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো। সরকার ইতোমধ্যে এসব ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ এবং মুনাফা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সহজ করছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার শক্তিশালী করা, স্টার্টআপে উৎসাহ দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নয়নে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, তৈরি পোশাক খাতের বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করে।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদ ছাড়ার গুঞ্জন, উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 1:28 pm
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদ ছাড়ার গুঞ্জন, উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন—রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন জল্পনা এখন জোরালো। সরকার ও ক্ষমতাসীন বিএনপির সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি পদে নতুন মুখ কে, তা নিয়েও রয়েছে জোর আলোচনা।

সূত্রগুলোর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের জন্য এরই মধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির কাছে ওই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কে আসতে পারেন, তা নিয়েও চলছে নানান আলোচনা। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একাধিক সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে সামনে এসেছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।

যদিও এর আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও বেগম সেলিমা রহমানের নামও আলোচনায় ছিল। তবে বিএনপির নেতারা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে কি না—জানতে চাইলে বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য শাহাদাৎ হোসেন সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি একেবারেই অবগত নই। আর এমন কিছু ঘটলে (রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ) শূন্য পদে অনেক নামই আলোচিত হবে, এটাই স্বাভাবিক।’

বেগম সেলিমা রহমানও বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি জানি না। তাই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

এদিকে, বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি তার অধস্তন কর্মীদের শিগগির বঙ্গভবন ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে।

সংবিধান কী বলছে?
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন।

৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

আর ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সূত্রগুলোর দাবি, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একাধিক সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা—এ দুই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই তাদের নাম বিবেচনায় এসেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আরও আলোচনা হবে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতিকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ও এক্ষেত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে।

যে প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রনেতারা তার অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করেন। বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে পার্থক্য তৈরি হয়। যদিও সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তার পদত্যাগ দাবি করেনি, তবু রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল।

সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করা নিয়েও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তখন দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিল এস আলম গ্রুপ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতিকে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের মনোভাব জানানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করলে গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। পাশাপাশি ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো নিজেদের মনোনীত একজনকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে বিএনপি।

পরবর্তী অর্থাৎ চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল।

র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 1:07 pm
র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বৃহস্পতিবার নতুন নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

তিনি বলেন, র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাইস অ্যাডমিরাল মিজবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিজবাহ উল আজীমকে গত ১৬ জুলাই ভাইস অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব দেয় সরকার।

তিনি সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। নৌবাহিনীর শীর্ষ পদে অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সপ্তদশ ব্যাচের ছাত্র মিজবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন পান।

চাকরি জীবনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলসহ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ডেন্টের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন।