খুঁজুন
, ,

করোনা আক্রান্ত খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 15 August, 2020, 11:16 am
করোনা আক্রান্ত খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর আর নেই

খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর মারা গেছেন। করোনা আক্রান্ত এ শিল্পী রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। হাসপাতাল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, দেশের চিত্রকলার বিকাশে মুর্তজা বশীর যে অনন্য অবদান রেখেছেন তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

জানা গেছে, মুর্তজা বশীর দীর্ঘদিন ধরেই হৃদরোগ, ফুসফুস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনি সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

শুক্রবার তার করোনা পরীক্ষা করা হলে ফলাফল পজিটিভ আসে। শুক্রবার থেকে তার পালস পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে একাধিকবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে। তিনি ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

চিত্রকলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৮০ সালে একুশে পদক পান তিনি। একই কাজে স্বাধীনতা পুরস্কার পান ২০১৯ সালে। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মুর্তজা বশীরের শিক্ষা জীবন শুরু হয় ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউশনে, এরপর তিনি শিক্ষাগ্রহণ করেছেন বগুড়ার করোনেশন ইনস্টিটিউশন, ঢাকা গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অব আর্টস (এখন যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) ও কলকাতা আশুতোষ মিউজিয়ামে।

এছাড়াও ইতালির ফ্লোরেন্স একাডেমি দেল্লে বেল্লে আরতিতে চিত্রকলা ও ফ্রেস্কো বিষয়ে ও পরে প্যারিসের ইকোলে ন্যাশিওনাল সুপিরিয়র দ্য বোজার্ট এবং আকাদেমি গোয়েৎসে মোজাইক ও ছাপচিত্রে অধ্যয়ন করেন তিনি। ১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে এক মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৮টি রাজ্যের বিভিন্ন জাদুঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রদর্শন করেন তিনি।

পরে আইসিসিআর ফেলোশিপে তিনি ‘বাংলার শিল্প ঐতিহ্যের’র ওপর গবেষণার জন্য ভারতের বিভিন্ন জাদুঘর প্রদর্শন করেন। পরে ‘মন্দির টেরাকোটা শিল্প’ বিষয়েও তিনি ভারতে গিয়ে গবেষণা করেন।

১৯৫৫ সালে ঢাকার নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ড্রইং শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ দেন। ১৯৯৮ সালে অধ্যাপক হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন।

বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে, প্রতিবাদে মুর্তজা বশীর ছিলেন অগ্রভাগে। ১৯৫০ সালে কমিউনিস্ট পার্টি আহুত ময়মনসিংহের হাজং, ভারতের তেলেঙ্গানা ও পশ্চিমবঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগণার কাকদ্বীপে মুক্ত এলাকা দিবস এই প্রচার অভিযান চলছিল। ওই সময়ে গ্রেফতার হন মুর্তজা বশীর। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঁচ মাস জেল খাটেন তিনি।

১৯৫২ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত সুভাষ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘পরিচয়’ পত্রিকায় ভাষা আন্দোলনের ওপর ‘পারবে না’ শিরোনামে তার কবিতা ছাপা হয়। কলকাতা থেকে প্রকাশিত একুশের স্মরণিকায় ‘ওরা প্রাণ দিল’ কবিতাটি পুনর্মুদ্রিত হয়।

১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ভাষা আন্দোলনে শহীদ আবুল বরকতকে রক্তাক্ত অবস্থায় অন্যদের সঙ্গে তিনি হাসপাতালে নিয়ে যান। ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের ছাদে কালো পতাকা উত্তোলনকারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন।

২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনার ওপর ‘রক্তাক্ত ২১শে’ শিরোনামে ১২৫২ সালে তিনি লিনোকোটে চিত্রটি আঁকেন, যা হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ শীর্ষক সংকলনে ১৯৫৩ সালে প্রথম মুদ্রিত হয়।

‘রক্তাক্ত ২১’ কে ভাষা আন্দোলনের ওপর আঁকা প্রথম ছবি হিসেবে গণ্য করা হয় বলে এশিয়াটিক সোসাইটি জানিয়েছে।

১৯৭১ সালে ১৬ মার্চ শহীদ মিনার থেকে বাহাদুর শাহ পার্ক পর্যন্ত বাংলাদেশে চারু ও কারুশিল্পী পরিষদের উদ্যোগে ‘স্বা-ধী- ন-তা’ মিছিলে নেতৃত্ব দানকারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। মুর্তজা বশীর বাংলা একাডেমি ও এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের আজীবন সদস্য।

এছাড়াও তিনি জাপানের ফুকুওকা এশিয়ান কালচারাল প্রাইজ কমিটির নমিনেটর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কলা ও মানবিক গবেষণা মূল্যায়ন কমিটি ও কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নির্বাচন কমিটির সদস্য ছিলেন।

মুর্তজা বশীর ১৯৬২ সালে আমিনা বশীরকে বিয়ে করেন। তিনি দুই মেয়ে মুনীরা বশীর ও মুনিজা বশীর ও এক ছেলে মেহরাজ বশীর যামীর বাবা।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 4:30 pm
নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম

দেশব্যাপী নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নিবন্ধনে বড় ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম। জেলাটিতে নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ জন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকায় এ সংখ্যা ৫৯ হাজার ৫৮০। অর্থাৎ ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামে ১ লাখ ২১ হাজার ৫৬০ জন বেশি নিবন্ধন করেছে—যা তিন গুণেরও বেশি।

প্রতিযোগিতাটি নিয়ে বড় প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা ইতিহাস গড়ব।”

চট্টগ্রামের এই বড় ব্যবধানের পেছনে খেলাধুলার প্রতি স্থানীয়দের আগ্রহের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রচার-প্রচারণা ও প্রচেষ্টার প্রভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমাদের যাঁরা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা ক্রীড়া অফিসার আছেন, তাঁদের প্রচার-প্রচারণা, এফোর্টের কারণেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে।”

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগ এই বিপুল নিবন্ধনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রীড়া সচিব বলেন, “হ্যাঁ। সবার মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা—কে কত বেশি এনরোল করতে পারে।”

চট্টগ্রামে খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন মোঃ মাহবুব-উল-আলম। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে খেলাধুলার অনেক আয়োজন রয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়েও সেখান থেকে অনেক ভালো খেলোয়াড় পাওয়া যায়।

চট্টগ্রামের এই সাফল্যের নেপথ্যে মাঠপর্যায়ে কীভাবে কাজ হয়েছে, তার বিস্তারিত জানিয়েছেন জেলা ক্রীড়া অফিসার আবদুল বারী। তিনি বলেন, শুরু থেকেই জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিকল্পিত প্রচারণার পাশাপাশি উপজেলা, ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ধারাবাহিক সমন্বয় করা হয়েছে।

আবদুল বারী বলেন, “আমরা আসলে শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে অনেক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি। ডিসি স্যারের নেতৃত্বে আমরা একাধিক সভা করেছি। জুম মিটিং থেকে শুরু করে একাধিক মিটিং করেছি। এরপর আমরা উপজেলা পর্যায়ে গিয়েছি, ইউএনও স্যারদের সঙ্গে মিটিং করেছি, আবার স্কুলপ্রধানদের সঙ্গে মিটিং করেছি।”

ইউনিয়ন পর্যায়েও নিবন্ধন কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়। নির্ধারিত রূপরেখা অনুযায়ী ইউনিয়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এসব কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা ক্রীড়া অফিসের কর্মকর্তারাও এ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

পুরো প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্ব ও নির্দেশনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন আবদুল বারী।

তিনি বলেন, “সর্বোপরি, ডিসি স্যারের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সময়ে সময়ে যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন, সেগুলো আসলে এই নিবন্ধন বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। যার কারণে আমরা একটি ভালো ফলাফল পেয়েছি।”

জেলা ক্রীড়া অফিসার জানান, নিবন্ধন বাড়ানোর কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কখনো থামিনি। প্রতিদিনই এটা নিয়ে কাজ করেছি। এগুলো শেয়ার করেছি। যার কারণে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা এমন একটি ফলাফল পেয়েছি।”

মাঠপর্যায়ের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রচারণা চালানো হয়। স্থানীয় সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে প্রচারের পাশাপাশি ফেসবুকে প্রতিযোগিতার তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকেরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় যুক্ত হন।

আবদুল বারী বলেন, “আমাদের স্থানীয় যে পত্রিকাগুলো আছে, সেগুলোতে আমরা নিউজ দিয়েছি। ফেসবুকে পোস্ট করেছি এবং সংশ্লিষ্ট যাঁরা ক্রীড়া সংগঠক আছেন, তাঁরাও ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। আমাদের স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলোতেও প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি।”

তথ্য অফিসও এ প্রচারণায় সহযোগিতা করেছে। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা—তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তথ্য অফিসের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ কার্যক্রমে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন আবদুল বারী। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাঁকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছেন।

জেলাভিত্তিক নিবন্ধনে চট্টগ্রাম ও ঢাকার পর তৃতীয় স্থানে রয়েছে কুমিল্লা। সেখানে নিবন্ধন করেছে ৫১ হাজার ৮৪৮ জন। চতুর্থ স্থানে বরিশালে ৫১ হাজার ৫৮০ এবং পঞ্চম স্থানে পটুয়াখালীতে ৪৯ হাজার ৫৬৫ জন নিবন্ধন করেছে।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা ঢাকা ও কুমিল্লার সম্মিলিত নিবন্ধন ১ লাখ ১১ হাজার ৪২৮। এই দুই জেলার সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও চট্টগ্রামে ৬৯ হাজার ৭১২ জন বেশি নিবন্ধন করেছে।

শীর্ষ ২০ জেলার তালিকা অনুযায়ী, ষষ্ঠ স্থানে থাকা দিনাজপুরে নিবন্ধন করেছে ৪১ হাজার ৬৯৯ জন। সপ্তম সিলেটে ৪০ হাজার ৫৩৬, অষ্টম ময়মনসিংহে ৪০ হাজার ৫৪, নবম কক্সবাজারে ৩৬ হাজার ৫৪৬ এবং দশম স্থানে থাকা বগুড়ায় নিবন্ধন করেছে ৩৪ হাজার ৯৬৮ জন।

গত আসরে আটটি ইভেন্ট থাকলেও এবার আরও দুটি যুক্ত করে মোট ১০টি ইভেন্ট রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে দল গঠনের পর উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা হবে।

নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বালক ও বালিকা উভয় বিভাগে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, মার্শাল আর্ট ও টেবিল টেনিসে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

পতেঙ্গায় ২ টন চোরাচালানের কয়লাসহ ২টি কাঠের বোট জব্দ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 10:31 am
পতেঙ্গায় ২ টন চোরাচালানের কয়লাসহ ২টি কাঠের বোট জব্দ

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিযান চালিয়ে ২ টন খনিজ কয়লা ও চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত দুটি কাঠের বোট জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। জব্দ করা কয়লার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পতেঙ্গা থানাধীন কর্ণফুলী চ্যানেলের ১৮ নম্বর ঘাটসংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা।

কোস্ট গার্ড জানায়, অভিযান চলাকালে ওই এলাকায় সন্দেহজনক দুটি কাঠের বোটে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বোট দুটি থেকে প্রায় ২ টন খনিজ কয়লা জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত দুটি সাম্পান বোটও জব্দ করা হয়।

কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দ করা কয়লা ও বোটের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। চোরাচালান রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা আন্দোলন না করে নাশকতা করছে : রেলপথ প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 9:22 am
ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা আন্দোলন না করে নাশকতা করছে : রেলপথ প্রতিমন্ত্রী

রেলপথে নাশকতা ঠেকাতে স্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার এবং নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা আন্দোলন না করে নাশকতা করছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশনের ২ নম্বর প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের কোচে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা নাশকতা করছে, তারা নাশকতাকারী এবং জুলাই-আগস্টে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর। তারা ডিসেম্বরকে সামনে রেখে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু আন্দোলন না করে নাশকতা করছে। দেশের মানুষ তাদের বিতাড়িত করেছে এবং তারা পালিয়ে গেছে। এখন জনসমর্থন না থাকায় পরাজিত ও পলাতক সেই শক্তি নাশকতার মাধ্যমে জনমনে ভীতি তৈরি করতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারা বাস্তবায়ন করেছে। নাশকতাকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ, আরএনবি, পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাশকতাকারীরা যেসব স্থান দিয়ে রেলস্টেশনে প্রবেশ করতে পারে, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকালের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নেওয়া হবে। নাশকতার সঙ্গে যারাই জড়িত, তাদের ধরে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিডিয়ার সামনে কথা বলতে অভ্যস্ত নন। তবে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের স্থান সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি মূল প্ল্যাটফর্মে ঘটেনি। ওয়াশ প্ল্যান্টের দিক থেকে ট্রেনটি আসার সময় সেখানে গানপাউডার ব্যবহার করে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে বোঝা যায়, যারা এই কাজ করেছে তারা পরিকল্পনা করেই এসেছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, যেখানে আগুন লাগানো হয়েছে সেখানে অন্ধকার ছিল। স্টেশনে আসার পরপরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে একটি গ্যারেজ পুরোপুরি পুড়ে গেছে। এর বাইরে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তদন্তের পর জানা যাবে।

আরও নাশকতার আশঙ্কা আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা নাশকতাকারী, তারা নাশকতার চেষ্টা করবেই। নাশকতা করে কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটানো যায়নি। বিএনপি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার এবং তারাই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। নাশকতাকারীদের জনগণ ও প্রশাসন মিলে প্রতিহত করবে।

রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে প্রশাসন, আরএনবি, পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ উপস্থিত হয়েছে। এখন আরও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে, যাতে কোনো দিক দিয়ে অঘটন না ঘটে। দুষ্কৃতিকারীরা চেষ্টা করবে, একই সঙ্গে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টাও করা হবে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে রেল চলাচলে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় হবে না বলেও জানান রেলপথ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘটনার কারণে প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। তবে এর কারণে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় হবে না।