খুঁজুন
, ,

হাইকোর্টেও নুসরাত হত্যার আসামিদের সাজা বহাল থাকার আশা আইনমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 25 October, 2019, 1:27 pm
হাইকোর্টেও নুসরাত হত্যার আসামিদের সাজা বহাল থাকার আশা আইনমন্ত্রীর

‘নুসরাত হত্যার রায় উচ্চ আদালতে এলে এবং আসামিদের ডেথ রেফারেন্স প্রস্তুত হলে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়ে দ্রুত শুনানির উদ্যেগ নেওয়া হবে। ফলে হাইকোর্টেও মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা বহাল থাকবে বলে আশা করছি’

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য) হাইকোর্টে এলে তা দ্রুত শুনানির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

আনিসুল হক বলেন, “নুসরাত হত্যা গুরুত্বপূর্ণ মামলা, গুরুত্ব সহকারে শেষ করেছেন প্রসিকিউশন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার দৃষ্টান্ত হলো এই রায়। নুসরাত হত্যার রায় উচ্চ আদালতে এলে এবং আসামিদের ডেথ রেফারেন্স প্রস্তুত হলে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়ে দ্রুত শুনানির উদ্যেগ নেওয়া হবে। ফলে হাইকোর্টেও মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা বহাল থাকবে বলে আশা করছি।”

সাগর রুনি হত্যা মামলার তদন্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আইনমন্ত্রী বলেন, “এ মামলার তদন্ত কবে শেষ হবে, তা জানা নেই। তবে এ মামলার তদন্তে হস্তক্ষেপ করার কোনও সুযোগ নেই।”

“বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা প্রদানকারী জজদের পুরস্কার হিসাবে হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে”— বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আনিসুল হক বলেন, “খালেদা জিয়া দুর্নীতি করে সাজা খাটছেন। বিচারকের কোনও দোষ নেই।” হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ যথাথই হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ।

এ মামলার রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড সাজা ঘোষণা করা হয়। আসামিরা হলো— সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল সকালে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে নুসরাতকে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত জাহান রাফি মারা যান।

Feb2
Feb2

৮ ব্র্যান্ডের রং ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়ংকর মাত্রার মার্কারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 4 August, 2026, 7:39 pm
৮ ব্র্যান্ডের রং ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়ংকর মাত্রার মার্কারি

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (BDS) অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বিপজ্জনক মাত্রায় ক্ষতিকর মার্কারির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ৮টি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে। এসব ক্রিমের বিক্রয়-বিতরণ, মজুদ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

বাংলাদেশ মানের চেয়ে অতি বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারিযুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা থাকায় জনসাধারণকে এসব পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিএসটিআইয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, দেশীয় বাজারে বিভিন্ন রং ফর্সাকারী ক্রিম পাওয়া যাচ্ছে। এসব পণ্য বৈধভাবে আমদানি করা হচ্ছে না। লাগেজ বা বিভিন্ন চোরাই পথে দেশীয় বাজারে এসব পণ্য প্রবেশ করছে এবং বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিএসটিআই চোরাই পথে আসা এসব পণ্যের মান যাচাই করতে পারছে না। বাজার থেকে সংগ্রহ করা এমন রং ফর্সাকারী ক্রিম বিএসটিআই ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষায় ৮টি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি (Mercury) শনাক্ত হয়েছে। এসব পণ্যে মার্কারির উপস্থিতি বাংলাদেশ মান (বিডিএস ১৩৮২) অনুযায়ী নির্ধারিত সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১.০০ (এক) পিপিএমের বহুগুণ বেশি পাওয়া গেছে।

বাজার থেকে সংগৃহীত নমুনা বিএসটিআই পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে পাকিস্তানের এস.জে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াটেনিং ক্রিমে ১২০.৩৯ পিপিএম; পাকিস্তানের কিউসিআই কোম্পানির নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪.৭২ পিপিএম, পাকিস্তানের লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নাভিয়া বিউটি ক্রিমে এবং নাভিয়া হোয়াটেনিং ক্রিমে যথাক্রমে ৫৯.৮২ পিপিএম এবং ৭৯.৭০ পিপিএম; পাকিস্তানের নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াটেনিং ক্রিমে ৮২.৭৬ পিপিএম, পাকিস্তানের ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩.৩৭ পিপিএম; পাকিস্তানের গৌরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬.৯৩ পিপিএম এবং চায়নার জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকস কোম্পানি লিমিটেডের ন্যাচারাল পার্ল স্ক্রিন ক্রিমে ৬৭.৪৯ পিপিএম মার্কারির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাই বিএসটিআইয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যে কোনো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএসটিআই দেশের বাজারকে নিরাপদ রাখতে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ, বাজার তদারকি এবং মোবাইল কোর্ট ও সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করেছে।

পাশাপাশি তিনি অজ্ঞাত বা অনুমোদনবিহীন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম ক্রয় ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, প্রসাধনী ক্রয়ের আগে অবশ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্যের বৈধতা যাচাই করা এবং সন্দেহজনক কোনো পণ্য সম্পর্কে তথ্য থাকলে বিএসটিআইকে অবহিত করার জন্যও অনুরোধ জানান।

দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত স্কিন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি, কিডনির ক্ষতি, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা এবং গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

জকসু ভিপি ও জিএসকে ক্যাম্পাসছাড়া করল ছাত্রদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 4 August, 2026, 3:54 pm
জকসু ভিপি ও জিএসকে ক্যাম্পাসছাড়া করল ছাত্রদল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ও ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম এবং জিএস আব্দুল আলিম আরিফকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সংঘর্ষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি রিয়াজুল ইসলামকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। একপর্যায়ে তাকে একটি রিকশায় উঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর জিএস আব্দুল আলিম আরিফকেও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। জানা গেছে, তারা সবাই ছাত্রদলের নেতাকর্মী।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হস্তক্ষেপ করে।

সংঘর্ষে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, ছাত্রশক্তি ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কয়েকজন নেতাকর্মী এবং জবি প্রেস ক্লাবের অর্থ-সম্পাদক কামরুজ্জামান আহত হন।

ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্রদল কিংবা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার কারণ ও দায় নিরূপণে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

গণমাধ্যম যেন হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করে, করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 4 August, 2026, 2:35 pm
গণমাধ্যম যেন হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করে, করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো গণমাধ্যম যেন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করে সে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

আদালতের আদেশ অমান্য করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আগেও এ বিষয়ে সরকার গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল। যদি কেউ আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।

তিনি বলেন, আমরা আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেব, কেউ যেন এ ধরনের কাজ না করেন। আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

তিনি ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না। কেউ যদি আদালতের ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে তিনি আদালতেই গিয়ে সেই রায় চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ সেটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকার তো তাকে ফিরিয়ে আনতেই চায়। এজন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর তিনি আইনজীবী নিয়োগ, আত্মপক্ষ সমর্থনসহ আইনে নির্ধারিত সব সুযোগ পাবেন। আদালতের চূড়ান্ত রায় সরকার মেনে নেবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাস করে এবং শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতেও তার বিভিন্ন আহ্বানের বাস্তব কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। এখনও কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাকে সমর্থন করতে পারেন কিংবা অতীতের সুবিধাভোগী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় থাকতে পারেন। তবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার মতো নৈতিক বা সাংগঠনিক শক্তি তাদের নেই।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এ মুহূর্তে কারা কীভাবে ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে তদন্তের কোনো উদ্যোগ সরকারের নেই।

সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ বৃহস্পতিবার জামিন পাওয়ার তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানল কেন? একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না।

তিনি বলেন, আমি বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব এবং তার সঙ্গে কথা বলব। কেন এ ধরনের গ্যাপ হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।

প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনো আগের সরকারের প্রভাব রয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে প্রশাসনসহ নানা প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ এখনো রয়েছেন। চাইলেই এত মানুষকে একসঙ্গে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ১৫ বছরে বিভিন্ন স্তরে যারা উঠে এসেছেন, তাদের পরিবর্তে নতুনদের আনতে সময় লাগে।

তিনি আরও বলেন, শুধু বদলি করলেই হবে না, নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা অর্জনেরও বিষয় রয়েছে। সরকার ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করছে, তবে এমনভাবে নয় যাতে রাষ্ট্রের সেবাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চেষ্টা শুধু নয়, কাজও চলছে। তবে এমনভাবে পরিবর্তন করা হচ্ছে না, যাতে ভঙ্গুর সিস্টেম আরও ধ্বংস হয়ে যায়। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।