খুঁজুন
, ,

লন্ডনে দেড় ঘণ্টা বৈঠক করলেন ড. ইউনূস-তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 13 June, 2025, 4:20 pm
লন্ডনে দেড় ঘণ্টা বৈঠক করলেন ড. ইউনূস-তারেক রহমান

লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক শেষ হয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিট) বৈঠকটি শেষ হয়। সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা) লন্ডনের পার্ক লেন হোটেল ডোরচেস্টারে বৈঠকে বসেন তারা। বৈঠক শেষে তারেক রহমান ডরচেস্টার হোটেল ত্যাগ করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, তাঁদের মধ্যে একান্তে এই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

তারেক রহমান হোটেলের সামনে পৌঁছালে তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম স্বাগত জানান।

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময়ে সকাল ৮টায় বৈঠকে যোগ দিতে বাসা থেকে রওনা দেন তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বৈঠক শেষে বিএনপির পক্ষ থেকে লন্ডনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্রিফিং করবেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি ও সরকারের সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপসহ অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। ড. ইউনূসের দিক থেকে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন যেমন আলোচনার টেবিলে থাকবে, তেমনি তারেক রহমানের দিক থেকে গুরুত্ব পাবে নির্বাচনের তারিখ, রোডম্যাপসহ সরকার ও প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো। তবে কোনো পক্ষই আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ করেনি।

অবশ্য বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার একটি সূত্র জানায়, বৈঠকের আলোচ্যসূচি নির্ধারণের জন্য লন্ডন সফররত প্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধির সঙ্গে তারেক রহমানের প্রতিনিধি দলের অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। গত বুধবার এ আলোচনা হয়। বৃহস্পতিবারও তারেক রহমানের একজন প্রতিনিধি সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করেছেন বলে এক ভিডিও বার্তায় জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বিএনপির সূত্র জানায়, সরকার ও তারেক রহমানের প্রতিনিধির আলোচনায় বৈঠকের আলোচ্য বিষয় হিসেবে নির্বাচনের সময় এগিয়ে আনার বিষয়টি ছিল। পাশাপাশি সংস্কার, বিচার ছাড়াও জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে কথা হয়। দু’পক্ষই এর মাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার ও বিএনপির যে মতপার্থক্য আছে, তা কমিয়ে আনার বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে।

চার দিনের সফরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন। আর ২০০৮ সাল থেকে সপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি বিএনপিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সোমবার সরকার ও বিএনপির তরফ থেকে আজকের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এ বৈঠক নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ফলে সবার চোখ এখন লন্ডনের এ বৈঠকের দিকে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এ বৈঠককে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বৈঠকটি যেহেতু শীর্ষ পর্যায়ের, অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ই উঠে আসবে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় এগিয়ে নিয়ে আসার বিষয়টি আসবে। আলোচনায় আসবে সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ও।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও প্রশাসনে এখনও স্বৈরাচারের দোসরদের অবস্থানের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পাবে। এ ছাড়া দেশে আইনের শাসন ও আদালতের রায় মেনে চলার ওপরেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সংস্কারের বিষয়ও উঠতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা আশা করছি, শীর্ষ পর্যায়ের এই আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে জাতীয় ভিত্তিতে একটা গ্রহণযোগ্য ফয়সালা বা সিদ্ধান্ত হবে। এটা আমাদের প্রত্যাশা; জাতিরও প্রত্যাশা তা-ই।’

তবে সোমবার অনুষ্ঠিত দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোন কোন বিষয়ে ড. ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করবেন– সে দায়িত্ব পুরোপুরি তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করা হয়।

ঈদুল আজহার আগের দিন অন্তর্বর্তী সরকার আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের যে সময় ঘোষণা করেছে, তাকে যৌক্তিক মনে করছে না বিএনপি। দলটি মনে করে, নির্বাচনের জন্য চলতি বছরের ডিসেম্বরই উপযুক্ত সময়। তবে নির্বাচন আগামী বছরের জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারিতে অর্থাৎ রোজার আগে হলেও দলটির আপত্তি থাকবে না বলে বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে। তাই বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মূল ফোকাস থাকবে নির্বাচনের ওপর; বিশেষ করে নির্বাচনের সময় এগিয়ে আনার বিষয়ে।

দেশে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপি নেতাকর্মী এখন তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রতীক্ষায়। ইতোমধ্যে তিনি সব মামলা থেকে মুক্ত হয়েছেন বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, তারেক রহমানের দেশে আসতে কোনো সমস্যা নেই। ফলে এ বৈঠক নিয়ে যে রাজনৈতিক আলোচনা চলছে, তার সঙ্গে তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ও যুক্ত হয়ে গেছে।

যুক্তরাজ্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ মল্লিক বলেন, এ বৈঠক ঘিরে লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যেও রয়েছে সমান কৌতূহল। আজ স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বৈঠকের স্থান হোটেল ডোরচেস্টারের সামনে বিএনপি নেতাকর্মী জমায়েত হবেন।

Feb2
Feb2

ওআইসি দেশগুলোর উদ্যোগে ১০০০ দুর্গতের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 9:09 pm
ওআইসি দেশগুলোর উদ্যোগে ১০০০ দুর্গতের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন মেয়র

সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ঢাকায় অবস্থিত অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক মিশন। তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে এক হাজার বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

রোববার আয়োজিত এই মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণ করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এ সময় মেয়র বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা। সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। এমন সময় ওআইসি সদস্য দেশগুলোর এই আন্তরিক সহযোগিতা দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময়ই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর এই সহমর্মিতা শুধু ত্রাণ সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সংহতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, পানি নিষ্কাশন, স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশি বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ দুর্যোগ মোকাবিলাকে আরও কার্যকর করে তুলবে।

তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রসমূহের ঢাকাস্থ দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বলেন, মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ওআইসি সদস্য দেশগুলোর অন্যতম অঙ্গীকার এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি এই সহায়তা সেই অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।

ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর ঢাকাস্থ দূতাবাস ও হাইকমিশনের সম্মিলিত উদ্যোগে পরিচালিত এই ত্রাণ কর্মসূচির আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহবায়ক কমিটির সদস্য গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্রতিনিধি ড. খালেদ আবুশাউইশ (Dr. Khaled Abushawish) এবং ড. আবদেলরহমান আলসোরাদি (Dr. Abdelrahman Alsoradi), চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা সহ ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পতেঙ্গায় জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের পাশে মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 9:00 pm
পতেঙ্গায় জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের পাশে মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে সাম্প্রতিক রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পতেঙ্গা থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে নগরীর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের কাটঘর এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেয়র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় শুকনা খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

এ সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অসহায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাই দল-মত নির্বিশেষে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।

তিনি এই মানবিক উদ্যোগ সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করা দলীয় নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানান এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুজিবুল হক, পতেঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, পতেঙ্গা হালিশহর শ্রমিক দলের সভাপতি আবু জাফর, ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হারুন কোম্পানি, ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মো. লোকমান, সদস্য সচিব মনজুর কাদেরসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মানবতার সেবায় মহানগর বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 8:39 pm
মানবতার সেবায় মহানগর বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান

সাম্প্রতিক অতিভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম আরও বেগবান ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে নগর বিএনপির ত্রাণ কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও ত্রাণ কমিটির আহ্বায়ক নাজিমুর রহমান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। আমি মহানগর বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা ত্রাণ তহবিলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক অসহায়, দুস্থ ও বন্যাকবলিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। অনেক পরিবার আজ কর্মহীন ও খাদ্যসংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের কষ্ট লাঘবে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জরুরি ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব। মানবিক এই উদ্যোগে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এলে ইনশাআল্লাহ আমরা আরও বেশি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারব।

সভায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য গঠিত ত্রাণ তহবিলে নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিকভাবে ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। এসময় ৫০ লাখ টাকার ত্রাণ তহবিল গঠনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আওতাধীন সকল থানা, ওয়ার্ড এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ অবস্থান থেকে ত্রাণ সংগ্রহ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করবেন। একই সঙ্গে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ত্রাণ তহবিলে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানানো হয়। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ত্রাণ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক অনুদান গ্রহণ করবেন এবং তা দ্রুত বন্যাদুর্গত ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এম এ আজিজ, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, কাজী বেলাল উদ্দিন, শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, শিহাব উদ্দিন মুবিন, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু ও আহামেদুল আলম রাসেলসহ মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে মহানগর বিএনপির আওতাধীন সকল থানা, ওয়ার্ড এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে মানবিক এই কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।