খুঁজুন
, ,

মানুষ ও যানবাহন চলাচলের পথে কোন প্রতিবন্ধকতা ও অবৈধ স্থাপনা থাকতে পারবে না- সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2020, 11:13 pm
মানুষ ও যানবাহন চলাচলের পথে কোন প্রতিবন্ধকতা ও অবৈধ স্থাপনা থাকতে পারবে না- সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আজ সকাল ১১টায় দামপাড়া স্টোর থেকে শুরু করে আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ দেওয়ানহাট ডিটি রোড, দক্ষিণ পাহাড়তলী জোড়া ঢেবা হয়ে সাগরিকা মোড় পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন।

এই সময় তিনি নির্দেশ দেন যে, মানুষ ও যানবাহন চলাচলের পথে কোন ধরণের প্রতিবন্ধকতা ও অবৈধ স্থাপনা থাকতে পারবে না। এসব অবৈধ স্থাপনা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিজ নিজ উদ্যোগে সরিয়ে ফেলা না হলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি আগ্রাবাদস্থ জাম্বুরী মাঠ সংলগ্ন সিটি কর্পোরেশনের জায়গাটিকে জঞ্জাল মুক্ত করে সেখানে অকেজো ও পরিত্যক্ত যানবাহনের ডাম্পিং সেন্টারে পরিণত করা এবং অকেজো যানবাহনগুলো নিলামে বিক্রিরও নির্দেশ দেন।

জাম্বুরী মাঠ ও কর্ণফুলী শিশুপার্কের আশেপাশে সকল অবৈধ স্থাপনা এবং ফুটপাতের উপর দোকান-পাটের বর্ধিত অংশ আজকের মধ্যে উচ্ছেদ করারও নির্দেশ দেন। এছাড়া শিশু পার্কের ভেতরে অবস্থিত লেক সিটি রেস্টুরেন্টটিকে কমিউনিটি সেন্টার হিসাবে ব্যবহার করে বিয়েসহ কোন ধরণের সামাজিক অনুষ্ঠান করা যাবে না বলে ঘোষণা করেন।

তিনি শিশু পার্কের ভেতরে অব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীন চলাচল পথে ভাঙ্গা ও যত্রতত্র ভাবে ময়লা আবর্জনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সেখানে স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ রক্ষায় সৌন্দর্য্যবন্ধন ও পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে পার্ক বন্ধ রেখে বেলা দু’টার পর পার্ক খোলা এবং পার্কের আশেপাশে গড়ে উঠা অবৈধ দোকান-পাঠ ও স্থাপনা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। অন্যথায় ইজারা বাতিল করা হবে বলে সর্তক করে দেন। তিনি পার্কটিকে নান্দনিক ছোঁয়ায় শিশুদের মনন বিকাশের উপযোগী করে গড়ার নির্দেশনা দেন।

তাছাড়া দক্ষিণ পাহাড়তলী জোড় ঢেবা পাড় সংলগ্ন চারপাশ এলাকা দখলদার মুক্ত ও মাদক কেনা-বেচার আখড়া উচ্ছেদ করে সেখানে নান্দনিক বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান চসিক প্রশাসক।

এই জোড় ঢেবায় চাষ করা মাছের জন্য ক্যামিক্যাল যুক্ত কোন খাবার না দিতে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানকে সর্তক করে দিয়ে বলেন, এতে জোড়া ঢেবার পানি দূষনের আশংখা দেখা দেয়।

তিনি দক্ষিণ পাহাড়াতলীবাসীকে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বলেন, আমাদের সন্তানরা যাতে বিপথগামী না হয় সেজন্য অভিভাবকদের সর্তক হতে হবে এবং করোনাকালে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধাচারী জীবনাচারণ হবে সংকট থেকে পরিত্রানের একমাত্র পথ।

চসিক প্রশাসক সেখানে উপস্থিত ছেলেমেয়েদের মাঝে চকলেট বিতরণ করেন। এরপর তিনি দেওয়ানহাট থেকে সাগরিকা পর্যন্ত ডিটি রোডের খানা-খন্দ ভরাট সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন।

এ সময় প্রকৌশলীবৃন্দ চসিক প্রশাসককে অবগত করেন যে বৃষ্টি বাঁধ না সাধলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সড়কটি ৪ ইঞ্চি ঢালাইয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

তিনি প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারবৃন্দকে কাজের গুণগত মান যাচাইয়ের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় তিনি বলেন এ সড়কটিও চট্টগ্রামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বন্দর নগরীর আভ্যন্তরীন যোগাযাগসহ সারা বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সড়কের দু’পাশের অবৈধ স্থাপনা, বিশেষ করে রড-সিমেন্ট, ফার্নিচার-ওয়ার্কসপসহ নানাবিধ দোকানপাটের সামগ্রী দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে এসব স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

তিনি উপস্থিত এলাকাবাসীকে সড়কের নির্মাণকাজের তদারকি করারও আহবান জানান।

এরপর চসিক প্রশাসক সাগরিকা থেকে একেখান মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুপাশের ফুটপাত অবৈধ দখল থাকতে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি দখলদারদের এসব ফুটপাতের দখল আজকের মধ্যেই স্বউদ্যোগে ছেড়ে দেওয়ার আহবান জানান। নচেৎ আগামীকাল সিটি কর্পোরেশন পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় এসব অবৈধ দোকান এবং স্থাপনা উচ্ছেদ করবেন বলে ঘোষণা করেন।

এ সময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব মো. আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, ঝুলন কান্তি দাশ, আনোয়ার হোসেন, আবু ছালেহ, মনিরুল হুদা, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, বিপ্লব দাশ, এস্টেট অফিসার কামরুল ইসলাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 5:08 pm
ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডিসি জাহিদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাবে জেলা প্রশাসন। আগামী শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

আজ সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও ইউনিসেফের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি, ঢাকার পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রাণঘাতী রোগ। এর বিস্তার ঠেকাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ২৫ জুলাই থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি শনিবার জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। সরকারি কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ ও ছাদ, পুকুর, জলাশয়সহ ডেঙ্গুর ঝুঁকি রয়েছে—এমন স্থানগুলো এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে।

এর ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ একযোগে পরিষ্কার করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য নয়; পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার একটি সামাজিক আন্দোলন। পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।’

মসজিদ ও এর আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ যেন মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নির্মল প্রার্থনার স্থান হয়। সবার সামর্থ্য এক নয়, কিন্তু এ কাজে আন্তরিকতার ঘাটতি থাকা উচিত নয়।’

সমাজে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষক ও ইমামদের মানুষ সম্মানের জায়গায় রাখেন। মানুষের ওপর তাঁদের প্রভাবও রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

ইমাম-খতিবদের ধর্মীয় আলোচনায় সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক, সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতির মতো বিষয় নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। ধর্মীয় নেতাদের আচরণ ও বক্তব্য এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে মানুষ তাঁদের অনুসরণ করে এবং রোল মডেল হিসেবে দেখতে পারে।

নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য কেমন সমাজ রেখে যাওয়া হচ্ছে, তা সবাইকে ভাবতে হবে। সন্তানদের মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং বাবা-মা ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজের।

তিনি বলেন, ‘শুধু অন্যকে দোষ দিয়ে সমাজের পরিবর্তন হবে না। আমি নিজে সমাজের জন্য কী করছি, সেটিও ভাবতে হবে। নিজের দায়িত্ব উপলব্ধি না করলে বড় বড় কথা বলেও বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।’

সময়ের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, অর্থ দিয়ে অনেক কিছু কেনা গেলেও সময় কেনা যায় না। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের সময় ও সামর্থ্য সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানো।

দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণ উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষকে মূল্যবোধসম্পন্ন, মানবিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার। তিনি বলেন, ‘এই দেশটা আমাদের। আমাদেরকেই সাজাতে হবে।’

কর্মশালায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির কর্মকর্তা, ইউনিসেফের প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন।

গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 4:46 pm
গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট

চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকার গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে মার্কেটটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অপারেটর জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ধারণা, মার্কেটের ভেতরে কয়েকজন মানুষ আটকা পড়েছেন। অনেকে সিঁড়ি দিয়ে মার্কেটের ছাদে উঠে নিরাপদে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।

বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 4:42 pm
বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বার্ষিক বৈঠকে আলোচনা হবে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী বৈঠকে তিনটি ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্র বলছে, দুই দেশ সম্মত হলে আগামী মাস থেকেই বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় ট্রেনগুলোর চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই বৈঠকে রাজশাহী থেকে কলকাতা রুটে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাবও দেবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার আগ্রহের কথা জানাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের এ বৈঠকটি আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (ইন্টার-গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং— আইজিআরএম) নামে পরিচিত। এবার ঢাকার রেলভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলো ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েরও আগ্রহ রয়েছে। তবে ট্রেন তিনটির চলাচল শুরুর ক্ষেত্রে শুধু দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের সম্মতি যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের মতামত প্রয়োজন হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে এসব মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

তবে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যায় থেকেই আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আইজিআরএম বৈঠকটি প্রতিবছর বাংলাদেশ ও ভারতে পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত বছরের ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ভারতের নয়াদিল্লিতে। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর এবার ঢাকায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়ে। ১৬ জুলাই মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল স্থগিত করা হয়। পরে ১৯ জুলাই থেকে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী— তিনটি ট্রেনের চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোর চলাচল আর স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আইজিআরএম বৈঠকের মাধ্যমে ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হতে যাচ্ছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস বর্তমানে ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচল করে। বন্ধন এক্সপ্রেসের রুট খুলনা-কলকাতা এবং মিতালী এক্সপ্রেস ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি। এসব ট্রেন পুনরায় চালুর পাশাপাশি রাজশাহী-কলকাতা রুটে নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।