খুঁজুন
, ,

খাগড়াছড়ির পর্যটন: সুদিন আসবে সরকারি উদ্যোগে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 13 September, 2020, 9:05 pm
খাগড়াছড়ির পর্যটন: সুদিন আসবে সরকারি উদ্যোগে

প্রদীপ চৌধুরী : একসময় পার্বত্য তিন জেলার পর্যটন বলতে প্রথমত রাঙামাটি, তারপর বান্দরবান জেলাকেই সমতলের মানুষ চিনতো। পর্যটন শব্দটির সাথে খাগড়াছড়ির সাধারণ মানুষের পরিচিতি কিছুটা দেরিতে ঘটলেও গত এক দশকে তা ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুততার সাথে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথেও জড়িয়ে গেছে দিনখাওয়া অনেক নারী-পুরুষের জীবিকার চক্র।

খাগড়াছড়িতে এখন পর্যটন-পর্যটক শব্দযুগল মিশে গেছে আবাসিক-অনাবাসিক হোটেল, পরিবহন খাত, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাক-সবজি, ফলমূল, গবাদিপশু ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সাথে। এই বহুমুখী ব্যবসা সম্প্রসারণের নেপথ্যে সবচেয়ে বড়ো অনুঘটকের কাজ করেছে সমতলের ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা।

অর্থনৈতিক বিস্তৃতির দীর্ঘমেয়াদী এই যাত্রার আধার হিশেবে প্রধান ভূমিকা রেখেছে প্রতিবেশী রাঙামাটি জেলার অনন্য পর্যটনস্পট বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক উপত্যাকা।

সরকারের সদিচ্ছায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের দীর্ঘ শ্রম আর ঘামে দীঘিনালা-বাঘাইহাট-গঙ্গারাম-মাচলঙ হয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটারের এই পাহাড়ি সড়ক যুক্ত করেছে প্রাকৃতিক পর্যটনের সদূরপ্রসারী এক সেতু। যেই সেতুর বদৌলতে প্রতিবছর শত কোটি টাকার ব্যবসা অব্যাহত গতিতে এগিয়ে চলছে।

দীঘিনালা টু সাজেক সড়ক নির্মাণ এবং সাজেক ঘিরে একটি নান্দনিক পর্যটন স্পটের স্বপ্নময় উন্নয়নের জন্য ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’ পুরো দেশবাসীর পক্ষ থেকে মনখোলা ধন্যবাদ পাচ্ছে প্রতিদিন। আমি ব্যক্তিগতভাবেও মনে করি, এই ধরনের আরো আরো ‘রোড কানেক্টিভিটি’ গড়ে তোলা হলে তিন পার্বত্য জেলার পর্যটন নবদিগন্তের সূচনা করবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশের জন্য চলমান পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন উদ্যোগের অংশ হিশেবে খাগড়াছড়ি জেলার পর্যটন বিকাশে করণীয় শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মাহাবুব আলী এমপি, সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস মহোদয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব, পর্যটন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও খাগড়াছড়ির বিশিষ্টজনরা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অংশ নেন।

সভায় স্বাগতিক বক্তব্যে খাগড়াছড়ি জেলার পর্যটন বিকাশে অত্যন্ত চমৎকার ও ফলপ্রসূ আলোচনা তুলে ধরেছেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস। পর্যটন বোর্ডের পক্ষ থেকে পাওয়ার প্রেজেন্টশনেও এই জেলার পর্যটন সম্ভাবনার নানাদিক তুলে ধরা হয়েছে। সেই আলোচনায় অন্য অনেকের মতো আমিও একজন শ্রোতা ও দর্শক হিশেবে অংশ নিতে পেরেছি। খুব আশাবাদী হয়েছি, সরকার দীর্ঘ মেয়াদে এই প্রথমবারের মতো তিন পার্বত্য জেলার পর্যটনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের অনুসন্ধান ও গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত এই উদ্যোগে তিন জেলার সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের মতামত প্রতিফলনের মাধ্যমেই সরকার তিন পার্বত্য জেলায় স্থায়িত্বশীল পর্যটন শিল্প বির্নিমাণে আগ্রহের প্রত্যয় প্রকাশ করেছেন সভাটির প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী মাহাবুব আলী এমপি।

গত পাঁচ/ছয় বছর ধরে খাগড়াছড়িতে যে কজন জেলা প্রশাসক দায়িত্ব পালন করেছেন; তাঁরা প্রত্যেকেই এ জেলার পর্যটন বিকাশে যথাসাধ্য ভূমিকা রেখেছেন। তবে বেশিরভাগ উদ্যোগ অপরিকল্পিত ও দূরদর্শী না হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল মেলেনি।

জেলাশহরের কাছের দর্শকপ্রিয় পর্যটনস্পট ‘আলুটিলা’ ও ‘রিছাং ঝর্না’ এলাকার বিপুল পরিমাণ সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত টিলাভূমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠি দখলে নিলেও প্রশাসন সাহসী কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

আমরা আশা করবো, সরকারের গৃহীত মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে জেলার পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকায় বেদখলকৃত সরকারি খাস ও অশ্রেণীভুক্ত বনাঞ্চল দখলমুক্ত করে পর্যটন এলাকার পরিধি ও পরিসর বাড়ানো হবে। এই ক্ষেত্রে সরকার রাজনৈতিক নেতা-জনপ্রতিনিধি-মিডিয়া ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে পারেন।

অতি সম্প্রতি খাগড়াছড়ি জেলার বর্তমান জেলা প্রশাসক মানিকছড়িতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা ১’শ ৪০ একর পাহাড়ি টিলাভূমি মুক্ত করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছেন। সেক্ষেত্রে যদি সরকারি দলের স্থানীয় নেতারা উদার মানসিকতায় এগিয়ে আসেন তাহলে জেলার পর্যটন বিকাশের পথ দ্রুত প্রশস্ত হবে এবং জেলাবাসীর জীবন জীবিকার গতি বাড়বে।

এবার আসা যাক, পর্যটন বিকাশের গতির সাথে পরিবেশ-প্রকৃতির সম্মতি কেমন হবে; সে প্রসঙ্গে।

মো: রাশেদুল ইসলাম খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক থাকাকালে আলুটিলা এলাকার উন্নয়নে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেন। কিন্তু প্রবেশপথের বয়সী বটবৃক্ষকে টাইলস বন্দী করে তিনি সমালোচিত হয়েছিলেন। যেমন খাগড়াছড়ি শহরে অতি উন্নয়নের অজুহাতে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে পুকুর-জলাশয় সব ভরাট হয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনমতের প্রতিফলন ঘটছে না। ফলে শহরটি যেনো বৃক্ষবৈরী হয়ে উঠছে। কোথাও খোলামাঠ-উদ্যান রাখার বালাই নেই। জেলাশহরের খুব নিকটে কৃষি প্রকল্পের পরিত্যক্ত একটি বিশালাকার জায়গা ঘিরে পার্বত্য জেলা পরিষদ একটি পার্ক বির্নিমাণ করলেও সেটি এখন টাকা হাতিয়ে নেয়ার মোক্ষম এক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে অবকাঠামোর ভাঙ্গাগড়ার মাধ্যমে সরকারি অর্থ লোপাটের দিকে বেশি মনোযোগী হবার কারণে প্রবেশপথের শ্রীহীন সড়ক প্রতিদিন কর্তৃপক্ষকে যেনো ধিক্কার দিচ্ছে।

রিছাং ঝরনার প্রবেশ পথের করুণ দশাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় এই জেলার উন্নয়ন ভাবনা ও দর্শন, কতোটা একচোখা। অথচ, যেখানে-সেখানে, নিজেদের স্বার্থে, বাড়িভিটা রক্ষায় কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে; কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য অতি প্রয়োজনীয় কম বাজেটের উন্নয়ন প্রকল্প বছরের পর বছর অবস্তবায়িত থেকে যাচ্ছে।

প্রদীপ চৌধুরী: সংবাদকর্মী ও নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক।

Feb2
Feb2

মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:59 am
মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

দিল্লির রাজপথে সহিংস রূপ নেওয়া বিক্ষোভের পরদিন শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ও সংগীতশিল্পী।

রাজধানীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের সমর্থনে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর ‘পুলিশের ধরপাকড়ের’ প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন ক্রমেই বেশিসংখ্যক তারকা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।

পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ, যিনি আগে এই বিক্ষোভ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন, মঙ্গলবার তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ইনস্টাগ্রামে এই গায়ক লেখেন, ‘যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।’

‘জনগণের কণ্ঠস্বর’কে ‘ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দিয়ে দিলজিৎ কর্তৃপক্ষকে ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ শোনার’ আহ্বান জানান। কৃষক আন্দোলনের সময় কথা বলে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই গায়ক বলেন, সে সময় তাকে অনেক ভুগতে হয়েছিল এবং ‘এবারও হয়তো আমাকে দেশদ্রোহী বলা হবে।’

অভিনেতা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং তাদের কথা শোনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই দম্পতি লেখেন, ‘আমরা আমাদের দেশের তরুণদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি জানাচ্ছি। তাদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত—উচ্চকণ্ঠে, স্পষ্টভাবে এবং ভয়হীনভাবে। তারাই আমাদের গণতন্ত্রের স্পন্দন এবং আমাদের জাতির ভবিষ্যতের প্রকৃত স্থপতি। আসুন, আমরা তাদের কথা শুনি, সমর্থন দিই এবং ক্ষমতায়ন করি। আমাদের তরুণদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নই সেই ভারত গড়বে, যে ভারতের স্বপ্ন আমরা দেখি।’

এর আগে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হওয়ার আগেই প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-নির্মাতা প্রকাশ রাজ দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন।

এই বিক্ষোভ যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে, সে বিষয়ে জোর দেন শাবানা আজমি। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, সবাই একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য এসেছি। আমাদের দেশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার চর্চা করতেই এই জমায়েত। মহাত্মা গান্ধী আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হয়, আর আমরা সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এখানে এসেছি। কোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টির বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের নেই এবং আমরা এই আশাতেই দৃঢ়ভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’

সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অ্যাকশনের পর বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক তারকা।

অভিনেতা হুমা কুরেশি বলেন, বিক্ষোভের এসব দৃশ্য তার মনে ‘দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে’। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘এমন পাশবিক বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জ’ তাকে ‘গভীরভাবে ব্যথিত করেছে’ বলে জানান তিনি।

চলচ্চিত্র রচয়িতা সুতপা সিকদার লিখেছেন, জবাবদিহি চাইতে আসা বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ছিলেন শিক্ষার্থী, যারা ‘পকেটে মাত্র ২০ টাকা’ আর ‘বুকভরা আশা’ নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এই তরুণেরা কেউ ‘প্রভাবশালী ধনী বাবার আদুরে সন্তান’ নন এবং ‘তাদের বাঁচাতেও কেউ আসেনি’।

সারা জীবন বাসের জন্য, ট্রেনের জন্য, ভর্তির জন্য কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই করে তারা টিকে থেকেছেন, এখানেও তারা সেভাবেই মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সুতপা।

অভিনেতা ও নির্মাতা নন্দিতা দাস জানিয়েছেন, যারা বিশ্বাস করেন মানুষ যখন সমবেত হতে পারে, কথা বলতে পারে, শুনতে ও শোনাতে পারে, তখনই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়—তিনি তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘গঠনমূলক ভিন্নমতই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ভারতের ওপর আমরা বিশ্বাস রাখি, সেই ভারতের জন্য দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করা সবার সঙ্গেই আমি আত্মিকভাবে আছি।’

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে অভিনেতা ভূমি পেডনেকার বলেছেন, সহিংসতা কখনো কোনো সমাধান হতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:31 am
ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ইরানে টানা ১১তম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার লক্ষ্যে দেশটির বিরুদ্ধে টানা একাদশতম দিনের মতো বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক অভিযানকেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহরের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকের আশপাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর ফার্স নিউজকে বলেন, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের নিকটবর্তী এলাকাগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। এটি শহরের নিকটবর্তী একটি সামরিক এলাকায় চালানো হলেও শহরের ভেতরে কোনো হামলা হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। এই মাসে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান বারবার হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার তহবিল প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথের এ ঘোষণার পর তিনি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুব শিগগিরই এবং খুব জোরালোভাবে’ পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে এ অঞ্চলে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।