খুঁজুন
, ,

পেশাদারীত্বে সততার কোন বিকল্প নাই : চসিক প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 20 September, 2020, 5:04 pm
পেশাদারীত্বে সততার কোন বিকল্প নাই : চসিক প্রশাসক

চট্টগ্রাম নগরীকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমার পরিকল্পনার সাথে একাত্ম হয়ে যিনি কাজ করে গেছেন তার কর্মক্ষেত্র যেখানেই হোক আমরা তাকে মনে রাখবো। এ শহরকে তিনি ভালোবেসেছিলেন বলে কর্ম জীবনের এক তৃতিয়াংশ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন এবং দায়িত্ব পালনকালে প্রকৃত পেশাদারিত্বেরও পরিচয় দেখিয়েছেন। তার দক্ষতা, নিষ্ঠা এবং কর্মক্ষেত্রে আন্তরিকতার কারণে আমার সাথেও তার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমি মনে করি তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে সে অবস্থায়ও সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে প্রত্যাশা রাখি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে চসিক প্রশাসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতবিনিময় সভায় প্রশাসক একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিদায়ী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা চসিকের দায়িত্ব পালনকালে যে প্রজ্ঞা, মেধা ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবী রাখে। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর যাবতীয় সমস্যা সমাধান কল্পে যে পরিকল্পনা ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুকৌশলে চসিকের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করেছেন অনুরূপ তা থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পেশাদারীত্বে সততার কোন বিকল্প নাই। বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, দীর্ঘ ৮ বছর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য গৌরবের। আমি আমার কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে সহযোগিতা পেয়েছি তা আমি চিরদিন মনে রাখব। আজকের এই দিনে চসিকের প্রশাসক মহোদয় চসিকে আমার কর্মক্ষেত্রে শেষ দিনে আমার জন্য যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন এজন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি যেখানে কর্মে যুক্ত থাকিনা কেন, চসিক যদি আমার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে আমি অবশ্যই আন্তরিকভাবে সে সহযোগিতা প্রদান করবো।

তিনি আরো বলেন, আমার দায়িত্বপালন কালে আমি কাউকে কোন রকম দুঃখ দিতে চাইনি। তবুও কেউ যদি আমার ব্যবহারে অসন্তুষ্ট বা দুঃখ পেয়ে থাকেন আমি তার জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা জানাচ্ছি। তিনি যেখানে দায়িত্ব পালন করবেন সেখানে সুনাম রক্ষা করার জন্য আন্তরিক থাকবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

চসিকের সচিব মোহাম্মদ আবু সাহেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আন্দরকিল্লাস্থ কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুফিদুল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, রাজস্ব কর্মকর্তা শাহেদা ফাতেমা, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকতা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, উপ সচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু, উপ পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. মোরশেদ আলম চৌধুরী, চসিক সিবিএ’র সভাপতি ফরিদ আহমদ ।

উল্লেখ্য যে, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র আদেশে পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিচালক হিসাবে যোগদান করবেন। অন্যদিকে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন কক্সবাজার শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কাজী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে সাক্ষাত করলেন ইউএস সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের প্রতিনিধি দল।

চসিক প্রশাসকের সাথে ইউএস সেন্টার ফর
ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেন, করোনা মহামারীকালীন সময়ে সরকার গৃহিত কর্মসূচির পাশাপাশি কোভিড-১৯ স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট, মাইকিংসহ চসিক পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চসিক জেনারেল হাসপাতালের মাধ্যমে জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছে। এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও আইসোলেশন সেন্টারের মাধ্যমে যাতে কোভিড আক্রান্ত রোগীরা সঠিক ভাবে চিকিৎসা পায় সে ব্যাপারে মনিটরিং করে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে।

তিনি কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাইকেল ফ্রাইডম্যান এর কাছে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্নক সহযোগিতা কামনা করেন।

ইউএস সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাইকেল ফ্রাইডম্যান করোনা মহামারীকালীন সময়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, চসিক এলাকায় কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জরিপ পরিচালনা, ডকুমেন্টারী তৈরি, চসিক স্বাস্থ্য কর্মীদের কোভিড-১৯ এর স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করলে চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন তাদের ধন্যবাদ জানান।

এ সময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, ইউএস সেন্টার ফর ডিজিস্ট কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাইকেল ফ্রাইডম্যান ও কমিউনিকেশন কনসালটেন্ট রিয়ওতা ইফতেখার উপস্থিত ছিলেন।

আল্লামা শফীর মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে মোনাজাত করছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

আল্লামা শফীর মাগফেরাত কামনায় চসিক প্রশাসকের দোয়া মাহফিল

আল্লামা আহমদ শফীর রুহের মাগফেরাত কামনায় আজ বিকেলে টাইগারপাসস্থ চসিক প্রশাসক দপ্তরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন স্মৃতিচারণ করে বলেন, আল্লামা শফী দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে প্রাচীন ও বৃহত্তম চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে কওমি মাদ্রাসাগুলোর নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশে ইসলামী শিক্ষার বিস্তার ও স্বীকৃতি অর্জনে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাবোর্ড ও হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে আল্লামা শফী বাংলাদেশের রাজনীতি, শিক্ষা ও সমাজ গঠনে যোগ্য নেতৃত্বের আসন অলংকৃত করেছেন। বাধ্যক্য ও অসুস্থতার কারণে কখনো তিনি তাঁর আর্দশ ও মিশন থেকে প্রশ্চাদপ্রসরণ করেননি। জীবন-মৃত্যু সন্ধিক্ষনেও মসনদে হাদিসে বোখারী শরিফে দরস দিয়েছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, নাসিরাবাদ সরকারি কলোনী জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আ ন ম সোলাইমান, হাফেজ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ আব্বাসুর রহমান, হাফেজ মহিবুল্লাহ, হাফেজ মোহাম্মদ বেলাল, হাফেজ মোহাম্মদ হাসান, হাফেজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম, হাফেজ মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন, হাফেজ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, হাফেজ মোহাম্মদ আবদুল মোমিন কাজেমী । মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা মোহাম্মদ হারুন-উর রশিদ চৌধুরী।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

নিলামে পণ্য বিক্রি করে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 8 September, 2026, 9:11 am
নিলামে পণ্য বিক্রি করে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস

অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ বছরে ৫৯৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

এর মধ্যে গত দেড় বছরেই আয় হয়েছে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা নিলাম রাজস্বে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য সরানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্বও বাড়ছে।

কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনার খালি করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় নিলামযোগ্য পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে এবং নিলামের উপযোগী নয়-এমন পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ২৪টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামে ১ হাজার ৮১৪টি লট বিক্রি করে ১১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়।

২০২২ সালে ৪২টি নিলামের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৮১টি লট বিক্রি করে আয় হয় ১৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে ২৩টি নিলামে ৬৩২টি লট বিক্রি করে রাজস্ব আসে ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

২০২৪ সালে ৫৫টি নিলামের মাধ্যমে ৫১১টি লট বিক্রি করে ২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা আয় হয়। ২০২৫ সালে ৬০টি নিলামে ১ হাজার ৪০টি লট বিক্রি করে আয় হয় ১২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৪৫টি অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৩৮৩টি লট বিক্রি করে ১৫৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কে এম করপোরেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম ব্যবস্থাপনা, পণ্যের তালিকা প্রস্তুত (ইনভেন্টরি) এবং নিলামকৃত পণ্য বুঝিয়ে দেওয়ার কাজে তার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নিলামের মাধ্যমে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে, যা এত স্বল্প সময়ে নিলাম থেকে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী খালাস না হওয়া পণ্য অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে নিলামের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিলাম করা পণ্য বিক্রি থেকে রাজস্ব আয়ও বেড়েছে।’

তিনি আরও জানান, নিলামের উপযোগী নয়-এমন পণ্য সরিয়ে বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

ইতালিতে হামলার শিকার অভিনেত্রী বাঁধন, লাইভে যা বললেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 8 September, 2026, 8:34 am
ইতালিতে হামলার শিকার অভিনেত্রী বাঁধন, লাইভে যা বললেন

ইতালিতে বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিক হেনস্তা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন নিজেই এই ঘটনার বিবরণ দেন।

অভিনেত্রী জানান, ইতালির একটি স্থানীয় পার্কে তিনি তার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে একদল ব্যক্তি হুট করে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে কোল্ড ড্রিংকস (কোক) ও ডিম ছুড়ে মারে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তা ছাড়া তার হাত থেকে মোবাইল ফোনও কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়।

বাঁধনের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করে। বাঁধন দাবি করেন, আক্রমণকারীরা তাকে জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। পুরো সময় জুড়ে তার সঙ্গে অত্যন্ত গালমন্দ ও অসংগত আচরণ করা হয়।

ভিডিওবার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাঁধন বলেন, ‘‘আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে এবং আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেয়া হয়েছে। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন ও সহিংস আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত। এভাবে উদ্দেশ্য হাসিল বা নিজেদের অবস্থান ফেরানো সম্ভব নয়।’’

ভিডিওটিতে তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘‘সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেও বর্তমানে ভেনিসে অবস্থান করছেন। আশা করি আপনারা বিষয়টি তার কাছে পৌঁছে দেবেন।’’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একদল লোক নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী বলে দাবি করে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করছে এবং বারবার তার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করা আজমেরী হক বাঁধন বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে রাতব্যাপী অভিযান, সরেজমিনে পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 9:10 pm
চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে রাতব্যাপী অভিযান, সরেজমিনে পরিদর্শন

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ ও পাহাড়ের ঢালে নির্মাণকাজের বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী শফিক আহমেদ এবং পুলিশ ফোর্সের সমন্বয়ে এ পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়।

পরিদর্শনকালে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ‘রুপসী’ নামক পাহাড়, আকবর শাহ থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজার দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০-এ বিদ্যমান পাহাড় এবং উত্তর পাহাড়তলী মৌজার হারবাতলী মা আমেনা মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শনকালে উত্তর পাহাড়তলী মৌজার দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০-এ বিদ্যমান পাহাড়ের ঢালে কিছু দেওয়াল সদ্য নির্মিত অবস্থায় পাওয়া যায়। পাহাড়ের ঢালে এ ধরনের দেওয়াল নির্মাণের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিককে ৭ সেপ্টেম্বর সকালে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে রাতের সরেজমিন পরিদর্শনকালে সেখানে কোনো ব্যক্তিকে পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

এছাড়া আকবর শাহ থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজার হারবাতলী মা আমেনা মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় পরিদর্শনকালে পাহাড় কাটার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পরিদর্শনকালে সেখানে কোনো ব্যক্তিকেও পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ‘রুপসী’ নামক পাহাড় পরিদর্শনকালে কোনো ব্যক্তিকে পাহাড় কাটতে দেখা যায়নি। তবে নির্মাণস্থলের ভূমির শ্রেণি ‘ছনখোলা’ বা ‘নাল’ নাকি পাহাড়—তা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড় ও পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পাহাড় কাটার অভিযোগ বা পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।