খুঁজুন
, ,

পেশাদারীত্বে সততার কোন বিকল্প নাই : চসিক প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 20 September, 2020, 5:04 pm
পেশাদারীত্বে সততার কোন বিকল্প নাই : চসিক প্রশাসক

চট্টগ্রাম নগরীকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমার পরিকল্পনার সাথে একাত্ম হয়ে যিনি কাজ করে গেছেন তার কর্মক্ষেত্র যেখানেই হোক আমরা তাকে মনে রাখবো। এ শহরকে তিনি ভালোবেসেছিলেন বলে কর্ম জীবনের এক তৃতিয়াংশ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন এবং দায়িত্ব পালনকালে প্রকৃত পেশাদারিত্বেরও পরিচয় দেখিয়েছেন। তার দক্ষতা, নিষ্ঠা এবং কর্মক্ষেত্রে আন্তরিকতার কারণে আমার সাথেও তার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমি মনে করি তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে সে অবস্থায়ও সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে প্রত্যাশা রাখি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে চসিক প্রশাসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতবিনিময় সভায় প্রশাসক একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিদায়ী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা চসিকের দায়িত্ব পালনকালে যে প্রজ্ঞা, মেধা ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবী রাখে। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর যাবতীয় সমস্যা সমাধান কল্পে যে পরিকল্পনা ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুকৌশলে চসিকের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করেছেন অনুরূপ তা থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পেশাদারীত্বে সততার কোন বিকল্প নাই। বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, দীর্ঘ ৮ বছর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য গৌরবের। আমি আমার কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে সহযোগিতা পেয়েছি তা আমি চিরদিন মনে রাখব। আজকের এই দিনে চসিকের প্রশাসক মহোদয় চসিকে আমার কর্মক্ষেত্রে শেষ দিনে আমার জন্য যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন এজন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি যেখানে কর্মে যুক্ত থাকিনা কেন, চসিক যদি আমার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে আমি অবশ্যই আন্তরিকভাবে সে সহযোগিতা প্রদান করবো।

তিনি আরো বলেন, আমার দায়িত্বপালন কালে আমি কাউকে কোন রকম দুঃখ দিতে চাইনি। তবুও কেউ যদি আমার ব্যবহারে অসন্তুষ্ট বা দুঃখ পেয়ে থাকেন আমি তার জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা জানাচ্ছি। তিনি যেখানে দায়িত্ব পালন করবেন সেখানে সুনাম রক্ষা করার জন্য আন্তরিক থাকবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

চসিকের সচিব মোহাম্মদ আবু সাহেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আন্দরকিল্লাস্থ কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুফিদুল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, রাজস্ব কর্মকর্তা শাহেদা ফাতেমা, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকতা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, উপ সচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু, উপ পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. মোরশেদ আলম চৌধুরী, চসিক সিবিএ’র সভাপতি ফরিদ আহমদ ।

উল্লেখ্য যে, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র আদেশে পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিচালক হিসাবে যোগদান করবেন। অন্যদিকে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন কক্সবাজার শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কাজী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে সাক্ষাত করলেন ইউএস সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের প্রতিনিধি দল।

চসিক প্রশাসকের সাথে ইউএস সেন্টার ফর
ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেন, করোনা মহামারীকালীন সময়ে সরকার গৃহিত কর্মসূচির পাশাপাশি কোভিড-১৯ স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট, মাইকিংসহ চসিক পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চসিক জেনারেল হাসপাতালের মাধ্যমে জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছে। এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও আইসোলেশন সেন্টারের মাধ্যমে যাতে কোভিড আক্রান্ত রোগীরা সঠিক ভাবে চিকিৎসা পায় সে ব্যাপারে মনিটরিং করে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে।

তিনি কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাইকেল ফ্রাইডম্যান এর কাছে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্নক সহযোগিতা কামনা করেন।

ইউএস সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাইকেল ফ্রাইডম্যান করোনা মহামারীকালীন সময়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, চসিক এলাকায় কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জরিপ পরিচালনা, ডকুমেন্টারী তৈরি, চসিক স্বাস্থ্য কর্মীদের কোভিড-১৯ এর স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করলে চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন তাদের ধন্যবাদ জানান।

এ সময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, ইউএস সেন্টার ফর ডিজিস্ট কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাইকেল ফ্রাইডম্যান ও কমিউনিকেশন কনসালটেন্ট রিয়ওতা ইফতেখার উপস্থিত ছিলেন।

আল্লামা শফীর মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে মোনাজাত করছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

আল্লামা শফীর মাগফেরাত কামনায় চসিক প্রশাসকের দোয়া মাহফিল

আল্লামা আহমদ শফীর রুহের মাগফেরাত কামনায় আজ বিকেলে টাইগারপাসস্থ চসিক প্রশাসক দপ্তরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন স্মৃতিচারণ করে বলেন, আল্লামা শফী দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে প্রাচীন ও বৃহত্তম চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে কওমি মাদ্রাসাগুলোর নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশে ইসলামী শিক্ষার বিস্তার ও স্বীকৃতি অর্জনে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাবোর্ড ও হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে আল্লামা শফী বাংলাদেশের রাজনীতি, শিক্ষা ও সমাজ গঠনে যোগ্য নেতৃত্বের আসন অলংকৃত করেছেন। বাধ্যক্য ও অসুস্থতার কারণে কখনো তিনি তাঁর আর্দশ ও মিশন থেকে প্রশ্চাদপ্রসরণ করেননি। জীবন-মৃত্যু সন্ধিক্ষনেও মসনদে হাদিসে বোখারী শরিফে দরস দিয়েছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, নাসিরাবাদ সরকারি কলোনী জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আ ন ম সোলাইমান, হাফেজ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ আব্বাসুর রহমান, হাফেজ মহিবুল্লাহ, হাফেজ মোহাম্মদ বেলাল, হাফেজ মোহাম্মদ হাসান, হাফেজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম, হাফেজ মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন, হাফেজ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, হাফেজ মোহাম্মদ আবদুল মোমিন কাজেমী । মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা মোহাম্মদ হারুন-উর রশিদ চৌধুরী।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 12:11 am
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পাঠানো এক বিবৃতিতে এটি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর মিন্টু রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত ঘটনার বিষয়ে আলোচনা হয়। দলের সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নং ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

একই সঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অবহেলায় কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না:শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 11:19 pm
অবহেলায় কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না:শামীম

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতাল ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় হাসপাতালটিকে দেশের একটি মডেল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে হাসপাতাল বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট ও জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে হাসপাতালটি আবারও কার্যক্রমে গতি পেয়েছে। এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উন্নত সেবার পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটিকে দেশের অন্যতম মডেল মাতৃসদন হাসপাতালে পরিণত করা হবে। এ জন্য পরিচালনা কমিটি, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, কোনো চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীর অবহেলার কারণে যেন কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি না হয়। মানুষ সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে আসে। তাই রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। একজন নার্সের আন্তরিক সেবাও অনেক সময় রোগীর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মীর দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে শামীম বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় তারা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিরলস কাজ করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একই ধরনের নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে হাসপাতালের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার একটি বড় অর্জন। এর ফলে হাসপাতালের আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির ঘোষণা দিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন তিনি হাসপাতালে এসে চিকিৎসক, কর্মকর্তা এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। হাসপাতালের সমস্যা, প্রয়োজন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাসপাতালকে কীভাবে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করা যায়, সে বিষয়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করা হবে। সবার সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালকে দেশের একটি আদর্শ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।

জেমিসন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ভাইস চেয়ারপার্সন মো.আছিফ চৌধুরী সভাপতিত্বে ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো.জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির জাহাঙ্গীর আলম বাবর, রায়হানুল আনোয়ার রাহী, ডা: তাসলিম চৌধুরী, জেমিসন হাসপাতালের চীফ মেডিকেল অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নাজ সোহানী সুলতানা, নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মর্জিনা আক্তার, ডা. মিছবাহ উদ্দিন ও ইউনিট লেভেল অফিসার জিয়াউল হক জিয়াসহ প্রমুখ

এক কক্ষে মানুষের আর্তনাদ, মানবিক ডিসির গণশুনানিতে ফিরল আশার আলো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 11:02 pm
এক কক্ষে মানুষের আর্তনাদ, মানবিক ডিসির গণশুনানিতে ফিরল আশার আলো

একজন নারী কথা বলতে বলতে বারবার চোখের পানি মুছছিলেন। প্রায় এক বছর আগে ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন তাঁর স্বামী। তিনি জানেন না, স্বামী বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। ঘরে অপেক্ষায় দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান। নিজেও স্ট্রোকে আক্রান্ত। চিকিৎসা ও সন্তানদের খাবারের খরচ জোগাতে তাঁকে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হচ্ছে।

তাঁর কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক যুবক। সাম্প্রতিক বন্যায় তাঁদের কাঁচা বসতঘর ভেঙে গেছে, নষ্ট হয়েছে ফসল। স্ট্রোকে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে অক্ষম বাবা এখন অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আরেক পাশে অপেক্ষা করছিলেন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা এক বিধবা মা। কারও প্রয়োজন কিডনির চিকিৎসা, কারও জরুরি অস্ত্রোপচার। এক কলেজছাত্রী বই ও কলেজ ড্রেস কিনতে না পেরে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কায়; আরেকজনের কাছে দিনাজপুরে ফিরে যাওয়ার গাড়িভাড়াটুকুও নেই।

জীবনের এমন ভিন্ন ভিন্ন সংকট নিয়ে বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়েছিলেন অসহায় মানুষেরা। তাঁদের কথা ধৈর্য ও মনোযোগের সঙ্গে শোনেন মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১৮ জন সেবাপ্রত্যাশী তাঁদের আবেদন, অভাব-অনটন ও অভিযোগ তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক প্রতিটি বিষয় শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। কয়েকটি আবেদন ও অভিযোগের বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে ফলাফল আবেদনকারীদের জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।

গণশুনানিতে সাতজন অসহায় ব্যক্তি ও একজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২১ জনকে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়াগুঁড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়।

মোসাম্মৎ মাইনা খাতুনের স্বামী আজাদ ট্রলারে মাছ ধরার কাজ করতেন। প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিখোঁজ। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর দুই ছোট সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন মাইনা। নিজেও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই তাঁর।

জেলা প্রশাসকের কাছে তিনি সন্তানদের খাবার, ভরণ-পোষণ ও নিজের চিকিৎসার জন্য সহায়তার পাশাপাশি নিখোঁজ স্বামীর সন্ধানে প্রশাসনিক সহযোগিতা চান। তাঁর দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক আর্থিক সহায়তা দেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বাঁশখালীর ইলশা গ্রামের রেয়াজুল জান্নাত রাহাতের বাড়িতে সাম্প্রতিক বন্যায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট পানি ওঠে। এতে তাঁদের কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত এবং ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়।

রাহাতের বাবা রেয়াজ আহামদ দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে অক্ষম। ঘর হারিয়ে পরিবারটি অস্থায়ীভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাবার জন্য বসতঘর নির্মাণ ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সহায়তার আবেদন করেন রাহাত। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসনের বিষয়টি দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বোয়ালখালীর পশ্চিম শাকপুরার মো. শাহাজাহান কিডনি জটিলতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ একাধিক রোগে ভুগছেন। নিয়মিত চিকিৎসা, পরীক্ষা ও ওষুধের খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় তাঁর আবেদন মানবিক বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

বাঁশখালীর মিনজিরিতলার মিফতাহুল জান্নাত রিয়া সরকারি সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। তাঁর এক ভাই ফাজিল প্রথম বর্ষে এবং এক বোন দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

২০১৬ সালের ১৯ জুলাই বাবার মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। বসতভিটার চার শতক জমি ছাড়া তাঁদের কোনো স্থায়ী সম্পদ বা আয়ের উৎস নেই। সাম্প্রতিক বন্যায় ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থের অভাবে বই, কলেজ ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ কিনতে না পারায় রিয়ার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। জেলা প্রশাসক তাঁকে বিশেষ আর্থিক অনুদান দেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আরএম শাখার অফিস সহায়ক নিলুফার ইয়াসমিন কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন কন্যা ও এক পুত্রের দায়িত্ব তাঁর ওপর।

তিনি চট্টগ্রামের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. বাসকর চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। নিয়মিত কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও ব্যয়বহুল ওষুধের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় গিয়ে পিইটি স্ক্যান করাতে হবে। চিকিৎসা সম্পন্ন করতে আরও প্রায় তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। তাঁর আবেদন বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক আর্থিক সহায়তা দেন।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ মোহাম্মদ আবু কাউছারের ডান পায়ের গোড়ালির হাড় সড়ক দুর্ঘটনায় ভেঙে যায়। চিকিৎসায় সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়ে গেছে। জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছিল না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মো. শফিকুল ইসলাম জীবিকার সন্ধানে চট্টগ্রামে এসে কোনো কাজ পাননি। একপর্যায়ে তাঁর কাছে দৈনন্দিন খরচ কিংবা বাড়ি ফেরার অর্থও ছিল না। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে তাঁকে দিনাজপুরে ফেরার প্রয়োজনীয় গাড়িভাড়া দেওয়া হয়।

একই দিন জেলা প্রশাসক প্রবাসীদের অভিযোগ নিয়ে অনলাইন গণশুনানিও করেন। এতে এক প্রবাসী পারিবারিক জমিজমার বিরোধ ও সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ তুলে ধরেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি এখন শুধু আবেদন গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নেই। সমস্যা সরাসরি শোনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া এবং সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এটি অসহায় মানুষের নির্ভরতার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

কেউ ফিরেছেন চিকিৎসার অর্থ নিয়ে, কেউ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সাহস নিয়ে, কেউ ঘর পুনর্নির্মাণের আশা নিয়ে, আবার কেউ বাড়ি ফেরার ভাড়া হাতে নিয়ে। সহায়তার অঙ্ক হয়তো তাঁদের সব সংকট দূর করবে না; তবে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ তাঁদের মনে এই বিশ্বাস ফিরিয়েছে—রাষ্ট্রের দরজা এখনো তাঁদের জন্য খোলা।