ধর্ষনসহ নারীর প্রতি সহিংসতা রুখতে ঝালকাঠিতে দুই দিনের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ
শুরুতে এগিয়ে গেলেও প্রথমার্ধে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে আসা কেপ ভার্দে। কিন্তু এরপরও দমে যায়নি তারা। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথমবার মেলে ধরা আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে দেখাল লড়াকু ফুটবলের আসল রূপ। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের পর এবার ফুটবল পরাশক্তি উরুগুয়েকেও আটকে দিল তারা। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এইচ’র রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই জমে উঠেছিল লড়াই। ২১ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে কেভিন পিনার নেওয়া ফ্রি-কিক উরুগুয়ের জাল কাঁপালে রূপকথার শুরু হয় কেপ ভার্দের। দেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ গোলের দেখা পায় তারা।
তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে (৪৪ মিনিটে) ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো এবং যোগ করা সময়ে (৪৫+৫ মিনিটে) আগুস্তিন কানোপিওর ব্যাক-টু-ব্যাক গোলে ২-১ ব্যবধানে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ে।
বিরতি থেকে ফিরে লিড ধরে রাখতে মরিয়া উরুগুয়ে আক্রমণাত্মক ধার বজায় রাখলেও কেপ ভার্দের জমাট রক্ষণভাগ আর ফাটল ধরতে দেয়নি। উল্টো ম্যাচের ৬১তম মিনিটে হেলিও ভারেলার করা গোল স্তব্ধ করে দেন লা সেলেস্তেদের। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ২-২ সমতা ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে দুদল।
প্রথম ম্যাচে ফেভারিট স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দেওয়ার পর উরুগুয়ের বিপক্ষে এই ড্র কেপ ভার্দেকে নকআউট পর্বের রেসে টিকিয়ে রাখল। অন্যদিকে, সৌদি আরবের পর কেপ ভার্দের সাথেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় গ্রুপ পর্বে টিকে থাকার সমীকরণ কঠিন হয়ে উঠল উরুগুয়ের জন্য।
এই ড্রয়ের পর দুদলেরই পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় দুই নম্বরে অবস্থান করছে উরুগুয়ে, তিনে কেপ ভার্দে। এদিকে সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান স্পেনের। আর তলানিতে আছে সৌদি আরব।
শক্তিশালী বেলজিয়ামকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’র টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে ইরান। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ১০ জনের বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটি ০-০ ব্যবধানে শেষ হওয়ায় দুই দলই মূল্যবান ১ পয়েন্ট করে ভাগ করে নিয়েছে। ২ ম্যাচ শেষে ২ পয়েন্ট এবং বেশি গোল করার সুবাদে বেলজিয়ামকে দুই নম্বরে নামিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থানটি দখল করেছে ইরান।
মাঠের শক্তিতে বেলজিয়াম যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ফুটবলবিশ্ব দেখল এক চরম নাটকীয় ম্যাচ। প্রথমার্ধে ইরানের গোল বাতিল আর দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়ামের লাল কার্ডের ধাক্কা- সব মিলিয়ে ম্যাচটি ছিল উত্তেজনায় ঠাসা।
ম্যাচের প্রথমার্ধের ২৫ মিনিটে প্রথম নাটকীয়তার জন্ম হয়। বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়িয়ে উদযাপনে মেতে উঠেছিলেন ইরানি ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির নিখুঁত অফসাইড কলে কপাল পোড়ে ইরানের। অল্পের জন্য অফসাইড হওয়ায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
১-০ লিড পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ভাগ্য ইরানের দিকে আরও হেলে পড়ে বেলজিয়াম শিবিরে লাল কার্ডের আঘাতে। ম্যাচের ৭০তম মিনিটে ইরানের একটি বিপজ্জনক কাউন্টার অ্যাটাক রুখতে গিয়ে ফাউল করে বসেন বেলজিয়ান ডিফেন্ডার। এর আগেই হলুদ কার্ড থাকায় রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন।
১০ জনের বেলজিয়ামকে পেয়ে শেষ ২০ মিনিট আক্রমণের ধার বাড়ায় ইরান। তবে বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দারুণ কিছু সেভের কারণে ডেডলক ভাঙা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুই ম্যাচ শেষে ২ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটের দৌড়ে বেলজিয়ামের সমানতালেই টিকে রইল লড়াকু ইরান।
প্রথম ম্যাচে পুঁচকে ক্যাপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের হতাশা ভুলে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজ রূপে ফিরল স্পেন। গ্রুপ ‘এইচ’তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সৌদি আরবের রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে ৪-০ ব্যবধানে হারাল স্প্যানিশরা। তাতেই পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে তারা।
প্রথম ম্যাচে নবাগত ক্যাপ ভার্দের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ২ পয়েন্ট হারিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। আজ যেন সেই ক্ষোভটাই সৌদি আরবের ওপর উগরে দিল তারা। ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা টিকিটাকা আর আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে ২০১০ সালের বিশ্ব বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। হামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে আজ শুরুর একাদশে ফিরেই স্পেনের আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেন তরুণ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল।
ম্যাচের দশম মিনিটে মিকেল ওয়ারজাবালের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে স্পেনকে প্রথম লিড এনে দেন ইয়ামাল। প্রথম গোলের ধাক্কা সৌদি আরব সামলে ওঠার আগেই শুরু হয় ওয়ারজাবাল ঝড়। ম্যাচের ২১ এবং ২৪ মিনিটে মাত্র ৩ মিনিটের ব্যবধানে পর পর দুটি চোখধাঁধানো গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন রিয়াল সোসিয়েদাদের এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের পকেটে পুরে নেয় স্পেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে (৪৯ মিনিটে) স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার জোরালো শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন সৌদি ডিফেন্ডার হাসান আল-তামবাক্তি। এই আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।
এরপর বেশ কিছুক্ষণ নিজেদের জাল অক্ষত রাখে সৌদি আরব। তবে যোগ করা সময়ে আর একটি গোল করেছিল স্পেন। কিন্তু ভিএআরের মাধ্যমে সেই গোলটি বাতি করেন রেফারি। ফলে ৪-০ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশরা।
২ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের এক নম্বরে অবস্থান স্পেনের। গ্রুপের অন্য তিন দলের পয়েন্ট সমান ১।
আপনার মতামত লিখুন