খুঁজুন
, ,

মাজার এবং কবরস্থানকে সংরক্ষণ করে রাস্তা সম্প্রসারন করা হবে: সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 17 October, 2020, 6:21 pm
মাজার এবং কবরস্থানকে সংরক্ষণ করে রাস্তা সম্প্রসারন করা হবে: সুজন

বাংলাদেশের লাইফ লাইন খ্যাত পোর্ট কানেকটিং রোডের সম্প্রসারণ করতে গিয়ে মাজার স্থানান্তর বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও বিজ্ঞ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি আজ সকাল ১০টায় সংশ্লিষ্ট মাজার এবং তৎসংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন এর সাথে তাঁর বাসভবনে মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময়ে প্রশাসক বলেন, পোর্ট কানেকটিং সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। বাংলাদেশের লাইফ লাইন খ্যাত এ সড়কটি বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেহেতু এ সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাই এ সড়কটির সংস্কার কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার জন্যই প্রথম দিন থেকেই আমি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে আসছি।

আপনারা জানেন, সড়কটি সম্প্রসারিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি সাধন হবে এবং সহজেই এ সড়ক ব্যবহার করে চট্টগ্রাম থেকে দেশের অন্যান্য জেলায় মালামাল পরিবহন করা যাবে। চসিক এবং বিজ্ঞ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ একমত পোষণ করেন যে, মাজার এবং কবরস্থানকে সংরক্ষণ করে উক্ত রাস্তাটি সম্প্রসারন করা হবে। এছাড়া বর্ণিত মাজার সংরক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যা যা করা প্রয়োজন তাই করা হবে। এজন্য চসিক প্রশাসক স্থানীয় মুসল্লীসহ সর্বস্তরের নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দও পোর্ট কানেকটিং সড়কের গুরুত্ব বিবেচনা করে বলেন, তাঁর চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে নিতে তাদের পক্ষ থেকেও সর্বাত্নক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। নেতৃবৃন্দ চসিক প্রশাসকের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং সমৃদ্ধি কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া মোনাজাত কামনা করেন।

এ সময় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে কাজী মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ, গোলাম মোস্তফা মোহাম্মদ নুরন নবী আলকাদেরী, এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার, আলহাজ্ব স.উ.ম আবদুস সামাদ, মাওলানা করিম উদ্দিন নূরী, মাওলানা কামাল পাশা, আব্দুন নবী আলকাদেরী, হাফেজ আবদুর রহমান, চসিক এর পক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মো. তৈয়ব ও মাওলানা মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

রিয়াজ উদ্দিন বাজার আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতি নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

রিয়াজ উদ্দিন বাজার আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতি ও চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভায় চসিক প্রশাসক

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় রিয়াজউদ্দিন বাজার ও এর আশপাশ এলাকাকে আবর্জনামুক্ত এলাকায় পরিণত করা হবে। এ বাজার একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। এই বাজারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গেলে বাজারসহ এলাকাকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তাহলে বাজারসহ এলাকার চিত্র পাল্টে যাবে।

তিনি আজ বিকেলে চৈতন্য গলি রিয়াজউদ্দিন বাজার আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে আড়তদার ব্যবসায়ীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বাজারের নিত্যদিনের আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট ব্যাগে রাখতে হবে। এজন্য চসিকের পক্ষ থেকে প্রত্যেক দোকানদার ও আড়তদারদের ৪টি করে ব্যাগ দেয়া হচ্ছে। আপনারা এ ব্যাগে সমস্ত ময়লা-আবর্জনা রাখবেন, নির্দিষ্ট সময়ে কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্ন সেবকরা এসে ময়লা ভর্তি ব্যাগ সংগ্রহ করে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, কোন ধরনের আবর্জনা রিয়াজউদ্দিন বাজারের অভ্যন্তরে বা বাহিরে কেউ ফেলতে পারবে না। দোকানদার ও ব্যবসায়ী সমাজ আন্তরিক হলে নগরীর আপামর জনগন উপকৃত হবে। তিনি রিয়াজউদ্দিন বাজারকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে মডেল বাজার হিসেবে রূপান্তরিত করে এর সুনাম সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানান। সমিতির দাবী-দাওয়া অনুযায়ী এলাবাসীর চলাফেরা সুবিধার্থে চৈতন্য গলি ও রিয়াজউদ্দিন বাজার গলির রাস্তাগুলো সংস্কারের এবং একই সাথে পর্যাপ্ত লাইটিং এর ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। তিনি পাবলিক টয়লেটসহ অন্যান্য যেসব দাবী-দাওয়া সমিতির পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে তা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

সমিতির সভাপতি মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজনীতিক জামশেদুল আলম চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর সলিম উল্লাহ বাচ্চু, কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সালাম মাসুম, সংরক্ষিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিলু নাগ। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, মো. ইদ্রিস, চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কান্তি দাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মধ্যে মো. ফারুক শিবলী, রাজু আহমেদ, আজগর হোসেন, আব্বাস হোসেন, সাইফুল আলম, আবু তৈয়ব আবু।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়:

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন ফল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ফল হচ্ছে আল্লাহতায়ালার শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। পৃথিবীতে অনেক ব্যবসা রয়েছে তৎমধ্যে ফল ব্যবসা হচ্ছে অন্যতম ব্যবসা। এই নিয়ামতের ব্যবসায় কোন রকম ভেজাল বা ফরমালিন মেশানো হলে তার জন্য আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমার অনুরোধ আপনারা কেউই ফলের মধ্যে ভেজাল কিছু মেশাবেন না। হালাল রোজগারে বরকত বেশি। তিনি আজ বিকেলে ষ্টেশন রোডস্থ চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

তিনি ফলমন্ডির ব্যবসায়ীদের প্রশংসা করে বলেন, আপনারা দোকানের ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে ফলমন্ডিকে পরিস্কার-পরিচ্ছন রেখেছেন। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, রিয়াজউদ্দিন বাজারে প্রত্যেক দোকানদারকে ৪টি করে ব্যাগ প্রদান করেছি অনুরূপ ভাবে আপনাদের প্রত্যেক দোকানদারকেও এ ব্যাগ দিয়ে যাচ্ছি। আপনারা এ ব্যাগে ময়লা-আবর্জনা গুলো রাখবেন আমাদের সেবকরা এসে তা সংগ্রহ করে আপনাদের ব্যাগ ফিরেয়ে দেবে। কোন অবস্থায় খোলা জায়গায় ময়লা ফেলা যাবে না। এর ব্যতিক্রম হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং ভ্রাম্যমান আদালতের মধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপনাদের সহযোগিতা পেলে এ বাজারকেও মডেল বাজারে রূপান্তরিত করবো যাতে সারা বাংলাদেশে এ বাজারের সুনাম আরো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি হয়। যে সকল ব্যবসায়ী এখনো পর্যন্ত নতুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেননি এবং লাইসেন্স নবায়ন করেননি তাদের দ্রুত ট্রেড লাইসেন্স করার অনুরোধ জানান প্রশাসক।

ফলমন্ডি ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আবদুল মালেক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সালাম মাসুম, সংরক্ষিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিলু নাগ, সমিতির সহ সভাপতি হাজী আবদুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক হাজী আলমগীর। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, হাজী জাগির হোসেন, মো. আলমগীর, মো. মিজানুর রহমান, হাজী তোকর আলী, হাজী আবদুল নুর বাবুল ও মোহাম্মদ ইয়াছিন।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2
Feb2

নিলামে পণ্য বিক্রি করে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 8 September, 2026, 9:11 am
নিলামে পণ্য বিক্রি করে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস

অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ বছরে ৫৯৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

এর মধ্যে গত দেড় বছরেই আয় হয়েছে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা নিলাম রাজস্বে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য সরানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্বও বাড়ছে।

কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনার খালি করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় নিলামযোগ্য পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে এবং নিলামের উপযোগী নয়-এমন পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ২৪টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামে ১ হাজার ৮১৪টি লট বিক্রি করে ১১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়।

২০২২ সালে ৪২টি নিলামের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৮১টি লট বিক্রি করে আয় হয় ১৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে ২৩টি নিলামে ৬৩২টি লট বিক্রি করে রাজস্ব আসে ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

২০২৪ সালে ৫৫টি নিলামের মাধ্যমে ৫১১টি লট বিক্রি করে ২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা আয় হয়। ২০২৫ সালে ৬০টি নিলামে ১ হাজার ৪০টি লট বিক্রি করে আয় হয় ১২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৪৫টি অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৩৮৩টি লট বিক্রি করে ১৫৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কে এম করপোরেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম ব্যবস্থাপনা, পণ্যের তালিকা প্রস্তুত (ইনভেন্টরি) এবং নিলামকৃত পণ্য বুঝিয়ে দেওয়ার কাজে তার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নিলামের মাধ্যমে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে, যা এত স্বল্প সময়ে নিলাম থেকে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী খালাস না হওয়া পণ্য অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে নিলামের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিলাম করা পণ্য বিক্রি থেকে রাজস্ব আয়ও বেড়েছে।’

তিনি আরও জানান, নিলামের উপযোগী নয়-এমন পণ্য সরিয়ে বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

ইতালিতে হামলার শিকার অভিনেত্রী বাঁধন, লাইভে যা বললেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 8 September, 2026, 8:34 am
ইতালিতে হামলার শিকার অভিনেত্রী বাঁধন, লাইভে যা বললেন

ইতালিতে বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিক হেনস্তা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন নিজেই এই ঘটনার বিবরণ দেন।

অভিনেত্রী জানান, ইতালির একটি স্থানীয় পার্কে তিনি তার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে একদল ব্যক্তি হুট করে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে কোল্ড ড্রিংকস (কোক) ও ডিম ছুড়ে মারে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তা ছাড়া তার হাত থেকে মোবাইল ফোনও কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়।

বাঁধনের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করে। বাঁধন দাবি করেন, আক্রমণকারীরা তাকে জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। পুরো সময় জুড়ে তার সঙ্গে অত্যন্ত গালমন্দ ও অসংগত আচরণ করা হয়।

ভিডিওবার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাঁধন বলেন, ‘‘আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে এবং আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেয়া হয়েছে। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন ও সহিংস আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত। এভাবে উদ্দেশ্য হাসিল বা নিজেদের অবস্থান ফেরানো সম্ভব নয়।’’

ভিডিওটিতে তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘‘সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেও বর্তমানে ভেনিসে অবস্থান করছেন। আশা করি আপনারা বিষয়টি তার কাছে পৌঁছে দেবেন।’’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একদল লোক নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী বলে দাবি করে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করছে এবং বারবার তার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করা আজমেরী হক বাঁধন বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে রাতব্যাপী অভিযান, সরেজমিনে পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 9:10 pm
চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে রাতব্যাপী অভিযান, সরেজমিনে পরিদর্শন

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ ও পাহাড়ের ঢালে নির্মাণকাজের বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী শফিক আহমেদ এবং পুলিশ ফোর্সের সমন্বয়ে এ পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়।

পরিদর্শনকালে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ‘রুপসী’ নামক পাহাড়, আকবর শাহ থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজার দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০-এ বিদ্যমান পাহাড় এবং উত্তর পাহাড়তলী মৌজার হারবাতলী মা আমেনা মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শনকালে উত্তর পাহাড়তলী মৌজার দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০-এ বিদ্যমান পাহাড়ের ঢালে কিছু দেওয়াল সদ্য নির্মিত অবস্থায় পাওয়া যায়। পাহাড়ের ঢালে এ ধরনের দেওয়াল নির্মাণের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিককে ৭ সেপ্টেম্বর সকালে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে রাতের সরেজমিন পরিদর্শনকালে সেখানে কোনো ব্যক্তিকে পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

এছাড়া আকবর শাহ থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজার হারবাতলী মা আমেনা মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় পরিদর্শনকালে পাহাড় কাটার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পরিদর্শনকালে সেখানে কোনো ব্যক্তিকেও পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ‘রুপসী’ নামক পাহাড় পরিদর্শনকালে কোনো ব্যক্তিকে পাহাড় কাটতে দেখা যায়নি। তবে নির্মাণস্থলের ভূমির শ্রেণি ‘ছনখোলা’ বা ‘নাল’ নাকি পাহাড়—তা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড় ও পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পাহাড় কাটার অভিযোগ বা পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।