খুঁজুন
বুধবার, ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাজার এবং কবরস্থানকে সংরক্ষণ করে রাস্তা সম্প্রসারন করা হবে: সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ৬:২১ অপরাহ্ণ
মাজার এবং কবরস্থানকে সংরক্ষণ করে রাস্তা সম্প্রসারন করা হবে: সুজন

বাংলাদেশের লাইফ লাইন খ্যাত পোর্ট কানেকটিং রোডের সম্প্রসারণ করতে গিয়ে মাজার স্থানান্তর বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও বিজ্ঞ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি আজ সকাল ১০টায় সংশ্লিষ্ট মাজার এবং তৎসংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন এর সাথে তাঁর বাসভবনে মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময়ে প্রশাসক বলেন, পোর্ট কানেকটিং সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। বাংলাদেশের লাইফ লাইন খ্যাত এ সড়কটি বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেহেতু এ সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাই এ সড়কটির সংস্কার কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার জন্যই প্রথম দিন থেকেই আমি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে আসছি।

আপনারা জানেন, সড়কটি সম্প্রসারিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি সাধন হবে এবং সহজেই এ সড়ক ব্যবহার করে চট্টগ্রাম থেকে দেশের অন্যান্য জেলায় মালামাল পরিবহন করা যাবে। চসিক এবং বিজ্ঞ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ একমত পোষণ করেন যে, মাজার এবং কবরস্থানকে সংরক্ষণ করে উক্ত রাস্তাটি সম্প্রসারন করা হবে। এছাড়া বর্ণিত মাজার সংরক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যা যা করা প্রয়োজন তাই করা হবে। এজন্য চসিক প্রশাসক স্থানীয় মুসল্লীসহ সর্বস্তরের নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দও পোর্ট কানেকটিং সড়কের গুরুত্ব বিবেচনা করে বলেন, তাঁর চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে নিতে তাদের পক্ষ থেকেও সর্বাত্নক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। নেতৃবৃন্দ চসিক প্রশাসকের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং সমৃদ্ধি কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া মোনাজাত কামনা করেন।

এ সময় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে কাজী মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ, গোলাম মোস্তফা মোহাম্মদ নুরন নবী আলকাদেরী, এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার, আলহাজ্ব স.উ.ম আবদুস সামাদ, মাওলানা করিম উদ্দিন নূরী, মাওলানা কামাল পাশা, আব্দুন নবী আলকাদেরী, হাফেজ আবদুর রহমান, চসিক এর পক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মো. তৈয়ব ও মাওলানা মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

রিয়াজ উদ্দিন বাজার আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতি নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

রিয়াজ উদ্দিন বাজার আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতি ও চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভায় চসিক প্রশাসক

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় রিয়াজউদ্দিন বাজার ও এর আশপাশ এলাকাকে আবর্জনামুক্ত এলাকায় পরিণত করা হবে। এ বাজার একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। এই বাজারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গেলে বাজারসহ এলাকাকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তাহলে বাজারসহ এলাকার চিত্র পাল্টে যাবে।

তিনি আজ বিকেলে চৈতন্য গলি রিয়াজউদ্দিন বাজার আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে আড়তদার ব্যবসায়ীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বাজারের নিত্যদিনের আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট ব্যাগে রাখতে হবে। এজন্য চসিকের পক্ষ থেকে প্রত্যেক দোকানদার ও আড়তদারদের ৪টি করে ব্যাগ দেয়া হচ্ছে। আপনারা এ ব্যাগে সমস্ত ময়লা-আবর্জনা রাখবেন, নির্দিষ্ট সময়ে কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্ন সেবকরা এসে ময়লা ভর্তি ব্যাগ সংগ্রহ করে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, কোন ধরনের আবর্জনা রিয়াজউদ্দিন বাজারের অভ্যন্তরে বা বাহিরে কেউ ফেলতে পারবে না। দোকানদার ও ব্যবসায়ী সমাজ আন্তরিক হলে নগরীর আপামর জনগন উপকৃত হবে। তিনি রিয়াজউদ্দিন বাজারকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে মডেল বাজার হিসেবে রূপান্তরিত করে এর সুনাম সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানান। সমিতির দাবী-দাওয়া অনুযায়ী এলাবাসীর চলাফেরা সুবিধার্থে চৈতন্য গলি ও রিয়াজউদ্দিন বাজার গলির রাস্তাগুলো সংস্কারের এবং একই সাথে পর্যাপ্ত লাইটিং এর ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। তিনি পাবলিক টয়লেটসহ অন্যান্য যেসব দাবী-দাওয়া সমিতির পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে তা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

সমিতির সভাপতি মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজনীতিক জামশেদুল আলম চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর সলিম উল্লাহ বাচ্চু, কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সালাম মাসুম, সংরক্ষিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিলু নাগ। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, মো. ইদ্রিস, চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কান্তি দাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মধ্যে মো. ফারুক শিবলী, রাজু আহমেদ, আজগর হোসেন, আব্বাস হোসেন, সাইফুল আলম, আবু তৈয়ব আবু।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়:

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন ফল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ফল হচ্ছে আল্লাহতায়ালার শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। পৃথিবীতে অনেক ব্যবসা রয়েছে তৎমধ্যে ফল ব্যবসা হচ্ছে অন্যতম ব্যবসা। এই নিয়ামতের ব্যবসায় কোন রকম ভেজাল বা ফরমালিন মেশানো হলে তার জন্য আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমার অনুরোধ আপনারা কেউই ফলের মধ্যে ভেজাল কিছু মেশাবেন না। হালাল রোজগারে বরকত বেশি। তিনি আজ বিকেলে ষ্টেশন রোডস্থ চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

তিনি ফলমন্ডির ব্যবসায়ীদের প্রশংসা করে বলেন, আপনারা দোকানের ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে ফলমন্ডিকে পরিস্কার-পরিচ্ছন রেখেছেন। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, রিয়াজউদ্দিন বাজারে প্রত্যেক দোকানদারকে ৪টি করে ব্যাগ প্রদান করেছি অনুরূপ ভাবে আপনাদের প্রত্যেক দোকানদারকেও এ ব্যাগ দিয়ে যাচ্ছি। আপনারা এ ব্যাগে ময়লা-আবর্জনা গুলো রাখবেন আমাদের সেবকরা এসে তা সংগ্রহ করে আপনাদের ব্যাগ ফিরেয়ে দেবে। কোন অবস্থায় খোলা জায়গায় ময়লা ফেলা যাবে না। এর ব্যতিক্রম হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং ভ্রাম্যমান আদালতের মধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপনাদের সহযোগিতা পেলে এ বাজারকেও মডেল বাজারে রূপান্তরিত করবো যাতে সারা বাংলাদেশে এ বাজারের সুনাম আরো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি হয়। যে সকল ব্যবসায়ী এখনো পর্যন্ত নতুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেননি এবং লাইসেন্স নবায়ন করেননি তাদের দ্রুত ট্রেড লাইসেন্স করার অনুরোধ জানান প্রশাসক।

ফলমন্ডি ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আবদুল মালেক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সালাম মাসুম, সংরক্ষিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিলু নাগ, সমিতির সহ সভাপতি হাজী আবদুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক হাজী আলমগীর। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, হাজী জাগির হোসেন, মো. আলমগীর, মো. মিজানুর রহমান, হাজী তোকর আলী, হাজী আবদুল নুর বাবুল ও মোহাম্মদ ইয়াছিন।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2

তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান ও মুসলমানদের ঐক্যের জন্য দোয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান ও মুসলমানদের ঐক্যের জন্য দোয়া

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সর্ব কর্তৃত্বময়, নিষ্কলুষ, নিরাপত্তা ও শান্তি দানকারী, ‍যিনি মুসলমানদের ওপর তার সম্মানিত ঘরের হজ ফরজ করেছেন, হজকে দ্বীনের অন্যতম স্তম্ভ বানিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি সর্বময় জ্ঞান ও ক্ষমতার অধিকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, যিনি সব সৃষ্টির সেরা। তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সঙ্গী-সাথী এবং অনুসারীদের ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম।

আম্মা বা’দ

হে মানবসকল! আপনারা তাকওয়া অবলম্বন করুন। কারণ তাকওয়ার মাধ্যমেই পরকালে বান্দার মুক্তি লাভ সম্ভব। আল্লাহ তাআলা সুরা হজের শুরুতে এরশাদ করেছেন, ‘হে মানবসকল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো; নিশ্চয়ই কেয়ামতের ভূকম্পন এক ভয়ানক ব্যাপার। যে দিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী মা তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত হয়ে যাবে। মানুষকে তুমি দেখবে মাতালসদৃশ অথচ তারা মাতাল নয়; বস্তুত আল্লাহর আজাব বড়ই কঠিন।’

তাকওয়ার পথ হলো, নেক আমল করা এবং সব ধরনের পাপাচার ও মন্দ কাজ বর্জনের মাধ্যমে কেয়ামত দিবসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তা এই জন্য যে, আল্লাহই সত্য এবং তিনিই মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। আর এজন্য যে, কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং কবরে যারা আছে আল্লাহ তাদের পুনরুত্থিত করবেন।’

পরকালের জন্য সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো, তাওহিদের অনুসারী হওয়া, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করা। মানুষ কীভাবে আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুর ইবাদত করে বা তাকে ডাকে, যা তার কোনো ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না? এটাই তো চরম পথভ্রষ্টতা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সে এমন কিছুকে ডাকে যার ক্ষতি তার উপকার অপেক্ষা নিকটতর। কতই না নিকৃষ্ট এই অভিভাবক এবং কতই না নিকৃষ্ট এই সঙ্গী!’

আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক করে, সে যেন আকাশ থেকে আছড়ে পড়ল, অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোনো দূরবর্তী নির্জন স্থানে নিক্ষেপ করল।’

ইমানদারদের আসল স্লোগান হলো আল্লাহর তাওহিদ। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের ইলাহ তো একমাত্র ইলাহ, কাজেই তোমরা তাঁরই অনুগত হও এবং সুসংবাদ দাও বিনীতদের; যাদের অন্তর আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে কম্পিত হয়, যারা তাদের বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।’ এগুলোই দ্বীনে ইসলামের মূল রোকন—তাওহিদ তথা আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল—এই সাক্ষ্য দেওয়া, নামাজ কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, রমজানের রোজা রাখা এবং আল্লাহর পবিত্র ঘরের হজ করা।

এর সাথে রয়েছে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করার উপদেশ; আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত।’ এবং আল্লাহর আনুগত্যের ওপর ও কষ্টদায়ক তাকদিরের ওপর ধৈর্য ধারণ করার উপদেশ; ইরশাদ হয়েছে, ‘ধৈর্যশীলদের তো তাদের পুরস্কার পুরোপুরি দেওয়া হবে বিনা হিসাবে।’ একইসাথে আল্লাহর নেয়ামতের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করা; ইরশাদ হয়েছে, ‘এভাবে আমি সেগুলোকে (কোরবানির পশু) তোমাদের অনুগত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’

সৃষ্টিজগতে আল্লাহর কিছু চিরন্তন নিয়ম রয়েছে, বান্দার উচিত সেগুলোর ওপর ঈমান আনা এবং তা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের রক্ষা করেন; আল্লাহ কোনো বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যে আল্লাহকে সাহায্য (আল্লাহর দ্বীনকে) করবে, আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম শক্তিমান, পরাক্রমশালী।’ আল্লাহর নিয়মের মধ্যে আরও রয়েছে তাঁর এই বাণী: ‘কত জনপদ আমি ধ্বংস করেছি যেগুলোর বাসিন্দারা ছিল জালেম, তাই এসব জনপদ তাদের ঘরের ছাদসহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, কত কূপ পরিত্যক্ত হয়েছে এবং কত সুদৃঢ় প্রাসাদ ধ্বংস হয়েছে!’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘কত জনপদকে আমি অবকাশ দিয়েছি এই অবস্থায় যে তা ছিল জালেম, অতঃপর আমি তাকে পাকড়াও করেছি এবং আমার কাছেই তো ফিরে আসতে হবে।’

মহান আল্লাহ তাঁর খলিল ইবরাহিমকে (আ.) হজের আজান বা ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেছেন, ‘এবং মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে আরোহণ করে, দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে। যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানসমূহে উপস্থিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে—তিনি তাদের যে চতুষ্পদ জন্তু রিজিক হিসেবে দিয়েছেন তার ওপর।’

হজের দিনগুলোতে যে ব্যক্তি তাড়াহুড়ো করে দুদিনে চলে যাবে তার কোনো পাপ নেই এবং যে বিলম্ব করবে তারও কোনো পাপ নেই। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, তোমাদের তাঁর কাছেই সমবেত করা হবে। হজের সফর শেষ করে ফেরার পূর্বে রয়েছে বিদায়ী তাওয়াফ।

আল্লাহ তাআলা আপনাদের মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে আপনাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা বা কঠিন নিয়ম চাপিয়ে দেননি; এটা আপনাদের পিতা ইবরাহিমের মিল্লাত। তিনি পূর্বে আপনাদের নাম ‘মুসলিম’ রেখেছেন; যাতে রাসুল আপনাদের জন্য সাক্ষী হন এবং আপনারা সাক্ষী হন মানবজাতির জন্য। অতএব আপনারা নামাজ কায়েম করুন, জাকাত আদায় করুন এবং আল্লাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরুন; তিনিই আপনাদের অভিভাবক, কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী!

আল্লাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার অন্যতম উপায় হলো, বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা, বিশেষ করে হজের আমলসমূহ পালন করার সময়। কারণ এগুলো দোয়া কবুলের উপযুক্ত সময় ও জায়গা। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফা দিবসের দোয়া। আর আরাফার দিন আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যে সর্বোত্তম বাক্যটি বলেছি, তা হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর (অর্থাৎ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান)।’

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন। তাদেরই জন্য রয়েছে তাদের আমলের প্রতিদান এবং আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।’

হে আল্লাহ! আপনি হাজিদের দোয়া ও ইবাদত কবুল করুন, তাদের জন্য হজের সব আমল সহজ করে দিন, তাদের গুনাহ ও ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং তাদের নিরাপদে সওয়াব ও সফলতার সাথে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার তওফিক দিন।

হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। আপনি তাদের সব বিষয়ের দায়িত্ব নিন এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার সার্বিক অবস্থা কল্যাণময় করে দিন।

হে রাব্বুল আলামীন! হে আল্লাহ! আপনি খাদেমুল হারামাইন ওয়াশ-শরিফাইন বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে তাদের যাবতীয় কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করার তওফিক দান করুন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। নিশ্চয়ই তারা আপনার বান্দাদের প্রতি ইহসান করেছেন, হাজিদের জন্য হজের সব ইবাদত সহজ করে দিয়েছেন এবং হারামাইন শরিফাইনের খেদমতে ও আগত মেহমানদের সেবায় অকাতরে ব্যয় করেছেন। আপনি তাদের মাধ্যমে আপনার দ্বীনকে বিজয়ী করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের মাধ্যমে আপনার দ্বীনকে সাহায্য করুন। আমাদের নেতা ও নবি মুহাম্মাদের (সা.) ওপর, তাঁর পরিবার ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

হজের খুতবা (২০২৬) দিয়েছেন: শায়খ আলী আল হুজাইফি, মসজিদে নববির খতিব ও বিশ্বখ্যাত প্রবীণ আলেম।

জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার ঘটনায় আগে থেকে যথাযথ নজরদারি করতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব এবং পুলিশের চৌকি ছিল। ঠিকভাবেই কাজ করা হচ্ছিল। তবে আমাদের কিছু দুর্বলতা ছিল। সেভাবে মনিটর করতে পারিনি।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘কোনোভাবেই ইয়াসিন বাহিনী বা অবৈধ দখলদার কেউ জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করতে পারবে না, টিকতেও পারবে না। আমরা তাদেরকে যেভাবেই হোক উচ্ছেদ করবই। এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন কোনো শক্তি নেই যে, সেখানে নতুন করে ঢুকতে পারবে।’

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানান র‍্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঈদের জামাত ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, রাতের টহল ও নিরাপত্তা চৌকি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক কোনো হাটে নিতে না পারে, সে বিষয়েও র‍্যাব সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ফাঁকা ঢাকায় চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে দিন-রাত বাড়তি পেট্রোল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।