খুঁজুন
, ,

নগরীকে ধুলোবালি থেকে মুক্ত রাখতে পানি ছিটানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 18 October, 2020, 6:37 pm
নগরীকে ধুলোবালি থেকে মুক্ত রাখতে পানি ছিটানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রশাসক

আজ সকাল থেকে নগরীতে অব্যাহত ধুলোবালি রোধে চসিকের উদ্যোগে টাইগারপাস মোড় থেকে আগ্রাবাদ বাদামতল মোড় পর্যন্ত রুটে গরব্যাপী পানি ছিটানোর কর্মসূচি শুরু হয়।

এ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, এমনিতে শুকনো মৌসুমে নগরীতে ধুলোবালির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তার উপর নগর জুড়ে ওয়াসাসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার রাস্তা খুড়াখুড়ির কারণে এই প্রকোপ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন সেবাসংস্থা একযোগে নগরীতে কাজ করছে। বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে এর সুফল ভোগ করবেন নগরবাসী। তবে অবশ্যই জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। কারণ এই ধুলোবালি থেকে বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শ্বাস কষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে। তাই নগরীকে ধুলোবালি ও দুষণমুক্ত করার জন্য সড়কগুলোতে পানি ছিটানো কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি সরকারি, বেসরকারি, স্বায়িত্বশাসিত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ওয়াসা, বন্দর, ফায়ার সার্ভিস, সিডিএ, সেনা, বিমান ও নৌ বাহিনীর অফিস ও নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান এবং তেল শোধনাগারের সামনে নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রতিদিন ধুলোবালির প্রকোপ থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করার জন্য পানি ছিটানোর আহ্বান জানান। এ কার্যক্রম যথাযথ ভাবে চললে নগরীর পরিবেশ সহনীয় ও স্বাস্থ্যবান্ধব থাকবে।

“আমার নগর আমি পরিস্কার রাখব” এই স্লোগানকে ধারণ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগকে সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকার নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, অতিরিক্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরীসহ কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিক ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এরিয়া কমান্ডার এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এরিয়া কমান্ডার

নৌ-বাহিনীর এরিয়া কমান্ডার ও বিমান বাহিনীর জহুরুল হক ঘাটির এয়ার অধিনায়কের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রশাসক
চট্টগ্রামকে একটি নান্দনিক ও বাসযোগ্য
নগরীতে পরিণত করতে চাই
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামকে একটি নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে চাই। এ জন্যে যারা সহযোগিতা করতে আগ্রহী তাদের স্বাগত জানাই। আশা করি সৌন্দর্য্যবর্ধণ ও দৃষ্টি নন্দন চট্টগ্রাম নগরী গড়তে নৌ-বাহনী ও বিমান বাহিনীর অধীন স্থাপনা, তাদের ঘাঁটি, পোতাশ্রয় এবং নিবাস এলাকার বাইরে রাস্তার পার্শস্থ এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন করে সাজিয়ে তুলবেন।

তিনি আজ নৌ-বাহিনীর চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল এম মোজাম্মেল হক, ওএসপি, এনইউপি, এনডিসি, পিএসসি’র সাথে নিউ মুরিংয়ে বিএনএস ঈশা খান ঘাঁটি ও বিমান বাহিনীর জহুরুল হক ঘাটির এয়ার অধিনায়কে সএয়ার ভাইস মার্শাল এএসএম ফখরুল ইসলাম, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি’র সাথে পতেঙ্গা জহুরুল হক ঘাঁটিতে পৃথক পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতকালে এ কথাগুলো বলেন।

তিনি বিলেন, এই দুই বাহিনীর অধীন এলাকাগুলো নেক দৃষ্টিনন্দন ও সৌন্দর্য্যময়। কিন্তু তাদের স্থাপনার বাইরের অংশেও যদি তারা উদ্যোগ নিয়ে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করেন, তাহলে এয়ারপোর্টে রোডটিকে আরো বেশি নান্দনিক রূপ দেয়া যাবে। এ বিষয়ে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনীর কমান্ডার দ্বয়ের প্রতি আহবান জানান।

তিনি করোনাকালে চট্টগ্রাম নগরীতে নৌ ও বিমান বাহিনীর সচেতনতামূলক কার্যক্রম, মাস্ক ও স্যানিটাইজার বন্ঠনসহ শত শত হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য কর্পোরেশনের অক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দুই অধিনায়ক নগরের রাস্তাঘাট মেরামত ও পরিস্কার রাখা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং আবর্জনা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রশাসকের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং চলমান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা ও আরো বেগবান করার জন্য অনুরোধ করেন।

চসিক পরিচালিত স্কুল পরিচালনা কমিটির সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

চসিক পরিচালিত ৩টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় প্রশাসক
অনলাইন শিক্ষা পাঠদান কার্যক্রম বিশ্বজনীনভাবে স্বীকৃত
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, করোনাকালে সকল পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা এলেও অনলাইনে পাঠদানের কার্যক্রম পরিস্থিতিগত কারণে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। অনলাইনে শিক্ষা পাঠদান কার্যক্রমটি অনেক আগে থেকেই বিশ্বজনীনভাবে স্বীকৃত। তাই প্রত্যেক শ্রেণির জন্য বিষয় ভিত্তিক নিয়মিত অনলাইন ক্লাসের গুরুত্ব সব সময় থাকবে এবং এর গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আজ সকালে টাইগারপাসস্থ চসিক সম্মেলন কক্ষে কুলগাঁও সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়, জামালখান কুসুম কুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বাগমনিরাম আবদুর রশীদ সিটি কর্পোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভায় এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষকদের গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি শিক্ষকদের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহিত সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার নির্দেশনা দেন।

প্রশাসক বলেন, শিক্ষকরাই জাতির পথ প্রদর্শক। শিক্ষকেরা জাতি গঠনে মূল হাতিয়ার। শিক্ষার্থীদের আলোকিত ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম কারিগর হল শিক্ষকরা। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানন্নোয়নে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকরা যদি সক্রিয়ভাবে কাজ করে তাহলে ঐ বিদ্যালয়টি একটি আদর্শ বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।

তিনি বলেন, যদি কোন শিক্ষক অনলাইন ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। শিক্ষকদের নিজ খরচে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ ক্রয় করে অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহনের জন্য আহবান জানান তিনি। যে সকল বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ফলাফল ভাল করবে সেইসব বিষয়ের শিক্ষকদের পুরষ্কিত করা হবে। আর যেসব বিষয়ে ফলাফল খারাপ হবে সে বিষয়ের শিক্ষকদের জবাবদিহিতা আওতায় আনা হবে বলে জানান প্রশাসক।

তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্য বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সৎ, চরিত্রবান ও ভালো মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হবে। তাই ক্লাসে পাঠদানের পূর্বেই মানবিক, নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে আলোচনা করার উপর গুরুত্বারোপ করেন প্রশাসক।

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেখভাল শুধু প্রধান শিক্ষকের নয়। এ ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার মান আরো উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রশাসক পরিচালনা কমিটির সকলকে সততা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম-সুখ্যাতি বৃদ্ধি জন্য নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করার আহবান জানান।

এ সময় চসিক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেমসহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চসিকের উদ্যোগে নগরীর শেরশাহ কলোনীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছেন চসিক ভ্রাম্যমান আদালত।

শেরশাহ রোডে ২ শতাধিক দোকান-পাট
অবৈধ দখলমুক্ত করল চসিক ভ্রাম্যমান আদালত
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) জাহানারা ফেরদৌসের নেতৃত্বে আজ সকাল থেকে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানকালে নগরীর শেরশাহ মেইন রোড ও মিনারে উভয় পার্শ্বে শিল্পএলাকা রোড, আবাসিক এলাকা রোডের প্রায় ২ শতাধিক অবৈধ দোকান-পাট ও দখলদার উচ্ছেদ করা হয়। অবৈধ উচ্ছেদকৃত জায়গার পরিমাণ প্রায় ৪০ শতক।

অভিযানকালে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী, র‌্যাব-৭, বায়েজিদ থানা পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, ৩০ আনসার ব্যাটেলিয়াম, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিভিশন লি. পিডিবিসহ সংশ্লিষ্টরা ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয়কে সহায়তা প্রদান করেন।

শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলে মুনাজাত করছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতক চক্রের নির্মম বুলেটের হাত থেকে রক্ষা পায়নি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল। পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে নরপিশাচরা নিষ্ঠুরভাবে তাকেও হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরা তাকে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তাদের সেই অপচেষ্টা শতভাগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

শহীদ শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের শিশু-কিশোর, তরুণ, শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের কাছে ভালবাসার নাম। অবহেলিত, পশ্চাৎপদ, অধিকার বঞ্চিত শিশুদের আলোকিত জীবন গড়ার প্রতীক হয়ে গ্রাম-গঞ্জ-শহর তথা বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ জনপদ-লোকালয়ে শেখ রাসেল আজ এক মানবিক সত্তায় পরিণত হয়েছেন। মানবিক চেতনা সম্পন্ন সব মানুষ শেখ রাসেলের মর্মান্তিক বিয়োগ বেদনাকে হৃদয়ে ধারণ করে বাংলার প্রতিটি শিশু-কিশোর তরুণের মুখে হাসি ফোটাতে আজ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজকের এই দিনে শেখ রাসেল এর বিদেহী রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহতায়ালা উনাকে বেহেস্তের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করুন, আমিন।

আজ বিকেলে টাইগারপাসস্থ চসিক সম্মেলন কক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলে প্রশাসক এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ কাজী মোজাম্মেল হক, সচিব মোহাম্মদ আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, রাজস্ব কর্মকর্তা শাহিদা ফাতেমা, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সিবিএ সভাপতি মো. ফরিদ আহমদ, মৌলানা হারুন অর রশিদ চৌধুরী, মাওলানা ক্বারী আবু তৈয়ব, হাফেজ মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, মাওলানা ওহিদুল আলম, হাফেজ আনসারুল হক, মো. বোরহান উদ্দিন হোসাইন, মাওলানা রায়হান মির্জা, সিবিএ এর অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ চসিক এর কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।