খুঁজুন
, ,

“একজন শিক্ষক ও উদ্যোক্তা সালমার সফলতার গল্প”

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 21 October, 2020, 11:44 pm
“একজন শিক্ষক ও উদ্যোক্তা সালমার সফলতার গল্প”

মিস সালমা আক্তার। পেশায় একজন কলেজ শিক্ষক। জন্মস্থান চাঁদপুর হলেও জন্ম, বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা সবই চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম বন্দর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি, চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচ.এস.সি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পরে বর্তমানে চট্টগ্রামের এনায়েত বাজার মহিলা কলেজের প্রভাষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। উচ্চতর ডিগ্রির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.ফিল করছেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি সালমা আক্তার খুব অল্প সময়ে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি “নাগরদোলা” নামে হ্যান্ড পেইন্ট নিয়ে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী। এই প্রতিষ্ঠানের মূল সিগনেচার পণ্য হ্যান্ড পেইন্ট শাড়ি। এছাড়াও হ্যান্ড পেইন্টের কামিজ, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, হিজাব, ইয়োক, গৃহসজ্জার জন্য হ্যান্ড পেইন্ট কুশন কভার, বেডশিট ও ওয়াল পেইন্টিং, সরা পেইন্টিং এবং গহনার মধ্যে সিগনেচার গহনা হ্যান্ডমেইড ক্লে’র তৈরি গহনা, বিভিন্ন মিডিয়ার উপর হ্যান্ড পেইন্ট এর কাজ করা গহনা ও মেটালের গহনা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর উদ্যোক্তা জীবনের শুরুর দিনগুলো এবং সফলতার গল্প শুনতে চাই তাঁরই মুখে।

১. আপনার উদ্যোগের যাত্রা শুরু কবে?
সালমা আক্তারঃ আমার উদ্যোগের নাম নাগরদোলা। এটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ সালে। উদ্যোগটি শুরু করার জন্য একটি বিশেষ দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। এই বিশেষ দিনটি হলো হুমায়ূন আহমেদ স্যারের জন্মদিন।

২.উদ্যোগের এই নামকরণের কারণ?
সালমা আক্তারঃ নাগরদোলা আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির একটি অংশ। যা বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। যেহেতু আমার কাজ দেশীয় পণ্য এবং সংস্কৃতির উপকরণ নিয়ে। তাই নাগরদোলা নামকরণ করা হয়েছে।

৩. কিভাবে এই কাজ করার চিন্তা আসলো?
সালমা আক্তারঃ ছবি আঁকার প্রতি আমার ভালোলাগা ছোটবেলা থেকেই। ২০০৩ সাল থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শেখা শুরু করি। সেই থেকে এখন অব্দি নানা প্রতিকূলতার মাঝেও প্রতিনিয়ত শিখে যাচ্ছি। পরিবার চেয়েছিল আমি বিসিএস ক্যাডার হব আর আমার ইচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার। এস.এস.সি এবং এইচ.এস. সি তে জিপিএ-৫, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ডিপার্টমেন্টের সর্বোচ্চ রেজাল্ট করে তাই পরবর্তীতে এম.ফিলে ভর্তি হই। কিন্তু এই ইচ্ছার পাশাপাশি একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন আমার সবসময়ই ছিল। সেই লক্ষ্যে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করি আমার আর্ট স্কুল (রং তুলি আর্ট স্কুল চট্টগ্রাম) দিয়ে। যেটি বর্তমানে একটি স্বনামধন্য স্কুলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বলা যায় সেই থেকে শুরু। কিন্তু এর সাথে আরেকটি উদ্যোগ শুরু করার ইচ্ছে কাজ করতে থাকে সবসময়। আমার শিল্প জ্ঞান এবং দেশীয় পণ্যের সংমিশ্রণে নতুন আরেকটি উদ্যোগের চিন্তা শুরু করলাম। নিজের কাজের দক্ষতা বাড়াতে তাই ভর্তি হই জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রামে। তিন বছরের ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করে সেখান থেকে এরপর নানান বেসরকারি কোর্সে অংশগ্রহণ করি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য।

৪.আপনি মূলত কি ধরনের পন্য নিয়ে কাজ করছেন?
সালমা আক্তার’ আমরা মূলত হ্যান্ড পেইন্ট নিয়ে কাজ করছি। আমাদের মূল সিগনেচার পণ্য হ্যান্ড পেইন্ট এর শাড়ি। এছাড়াও হ্যান্ড পেইন্টের কামিজ, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, হিজাব, ইয়োকসহ আরো কিছু মাধ্যমে কাজ করা হয়। নাগরদোলায় গৃহসজ্জার মধ্যে হ্যান্ড পেইন্ট কুশন কভার, হ্যান্ড পেইন্ট বেডশিট ও ওয়াল পেইন্টিং, সরা পেইন্টিং রয়েছে। আর গহনার মধ্যে আমাদের সিগনেচার গহনা হ্যান্ডমেইড ক্লে’র তৈরি গহনা, বিভিন্ন মিডিয়ার উপর হ্যান্ড পেইন্ট এর কাজ করা গহনা, আছে মেটালের গহনাও।

৫. শুরু থেকে কেমন সহযোগিতা পেয়েছেন?
সালমা আক্তারঃ হাতের কাজের কদর সবসময়ই থাকে এটা আসলে বলতেই হয়। কিন্তু আমার এই উদ্যোগ শুরু করার আগে আমি আসলে অনেকটা সময় নিয়ে মার্কেট রিসার্চ করি। যার ফলে উদ্যোগের শুরু থেকেই খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। কেননা ভিন্নধর্মী কাজের সংমিশ্রণ ঘটানোর চেষ্টা ছিল আমার।

৬. আপনার উদ্যোগের প্রধান ক্লায়েন্ট কারা?
সালমা আক্তারঃ আমার উদ্যোগের প্রধান ক্লায়েন্ট মূলত নারীরা। বিশেষ করে ২৫-৪৫ বছর বয়সী নারীরাই আমাদের মূল ক্রেতা ।যদিও আমরা চেষ্টা করছি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই হ্যান্ড পেইন্ট এর বিভিন্ন মাধ্যমের উপর কাজের সংমিশ্রণ ঘটাতে।

৭. বর্তমানে কেমন ক্লায়েন্ট পাচ্ছেন ও ব্যবসার অবস্থা কী?
সালমা আক্তারঃ বর্তমানে আমাদের ক্লায়েন্ট এর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। শুরুতে যেখানে শুধু পরিচিত বন্ধুবান্ধব ,আত্মীয়স্বজন কিংবা সহকর্মীগণ ক্রেতা হিসেবে থাকলেও বর্তমানে এর বাহিরে ক্রেতার সংখ্যাই আমাদের বেশি। আর ভালো লাগার বিষয় এটি যে ,আমাদের রিপিট ক্লায়েন্টের সংখ্যা অনেক বেশি।

৮. ক্লায়েন্টকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য আপনার কৌশল কী?
সালমা আক্তারঃ ক্রেতাদের সন্তুষ্ট রাখতে আমরা মূলত পণ্যের এবং কাজের মান ধরে রেখেছি ।যেকোনো পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাকে আমরা পরিষ্কার ধারণা দেয়ার চেষ্টা করি। এছাড়া ছবির সাথে যাতে কাজের মিল থাকে সেদিকে আমাদের যথেষ্ট নজর রয়েছে । ক্রেতাগণ ঘরে বসেই যাতে হোম ডেলিভারি মাধ্যমে পণ্য পেয়ে যান তাই হোম ডেলিভারি দেয়া হয় ।এছাড়া অন্য ডেলিভারির পর সেটি ঠিকমত বুঝে পেয়েছেন কিনা এ বিষয়টিও আমরা জানার চেষ্টা করি।

৯. আর্থিকভাবে কেমন লাভবান হয়েছেন?
সালমা আক্তারঃ বর্তমানে অফ-সিজনে মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা আর অন সিজনে ৫০-৬০ হাজার টাকার মতো সেল হয়। আমাদের হাতের কাজের দরুন আমরা চাইলেও অতিরিক্ত অর্ডার নিতে পারিনা।তবে বড় পরিসরে আমাদের উদ্যোগ পরিচালনার কাজ চলছে। কেননা এই কাজের চাহিদা দিন দিন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

১০.শিক্ষকতার পাশাপাশি এসব করে আপনার কি উপকার হচ্ছে?
সালমা আক্তারঃ শিক্ষকতার পাশাপাশি কাজটি করে অবশ্যই আমি আর্থিকভাবে অনেক বড় একটি সাপোর্ট পাচ্ছি। দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরই নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশের জন্য কিছু করণীয় রয়েছে। তাই দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করে দেশীয় পণ্যের শিল্পকে সামনে এগিয়ে নিতে কিছুটা হলেও অবদান রাখতে পারছি বলে আমি মনে করি। এছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি এবং বর্তমানে কিছু সংখ্যক শিল্পী আমাদের সাথে কাজ করছেন।ভবিষ্যতে আরও অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব বলে আশা রাখি ।

১১. এই কাজে পরিবারের মনোভাব কেমন?
সালমা আক্তারঃ আমার এই উদ্যোগের পরিবারের মনোভাব খুবই ইতিবাচক । সবার সাহায্য, সহযোগিতা এবং অনুপ্রেরণাই এগিয়ে যেতে পারছি।

১২. অনলাইনে প্রতারণা এড়াতে আপনার বিশ্বাসযোগ্য অর্জনে কী ভাবছেন?
সালমা আক্তারঃ অনলাইনে যেহেতু ক্রেতা পন্য হাতে ধরে দেখার সুযোগ পান না, আবার ছবি দেখেও ম্যাটরিয়াল সম্পর্কে বুঝতে পারেন না। তাই অনেকেই এ সুযোগে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। এক্ষেত্রে আমরা ক্রেতাকে পণ্য, পণ্যের কোয়ালিটি ও ম্যাটেরিয়ালসসহ সকল তথ্য বিস্তারিতভাবে দিয়ে থাকি। ছবি অতিরিক্ত ত্রডিট না করাই ভালো আর। অবশ্যই প্রতারণা এড়াতে পেইজের এক্টিভিটিস পর্যবেক্ষণ করে অর্ডার দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। মূল্যছাড় কিংবা কম মূল্যে পণ্য দিচ্ছে দেখে পণ্য ক্রয় উচিত নয়।

১৩. নতুন যারা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
সালমা আক্তারঃ নতুন উদ্যোক্তা যারা হ্যান্ড পেইন্ট নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী বা নতুন শুরু করেছেন তাদের জন্য বলব হ্যান্ড পেইন্ট এর কাজের কদর বেশি থাকার মূল কারণ এই কাজ অন্য সব কাজ থেকে ভিন্ন। এখানে ক্রেতা তার পছন্দ অনুযায়ী পোশাক বা গহনা বা গৃহসজ্জার কাজ করিয়ে নেয়ার সুযোগ থাকায় ক্রেতাগণ এই পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী। আর তাই এই কাজ শুরু করার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে ছবি আঁকার উপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে।অনেকেই দেখা যায় ভালো লাগা থেকে এই কাজ শুরু করেন।সেক্ষেত্রে কপি করে আঁকার চেষ্টা করেন। এক্ষেত্রে আঁকা সম্পর্কে, রং সম্পর্কে কিংবা কম্পোজিশন সম্পর্কে কোন ধারণা না থাকায় কপিও করতে পারে না। নতুন নতুন ডিজাইন আনতে সক্ষম হন না। এছাড়া ক্রেতার রুচি অনুযায়ী কাজ করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ওনারা প্রথমে কমদামে পণ্য দিয়ে বাজার ধরার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে একটা পর্যায়ে গিয়ে কাজ করা ছেড়ে দেন। এতে তিনি ক্ষতির সম্মুখীন হন। আবার দেখা যায় আপনি যখন কোনো জ্ঞান ছাড়া, এই কাজে নিয়ে কোনো প্রকার এক্সপেরিমেন্ট না করে, সময় না দিয়ে হুট করে উদ্যোগ নেন এবং সেক্ষেত্রে যখন কাজের মান ভাল হয় না পরবর্তীতে দেখা যায় প্রথমে আপনার যারা ক্রেতা হবেন তারা মানহীন কাজ হাতে পেয়ে হ্যান্ড পেইন্ট এর কাজ নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা করবেন। যা এই কাজটির বাজার নষ্ট করবে। তাই আমি বলবো প্রথমে কাজটি ভালোভাবে শিখুন, সময় দিন, কাজটিকে ভালোবাসুন এরপর শুরু করুন। শুধুমাত্র লাভের উদ্দেশ্যেই নয়। এটিকে একটি শিল্পের রূপান্তর করার উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করুন।

১৪ অনলাইন বিজনেস সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
সালমা আক্তারঃ অনলাইন বিজনেস সম্পর্কে আমার প্রতিক্রিয়া অবশ্যই ইতিবাচক। এখানে ক্রেতা বিক্রেতা উভয় লাভবান হয়। একজন বিক্রেতা/উদ্যোক্তার, যার হয়তো একটি শপ ভাড়া নিয়ে কাজ করার সামর্থ্য নেই বা তিনি হয়তো এই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না সেক্ষেত্রে অনলাইন বিজনেস শুরু করা তার জন্য অনেক সহজ ।এতে তিনি বিজনেসে/উদ্যোগ গ্রহণের ফলে সফল না হতে পারলেও খুব বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না। দোকান ভাড়া ,কর্মচারীর বেতন সহ আনুষঙ্গিক খরচ বহনের বিষয় থাকে না এক্ষেত্রে। আর ক্রেতাগণ ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় বাজেটের মধ্যে পণ্য ক্রয় করতে পারছেন। যেখানে আগে দেখা যেত একটি প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে মার্কেটে মার্কেটে ঘুড়ে বেড়াতে হত।দাম সম্পর্কে ধারণা না থাকায় বেশি দামে পণ্য ক্রয় করতে হতো। যা এখন অনেক কমে এসেছে। অনলাইন বিজনেস এর ফলে নারী-পুরুষ উভয়েই স্বাবলম্বী হচ্ছে। এতে চাকরির বাজারে চাকরি প্রত্যাশীদের চাপ কমছে। কিছুদিন পূর্বেও আমাদের শপিংমল গুলো বিদেশী পণ্যে সয়লাব ছিল। সেখানে এখন দেশীয় পণ্যের বাজার ব্যাপক বিস্তৃত হচ্ছে অনলাইন বিজনেস এর মাধ্যমে। যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

১৫. ভবিষ্যতে এই উদ্যোগকে আরো কতদূর নিয়ে যেতে চান ও আপনার স্বপ্ন বা পরিকল্পনা কী?
সালমা আক্তারঃ আমি মূলত শখের বশে এই উদ্যোগটি শুরু করিনি। দীর্ঘ পরিকল্পনার পর এই উদ্যোগটি শুরু হয়েছে। আমার মূল স্বপ্ন হ্যান্ড পেইন্টের কাজকে একটি শিল্পে রূপান্তরে কাজ করা। হ্যান্ড পেইন্ট এবং হ্যান্ড মেইড ভিন্নধর্মী ও রুচিশীল কাজের বিস্তার ঘটানো। যা আমাদের দেশীয় পণ্যের বাজারকেও সম্প্রসারিত করবে। কেননা আমরা এই কাজে যে ম্যাটেরিয়ালস ব্যবহার করি তা মূলত দেশীও কারিগর ,তাঁতি দ্বারা তৈরি। হ্যান্ড পেইন্ট এর কাজের বর্তমানে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশে ও দেশের বাইরে। আর তাই দেশের বাইরে হ্যান্ড পেইন্ট এর পোশাক মানেই যাতে বাংলাদেশের নিজস্ব একটি শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পায় এই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করা।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম/রাশেদ পারভেজ

Feb2
Feb2

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:46 pm
বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী শনিবার জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসনে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। ভালো উদ্যোগের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার প্রতিপাদ্য ছিল—‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রতিটি জেলাকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচলিত দায়িত্ব পালনের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়; এটিকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে।

তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরুর আগে ও পরে প্রতিটি দপ্তরকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। এগুলো মূল্যায়ন করে সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি সরকারের উচ্চপর্যায়েও জানানো হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণ করা বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা সেগুলো সংগ্রহ করবে। পর্যায়ক্রমে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবর্তন আসবে না

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজে নিজের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জব্দ বা বাজেয়াপ্ত যানবাহন ও অন্যান্য মালামাল দ্রুত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তিরও তাগিদ দেন।

স্বচ্ছ পানিতেও জন্মায় এডিসের লার্ভা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষাকালে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ফেলে রাখা ডাবের খোসা, মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিংবা ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ছাদ, ছাদবাগান ও ভবনের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।

সিভিল সার্জনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এ বছর দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

মেয়র নাগরিকদের ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা কিংবা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থলের তথ্য ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে আহ্বান জানান।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী (অব.) বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত ডাম্পিং স্থানে বা গাড়ি প্রবেশ করতে পারে—এমন খোলা জায়গায় রাখতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের গাড়ি সেগুলো সংগ্রহ করবে। যেসব ভবনের ছাদে পানি জমে থাকে, সেখানে প্রয়োজন হলে বিটিআই প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সরকারি দপ্তর ও আবাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে কি না, জেলা পুলিশ তা পর্যবেক্ষণ করবে। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন মানুষের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসকও নগরের উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী মানুষের পরিচয় যাচাই করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই উদ্যোগ কোনো বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে নয়; এটি চট্টগ্রামের স্থায়ী নাগরিক সংস্কৃতিতে পরিণত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:21 pm
দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।