খুঁজুন
, ,

রেল-বন্দরের অধিগ্রহনে চলে গেছে নগরের অনেকের জায়গা জমি: চসিক প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 22 October, 2020, 6:48 pm
রেল-বন্দরের অধিগ্রহনে চলে গেছে নগরের অনেকের জায়গা জমি: চসিক প্রশাসক

সমাজ বিকাশের ধারায় পুঁজিবাদী আগ্রাসন ও নগরায়নের প্রভাবে দেশের অনেক লোক এখন গৃহহীন হয়ে পড়েছে। অথচ বাবুই পাখিও নিপুন কারুকাজে তাঁর বাসা বানিয়ে নেয়। সভ্যতার এত উন্নতি তারপরও মানুষকে তাঁর মৌলিক অধিকার বাসস্থানের জন্য ভবঘুরের মত ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরীর বিরাট একটা জনগোষ্ঠীও আজ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

নগরীর অনেক জমি অধিগ্রহন করেছে রেল ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমান সরকার মানুষের অন্য চার মৌলিক অধিকারের মত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বাসস্থান নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আজ বৃহস্পতিবার সকালে টাইগারপাসস্থ নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব বসতি দিবস ২০২০ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য হলো “সবার জন্য আবাসন : ভবিষ্যতের উন্নত নগর”।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে অন্যান্যেদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, স্থপতি আবদুল্লাহ ওমর, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয়, ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী এস এম মনিরুজ্জামান, মাঠ সমন্বয়কারী সুব্রত টুডুু, মনিটরিং অফিসার মো. মাসুম বিল্লাল, প্রশিক্ষক ইমতিয়াজ আরাফাত, কমিউনিটি আর্কিটেকট এইচ এম হোসেনুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক সুজন আরো বলেন, দেশের অন্যান্য এনজিও’র চাইতে ব্র্যাক ব্যতিক্রম। করোনাকালে তারা যে ভূমিকা রেখেছে তা অন্য এনজিওগুলোর জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। করোনা নির্ণয়ে পিসিআর টেস্ট ও দরিদ্র মানুষদের নগদ অর্থ সহায়তায় ৯৪ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা প্রদান করেছে। অথচ দেশে অনেক এনজিও লোক দেখানো কাজ করে বিদেশি ফান্ড এনে কার্যকর কিছু করে না। ব্র্যাকের সাথে চট্টগ্রামের দু’জন গুণী ব্যক্তি জড়িত। ওনারা এই প্রতিষ্ঠানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, শহরের মানুষের আয় রোজগারের ব্যবস্থা থাকার পরও অনেকে আজ গৃহহীন। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে। ২০৩১ সালের মধ্যে ইকোনোমিক বাংলাদেশ টাইগারে পরিণত হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই ক্রমাগত উন্নতিতে বিশ্ব এখন আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। দেশে এখন কাক্সিক্ষত মাত্রার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ফলে এখন লোডশেডিং নাই বললেই চলে। অর্থনৈতিক প্রতিযোগীতায়ও আমাদের দেশ এখন এগিয়ে। এই অগ্রযাত্রা কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। প্রশাসক ব্র্যাককে নগরের পতিত জমিতে ফলজ বৃক্ষ রোপন ও নগরীর সৌন্দয্যবর্ধন কার্যক্রমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালে তারা এতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মনিরুজ্জামান নগরীতে তাদের যে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে তার একটি সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় নগরের ১২টি ওয়ার্ডে ২৮টি দরিদ্র জনবসতিতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রত্যেক ধর্মেরই মর্মকথা শুদ্ধাচারী জীবনাচরণ ও শান্তিই হচ্ছে মূলবাণী:সুজন
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, দুর্গতিনাশিনী দেবী দূর্গার মর্ত্যে আগমনী হয় অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির জাগরণী বার্তা জানিয়ে। এই করোনাকালে দেবীর আরাধনা উৎসব বাহুল্যতায় নয়,অন্তর থেকে স্বাত্তিক পূজা নিবেদন করে।

তিনি আজ অপরাহ্নে জামালখান কুসুম কুমারী সি/ক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চসিক পূজা উদ্যাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয়া দুর্গাপূজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীরা অন্তরে সৃষ্টিকর্তাকে ধারণ করেন। প্রত্যেক ধর্মেরই মর্মকথা শুদ্ধাচারী জীবনাচরণ এবং শান্তিই হচ্ছে মূলবাণী। আমরা যদি সত্য, সুন্দর, কল্যণ, সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির পূজারী হতে পারি, তা হলে মানবতার জয়গানে পৃথিবী মুখরিত হবে এবং জগৎ সংসার থেকে সকল কালিমা মুছে যাবে।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত চট্টলবীর এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৯৫ সালে চসিকের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য সর্বপ্রথমবারের মত শারদীয়া দুর্গোৎসব উদযাপনের সূচনা করেন। এ ছাড়া তিনি একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাজনীতিক এবং তিনি ধার্মিক কিন্তু ধর্মান্ধ নন। তিনি সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত সকল ধর্মাবলম্বীদের জন্য ধর্মাচারণের পথ সুগম করে দিয়ে গেছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে। এ দেশে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান মিলে-মিশে এক সাথে বসবাস করে। ধর্মে ধর্মে এমন অতুলনীয় সহাবস্থান পৃথিবীতে বিরল। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থবিধি মেনে দুর্গোৎসব উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্গোৎসব চলাকালে শান্তি ও সম্প্রীতির অনুকূল পরিবেশ রক্ষায় চসিক সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

তিনি প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোন ধরণের উশৃংখলা যাতে না হয় সে ব্যাপারে সকলকে সর্তক করে দেন।

চসিক পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কুসুম কুমারী সি/ক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চম্পা মজুমদার, পরিষদের সহ-সভাপতি আশুতোষ দে, সাধারণ সম্পাদক রতন চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুলের সভা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভা আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে টাইগারপাসস্থ প্রশাসকের দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রশাসক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ শাখার একাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়ায় মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ডা.দীপু মণি ও শিক্ষা উপ মন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি কলেজের জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণে শিক্ষা উপ মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ শাহেদুল কবির চৌধুরী, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, স্কুল পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান, সাদেক হোসেন পাপ্পু,শিক্ষক প্রতিনিধি সমরেন্দ্র নারায়ণ ধর, আবদুল হক।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2
Feb2

টিসিজেএ প্রীতি ফুটবল: ট্রাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ব্রাজিলের জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 3:53 pm
টিসিজেএ প্রীতি ফুটবল: ট্রাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ব্রাজিলের জয়

চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর, রোমাঞ্চকর ট্রাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জয়লাভ করেছে ব্রাজিল। ‘টিভি ক্যামেরা জার্নালিষ্টস এসোসিয়েশন (টিসিজেএ), চট্টগ্রাম’-এর আয়োজনে এই জমকালো ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

​খেলা শেষে এক বর্ণাঢ্য পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

​ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিলায়েন্স ট্রেড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী তহুরা পিংকি ও রহিমা রুহী এবং মাখতুমা মোতাছিম এসোসিয়েটের স্বত্বাধিকারী মোঃ ফরিদ উদ্দিন।

​অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ, এটিএন বাংলার ব্যুরো চিফ আবুল হাসনাত এবং দীপ্ত টিভির ব্যুরো চিফ লতিফা আনসারী।

​আয়োজক সংগঠনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন টিভি ক্যামেরা জার্নালিষ্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম মামুন এবং সংগঠনের সাবেক সভাপতি সফিক আহমেদ সাজিবসহ স্থানীয় গণমাধ্যমের ব্যক্তিবর্গ।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, “সাংবাদিকদের পেশাগত ব্যস্ততার মাঝে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মানসিক প্রফুল্লতা বৃদ্ধিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।”

​উল্লেখ্য, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দুটি দলে ভাগ হয়ে খেলা এ ম্যাচে, তারা চরণ টিপুর গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর ব্রাজিলের হয়ে সমতা সূচক গোল করেন অনিক বিশ্বাস। ১-১ গোলে সমতায় থেকে বিরতিতে যায় দু’দল। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে এনামুল হকের গোলে লিড নেয় ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পর আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান সুমন গোস্বামী। ২-২ গোলে ড্র হওয়া খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে টাইব্রেকের সাডেন ডেথে ৪-৩ গোলে জয় পায় ব্রাজিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 2:59 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর ১০ মিনিট পর ২১১ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয়। ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়েন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দ্বিতীয় সদস্য বিচারক শাহরিয়ার কবীর। সাক্ষীদের কিছু বিবরণ ও তথ্যপ্রমাণের দিক তুলে ধরেন প্রথম সদস্য মঞ্জুরুল বাছিদ। রায়ের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। আর এ প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একইদিন আমলে নিয়ে ইনুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর প্রসিকিউশন-আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২ নভেম্বর সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১ ডিসেম্বর। তদন্ত কর্মকর্তাসহ জাসদের এই নেতার বিরুদ্ধে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয় দুজনের। সাক্ষ্যগ্রহণের এ ধাপের পর চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে চলতে থাকে যুক্তিতর্ক। এ মামলায় প্রথমেই যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। এরপর প্রসিকিউশনের যুক্তি তুলে ধরা হয়। আর এ পর্ব সম্পন্ন হয় ১৪ মে। ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর ২২ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন রায় দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে চাক্ষুষ সাক্ষী তিনজন, বিশেষজ্ঞ দুজন, ভুক্তভোগী পরিবারের একজন, জব্দতালিকা সাক্ষী দুজন, জেলার সাক্ষী একজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা একজন। এছাড়া ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা হয় ২০ সিরিজ ও বস্তু প্রদর্শনী পাঁচটি।

প্রসিকিউশনের আনা আট অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী-জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন হাসানুল হক ইনু। ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া সভায়ও অংশ নেন তিনি। ১৪ দলীয় জোটের ওই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত তথা নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনা কার্যকরেও ভূমিকা রাখেন জাসদের এই সভাপতি। এছাড়া ২০ জুলাই দুপুরে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়নসহ ব্যবস্থা নিতে ফোনে নির্দেশ দেন। তার এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশসহ ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়েন তৎকালীন এসপি। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ।

এছাড়া জুলাই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা নামানো, হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি ছুড়ে হত্যা, বোম্বিং, আটক-নির্যাতনের ষড়যন্ত্র কিংবা পরিকল্পনাসহ সব ধরনের উসকানি দিয়ে শেখ হাসিনাকে নির্দেশনা দিতেন ইনু। একইসঙ্গে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করেন তিনি। এছাড়া ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া জোটের আরেকটি সভায় উপস্থিত ছিলেন ইনু। সেখানেও নানান উসকানি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন। ফলে এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারের হত্যাকাণ্ড আর নির্যাতনকে বৈধতা দেন এই আসামি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের একদিন আগে তথা ৪ আগস্ট কারফিউ জারি করে গুলি ছুড়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যাসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন ইনু।

ফরেস্ট গার্ড গিয়াস উদ্দিনের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামের গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা, জিম্মি সহকর্মীরাও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 1:37 pm
ফরেস্ট গার্ড গিয়াস উদ্দিনের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামের গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা, জিম্মি সহকর্মীরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে কর্মরত ফরেস্ট গার্ড গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও সহকর্মীদের জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

উত্তর বন বিভাগের লাইন নিয়ন্ত্রক ও ফৌজদারহাট বন বিটের ক্যাশিয়ার হিসেবে সর্বত্র তার পরিচিতি রয়েছে। চট্টগ্রামে তার বাড়ি হওয়ায় ভিন্ন জেলার সহকর্মী ও উর্ধ্বতনদের পাত্তাই দেয় না গিয়াস উদ্দিন।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, গিয়াস উদ্দিনের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ফৌজদারহাট বিট অফিসে। তার পদবী (এফ,জি) ফরেস্ট গার্ড হলেও চলনে,বলনে তিনি যেন মস্ত বড় অফিসার। উত্তর বন বিভাগের লাইন নিয়ন্ত্রক হিসেবে আয়ও করেন ভালো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম বন বিভাগে কর্মরত অনেকেই বলেন, তার দৈনিক আয় ৪০/৫০ হাজার টাকার অধিক।

বিভিন্ন গাছ ও ফার্নিচারের গাড়ি থেকে দৈনিক লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করেন বলে নিশ্চিত করেন তার সহকর্মীরাই।

সুত্র জানায়, কিছু অসাধু উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও গিয়াস উদ্দিনের চাঁদার ভাগ পায়। দৈনিক লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করলেও সেই টাকার ৫০/৬০ ভাগ চলে যায় উর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করতে।

অপর এক সুত্র জানায়, গত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গিয়াস উদ্দিন আওয়ামী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একটানা ৯ বছর চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে কর্মরত থাকেন। ৫ আগস্টের পরেও রহস্য জনক কারণে গিয়াস উদ্দিন রয়েছেন একই রেঞ্জে বহাল তবিয়তে। একটানা ১০/১১ বছর একই রেঞ্জে কর্মরত থাকার নজির বন বিভাগে না থাকলেও গিয়াস উদ্দিন এই নজির স্থাপন করেছেন বলে দাবি করেন অনেকে।

‎দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বদলি হওয়ার বিধান থাকলেও গিয়াস উদ্দিনের টাকার কাছে তা অকার্যকর।

‎চট্টগ্রামের বলিরহাট, বহদ্দারহাট, ফিরিঙ্গী বাজার, বাদুরতলা,শোলক বহর সহ বিভিন্ন এলাকার ১০/১২ জন গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গাছের বা ফার্নিচারের প্রতি গাড়ি হতে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন ফরেস্টর গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া মাসোহারাও দিতে হয় প্রতি মাসে।

গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠের শুরে বলেন, ‎বন বিভাগের যন্ত্রনায় ব্যবসা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। এছাড়া বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়া, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি সহ অন্যান্য এলাকা থেকেও যে সব গাছ ও ফার্নিচারের গাড়ি আসে তাদের থেকেও নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করেন গিয়াস উদ্দিন।

দৈনিক ২০টির অধিক গাড়ি থেকে ফৌজদারহাট বিটে চাঁদাবাজি হয় বলে নিশ্চিত করেন অনেকে।

এদিকে নগরীর বৃহত্তর ফার্নিচার হাট খ্যাত বলিররহাট ও ফিরিঙ্গীবাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, বন বিভাগের একচ্ছত্র আধিপত্য গিয়াস উদ্দিনের। তার চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারলে ব্যবসা করা কঠিন। চট্টগ্রামের যে কোন গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা একই কথা বলবে এমন দাবি করে বলেন, বান্দরবান, সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়া, রাঙামাটি খাগড়াছড়ির ব্যবসায়ীরাও গিয়াস উদ্দিনের হাতে জিম্মি।

‎এই বিষয়ে গিয়াস উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন তিনি সব দায় এস ও আশরাফ এর বলেই ফোনের লাইন কেটে দেন।এর পর তাকে বারবার ফোন করলে ও তিন আর ফোন রিসিভ করেন নি,পরে থাকে তার ওয়াটসআপ নাম্বারে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে ও তার পুরোপুরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এইবিষয়ে ফৌজদারহাট বিটের স্টেশন অফিসার আশরাফ এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন মাত্র দেড় মাস আগে আমি এই স্টেশনে যোগদান করেছি, গিয়াস উদ্দিন এর ব্যাপারে অভিযোগ পাইলে উর্ধতন কর্মকর্তাগন অফিসিয়ালি ব্যাবস্হা নিবেন।

‎দ্বিতীয় পর্ব আসছে…