খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশুর হাট যেন করোনা সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত না হয়: মেয়রকে সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
পশুর হাট যেন করোনা সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত না হয়: মেয়রকে সুজন

আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানি পশুর হাট যাতে করোনা সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত হতে না পারে সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের নিকট আহবান জানিয়েছেন  চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কার্যালয়ে মতবিনিময়কালে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

মতবিনিময় সভার প্রারম্ভে জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন মেয়রের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে জনদুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন সময় নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দের সাথে মূল্যবান সময় নষ্ট করে আলোচনা, জনহিতকর কর্মকান্ডকে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অপসারণে ত্বড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় চসিক মেয়রকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেই মুসলিম সম্প্রদায়কে এবারের ঈদুল আযহা পালন করতে হবে। প্রতিদিনই এ ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এবারের কোরবানি পালনে আমাদেরকে অবশ্যই সংযমী হতে হবে। কোরবানির নামে সামাজিক চাকচিক্য ও বিত্তবৈভবের প্রতিযোগিতা পরিহার করতে হবে। জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংক্রমণ রোধে কিছু প্রস্তাবনা চসিক মেয়রের কাছে উপস্থাপন করেন তিনি।

প্রস্তাবনাগুলো হলো: প্রতিটি পশুর হাটের প্রবেশমুখে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র এবং জীবানুমুক্ত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। মাস্ক ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতার হাটে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করতে হবে। সর্দি, কাশি, জ্বর নিয়ে কেউ হাটে প্রবেশ করতে পারবে না। শিশু ও বৃদ্ধদের হাটে অনুৎসাহিত করতে হবে। হাটের সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। প্রতিটি পশুর হাটে আলাদা প্রবেশপথ ও বাহিরপথ নিশ্চিত করতে হবে। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাট চালু থাকবে। একবারে যাতে ২০০ জনের অতিরিক্ত ক্রেতা হাটে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। পানি ও ব্লিচিং পাঊডার দিয়ে দ্রুত পশুর বর্জ্য পরিষ্কার করতে হবে। জলাবদ্ধতা তৈরি না করে নিরাপদ বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। হাটের আশে পাশে কোন প্রকার হোটেল, রেস্তোরা কিংবা খাবারের দোকান থাকতে পারবে না। একদিনের মধ্যেই কোরবানির সকল প্রকার বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। এছাড়া পোর্ট কানেকটিং সড়কটির নয়াবাজার সাগরিকা অংশে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রীসাধারণ দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে আছেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ঐ অংশটির কাজ সমাপ্তসহ নগরীর ভাঙ্গা রাস্তাঘাটসমূহ অতি দ্রুত সংস্কার করার অনুরোধ জানান তিনি।

অল্প কয়েকদিনের মধ্যে পোর্ট কানেকটিং সড়কটি চলাচল উপযোগী করা না হলে প্রয়োজনে ঠিকাদারের বাসাসহ সিটি কর্পোরেশনও ঘেরাও করা হবে বলে জানান তিনি।

তাছাড়া চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা যারা সেমিপাকা কিংবা আধাপাকা বাড়ীতে অল্প কয়টি রুম নিয়ে বসবাস করেন তাদের উপর কর আরোপ না করার অনুরোধ জানান তিনি।

দেখা যাচ্ছে যে তারা এক রুমে বসবাস করছেন অন্যদিকে আরেকটি রুম ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তাই তাদের উপর কর আরোপ না করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্টানসহ বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ যারা চট্টগ্রামের ভৌগলিক অবস্থানকে ব্যবহার করে ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রচুর পরিমান সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদের উপর করের পরিধি বৃদ্ধি করার আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি বর্ষায় নগরীর বিভিন্ন অংশ জলাবদ্ধতায় রূপান্তরিত হয়েছে। এর ফলে নগরবাসীর জীবনযাত্রা মারাত্নকভাবে ব্যহত হয়েছে। বিশেষ করে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে জলজট হয়ে ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নগরীর খালগুলোর ময়লা আবর্জনা এবং জোয়ারের পানি এক হয়ে উপচে পড়ে এ জলজট সৃষ্টি হচ্ছে। তাই খালের ময়লা সঠিক সময়ে অপসারণ এবং আভ্যন্তরীন নালাগুলো পরিস্কার করে পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ পুনরুদ্ধার করতে পারলেই জলজট থেকে মুক্তি পাবেন নগরবাসী। জলজট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহনের জন্যও মেয়রের নিকট আহবান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন বক্তব্যের প্রারম্ভেই জনদুর্ভোগ লাঘবে নাগরিক উদ্যোগ সবসময়ই নাগরিক সমস্যা নিয়ে সোচ্চার থাকায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, নাগরিক সমাজের কাজ হলো সমাজের বিভিন্ন ত্রুটি, অসঙ্গতি ও অনিয়ম খুঁজে বের করে সমাধানের লক্ষ্যে স্ব-স্ব দপ্তরে উপস্থাপন করা এবং নাগরিক উদ্যোগ সেই কাজটিই করেছে।

তিনি বলেন স্থানীয় সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষিত স্বাস্থ্য বিধি মেনেই পশুর হাট পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে ইজারাদারদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আমি নিজেও পশুর হাটে গিয়ে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য ক্রেতা-বিক্রেতাদের উদ্বুদ্ধ করেছি।

নাগরিক উদ্যোগের প্রতিটি প্রস্তাবনার সাথে একমত পোষন করে তিনি আরো বলেন, আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত মাস্ক পরিধান করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে পারলেই আমরা করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে পারি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সীমিত সাধ্য এবং সীমাবদ্ধতার মাঝেও নগরবাসীর সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করেন তিনি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সিটি কর্পোরেশনের ধারাবাহিক কর্মকান্ডের বিবরণও নেতৃবৃন্দের নিকট উপস্থাপন করেন চসিক মেয়র।

কোরবানি পশুর হাট যাতে কোনভাবেই করোনা সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত না হয় সেদিকে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

এছাড়া পোর্ট কানেকটিং সড়কের নয়াবাজার সাগরিকা অংশের কাজও চলমান উল্লেখ করে সভা চলাকালীন সময়ে ঐ সড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের সাথেও চসিক মেয়র এবং খোরশেদ আলম সুজন ফোনে আলাপ করে দ্রুততার সাথে রাস্তাটি চলাচল উপযোগী করার আহবান জানান।

নগরীর অন্যান্য ভাঙ্গা রাস্তাঘাটসমূহও দ্রুত সংস্কার করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন কর্পোরেশনের আয় সীমিত। সীমিত আয়ের মধ্যেও কর্পোরেশন নগরবাসীর উপর নতুন করে কোন প্রকার কর আরোপ করেনি। কর আদায়ের ক্ষেত্রে নাগরিক উদ্যোগ উত্থাপিত প্রস্তাবনার সাথেও সহমত পোষন করেন তিনি।

তাছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশাল অংকের বাজেটের কাজ চলমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহদ্দারহাট থেকে ২নং গেইট পর্যন্ত জলবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে সেহেতু ঐসব এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের কাজ করার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া নগরীর আরো বিভিন্ন এলাকায় জলবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলমান। এর বাহিরেও সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত ময়লা আবর্জনা অপসারণের কাজ করছে। তারপরও নগরীর কিছু এলাকায় জোয়ারের কারণে জলজট হচ্ছে।

তিনি ময়লা আবর্জনা অপসারণ সংক্রান্ত কোন তথ্য থাকলে তা সিটি কর্পোরেশনকে জানানোর জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে একদিনে মধ্যেই পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হবে বলে নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন তিনি। নগরবাসীর যে কোন ভোগান্তিতে চসিক এর হটলাইন নাম্বার ১৬১০৪ এ যোগাযোগ করার জন্যও তিনি আহবান জানান।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর মোঃ হোসেন হীরন, শৈবাল দাশ সুমন, আব্দুর রহমান মিয়া, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, মোরশেদ আলম, সমীর মহাজন লিটন এবং স্বরূপ দত্ত রাজু প্রমূখ।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।