খুঁজুন
, ,

পশুর হাট যেন করোনা সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত না হয়: মেয়রকে সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2020, 7:48 pm
পশুর হাট যেন করোনা সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত না হয়: মেয়রকে সুজন

আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানি পশুর হাট যাতে করোনা সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত হতে না পারে সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের নিকট আহবান জানিয়েছেন  চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কার্যালয়ে মতবিনিময়কালে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

মতবিনিময় সভার প্রারম্ভে জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন মেয়রের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে জনদুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন সময় নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দের সাথে মূল্যবান সময় নষ্ট করে আলোচনা, জনহিতকর কর্মকান্ডকে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অপসারণে ত্বড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় চসিক মেয়রকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেই মুসলিম সম্প্রদায়কে এবারের ঈদুল আযহা পালন করতে হবে। প্রতিদিনই এ ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এবারের কোরবানি পালনে আমাদেরকে অবশ্যই সংযমী হতে হবে। কোরবানির নামে সামাজিক চাকচিক্য ও বিত্তবৈভবের প্রতিযোগিতা পরিহার করতে হবে। জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংক্রমণ রোধে কিছু প্রস্তাবনা চসিক মেয়রের কাছে উপস্থাপন করেন তিনি।

প্রস্তাবনাগুলো হলো: প্রতিটি পশুর হাটের প্রবেশমুখে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র এবং জীবানুমুক্ত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। মাস্ক ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতার হাটে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করতে হবে। সর্দি, কাশি, জ্বর নিয়ে কেউ হাটে প্রবেশ করতে পারবে না। শিশু ও বৃদ্ধদের হাটে অনুৎসাহিত করতে হবে। হাটের সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। প্রতিটি পশুর হাটে আলাদা প্রবেশপথ ও বাহিরপথ নিশ্চিত করতে হবে। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাট চালু থাকবে। একবারে যাতে ২০০ জনের অতিরিক্ত ক্রেতা হাটে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। পানি ও ব্লিচিং পাঊডার দিয়ে দ্রুত পশুর বর্জ্য পরিষ্কার করতে হবে। জলাবদ্ধতা তৈরি না করে নিরাপদ বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। হাটের আশে পাশে কোন প্রকার হোটেল, রেস্তোরা কিংবা খাবারের দোকান থাকতে পারবে না। একদিনের মধ্যেই কোরবানির সকল প্রকার বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। এছাড়া পোর্ট কানেকটিং সড়কটির নয়াবাজার সাগরিকা অংশে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রীসাধারণ দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে আছেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ঐ অংশটির কাজ সমাপ্তসহ নগরীর ভাঙ্গা রাস্তাঘাটসমূহ অতি দ্রুত সংস্কার করার অনুরোধ জানান তিনি।

অল্প কয়েকদিনের মধ্যে পোর্ট কানেকটিং সড়কটি চলাচল উপযোগী করা না হলে প্রয়োজনে ঠিকাদারের বাসাসহ সিটি কর্পোরেশনও ঘেরাও করা হবে বলে জানান তিনি।

তাছাড়া চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা যারা সেমিপাকা কিংবা আধাপাকা বাড়ীতে অল্প কয়টি রুম নিয়ে বসবাস করেন তাদের উপর কর আরোপ না করার অনুরোধ জানান তিনি।

দেখা যাচ্ছে যে তারা এক রুমে বসবাস করছেন অন্যদিকে আরেকটি রুম ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তাই তাদের উপর কর আরোপ না করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্টানসহ বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ যারা চট্টগ্রামের ভৌগলিক অবস্থানকে ব্যবহার করে ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রচুর পরিমান সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদের উপর করের পরিধি বৃদ্ধি করার আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি বর্ষায় নগরীর বিভিন্ন অংশ জলাবদ্ধতায় রূপান্তরিত হয়েছে। এর ফলে নগরবাসীর জীবনযাত্রা মারাত্নকভাবে ব্যহত হয়েছে। বিশেষ করে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে জলজট হয়ে ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নগরীর খালগুলোর ময়লা আবর্জনা এবং জোয়ারের পানি এক হয়ে উপচে পড়ে এ জলজট সৃষ্টি হচ্ছে। তাই খালের ময়লা সঠিক সময়ে অপসারণ এবং আভ্যন্তরীন নালাগুলো পরিস্কার করে পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ পুনরুদ্ধার করতে পারলেই জলজট থেকে মুক্তি পাবেন নগরবাসী। জলজট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহনের জন্যও মেয়রের নিকট আহবান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন বক্তব্যের প্রারম্ভেই জনদুর্ভোগ লাঘবে নাগরিক উদ্যোগ সবসময়ই নাগরিক সমস্যা নিয়ে সোচ্চার থাকায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, নাগরিক সমাজের কাজ হলো সমাজের বিভিন্ন ত্রুটি, অসঙ্গতি ও অনিয়ম খুঁজে বের করে সমাধানের লক্ষ্যে স্ব-স্ব দপ্তরে উপস্থাপন করা এবং নাগরিক উদ্যোগ সেই কাজটিই করেছে।

তিনি বলেন স্থানীয় সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষিত স্বাস্থ্য বিধি মেনেই পশুর হাট পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে ইজারাদারদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আমি নিজেও পশুর হাটে গিয়ে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য ক্রেতা-বিক্রেতাদের উদ্বুদ্ধ করেছি।

নাগরিক উদ্যোগের প্রতিটি প্রস্তাবনার সাথে একমত পোষন করে তিনি আরো বলেন, আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত মাস্ক পরিধান করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে পারলেই আমরা করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে পারি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সীমিত সাধ্য এবং সীমাবদ্ধতার মাঝেও নগরবাসীর সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করেন তিনি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সিটি কর্পোরেশনের ধারাবাহিক কর্মকান্ডের বিবরণও নেতৃবৃন্দের নিকট উপস্থাপন করেন চসিক মেয়র।

কোরবানি পশুর হাট যাতে কোনভাবেই করোনা সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত না হয় সেদিকে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

এছাড়া পোর্ট কানেকটিং সড়কের নয়াবাজার সাগরিকা অংশের কাজও চলমান উল্লেখ করে সভা চলাকালীন সময়ে ঐ সড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের সাথেও চসিক মেয়র এবং খোরশেদ আলম সুজন ফোনে আলাপ করে দ্রুততার সাথে রাস্তাটি চলাচল উপযোগী করার আহবান জানান।

নগরীর অন্যান্য ভাঙ্গা রাস্তাঘাটসমূহও দ্রুত সংস্কার করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন কর্পোরেশনের আয় সীমিত। সীমিত আয়ের মধ্যেও কর্পোরেশন নগরবাসীর উপর নতুন করে কোন প্রকার কর আরোপ করেনি। কর আদায়ের ক্ষেত্রে নাগরিক উদ্যোগ উত্থাপিত প্রস্তাবনার সাথেও সহমত পোষন করেন তিনি।

তাছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশাল অংকের বাজেটের কাজ চলমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহদ্দারহাট থেকে ২নং গেইট পর্যন্ত জলবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে সেহেতু ঐসব এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের কাজ করার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া নগরীর আরো বিভিন্ন এলাকায় জলবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলমান। এর বাহিরেও সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত ময়লা আবর্জনা অপসারণের কাজ করছে। তারপরও নগরীর কিছু এলাকায় জোয়ারের কারণে জলজট হচ্ছে।

তিনি ময়লা আবর্জনা অপসারণ সংক্রান্ত কোন তথ্য থাকলে তা সিটি কর্পোরেশনকে জানানোর জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে একদিনে মধ্যেই পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হবে বলে নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন তিনি। নগরবাসীর যে কোন ভোগান্তিতে চসিক এর হটলাইন নাম্বার ১৬১০৪ এ যোগাযোগ করার জন্যও তিনি আহবান জানান।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর মোঃ হোসেন হীরন, শৈবাল দাশ সুমন, আব্দুর রহমান মিয়া, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, মোরশেদ আলম, সমীর মহাজন লিটন এবং স্বরূপ দত্ত রাজু প্রমূখ।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।