খুঁজুন
, ,

কোন ষড়যন্ত্রই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 3 November, 2020, 11:16 pm
কোন ষড়যন্ত্রই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিডিআর হত্যাকান্ড ও হেফাজতে ইসলামের পদক্ষেপসহ বেশ কয়েকটি ষড়যন্ত্রের উল্লেখ করে জনসমর্থনের প্রতি আওয়ামী লীগের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কেউ চাইলেই আওয়ামী লীগকে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারবে না। যখন আমরা ২০০৮ এর পর থেকে সরকারে এসেছি অনেক ভাবে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের চেষ্টা করা হয়েছে, বিডি্আরের ঘটনা ঘটানো হলো, হেফাজতের ঘটনা ঘটানো, নানা ধরনের ঘটনা, বহু রকমের কারসাজির চেষ্টা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে খুন করে ফেলা যায়, হত্যা করে ফেলা যায়, কিন্তু জনসমর্থন না থাকলে ক্ষমতায় গিয়ে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না, মানুষের কল্যাণও করতে পারে না, এ হচ্ছে বাস্তবতা।’ প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ বিকেলে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ টিকে আছে কারণ এর তৃণমূলের নেতা-কর্মী অর্থাৎ এর শিকড়ের শক্তি অনেক গভীরে। কাজেই, সেটা যদি কারো চক্ষুশূল হয় বা সে কারণে কারো মনে ব্যথা হয় তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা জনগণের সমর্থনটা পাই কারণ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণের স্বার্থে, জনকল্যাণে এবং জনগণের মঙ্গলে কাজ করে। আর এটা জনগণ খুব ভালভাবে উপলদ্ধি করে এবং এর শুভফলটা জনগণই পায়।’

আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের ওপর নির্মম অত্যাচার-নির্যাতনের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে, কত পরিবার লাশ খুঁজে পায়নি। তারা কেবল হত্যাই করেনি একটি জাতির একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ টিকে আছে শুধু জনগণের জন্য কাজ করার মধ্যে দিয়ে। কারও দয়া ভিক্ষে করে না, কারও করুণা ভিক্ষে করে না।’

জাতির পিতা, জাতীয় চার নেতাসহ বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এত হত্যাকান্ড চালিয়েও তৃণমূলে যার শিকড় একেবারে গ্রথিত সেই সংগঠনের ক্ষতি তারা করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ টিকে আছে কারণ এর তৃণমূলের নেতা-কর্মী, অর্থাৎ এর শিকড়ের শক্তি অনেক বেশি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা শুধু এই দিবসটা পালন নয়, সেই সাথে সাথে আমাদের এই কথা মনে রাখতে হবে, যে সন্ত্রাসী চক্র, খুনী চক্র, স্বাধীনতা বিরোধী চক্র তারা কিন্তু বসে নাই। তাদের চক্রান্ত চলতেই থাকবে যত ভাল কাজই আমরা করি না কেন তাদের মুখ থেকে ভাল কথা বের হয় না।’

তিনি গণভবনের থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউস্থ পার্টি কার্যালয়ে মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। এতে আরো বক্তৃতা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অপপ্রচার চালাবার বা সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে তাদেরকে আমি এটাই বলবো তারা কি ৩ নভেম্বরের ঘটনা কোনদিন ভেবে দেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেধাবীদের এক হাতে জিয়াউর রহমান পুরস্কার আর অন্য হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। অস্ত্র, জঙ্গিবাদ, মাদক দিয়ে প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তারা ধ্বংস করেছে। তারা তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ এবং কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘এদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এই নির্বাচন কারা শুরু করেছিল।’ ভোট নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনকারিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘জিয়ার নির্বাচন দেখুক আর এরশাদের নির্বাচন দেখুক।’

খালেদা জিয়া সরকারের সময়ে ভোটার লিস্টে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্তির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৬ সালের নির্বাচনের জন্য ১ কোটি ২৩ লাভ ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোটার লিস্ট বানানো হলো। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি বাংলাদেশকে ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করলো। বাংলাভাই, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হলো, এভাবেই একটা দেশকে তারা আবারো ধ্বংসের দিকে নিল। এরআগে ’৯১ সালে এই খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের হাত ধরে ক্ষমতায় এসেছিল এরপর ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন, রাজনৈতিক দলবিহীন নির্বাচন করলো।

তিনি বলেন, সে সময় আওয়ামী লীগের রাজপথের আন্দোলনে সে বছরের ৩০ মার্চ জনগণের অভ্যুত্থানে খালেদা জিয়া মাত্র দেড় মাসের মধ্যে পদত্যাগে বাধ্য হয় এবং ক্ষমতা থেকে চলে যায় ভোট চুরির অপরাধে। কাজেই, বিএনপি’র যে নেতারা কথা বলে তাদেরকে আপনারা এই কথাটা স্মরণ করিয়ে দেবেন। কারণ, মানুষ সে কথা ভুলে যায়নি।

১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অভ্যন্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর এবং পাকিস্তানে তাঁর আটককালীন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারি জাতীয় চার নেতা মুজিব নগরের প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী এম মুনসুর আলী এবং খাদ্য ও ত্রাণ মন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের কার্যক্রমে একটি গ্রুপ বা এলিট শ্রেণীই কেবল সুবিধা পায় না বরং সুবিধাটা একেবারে গ্রাম পর্যায়ে তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। সে কারণেই আমরা জনগণের সমর্থন পাই।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের ঘটনাকে যারা কেবল একটি পারিবারিক ঘটনা বলে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করেছিল তাদের আসল উদ্দেশ্যটা ধরা পড়ে যায় ৩ নভেম্বরের হত্যাকান্ডে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যারা মানতে পারে নাই, স্বাধীন বাংলাদেশকেই যারা স্বীকার করে নাই, মানতে চায় নাই, তাদের দোসররাই ছিল এর মাঝে এবং তারাই ছিল এই হত্যাকান্ডের মূল হোতা। কেবল হত্যাকান্ড সংগঠন নয় পুরো আদর্শকেই পরিবর্তন করা হয়েছিল।

খন্দকার মোস্তাককে ‘বেইমান,’ ‘মীরজাফর’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, মোস্তাক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং ৩ নভেম্বরের জেলহত্যায় জড়িত ছিল। কারণ, সে ছিল রাষ্ট্রপতি এবং জিয়া ছিল তার প্রধান সেনাপতি। তাদেরই পরিকল্পনা এবং তাদেরই হুকুমে কারাগারের দরজা খুলে খুনীদের প্রবেশ করতে দেয়া হয় এবং তারাই হত্যাকান্ডটা ঘটায়। এরই ধারাবাহিকতায় জিয়াউর রহমান একদিকে সেনাপ্রধান অপরদিকে নিজেকে নিজে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেন। কাজেই, চক্রান্তটা যে কোথায় তা সহজেই বোঝা যায়, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বে যে সম্মান ছিল সেটাও আমরা হারিয়ে ফেলি এবং একটা খুনী জাতি হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত হতে হয়। মানুষের কাছে হাত পেতে, তাদের দয়া দক্ষিণা নিয়ে বাংলাদেশকে চলতে হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং দুর্নীতির কারণে দেশে জরুরী অবস্থা জারি হয় এবং ওয়ান ইলেভেন আসে এবং খালেদা জিয়ার পছন্দের লোকদের নিয়েই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারও ক্ষমতায় এসে দল গঠনের চেষ্টা করে।

বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেওয়ায় নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসকে মোবাইল কোম্পানী পরিচালনার অনুমতি তাঁর সরকারই প্রদান করেছিল উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘মোবাইল ফোনের ব্যবসাটা আমি উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম সকলের কাছে। তাই, ড. ইউনুসকেও একটা মোবাইল ফোনের ব্যবসা দিয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘সেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং গ্রামীণ ফোনের ড. ইউনুস গেলেন রাজনৈতিক দল করতে। জনগণের সারাও পেলেন না দলও গঠন করতে পারলেন না। ওয়ান ইলাভেনে কিংস পার্টি করতে এসেও জনসমর্থন পেলেন না।’

বিরোধী দলে থাকলেও মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকেই (শেখ হাসিনা) আগে গ্রেফতার করে পুরো রাজনীতি ধ্বংসের প্রচেষ্টা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের যে ভালবাসা ছিল সেটা ২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে ক্ষমতাসীনরা আঁচ করতে না পারায়, সে সময়, একটা ঝুলন্ত সংসদ হবে বলেই তারা ধারণা করেছিল। জনগণের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে সে সময় সরকার গঠনের পর একটার পর একটা ভোটে জয়ী হয়েই সরকার গঠন করেছি। কারণ, আমরা জনগণের জন্য কাজ করেছি।

তিনি বিএনপি’র কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে যারা পরিচয় দেয় তারা কাদের হাতে তৈরী করা।

তিনি বলেন, বিএনপি মাইক একটা লাগিয়ে সারাদিন আমাদের সমালোচনা করে যাচ্ছে। কিন্তু এখানে প্রশ্ন আসে এই রাজনৈতিক দলটার জন্ম কোথায়। এই রাজনৈতিক দলতো মাটি ও মানুষের মধ্য থেকে গড়ে ওঠেনি। যেমন আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যারা গড়ে তুলেছিলেন, তারা তো ক্ষমতায় ছিলেন না। তারা ক্ষমতায় না থেকেই মাটি ও মানুষের মাঝ থেকে বাংলাদেশের জনগণকে নিয়েই এই সংগঠনটা গড়ে তুলেছিলেন জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করার জন্য। অন্যদিকে বিএনপির জন্মস্থানতো ক্যান্টনমেন্টে। সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতায় বসে এই দলটার সৃষ্টি করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দলের জন্ম হয় সে দল জাতিকে কি দেবে। জাতির জন্য কি করতে পারে তারা। তারাই এই দেশে দুর্নীতির বীজটা বপন করেছে। কারণ, দলভারি করার জন্য কিছু লোককে অবৈধ অর্থ বানানোর সুযোগ করে দিয়েছে, ঋণ খেলাপির সুযোগ করে দিয়ে একটা এলিট শ্রেণী তৈরী করেছে। যাদের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তো করার চেষ্টা করেছে।

এ সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, এরপর আবারো সেই ক্যু’র মধ্যদিয়েই এলো এরশাদ। সেও জিয়ার পদাংক অনুসরণ করে একদিন নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করলো। পরে একই প্রক্রিয়ায় দল গঠন করলো ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে।

তিনি বলেন, এইসব দল যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল তখন দেশের কি উন্নতি হয়েছে। সাধারণ মানুষের কি উন্নতি হয়েছে বা তারা কি দারিদ্র বিমোচন করতে পেরেছে? প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি।

তিনি সে সময়কার সুবিধাবাদী শ্রেণীর সমালোচনা করে বলেন, ‘জিয়া গণতন্ত্র দিয়েছে, বহুদলীয় গণতন্ত্র ইত্যাদি কথা বলে সে সময় অনেকেই চলে গেছে তার সাথে। কিন্তু একবারও কি তারা ভেবে দেখেছে যারা অবৈভভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় আসে তারা গণতন্ত্র দিতে পারে না। আর সে গণতন্ত্র প্রকৃত গণতন্ত্র হয় না। কতগুলো দল করতে দিয়েই সেটা গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থা হয় না। তাই, যদি হোত তাহলে দেশের অনেক উন্নতি হতে পারতো, জনগণের কাছে জবাবদিহিতাটা থাকতো।’

তাঁর সরকারের বাক স্বাধীনতা এবং টিভি চ্যানেলকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগে নানাজনে নানা ‘বচন’ দিচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারো কারো প্রশ্ন বাংলাদেশ কি একদলেই চলে যাচ্ছে। কারণ, সঙ্গে কমিউনিষ্ট পার্টি এবং বিভিন্ন সংঠন ও বাম রাজনৈতিক দল সঙ্গে থাকলেও মূল সংগঠন তো আওয়ামী লীগ।’

আর কোন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের এত হত্যা এবং নির্যাতনের স্বীকার কি হতে হয়েছে? সে প্রশ্ন উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আর কোন রাজনৈতিক দলকে এভাবে মৃত্যুর মুখে পড়তে হয়নি। দেশের প্রত্যেক আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাই জীবন দিয়েছে। মুজিব আদর্শের সৈনিকরাই বার বার জীবন দিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে গেছে।

তিনি ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব নতুন করে বেড়ে যাওয়ায় জনগণকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা এবং বাইরে বের হলেই মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে পুনরায় সতর্ক করেন।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2
Feb2

ভূমিকম্পের ৩ মিনিট পরই নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধস, নিহত বেড়ে ১৫৭

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 27 August, 2026, 8:57 am
ভূমিকম্পের ৩ মিনিট পরই নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধস, নিহত বেড়ে ১৫৭

২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালে আঘাত হেনেছে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় নেপালে শুরু হয় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস। ভয়াবহ এই দুর্যোগে দেশটিতে অন্তত ১৫৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৪০৩ জন মানুষ, যাদের অধিকাংশই বিদেশি পর্যটক।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক এ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ঠিক কী কারণে হঠাৎ এমন বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল গতকাল দেশটির পার্লামেন্টে বলেন, ভূমিকম্পটি হয় স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে। এর ৩ মিনিটের মাথায় অর্থাৎ ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘তবে এটা আমাদের যাচাই করে দেখতে হবে।’

নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকাগুলো থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রসুয়ায় ১ জন, নুয়াকোটে ১১ জন, ধাদিংয়ে ১৮ জন, চিতওয়ানে ৩৩ জন, গোর্খায় ১৯ জন, তানাহুঁতে ৭ জন এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্যমতে, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক এবং ৬১ জন নেপালি। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ২৬টি দেশের নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজ এই ব্যক্তিদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ। ট্যুর অপারেটরদের বরাত দিয়ে পর্যটন বোর্ড আরও জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজু ভাদেল (৫৬) বলেন, ‘আজ (বুধবার) সকালে আমার ভগ্নিপতি আমাকে ফোন করেছিলেন। তারা কাঁদছিলেন এবং বলছিলেন যে তাদের পুরো বাড়িটি বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। পরিবারের তিন সদস্যকে উদ্ধার করা গেলেও তার ভাই এখনো নিখোঁজ।’

নেপাল পুলিশের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গেছে, নদীর তীব্র পানির তোড়ে বাড়িঘর ভেসে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির ছবিতে দেখা যায়, কাদামাটির নিচ থেকে একটি বাড়ির শুধু ওপরের অংশটি দেখা যাচ্ছে।

দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে তাদের প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, এই দুর্যোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা উপদ্রুত এলাকায় ইতোমধ্যে হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলাকর্মী মোতায়েন করেছে।

এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, আকস্মিক এই বন্যায় তিব্বতের গিরংয়ে তিনজন মারা গেছেন। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৬৫ জন। নেপাল সীমান্তের তিব্বত বাণিজ্যকেন্দ্রে ভূমিধসে ‘ব্যাপক হতাহতের’ ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক’ উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।

নেপালে শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ ৪০০, নিহত ৫৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 7:59 pm
নেপালে শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ ৪০০, নিহত ৫৫

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৪০০ জন পর্যটক নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ট্যুরিজম বোর্ডের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জনই বিদেশি নাগরিক। ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১১১ জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনাক্ত হওয়া বাকিদের মধ্যে নেপালের স্থানীয়, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক আছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রাত সাড়ে ৭টার পর বার্তা সংস্থা রয়টার্স ৫৫ জন নিহতের তথ্য দিয়েছে। নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত বাড়ছে। এই বন্যায় প্রতিবেশী তিব্বতেও ‘ব্যাপক হতাহতের’ খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতে কৈলাস মানসসরোবরে যাওয়া প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

বুধবার ভোরে আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুওয়া জেলায় চীন সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, হিমালয় ঘেঁষা চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর শুরু হয় তুষারধস। সেখান থেকে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। শিশির খানাল জানান, তাঁর দেশ চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ২৬ পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সামরিক সদস্য নিখোঁজ আছেন।

এদিকে দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজন ভক্ত কায়স্থ জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, তুষারধস লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দিলে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। একই সময় ভূমিকম্পও অনুভূত হয়।

নেপাল পুলিশ ও এএফপির প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, নদীর প্রবল স্রোত আশপাশের বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাদামাটির মধ্যে একটি বাড়ির শুধু ওপরের তলা বেরিয়ে আছে। নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তারা হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাঠিয়েছে।

জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপালের অংশে বন্যার কারণে তিব্বতের গিরং বন্দরে ব্যাপক হতাহত ও বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এসব প্রতিবেদনে তিব্বতে আহত বা নিহতের সংখ্যা জানানো হয়নি।

বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 6:24 pm
বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের অনুকূলে দেওয়া বিএসটিআই লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

আজ বুধবার বিএসটিআই জানিয়েছে, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হয়।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে তা ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান অনুযায়ী অকৃতকার্য হয়েছে। এসব মসলায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েলের তালিকায় রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন মহাপরিচালক।