খুঁজুন
, ,

ঝালকাঠিতে মাধ্যমিক স্কুলে অ‍্যাসাইনমেন্টের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোড়পূর্বক অর্থ আদায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 11 November, 2020, 4:51 pm
ঝালকাঠিতে মাধ্যমিক স্কুলে অ‍্যাসাইনমেন্টের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোড়পূর্বক অর্থ আদায়

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে হোম অ্যাসাইনমেন্টের কথা বলে ঝালকাঠির অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোড়পূর্বক অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জেলার রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখেরও বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

চলতি বছরের ডিসেম্বরে অবসরে যাবেন এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা গাজী। অবসরে যাওয়ার আগমুহূর্তে সাত শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এসব টাকা আদায় করেছেন তিনি। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীদের দরিদ্র অভিভাবকরা। এদিকে জেলার নলছিটি উপজেলার অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হোম অ্যাসাইনমেন্টে ও অন্যান্য খরচের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ে হোম অ্যাসাইনমেন্ট ছাড়াও মসজিদের চাঁদা, কারেন্ট বিল, বেতন, সেশন ফি, পরীক্ষার ফি নিচ্ছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

করোনার মধ্যে আয় হারানো অসংখ্য পরিবার এসব টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ধার দেনা করেও অনেক অভিভাবক সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা করে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যালয়ের বেধে দেওয়া টাকা পরিশোধ করতে। জানা যায়, রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সাত শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। শ্রেণিভেদে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাঁচশ থেকে আটশ পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সকল প্রকার অর্থ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘হোম অ্যাসাইনমেন্ট’ এর কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে অনেক অভিভাবক ক্ষুব্দ হন। অনেকেই বিভিন্ন স্থানে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। এতেও থামেনি তাদের অর্থ বাণিজ্য। অনেক অভিভাবক টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয়।

অ্যাসাইনমেন্টের নামে জোর করে টাকা নেওয়া হচ্ছে এ ঘটনা জানাজানি হলে এখন বেতনসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য খরচের কথা বলে টাকা আদায় করছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চাপে অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাদের ওপর নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয় থেকে ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ এর জন্য গত সপ্তাহে ৭৩৫ টাকা চেয়েছে। গত সোমবার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এই শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানায়, প্রথমে অ্যাসাইনমেন্টের কথা বলে টাকা নেয়। আমরা যখন জানতে পেরেছি অ্যাসাইনমেন্টে কোন টাকা লাগে না। তখন চ্যালেঞ্জ করলে এখন বলা হচ্ছে, বেতনসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খরচের জন্য নেওয়া হচ্ছে। তারমানে হচ্ছে টাকা তাদের নিতেই হবে, সেটা যেভাবে হোক।

বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য যে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছিল, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ টাকা আদায়ের জন্য তা পরিবর্তন করে নিজেদের খেয়াল খুশি মতো অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করেছেন। যাতে করোনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে। যা সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা অবগত নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা গাজী বলেন, আমরা ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে বিদ্যালয়ের নিজস্ব ফটোকপি মেশিনে ফটো করে বিনামূল্যে দিচ্ছি। এ বিষয়ে কোন টাকা পয়সা নেওয়া হয়নি। যারা অভিযোগ করেছেন, তারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সরকারি নির্দেশনা মেনেই আমরা কাজ করছি।

অভিভাবকদের অভিযোগে জানা যায়, নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর বিজি ইউনিয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খাগড়াখানা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছাড়াও বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট ফি নিলেও রশিদ দিচ্ছেন বেতন আদায়ের। রশিদে ১৯টি বিষয়ের বিবরণ থাকলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কোন বিষয় ছাড়াই ৭০০ থেকে ৮৮০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। করোনার মধ্যে বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে, নেই পাঠদান কার্যক্রম। অথচ এসব বিদ্যালয়ে বেতনও নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলার সুবিদপুর বিজি ইউনিয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী লিয়া আক্তারের মা নুসরাত জাহান অভিযোগ করেন, আমার কাছ থেকে ৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। বাড়িতে বসে পরীক্ষা হলে খাতাও আমাদের কিনতে হবে, তাহলে কেন টাকা দিবো। শুধু আমার কাছ থেকেই নয়, সব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক নাসির উদ্দিন খান বলেন, আমার মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আমার কাছ থেকে ৬০০ টাকা নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানতে চাইলে, তারা একটি রশিদ ধরিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে সুবিদপুর বিজি ইউনিয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আহম্মেদ বলেন, আমরা অ্যাসাইনমেন্ট ফি নিচ্ছি না। বিদ্যালয়ের বেতনসহ অন্যান্য খরচ বাবদ টাকা নেওয়া হচ্ছে, এটার রশিদও দিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু কোন প্রকার টাকা নেওয়া যাবে না বলে সরকারের নির্দেশ রয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ ধরনের কোন নির্দেশনা নেই।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের মতামত নিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ঘোষণা দিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এখন কোন প্রকার টাকা নেওয়া যাবে না। অ্যাসাইনমেন্টের জন্য কোন ফি নেই, এ ছাড়াও বিদ্যালয়ের বেতনসহ আনুসাঙ্গিক কোন খরচ নেওয়া যাবে না। এ নির্দেশনা যারা অমান্য করছেন, তারা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে টাকা নিচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কেউ লিখিতভাবে জানালে আমরা ব্যবস্থা নিবো।

২৪ঘণ্টা/এন এম রানা/আতাউর

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।