খুঁজুন
, ,

ভোক্তা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা প্রণয়নের দাবি ক্যাব’র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 15 November, 2020, 4:51 pm
ভোক্তা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা প্রণয়নের দাবি ক্যাব’র

সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভাবে নীতিমালা প্রণয়ন করা না হলে চরম হুমকির মুখে পড়বে ভোক্তা স্বাস্থ্য। চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানুষ গরুর মাংশ ভুজী মানুষের আধিক্য বেশী থাকায় হ্দৃরোগসহ নানা জঠিল রোগে আক্রান্তের হার বেশী। খাদ্যে অতিমাত্রায় ট্রান্সফ্যাট মানুষের হৃদরোগ ঝুঁকি বাড়ায়। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবধরনের ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

রবিবার (১৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ‘খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট, হৃদরোগের ঝুঁকি এবং করণীয়: পরিপ্রেক্ষিত ভোক্তা’ শীর্ষক বিভাগীয় সেমিনারে উপরোক্ত দাবি জানানো হয়।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন)মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সোমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ।

ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ হাসান শাহরিয়া কবীর, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রফেসর ও হ্দরোগ বিভাগের প্রধান ডাঃ প্রফেসর প্রবীপ কুমার দাস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিধপ্তরের বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হুদা, আনসার ১৫ ব্যাটেলিয়ানের পরিচালক এস এম আজিম উদ্দীন, বিএসটিআই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম রেজা, জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ ফয়েজউল্যাহ।

আলোচনায় অংশনেন চট্টগ্রাম চেম্বারস অব কর্মাসের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, পরিচালক অহিদ সিরাজ স্বপন, চট্টগ্রাম ইউমেন চেম্বারস অব কর্মাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেখা আলম চৌধুরী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুব্রত কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম ডায়বেটিস জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্ঠিবিদ হাসিনা আকতার লিপি, অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফেরদৌসী আকতার, জেলা শিশু কর্মকতা নার্গিস আকতার, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা নাজমুস সুলতানা শীমা, চট্টগ্রাম সিটিকরপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগম, সরকারী মহসিন কলেজের অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রেহেনা আকতার, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি হাজী সালামত আলী, বাংলাদেশ রেস্তোরা মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ইলিয়াছ ভুইয়া, ফুলকলির জিএম এম এ সবুর, বনফুলের জিএম আনামুল হক, গ্রীণ গেইনের আসাদুল্লাহ গালিব, সাবেক বিভাগীয় স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা খাইরুল বাশার প্রমুখ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ডাঃ মোঃ মাহবুবুস সোবহান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করে প্রজ্ঞা’র ট্রান্সফ্যাট বিষয়ক প্রকল্প সমন্বয়ক মাহমুদ আল ইসলাম শিহাব ও ক্যাবের প্রাজেক্ট কো-অর্ডিনেটর খন্দকার তৌফিক আল হোসাইনী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ বলেন নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার অভাব আছে। ট্রান্সফ্যাট নিয়ে দেশে এখনও নীতিমালা প্রনীত হয়নি। আর নীতিমালা না হলে এক্ষেত্রে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরগুলি কার্যকর উদ্যোগ নিতে সক্ষম হবে না। তাই ট্রান্স ফ্যাট নিয়ে নীতিমালা প্রণয়ণে সরকারের সংস্লিষ্ঠ মহলে বিষয়টি উত্থাপনের বিষয়ে আশ্বাস দেন। তিনি ট্রান্স ফ্যাটসহ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে চাহিদা ও যোগানের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্ঠি জরুরী বলে মত প্রকাশ করেন। যদি অনিরাপদ খাদ্য বিষয়ে ভোক্তারা সচেতন হয়, তাহলে ঐ খাদ্যের চাহিদা কমে যাবে এবং ব্যবসায়ীরা ঐ খাদ্য উৎপাদনে অনাগ্রহী হবে। তাই ভোক্তা পর্যায়ে আরও বেশী করে গণসচেতনতামুলক কর্মসুচি গ্রহনে ক্যাবসহ সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহবান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা ও ভোক্তা হিসাবে দায়িত ¡পালনের বিকল্প নাই। ভোক্তারা সচেতন নয় বলে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলিও দায়িত্বহীন আচরণ করে থাকেন। দায়িত্বশীল ভোক্তারা যদি দায়িত্বপুর্ণ আচরণ করেন তাহলে এখাতে স্বনিয়ন্ত্রিত রেগুলেশন আসতে বাধ্য।

সেমিনারে জানানো হয়, খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাটের প্রধান উৎস হচ্ছে পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল (পিএইচও), যা ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে পরিচিত। ভেজিটেবল অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেল (পাম, সয়াবিন ইত্যাদি) যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেশন করা হলে তেল তরল অবস্থা থেকে মাখনের মতো জমে যায়, এই প্রক্রিয়ায় ট্রান্সফ্যাটও উৎপন্ন হয়। এই শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। মাত্রাতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ উচ্চহারে হৃদরোগ, হৃদরোগজনিত মৃত্যু, স্মৃতিভ্রংশ (dementia) এবং স্বল্প স্মৃতিহানি (cognitive impairment) জাতীয় রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর হিসেব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫,৭৭৬ জন মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ি ট্রান্সফ্যাট। ডব্লিএইচও প্রকাশিত “WHO REPORT ON GLOBAL TRANS FAT ELIMINATION 2020” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিশ্বে ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ঘটে ১৫টি দেশে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

অতিসম্প্রতি, ঢাকার শীর্ষস্থানীয় পিএইচও (পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল) ব্র্যান্ডসমূহের নমুনার ৯২ শতাংশে ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২% মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট (ট্রান্স ফ্যাটি এসিড) পেয়েছেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট এর গবেষকগণ। গবেষণায় ঢাকার পিএইচও নমুনা বিশ্লেষণ করে প্রতি ১০০ গ্রাম পিএইচও নমুনায় সর্বোচ্চ ২০.৯ গ্রাম পযন্ত ট্রান্সফ্যাট এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা ডব্লিউএইচও এর সুপারিশকৃত মাত্রার তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি। বাংলাদেশে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা না থাকায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে জনস্বাস্থ্য। এমতাবস্থায়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবধরনের ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা কার্যকর করার দাবি জানায় ক্যাব। পাশাপাশি সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে মোড়কজাত খাবারের পুষ্টিতথ্য তালিকায় ট্রান্সফ্যাটের সীমা উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা, উপকরণ তালিকায় পিএইচও এর মাত্রা উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা, ফ্রন্ট অব প্যাকেজ লেবেলস বাধ্যতামূলক করা যা খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি নির্দেশ করবে, এবং “ট্রান্সফ্যাট-মুক্ত” বা “স্বল্পমাত্রার ট্রান্সফ্যাট” এ জাতীয় স্বাস্থ্যবার্তা ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলা হয়। এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে খাদ্যপণ্যের উপাদান সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পায় বলে আলোচনা সভায় জানানো হয়।

স্বাগত বক্তব্যে ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ক্যাব দীর্ঘদিন যাবৎ সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। ট্রান্সফ্যাট নতুন একটি উপসর্গ আর্বিভুত হয়েছে। আর এই ট্রান্সফ্যাটের কারনে হ্দরোগসহ নানা অসংক্রমন রোগের প্রার্দুভাব প্রতিনিয়তই বাড়ছে। আর “ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে কোনো নীতি না থাকায় ভোক্তা স্বাস্থ্য চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে। ভোক্তা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ট্রান্সফ্যাট নির্মূল করার জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, উৎপাদক ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

২৪ ঘণ্টা/মোরশেদ

Feb2
Feb2

অপরাধ দমনে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 1:47 pm
অপরাধ দমনে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সহযোগিতা করতে জনগণ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার সচেষ্ট জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এমন কোনো অপরাধ নেই, যেটা সংঘটিত হওয়ার পরপরই পুলিশ বাহিনী সেটা (অপরাধীকে) গ্রেপ্তার করতে পারেনি।’ তবে অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আজ বুধবার সকালে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিএনপির আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর যে ভঙ্গুর অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাওয়া গিয়েছিল, গত ছয় মাসে তাদের মনোবল ফিরছে। পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী এখন পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ দমনে কাজ করছে। ভালো কাজের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পুরস্কার, সনদ ও পদক দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে সরকার ‘দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন’ নীতি অনুসরণ করছে। তবে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রংপুরের আলোচিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় যৌক্তিক সময়ের মধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মিরপুরের শিশুধর্ষণ ও হত্যা থেকে শুরু করে জাতীয়ভাবে আলোচিত কিংবা আলোচনার বাইরে থাকা প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সমাজের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত বিচার শেষ করতে সহযোগিতা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিকায়ন করা, তাদের মনোবল বাড়ানো এবং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করার কাজ একসঙ্গে চলছে। অন্যান্য শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব বাহিনীর জবাবদিহি ও কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) শিক্ষা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাঁর আদর্শে শান্তি, ক্ষমা, ধৈর্য, সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা রয়েছে। দেশে ও বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায়, সাম্য ও শৃঙ্খলার পথে চলার আহ্বান জানান তিনি।

মানুষ দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অপরাধী যে-ই হোক, যত ক্ষমতাশালীই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, মানুষ দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায় এবং মাদক ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা চক্র যেন আইনের হাত থেকে রেহাই না পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

রংপুরের ঘটনায় চারজন নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এ ধরনের অপরাধী চক্র কোথা থেকে তৈরি হচ্ছে এবং তাদের পেছনে কারা রয়েছে, তা শনাক্ত করে নির্মূল করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন।

ইসলামাবাদে হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের করুণ মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 1:40 pm
ইসলামাবাদে হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের করুণ মৃত্যু

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক নিহত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জিও নিউজের খবরে বলা হয়, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) গাইনোকোলজি ওয়ার্ডে আগুন লেগে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পিআইএমএস কর্মকর্তাদের মতে, ঘটনার সময় ওয়ার্ডটিতে ১৬ নবজাতক ছিল, যাদের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে মাত্র একজনকে। উদ্ধারকারী সংস্থার সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডের ভেতরে একটি এয়ার কন্ডিশনারের কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়।

উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এখন শীতলীকরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় আগুনের ঘটনায় ১৪ শিশু সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। জেলা প্রশাসন জানায়, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধার অভিযানে ছয়টি ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স অংশ নেয়।

ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখবে ওই কমিটি।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 10:15 am
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও মৃত্যুর পুণ্যময় দিন। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল অর্থাৎ আজকের এই দিনে তিনি আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩ বছর বয়সে একইদিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নামে পরিচিত। ৫৭০ সালের এই দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) আরবের মক্কা নগরীর সভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) এর জন্মের আগে গোটা আরব অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। ওই সময় আরবের মানুষ মহান আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল। আরবের সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা। এ যুগকে বলা হতো ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’র যুগ।

তখন মানুষ হানাহানি ও কাটাকাটিতে লিপ্ত ছিল এবং মূর্তিপূজা করত। এই অন্ধকার যুগ থেকে মানবকুলের মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দুনিয়ায় প্রেরণ করেন।

মহানবী (সা.) অতি অল্প বয়সেই আল্লাহর প্রেমে অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই তিনি হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। ২৫ বছর বয়সে মহানবী বিবি খাদিজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি নবুয়ত লাভ বা মহান রাব্বুর আলামিনের নৈকট্য লাভ করেন।

পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত আছে, ‘মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না’। এসব কারণে এবং তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এ দিনের (পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর) গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা-বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে বুধবার সরকারি ছুটি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আলোচনা সভা, মিলাদ, দোয়া মাহফিলসহ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মঙ্গলবার বাদ মাগরিব থেকে শুরু হয়েছে পক্ষকালব্যাপী আয়োজন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি। সিরাতুন্নবী (সা.) নামে জামায়াত এবং দলটির বিভিন্ন সংগঠন মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। আজ বাদ আসর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে মেহফিলে ইশক রাসুল (সা.) এবং নাত-সন্ধ্যার আয়োজন করেছে এনসিপি।