খুঁজুন
, ,

সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি না থাকায় নাহিদের ক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 8 August, 2026, 12:51 pm
সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি না থাকায় নাহিদের ক্ষোভ

জুলাই জাদুঘরে সীমান্ত হত্যা, ফেলানী হত্যাকাণ্ড এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি-সংবলিত বিভিন্ন উপাদান সরিয়ে ফেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত এক ব্রিফিংয়ে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে কোনোভাবেই দলীয় বয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। এর পাশাপাশি জাদুঘরে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়, ঢাকার বাইরের আন্দোলন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসাশিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং শহিদদের অবদান আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভবন দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ‘৩৬ জুলাই’ বলা হয়, ছাত্র-জনতা গণভবনে প্রবেশ করে এটিকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করে এবং সেখানে বিজয় উদযাপন করে। গত ১৬ বছর ধরে নির্যাতন, নির্মমতা, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল এই গণভবন।

তিনি বলেন, এখান থেকেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতেন। মানুষের ওপর নির্যাতন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, অর্থনৈতিক লুটপাট ও দুর্নীতিসহ গত ১৬ বছরে দেশে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সঙ্গে গণভবনের একটি প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে নির্যাতন, মানুষের প্রতিরোধ ও বিজয়ের স্মৃতিচিহ্ন ধারণকারী এই স্থানকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই জাদুঘরের কাজ অনেকটা শেষ হয়েছিল এবং এটি উদ্বোধনের উপযোগী হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর আরও প্রায় পাঁচ মাস সময় লেগেছে। জাদুঘরটি দ্রুত খুলে দেয়ার জন্য তারা সংসদে ও সংসদের বাইরে একাধিকবার কথা বলেছেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে তিনি সালাউদ্দিন আহমেদ ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ জাদুঘরটি পরিদর্শন করেছিলেন বলেও জানান।

এবারের পরিদর্শনে কিছু পরিবর্তন তার চোখে পড়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম জানান, সীমান্ত হত্যা নিয়ে থাকা একটি অংশ এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের কিছু স্মৃতিচিত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের হাতে নিহত বাংলাদেশিদের একটি তালিকা ছিল এবং ফেলানী হত্যাকাণ্ডের স্মরণে একটি ভাস্কর্যও ছিল। এসব উপাদান এখন আর সেখানে নেই।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ইতিহাসের অংশ হলে সেটি কেন থাকবে না?’ গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সঙ্গে ভারতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্কের বিষয়টিও ইতিহাসের অংশ। কিন্তু জাদুঘরের বর্তমান উপস্থাপনায় সেই বিষয়টি যথেষ্টভাবে উঠে আসেনি।

তিনি বলেন, পুরো জাদুঘর ঘুরে দেখলে এমন মনে হতে পারে যে গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ ছিল কেবল দেশীয় একটি বিষয়। অথচ এর সঙ্গে বৈদেশিক শক্তিরও বিভিন্নভাবে সম্পর্ক ছিল। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, সীমান্ত হত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, ফেলানী হত্যাকাণ্ড এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের মতো বিষয়গুলোকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

তবে একই সঙ্গে জাদুঘরে বিএনপির নির্যাতনের ইতিহাস নিয়ে থাকা বিষয়বস্তু বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান নাহিদ ইসলাম। তার মতে, বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর গত ১৬ বছরে যে নির্যাতন হয়েছে, সেসব বিষয়বস্তুর পরিমাণ এবার বেড়েছে এবং এর সঙ্গে কিছুটা দলীয় বক্তব্য ও বয়ানও যুক্ত হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জাদুঘর একটি চলমান ও পরিবর্তনশীল প্রতিষ্ঠান। সময়ের সঙ্গে এর প্রদর্শনী ও উপস্থাপনা আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জাদুঘরের বর্তমান দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন এবং তাদের কাছে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও আরও বিস্তৃতির প্রয়োজন রয়েছে মনে করে তিনি বলেন, আন্দোলনের ঘটনাগুলো শুধু পরিচিত কয়েকটি মুখকে কেন্দ্র করে উপস্থাপন না করে একটি পূর্ণাঙ্গ সময়রেখার মাধ্যমে তুলে ধরা উচিত। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়, নির্যাতন, প্রতিরোধ এবং গণঅভ্যুত্থানের বিস্তারের ধারাবাহিকতা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসাশিক্ষার্থীদের ভূমিকা আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। একইভাবে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলায় যে আন্দোলন হয়েছে, সেখানকার নির্যাতন, প্রতিরোধ ও আন্দোলনের ঘটনাগুলোও জাদুঘরে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, এটা খুবই কেন্দ্রীভূত হয়েছে। হয়তো পরিচিত মুখগুলো এখানে বারবার এসেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা এলাকার আন্দোলন ছিল না। ফলে এর ইতিহাসও দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা, অঞ্চল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানুষের অংশগ্রহণকে ধারণ করে উপস্থাপন করতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যেন ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের ইতিহাসে পরিণত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি প্রকৃত ইতিহাসচর্চার জায়গা হওয়া উচিত এবং জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এর আগে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়েও দলীয়করণ হয়েছে। একেকটি সরকার ক্ষমতায় এসে পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন করেছে এবং ইতিহাসের উপস্থাপনাও পরিবর্তিত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি তৈরি না হোক। জাদুঘরের উপস্থাপনায় প্রকৃত ঘটনা ও সত্য যেন উঠে আসে এবং এর একটি জাতীয় চরিত্র থাকে।

জুলাই জাদুঘরের ব্যবস্থাপনা ও জনবল নিয়েও প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাদুঘরটি চালানোর জন্য বর্তমানে পর্যাপ্ত জনবল নেই। বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসায় যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দেয়ার মতো কাঠামোও বর্তমান ব্যবস্থায় নেই। বর্তমানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন জনবল রয়েছে এবং তাদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের দিয়েও জাদুঘর পরিচালনার কাজ চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জাদুঘরের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রায় ২০০ জন জনবল প্রয়োজন। পর্যাপ্ত জনবল না থাকলে দর্শনার্থীদের ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হবে। বিশেষ করে এই জাদুঘরের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাদুঘরের পরিচালন কাঠামো নিয়েও পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এই জাদুঘরকে স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোর আওতায় পরিচালনা করা উচিত। কোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামো বা সাধারণ শাখা জাদুঘরের মতো করে এটি পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করেন এবং আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এমন ব্যক্তি, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের এই জাদুঘরের পরিচালনায় যুক্ত করা প্রয়োজন। এ জন্য একটি স্বায়ত্তশাসিত কাঠামো এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের কথাও বলেন তিনি।

জাদুঘর প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে যেসব শিক্ষার্থী, গবেষক এবং বিভিন্ন দল ও মতের মানুষ কাজ করেছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার পক্ষে মত দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া এবং এর চেতনা ধারণ করা ব্যক্তিদের মাধ্যমে জাদুঘরের পরিচালনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া উচিত।

শহিদ আবু সাঈদের ছবি জাদুঘরের একটি গ্যালারিতে না থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। অথচ জাদুঘরের সংশ্লিষ্ট গ্যালারিতে তার ছবি নেই।

নাহিদ ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি জাদুঘরের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আবু সাঈদকে নিয়ে তাদের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে এবং তাকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্রও তৈরি করা হচ্ছে, যা জাদুঘরে প্রদর্শন করা হবে।

তিনি বলেন, শুধু আবু সাঈদ নন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যান্য শহিদের স্মৃতিও আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। শহিদদের পরিবারের পক্ষ থেকে জাদুঘরে বর্তমানে প্রদর্শিত স্মৃতিচিহ্নের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি স্মৃতিচিহ্ন দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব স্মৃতিচিহ্ন কীভাবে আরও শৈল্পিক ও অর্থবহ উপায়ে প্রদর্শন করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

জাদুঘরের মূল ভবনের বাইরেও আরও কিছু পরিকল্পনা ছিল বলে জানান নাহিদ ইসলাম। পুরো ১৭ একর জায়গাকে ঘিরে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে আগের পরিকল্পনাগুলো বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে জাদুঘরের দায়িত্বশীলরা তাকে স্পষ্টভাবে জানাতে পারেননি বলে জানান তিনি।

দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপরও জোর দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাদুঘরে প্রশিক্ষিত এক্সপ্লেইনার থাকা প্রয়োজন, যারা দর্শনার্থীদের প্রদর্শনীগুলোর বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করবেন। অডিও গাইডসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুরও প্রয়োজন রয়েছে।

বিদেশের বিভিন্ন জাদুঘরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশেষ করে চীনের জাদুঘরগুলোতে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য পুরো জাদুঘর ঘুরে দেখানোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রদর্শনীর বিষয়ে ব্যাখ্যা করার ব্যবস্থা রয়েছে। কোথাও অডিওর মাধ্যমে তথ্য শোনানো হয়, আবার কোথাও প্রশিক্ষিত ব্যক্তি দর্শনার্থীদের বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করেন। জুলাই জাদুঘরেও এ ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো বা খারাপ এভাবে বিষয়টিকে দেখার সুযোগ নেই। দু’দেশের সম্পর্ক হওয়া উচিত মর্যাদাপূর্ণ ও সমতার ভিত্তিতে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য সরকার কিছু বিষয়ে আপস করছে।

তিনি বলেন, সরকারের এমন আপসকামী মনোভাবের কারণে দিল্লিতে সম্মেলন করে অতীতের স্বৈরাচারী শক্তিগুলো এখন হুংকার দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকার শুধু একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আপসের কোনো সুযোগ নেই। আপস করে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারব না।

তিনি আরও বলেন, জুলাই জাদুঘর শুধু একটি ভবন বা প্রদর্শনীর স্থান নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তাই এর ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, জনবল, প্রদর্শনী এবং ইতিহাসের উপস্থাপনা সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। জাদুঘরটিকে দলীয় প্রভাবের বাইরে রেখে জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।

Feb2
Feb2

মানুষের পকেট কেটে নেওয়া বিএনপি দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 2 October, 2026, 11:16 pm
মানুষের পকেট কেটে নেওয়া বিএনপি দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—এই দুই দল মিলে দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ভারতের দালালি করেছে, অন্যদিকে বিএনপি মানুষের পকেট কেটে চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে। এই নষ্ট রাজনীতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে নতুন রাজনৈতিক শক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সম্মানিত নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় সভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে যে সংস্কারের আশা তৈরি হয়েছিল, নির্বাচন ঘিরে পুনরায় চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে যদি পেশিশক্তি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কালো টাকার খেলা দেখানোর চেষ্টা করা হয়, তবে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং সরকারের বক্তব্যের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সিদ্ধান্ত একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের লন্ডনের শীর্ষ দফতর থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিরোধী দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সারাদেশে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে পকেট কাটা, বালি ও মাটি উত্তোলন এবং জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের উৎসব চলছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আমাদের ১ হাজার ৪০০ ভাই জীবন দিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা এই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি। পকেটে টাকা না থাকলেও বা পায়ে ছিঁড়ে যাওয়া স্যান্ডেল থাকলেও আমরা আদর্শ বিক্রি করব না এবং কোনো চাঁদাবাজির রাজনীতিতে নাম লেখাব না।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে দেশের ছাত্র-জনতা, শ্রমিক, নারী, আলেম ও সাধারণ মানুষ যে অভূতপূর্ব একতা দেখিয়েছিল, সেই সার্বজনীন শক্তির মাধ্যমে আগামীতে যেকোনো রাজনৈতিক অপশক্তি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক একরামুল হক, দক্ষিণ জেলা শাখার আহ্বায়ক লায়ন এ. এম. মুন্না চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব জুবাইরুল আলম মানিক, জুলাই-গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক শাহেদুল ইসলামসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এবং সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, নারীশক্তি ও শ্রমিকশক্তির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 2 October, 2026, 11:09 pm
জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মামলায় জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ব্যাপক যাত্রীদের চাপের কারণে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মদিনা থেকে আগত একটি ফ্লাইটের (বিজি-৩৩৮) লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে এলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন। এমনকি তিনি বিমান মন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন।

আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গীরা সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেজর আখতারুজ্জামান তাকেও গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ছাড়া তিনি সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলে দেন এবং বিমান বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন।

উল্লেখ্য, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। পরে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 2 October, 2026, 10:14 pm
বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন; তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখ। ২০০৬ সাল থেকে তিনি নিজ মালিকানাধীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আগে তিনি বাংলাদেশের ব্রডশিট পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। পরে যুক্তরাজ্যের বিবিসিতে উপস্থাপক, প্রযোজক ও সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ঢাকা ও লন্ডনসহ বিভিন্ন জায়গায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণও নেন তিনি।

সম্প্রচার, প্রিন্ট ও ডিজিটাল— তিন মাধ্যমেই সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা ছিল খালিদীর। ব্যবসা, রাজনীতি, অর্থনীতি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি।

২০১৭ সালে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পুরস্কারে বিশেষ সম্মাননা পান তৌফিক ইমরোজ খালিদী। ডিজিটাল বাংলাদেশে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৎকালীন জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

দেশের অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশেও তৌফিক ইমরোজ খালিদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০০৬ সালে তার নেতৃত্বে বিডিনিউজ নতুন ব্যবস্থাপনায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নামে নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করে। ২০১৭ সালের এক প্রতিবেদনে বিডিনিউজকে ইন্টারনেটে বাংলাদেশের প্রথম সার্বক্ষণিক সংবাদ প্রকাশক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, “দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারাল। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’’

রাষ্ট্রপতি তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ‘‘তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু আমার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”