খুঁজুন
, ,

ভোটের ফলাফল আগেই পকেটে তৈরি করে রাখে নির্বাচন কমিশন: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 15 November, 2020, 10:08 pm
ভোটের ফলাফল আগেই পকেটে তৈরি করে রাখে নির্বাচন কমিশন: ডা. শাহাদাত

“আমেরিকার ভোট গণনা করতে ৪/৫ দিন লাগে আর আমাদের ভোট গণণা করতে লাগে ৫ মিনিট” নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার দেওয়া এই বক্তব্যের সমালোচনা করে তাকে ভোট ডাকাতির সর্দার উল্লেখ করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও চসিক মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আমেরিকার নির্বাচনে তাদের জনগণের ব্যালটের প্রতিফলন ঘটে। তারা একবার নয় তিন বার ভোট গণণা করে তারপর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। আর নুরুল হুদা কমিশন আগে থেকে গণভবন থেকে পাঠানো ভোটের ফলাফল পকেটে তৈরি করে রাখে। যার কারণে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করতে তার ৫ মিনিট সময় লাগে। সামনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে যেন কোনভাবে ভোট ডাকাতি করতে না পারে বেহুদা কমিশন, তার জন্য প্রত্যেকটি কেন্দ্রে নেতাকর্মীদের সারাদিন ব্যালট পেপার পাহারা দিতে হবে। যদি ভোট ডাকাতি করা হয়, কোন ধরণের কারচুপি করা হয়, তাহলে এই চট্টগ্রাম থেকে আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসুচি ঘোষণা করা হবে।

আজ রোববার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে উপ-নির্বাচনে ভোট ডাকাতির ও নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঢাকা ও সিরাজগঞ্জ উপ-নির্বাচনে ভোট ডাকাতিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকারী দলের লোকজন ঢাকায় বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে। পরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিসংযোগ করে ভোট কারচুপি থেকে জনগণকে দৃষ্টিকে অন্যদিকে নিয়ে গেছে। ঘটনার দিন চট্টগ্রামের যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, মো. শাহেদ, আহমেদুল আলম রাসেল চট্টগ্রামে অবস্থান করলেও তাদের নাম মামলায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। এটা আওয়ামীলীগের পুরনো অভ্যাস, দুই নাম্বারী তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীতে হামলা করেছে আওয়ামীলীগের দলীয় চেয়ারম্যান শাহাদাত, সে সময় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে থাকলেও ফেনীর ঘটনায় আমার নামে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

আওয়ামীলীগের অনিয়ম, ভোট ডাকাতি ও দূর্নীতিকে আড়াল করার জন্য তারা একের পর এক ঘটনা ঘটাচ্ছে। শেয়ার বাজারের লুটপাটকে আড়াল করার জন্য সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনীকে হত্যা করা হয়েছে। কারণ শেয়ার বাজার লুটপাটে সালমান এফ রহমান ও ফারুক খান জড়িত ছিল। একইভাবে ভোট ডাকাতিকে আড়াল করতে বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে সরকার। নির্বাচনে যে ভোট কারচুপি হয়েছে সেটা নির্বাচন কমিশনার মাহবুবুল আলম নিজেই বলেছেন। তার ভাষ্যমতে এই দুই উপনির্বাচনে অতীতের চেয়ে জঘন্যভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, ভোট ডাকাতিকে সরকার এখন নিয়মে পরিণত করেছে। জনগণের আস্থা হারিয়ে সরকার এখন আবোল-তাবোল বকছেন। পতন যখন সন্নিকটে চলে আসে, তখন পায়ের নীচে মাঠি থাকে না। তখন কি বলে না বলে তার হুশ থাকে না। আওয়ামীলীগের মন্ত্রী-এমপিরা এখন বেহুশে, তাদের কথা বার্তায় সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। যার কারণে বিরোধীদল বিএনপি যখণ মাঠ পর্যায়ে সুসংগঠিত হচ্ছে তখন, গায়েবী আজগবী মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের ভয় দেখিয়ে দমানোর চেষ্ঠা করছেন। বিগত এক যুগ ধরে মামলা, হামলা আর জেল জুলুমে বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন খাটিঁ সোনায় পরিণত হয়েছে। এখন আর মামলা, হামলা দিয়ে কোন লাভ হবে না। আসন্ন চসিক নির্বাচনে যদি সারাদেশের মতো এখানেও ভোট ডাকাতির চেষ্ঠা করা হয়, তাহলে এই চট্টগ্রাম থেকে সরকার পতনের বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে। তিনি অনতিবিলম্বে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর নাছির উদ্দীন, যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী ও স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা আলী মূর্তজা খানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেছেন, ঢাকার গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, তার মধ্যে খিলক্ষেত থানায় দায়ের হওয়া মামলায় যাকে বাদী হিসাবে দেখানো হয়েছে, সে নিজেই জানে না মামলার বিষয়ে। মামলায় কারা আসামী আছেন তাদের কাউকেও চিনেও না বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছে। এত করে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানো হয়েছে, তা ভূয়া এবং সাজাঁনো। এই ধরণের মামলায় বিএনপিকে স্তব্ধ করা যাবে না। এই মিথ্যুক ফ্যাসিবাদ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের দীপ্ত শপথ নিতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলামের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপির সহসভাপতি এম.এ আজিজ, মো. মিয়া ভোলা, এস.কে খোদা তোতন, মোহাম্মদ আলী, হারুন জামান, শফিকুর রহমান স্বপন, এস.এম আব্লু ফয়েজ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এস.এম সাইফুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দীন, শাহ আলম, আবদুল মান্নান, আবুল হাসেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী সিরাজ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর আলম চৌধুরী মনজু, সহ-সাধারণ সম্পাদক জি.এম আইয়ুব খান, শামছুল আলম (ডক), সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য হামিদ হোসেন, হাজী নুরুল আক্তার, মনোয়ারা বেগম মনি, এইচ.এম রাশেদ খান, ইয়াকুব চৌধুরী, নুরুল আকবর কাজল, জিয়াউদ্দিন খালেদ চৌধুরী, ইব্রাহীম বাচ্চু, অধ্যাপক ঝন্টু বড়ুয়া, আবদুল বাতেন, থানা বিএনপির সভাপতি হাজী বাবুল হক, মো. সেকান্দর, ডা. নুরুল আফসার, আবদুল্লাহ আল হারুন, নগর বিএনপির সহ-সম্পাদক এ.কে.এম পেয়ারু, আবদুল হালিম স্বপন, মো. ইকবাল, রফিকুল ইসলাম, মো. ইদ্রিস আলী, মো. শাহজাহান, খোরশেদ আলম কুতুবী, জেলী চৌধুরী, বেলায়েত হোসেন বুলু, শফিক আহমদ, আবুল খায়ের মেম্বার, আলমগীর নূর, হাসান লিটন, আবু মুছা, মোস্তাফিজুর রহমান বুলু, আবদুল হাই, রঞ্জিত বড়ুয়া, আলী আজম, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, আফতাবুর রহমান শাহীন, আবদুল কাদের জসিম, হাবিবুর রহমান, মাঈন উদ্দীন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম, রোকন উদ্দিন মাহামুদ, সদস্য হাজী মহসিন, ইউসুফ সিকদার, মো. ইলিয়াছ, আইয়ুব খান, সকিনা বেগম, জমির আহমদ, হাজী নুরুল হক, এড. আবদুল আজিজ, মনিরুজ্জামান টিটু, মো. ইকবাল হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন, মোশাররফ হোসেন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আকতার খান, এস.এম মফিজ উল্লাহ, মো. রফিক চৌধুরী, হাজী ইলিয়াছ, আবদল্লাহ আল সগির, আলাউদ্দীন আলী নূর, মো. বেলাল , খন্দকার নুরুল ইসলাম, এস.এম ফরিদুল আলম, মো. সাইফুল আলম, ফারুক আহমদ, এম.এ.মুছা বাবলু, শরিফুল ইসলাম, মো. আজম, সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান রিপন, আবুল কালাম আবু, এম.এ হালিম বাবলু, মামুন আলম, হাজী আবু ফয়েজ, সাব্বির আহমদ, নাছিম আহমেদ, সৈয়দ আবুল বশর, এস.এম আজাদ, হাজী এমরান উদ্দীন, ফরিদুল আলম চৌধুরী, জিয়াউর রহমান জিয়া, জসিম মিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, মনজু মিয়া, মনজুর কাদের, হাজী জাহেদ, অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ নুর আহমদ গুড্ডু, শাহেদ আকবর, এম.এ রাজ্জাক, ইকবাল হোসেন সংগ্রাম, ফজলুল হক সুমন, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুর করিম, এম.এ গফুর বাবুল, মো. মুছা, নাসিম চৌধুরী, জসিমুল ইসলাম কিশোর, জাহেদুল হাসান বাবু, অরূপ বড়ুয়া, মো. আলী সাকী, শহিদুল্লাহ বাহার, সিরাজ উদ্দীন, খায়রুল আলম দিপু, সেলিম রেজা, হারুন আল রশিদ, মামুনুর রহমান, মঈন উদ্দীন রাশেদ হারুনুর রশিদ, হুমায়ুন কবির, ইকবাল পারভেজ, এরশাদ হোসেন, তাজুল ইসলাম তাজু, আবদুল হামিদ পিন্টু, তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, সিরাজুল ইসলাম ভ’ইয়া, এমদাদুল হক বাদশা, জিয়াউর রহমান জিয়া, আবু বক্কর রাজু, গোলাম সরওয়ার, আনোয়ার হোসেন এরশাদ প্রমুখ।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2
Feb2

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 18 August, 2026, 10:06 am
দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা এক প্রজ্ঞাপন সূত্র এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুযায়ী নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান এবং ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হলো।

এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আর দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারা ১৩-এর বিধান অনুযায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের এবং কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে আজ বিকেলে সার্চ কমিটি তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি দীর্ঘকাল হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আসাদুজ্জামান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থেকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

১৯৫৯ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন বিচারপতি আসাদুজ্জামান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ১৯৮৩ সালে তিনি জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগের এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।

এছাড়া কমিশনার হিসেবে নাম চূড়ান্ত হওয়া ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

অপর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সচিব। তিনি ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন বলে জানা গেছে।

গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার পদত্যাগ করার পর নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরপর নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। সার্চ কমিটি ছয় দফা বৈঠক করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতা পর্যালোচনা করে। পরে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার হিসেবে এ কে আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার নাম চূড়ান্ত করে।

২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন দুদকের প্রথম চেয়ারম্যান বিচারপতি সুলতান হোসেন খান থেকে সর্বশেষ মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন পর্যন্ত মোট সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা জটিলতায় মাত্র তিনটি কমিশন পুরো মেয়াদ পূর্ণ করতে পেরেছিল। বাকি চার কমিশন মেয়াদ পূর্ণ করার আগে বিদায় নিতে হয়। সর্বশেষ মোমেন কমিশন মেয়াদ পূরণ না করেই বিদায় নিয়েছে।

চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদ শূন্য থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুদকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়। কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন এমন অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে আছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নিলে এসব কার্যক্রমে গতি ফেরার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে স্থায়ী হন তিনি।

বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, বদল হচ্ছে অর্থবছরের সময়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 18 August, 2026, 10:02 am
বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, বদল হচ্ছে অর্থবছরের সময়

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

খসড়া আইনে বিদ্যমান র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর আওতায় এসআরবি প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন এই ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনগত কাঠামোও নির্ধারণ করা হবে। নতুন আইনে নাগরিকদের অভিযোগ এবং এসআরবির সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, র‍্যাবের বর্তমান জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পদ এসআরবির কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত র‍্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালাগুলো প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল থাকবে। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর র‍্যাবের বর্তমান কাঠামো বিলুপ্ত হয়ে তার জনবল ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) কাঠামোর অধীনে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন

বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাত্ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে; এতে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণমান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এজন্য ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত। এক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এছাড়া, অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে। আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং অতঃপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কাঁচা মরিচ ও টম্যাটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব অনুমোদন

দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। কাঁচা মরিচ ও টম্যাটো দেশের অন্যতম বহুল ব্যবহূত নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য। তবে মৌসুমি উত্পাদন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং উত্পাদন ঘাটতির কারণে অনেক সময় এ সব পণ্যের বাজারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। জনস্বার্থে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাঁচা মরিচ ও টম্যাটো আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করভার ৬১ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রথম মাসে ২০.৫ শতাংশ এবং পরের মাসে ৩১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন প্রস্তাব

মন্ত্রিসভার সভায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, গত ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলকে ৯ উইকেটে পরাজিত করেছে। বাংলাদেশ দলের এ সাফল্য কেবল একটি ম্যাচের জয় নয়; বরং আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, দলগত সংহতি ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার একটি উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মন্ত্রিসভা আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে অশেষ কল্যাণ ও মাহাত্ম্য রয়েছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 18 August, 2026, 12:23 am
ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে  অশেষ কল্যাণ ও মাহাত্ম্য রয়েছে

বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের উদ্যোগে ‘সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা আজ ১৭ আগস্ট সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবস্থ আলহাজ্ব সুলতান আহমদ হলে অনুষ্ঠিত হয়।

ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ রানার সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় উলামা মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ বলেন, মহানবীর (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন হয়েছে বলেই মানবজাতিসহ সমগ্র সৃষ্টিজগৎ অস্তিত্ব লাভ করেছে। সকল সৃষ্টির উৎসই হচ্ছেন মহানবী (দ.)। তাঁর কারণে এবং তাঁরই উসিলায় সৃষ্টি জগৎ অস্তিত্ব পেয়েছে, টিকে আছে এবং টিকে থাকবে। তাই সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে অশেষ পুণ্য বরকত, কল্যাণ এবং সবিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন মানে কৃতজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ আহমদ জামাল আশরাফ আল আশরাফী জিলানী। তিনি বলেন, সমগ্র সৃষ্টির মূল হচ্ছেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)। তাঁর আনুগত্য ও আহলে বাইতে রাসুলকে (দ.) ভালোবাসা ফরজ। উপমহাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে সুফিবাদি সুন্নি মুসলমানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। অথচ আন্তঃযোগাযোগ না থাকা, অনৈক্য-বিভাজনের কারণে সুফিবাদি সুন্নি মুসলমানরা পেছনে পড়ে রয়েছে। রাজনীতি, অর্থনীতিসহ দেশ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে আমরা নেই। ফলে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী আমাদের মাথার ওপর ছড়ি ঘুরাচ্ছে। সুফিবাদী উদারনৈতিক মানবিক ইসলামের প্রসার ঘটাতে সকল সুন্নি মতাদর্শী ও তরিকতপন্থিদের একই প্ল্যাটফরমে আসতে হবে।

মুখ্য আলোচক ছিলেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ অছিয়র রহমান। তিনি বলেন, মহানবীর (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন আল্লাহ পাকের সেরা নিয়ামত। তাই নিয়ামতের শুকরিয়া হিসেবে আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন করি। বিগত দুই বছরে বহু মাজার খানকায় হামলা হয়েছে। মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে অসংখ্য মাজার গুঁড়িয়ে দেয়া হলেও এর বিচার হয়নি। বর্তমান সরকারকে অবিলম্বে এর প্রতিকারে এগিয়ে আসতে হবে।

উদ্বোধক ছিলেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ নাফিসুর রহমান মাইজভাণ্ডারী। স্বাগত বক্তব্য দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম বরকত আকাশ। নির্ধারিত বিষয়বস্তুর ওপর আলোচনায় অংশ নেন হযরত শাহ আমানত (রহ.) দরবার শরীফের আওলাদ শাহজাদা সৈয়দ হাবিবুল্লাহ খান মারুফ, গবেষক মুহাম্মদ আবদুর রহিম, শাহজাদা মাওলানা ফখরুল ইসলাম রিজভী, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ গোলাম রসুল, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ ছালেকুল মাওলা, আল্লামা শফিকুল ইসলাম আস সাঈদী, আল্লামা মঈনুদ্দিন রেজভী, মাওলানা রায়হান রেজা আশরাফী, মাওলানা আবদুল মান্নান আশরাফী,আলহাজ্ব মুহাম্মদ মুছা ও হালদা গবেষক মুহাম্মদ হারুন পাশা প্রমুখ আনিছ মুহাম্মদ বিপলু, এম মহিউল আলম চৌধুরী, আ ব ম খোরশিদ আলম খান, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন নেজামী, মাওলানা করিম উদ্দিন নূরী, ফরিদুল আলম আশরাফী, মুহাম্মদ ইলিয়াছ সোহেল, নাজিম উদ্দিন মিয়াজী, প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা বলেন, সুন্নি সুফিবাদিরা আজ জেগে উঠেছে। তাদের কেউ পরাভূত করতে পারবে না।

ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন গোলটেবিল আলোচনায় সমবেত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের পরিবেশনায় মিলাদ কিয়াম শেষে দেশ ও জাতির শান্তি সমৃদ্ধি কল্যাণ এবং বিশ্বের মজলুম মানবতার পরিত্রাণ কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ আহমদ জামাল আশরাফ আল আশরাফী জিলানী।