খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটের ফলাফল আগেই পকেটে তৈরি করে রাখে নির্বাচন কমিশন: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
ভোটের ফলাফল আগেই পকেটে তৈরি করে রাখে নির্বাচন কমিশন: ডা. শাহাদাত

“আমেরিকার ভোট গণনা করতে ৪/৫ দিন লাগে আর আমাদের ভোট গণণা করতে লাগে ৫ মিনিট” নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার দেওয়া এই বক্তব্যের সমালোচনা করে তাকে ভোট ডাকাতির সর্দার উল্লেখ করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও চসিক মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আমেরিকার নির্বাচনে তাদের জনগণের ব্যালটের প্রতিফলন ঘটে। তারা একবার নয় তিন বার ভোট গণণা করে তারপর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। আর নুরুল হুদা কমিশন আগে থেকে গণভবন থেকে পাঠানো ভোটের ফলাফল পকেটে তৈরি করে রাখে। যার কারণে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করতে তার ৫ মিনিট সময় লাগে। সামনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে যেন কোনভাবে ভোট ডাকাতি করতে না পারে বেহুদা কমিশন, তার জন্য প্রত্যেকটি কেন্দ্রে নেতাকর্মীদের সারাদিন ব্যালট পেপার পাহারা দিতে হবে। যদি ভোট ডাকাতি করা হয়, কোন ধরণের কারচুপি করা হয়, তাহলে এই চট্টগ্রাম থেকে আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসুচি ঘোষণা করা হবে।

আজ রোববার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে উপ-নির্বাচনে ভোট ডাকাতির ও নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঢাকা ও সিরাজগঞ্জ উপ-নির্বাচনে ভোট ডাকাতিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকারী দলের লোকজন ঢাকায় বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে। পরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিসংযোগ করে ভোট কারচুপি থেকে জনগণকে দৃষ্টিকে অন্যদিকে নিয়ে গেছে। ঘটনার দিন চট্টগ্রামের যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, মো. শাহেদ, আহমেদুল আলম রাসেল চট্টগ্রামে অবস্থান করলেও তাদের নাম মামলায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। এটা আওয়ামীলীগের পুরনো অভ্যাস, দুই নাম্বারী তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীতে হামলা করেছে আওয়ামীলীগের দলীয় চেয়ারম্যান শাহাদাত, সে সময় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে থাকলেও ফেনীর ঘটনায় আমার নামে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

আওয়ামীলীগের অনিয়ম, ভোট ডাকাতি ও দূর্নীতিকে আড়াল করার জন্য তারা একের পর এক ঘটনা ঘটাচ্ছে। শেয়ার বাজারের লুটপাটকে আড়াল করার জন্য সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনীকে হত্যা করা হয়েছে। কারণ শেয়ার বাজার লুটপাটে সালমান এফ রহমান ও ফারুক খান জড়িত ছিল। একইভাবে ভোট ডাকাতিকে আড়াল করতে বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে সরকার। নির্বাচনে যে ভোট কারচুপি হয়েছে সেটা নির্বাচন কমিশনার মাহবুবুল আলম নিজেই বলেছেন। তার ভাষ্যমতে এই দুই উপনির্বাচনে অতীতের চেয়ে জঘন্যভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, ভোট ডাকাতিকে সরকার এখন নিয়মে পরিণত করেছে। জনগণের আস্থা হারিয়ে সরকার এখন আবোল-তাবোল বকছেন। পতন যখন সন্নিকটে চলে আসে, তখন পায়ের নীচে মাঠি থাকে না। তখন কি বলে না বলে তার হুশ থাকে না। আওয়ামীলীগের মন্ত্রী-এমপিরা এখন বেহুশে, তাদের কথা বার্তায় সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। যার কারণে বিরোধীদল বিএনপি যখণ মাঠ পর্যায়ে সুসংগঠিত হচ্ছে তখন, গায়েবী আজগবী মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের ভয় দেখিয়ে দমানোর চেষ্ঠা করছেন। বিগত এক যুগ ধরে মামলা, হামলা আর জেল জুলুমে বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন খাটিঁ সোনায় পরিণত হয়েছে। এখন আর মামলা, হামলা দিয়ে কোন লাভ হবে না। আসন্ন চসিক নির্বাচনে যদি সারাদেশের মতো এখানেও ভোট ডাকাতির চেষ্ঠা করা হয়, তাহলে এই চট্টগ্রাম থেকে সরকার পতনের বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে। তিনি অনতিবিলম্বে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর নাছির উদ্দীন, যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী ও স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা আলী মূর্তজা খানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেছেন, ঢাকার গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, তার মধ্যে খিলক্ষেত থানায় দায়ের হওয়া মামলায় যাকে বাদী হিসাবে দেখানো হয়েছে, সে নিজেই জানে না মামলার বিষয়ে। মামলায় কারা আসামী আছেন তাদের কাউকেও চিনেও না বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছে। এত করে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানো হয়েছে, তা ভূয়া এবং সাজাঁনো। এই ধরণের মামলায় বিএনপিকে স্তব্ধ করা যাবে না। এই মিথ্যুক ফ্যাসিবাদ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের দীপ্ত শপথ নিতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলামের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপির সহসভাপতি এম.এ আজিজ, মো. মিয়া ভোলা, এস.কে খোদা তোতন, মোহাম্মদ আলী, হারুন জামান, শফিকুর রহমান স্বপন, এস.এম আব্লু ফয়েজ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এস.এম সাইফুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দীন, শাহ আলম, আবদুল মান্নান, আবুল হাসেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী সিরাজ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর আলম চৌধুরী মনজু, সহ-সাধারণ সম্পাদক জি.এম আইয়ুব খান, শামছুল আলম (ডক), সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য হামিদ হোসেন, হাজী নুরুল আক্তার, মনোয়ারা বেগম মনি, এইচ.এম রাশেদ খান, ইয়াকুব চৌধুরী, নুরুল আকবর কাজল, জিয়াউদ্দিন খালেদ চৌধুরী, ইব্রাহীম বাচ্চু, অধ্যাপক ঝন্টু বড়ুয়া, আবদুল বাতেন, থানা বিএনপির সভাপতি হাজী বাবুল হক, মো. সেকান্দর, ডা. নুরুল আফসার, আবদুল্লাহ আল হারুন, নগর বিএনপির সহ-সম্পাদক এ.কে.এম পেয়ারু, আবদুল হালিম স্বপন, মো. ইকবাল, রফিকুল ইসলাম, মো. ইদ্রিস আলী, মো. শাহজাহান, খোরশেদ আলম কুতুবী, জেলী চৌধুরী, বেলায়েত হোসেন বুলু, শফিক আহমদ, আবুল খায়ের মেম্বার, আলমগীর নূর, হাসান লিটন, আবু মুছা, মোস্তাফিজুর রহমান বুলু, আবদুল হাই, রঞ্জিত বড়ুয়া, আলী আজম, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, আফতাবুর রহমান শাহীন, আবদুল কাদের জসিম, হাবিবুর রহমান, মাঈন উদ্দীন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম, রোকন উদ্দিন মাহামুদ, সদস্য হাজী মহসিন, ইউসুফ সিকদার, মো. ইলিয়াছ, আইয়ুব খান, সকিনা বেগম, জমির আহমদ, হাজী নুরুল হক, এড. আবদুল আজিজ, মনিরুজ্জামান টিটু, মো. ইকবাল হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন, মোশাররফ হোসেন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আকতার খান, এস.এম মফিজ উল্লাহ, মো. রফিক চৌধুরী, হাজী ইলিয়াছ, আবদল্লাহ আল সগির, আলাউদ্দীন আলী নূর, মো. বেলাল , খন্দকার নুরুল ইসলাম, এস.এম ফরিদুল আলম, মো. সাইফুল আলম, ফারুক আহমদ, এম.এ.মুছা বাবলু, শরিফুল ইসলাম, মো. আজম, সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান রিপন, আবুল কালাম আবু, এম.এ হালিম বাবলু, মামুন আলম, হাজী আবু ফয়েজ, সাব্বির আহমদ, নাছিম আহমেদ, সৈয়দ আবুল বশর, এস.এম আজাদ, হাজী এমরান উদ্দীন, ফরিদুল আলম চৌধুরী, জিয়াউর রহমান জিয়া, জসিম মিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, মনজু মিয়া, মনজুর কাদের, হাজী জাহেদ, অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ নুর আহমদ গুড্ডু, শাহেদ আকবর, এম.এ রাজ্জাক, ইকবাল হোসেন সংগ্রাম, ফজলুল হক সুমন, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুর করিম, এম.এ গফুর বাবুল, মো. মুছা, নাসিম চৌধুরী, জসিমুল ইসলাম কিশোর, জাহেদুল হাসান বাবু, অরূপ বড়ুয়া, মো. আলী সাকী, শহিদুল্লাহ বাহার, সিরাজ উদ্দীন, খায়রুল আলম দিপু, সেলিম রেজা, হারুন আল রশিদ, মামুনুর রহমান, মঈন উদ্দীন রাশেদ হারুনুর রশিদ, হুমায়ুন কবির, ইকবাল পারভেজ, এরশাদ হোসেন, তাজুল ইসলাম তাজু, আবদুল হামিদ পিন্টু, তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, সিরাজুল ইসলাম ভ’ইয়া, এমদাদুল হক বাদশা, জিয়াউর রহমান জিয়া, আবু বক্কর রাজু, গোলাম সরওয়ার, আনোয়ার হোসেন এরশাদ প্রমুখ।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2

মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ভিড় বাড়ছেই মানবিক সহায়তা প্রত্যাশী মানুষের। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়ের খোঁজে। এসব আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে—প্রতিটি কাগজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।

ক্যানসারে আক্রান্ত লাভলী দাস গুপ্তা ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তার পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন তাৎক্ষণিকভাবে।

৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে একাধিক পরীক্ষা করাতে হয়েছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। জেলার অভিভাবককে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার আর নেই। তাকেও নিরাশ করলেন না মানবিক ডিসি।

একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগমও চিকিৎসা ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ। বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের এই শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলামকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামিলা।

অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর কথা জানিয়েছেন মো. মনজুর আলম আরেক নাগরিক। আগে উপার্জন করে পরিবার চালালেও বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানোও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসককে। তার পাশেও দাড়ালেন মানবিক ডিসি।

মো. নুরুল ইসলাম আরেক অসহায় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসকের জরুরি সহায়তা কামনা করেছিলেন। তাকেও ফিরিয়ে দেননি ডিসি জাহিদুল ইসলাম।

একই নামে আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসহায় উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাকেও নিরাশ করেন নাই ডিসি।

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাসরত মো. সামাদ আলী জেলা প্রশাসককে বলেন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় উল্লেখ করে ডিসির সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। তাকেও নগদ অর্থ সাহায্য করলেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’