খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিযোগ করায় বাদি ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
অভিযোগ করায় বাদি ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

২৪ঘণ্টা নিউজ ডেস্ক: দুদকের অনুসন্ধানে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রমাণ মিললেও, অর্থের বিনিময়ে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে মামলার আওতায় না এনে উল্টো আইনের ফাঁক ফোকরে ছাড় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং দুদকের বিরুদ্ধে। ২১-১১-২০২০ শনিবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইফনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মামলার বাদিরা।

এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিটও করেছে ভুক্তভোগিরা। যা আগামী ৩০ কার্য দিবসেরমধ্যে আদেশ বাতিল করে অভিযোগ কারীর আবেদন পূনঃবিবেচনার জন্য দুদক চেয়ারম্যানকে আদেশ দেন হাইকোর্ট।

দাঁতমারা ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকসমাজের পক্ষে মো. শাহিদুল আলম নাহিদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উপজেলার সর্ববৃহৎ ২নং দাঁতমারা ইউনিয়নের গত ২০১১ ইংসাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন মো. জানে আলম। গত ২০১৫-২০১৬ ও ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরেত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় থেকে হতদরিদ্রদেরজন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচীর প্রায় সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গত ৮ নভেম্বর ২০১৬ ইং এবং ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখ দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পৃথক দুটি আবেদন করি। এ নিয়ে বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির টিম ৩৬০ ডিগ্রী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারকরে। এ ছাড়াও স্থানীয় এবং জাতীয় প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় এসব অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রচারিত হয়। এর পর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর তদন্ত কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৪১ জনসাক্ষীর স্ব-শরীরে সাক্ষ্য গ্রহন করেন। প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা এবং স্বাক্ষীদের সাক্ষ্যমতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় এবিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে দুদকসমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ একটি প্রতিবেদন দুদক চেয়ারম্যান বরাবরে প্রেরন করে। যেখানে চেয়ারম্যান মো. জানে আলম সহ সংশ্লিষ্ট ৫ জনের বিরুদ্ধে দুদক আইনে মামলা দায়ের, চেয়ারম্যান মো. জানে আলমের সম্পদ বিবরনীর নোটিশ জারি এবং উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম সহ অপরাপর সরকারী কর্মকর্তাদেও বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশকরা হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় দুদকের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা গুটিকয়েক অসাধু কর্মকর্তার গোপন আতাঁতের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সুপারিশকে উপেক্ষা কওে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে মামলা থেকে কৌশলেবাদ দিয়ে শুধুমাত্র আত্মসাৎকৃত সোয়া কোটি টাকা সরকারী অর্থেরমধ্যে মাত্রসাড়ে ৬ লাখটাকা কোষাগারে জমা প্রদানের অনুমোদন দেয়া হয়। বিষয়টি আমরা অবগত হওয়ার পর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর বিষয়টি পূনঃবিবেচনার জন্য গত ৮ অক্টোবর এবং ৯ নভেম্বর পৃথক দুটি আবেদন করি। কিন্তু আমাদের আবেদন গুলোকে দুদক প্রধান কার্যালয় আমলে না নিয়ে তাঁদের পূর্বেও সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

এমন অবস্থায় আমরা মহামান্য হাইকোর্টে রীট পিটিশন দায়ের করি। গত ১৯ নভেম্বর মাননীয় বিচারপতি এনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ শুনানী শেষেআ গামী ৩০ কার্য দিবসেরমধ্যে পূর্বেও আদেশ বাতিল কওে অভিযোগকারীর আবেদন পূনঃবিবেচনারজন্য দুদক চেয়ারম্যানকে আদেশ দেন।

শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত চেয়ারম্যান দুদকের মামলা ডিসমিস করেছে মর্মে এলাকায় নানাভাবে প্রচারনা চালাচ্ছে এবং অভিযোগ কারী হিসেবে আমাদেরকে ও নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে। ইতোমধ্যে অনিয়মের প্রতিবাদ কওে অভিযোগ করায় ইউপিসদস্য আনোয়ার হোসেনকে এবং অনিয়মের সংবাদ প্রকাশক করায় সাংবাদিক আবু মুছা জীবনকে দুটি করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। চেয়ারম্যান টাকার জোরে উপর মহলে সবকিছু ম্যানেজ করে ফেলেছে এই দম্ভোক্তি দেখাচ্ছে এলাকায়। এমতাবস্থায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারী অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে অভিযোগকারী হিসেবে আমরাশংকা ও নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। তদন্তে অভিযুক্ত প্রমাণিত হওয়ার পরেও এ ধরনের দুর্নীতিবাজদেরকে মামলার আওতায় না এনে উল্টো আইনের ফাঁক ফোকরে ছাড় দেয়া হলে দুদকের প্রতি দেশের জনমানুষের আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থাকার ফলে বিভিন্ন স্তরের দুর্নীতিবাজরা যখন একে একে পাকড়াও হচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতওে ঘাপটি মেরে বসে থাকা কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী ও তথাকথিত জনপ্রতিনিধির বির্তকিত ভূমিকায় বর্তমান সরকারের প্রসংশিত অর্জনগুলো ম্লান হচ্ছে।

২৪ঘণ্টা/এন এম রানা

Feb2

ফের বদলাচ্ছে পুলিশের পোশাক, রং নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ফের বদলাচ্ছে পুলিশের পোশাক, রং নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি

বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিফর্মের রঙ নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে আবারও পুরোনো ঘরানার রঙে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশের পোশাকে এখন থেকে গাঢ় নীল এবং হালকা অলিভ বা জলপাই রঙের সংমিশ্রণ দেখা যাবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস শাখা থেকে এই পরিবর্তনের সপক্ষে ‘পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫’ সংশোধনের একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, ইতিপূর্বে শার্টের রঙ লোহার মতো এবং প্যান্টের রঙ কফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এই রঙ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় এবং সাধারণ মানুষের মাঝেও এটি নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা শুরু হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুনরায় রঙ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেন।

পরিবর্তিত নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, দেশের সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের শার্টের রঙ হবে হালকা অলিভ বা জলপাই। অন্যদিকে এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি এবং র‍্যাব বাদে পুলিশের অন্যান্য সকল ইউনিটের জন্য শার্টের রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে গাঢ় নীল। তবে উভয় ক্ষেত্রেই প্যান্টের রঙ হবে খাকি (টিসি টুইল)। এই নতুন রূপরেখা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি বিধিমালা সংশোধনের খসড়া ইতিমধ্যই চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পুলিশের এই ইউনিফর্ম পরিবর্তনের ফলে সরকারের ওপর অতিরিক্ত কোনো আর্থিক চাপ পড়বে না। যেহেতু ইউনিফর্মগুলো নিয়মিত সরবরাহ ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রদান করা হয়, তাই বর্তমান বাজেটের মধ্যেই এই সমন্বয় করা সম্ভব হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন পোশাকের কার্যক্রম শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মূলত বাহিনীর সদস্যদের সন্তুষ্টি এবং পেশাগত গাম্ভীর্য বজায় রাখতেই এই রঙ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় আসন সংখ্যার অনুপাতে জোটটি মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তালিকাটি প্রকাশ করেন।

জামায়াতের আট নারী যাচ্ছেন সংসদে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজনকে নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হচ্ছে এই জোট থেকে।

প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী), সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা), ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ (কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, নারী অধিকার আন্দোলন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনিরা শারমিন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু (কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব) এনসিপি। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি, জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। সেই অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট ৩৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। দলের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের এরই মধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু জাবির। তার মায়ের এই মনোনয়নকে জোটের পক্ষ থেকে একটি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় হওয়ায় আজ রাতেই সব শরিক দল চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। খাল খনন করতে পারলে বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে চৌকিদহ খালটা কাটলাম। এখানে যদি কোনো মুরুব্বি থাকেন- যাদের বয়স ৬০-৭০ এর বেশি, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই খালটা আমার আব্বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে কেটেছিলেন। এই খালটা আমরা কাটলাম, প্রায় এক কিলোমিটার মতো লম্বা। এই খালটা কাটার ফলে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টিতে আশেপাশে যে পানি উঠে, তা এখানে জমা হবে। আবার শুকনা মৌসুমে যখন পানি পাওয়া যায় না, তখন এই খালে পানি থাকলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদের জন্য পানি পাবে। অর্থাৎ এলাকার মানুষের উপকার হবে।

স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলুন আমরা এই খালটা পুনঃখনন করি, পানি ফিরিয়ে আনি। খালের দুই পাশে গাছ লাগাই। খালের মধ্যে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হবে- যাতে এলাকার বেকার তরুণরা কাজ পায়। মা-বোনেরাও পাশে শাকসবজি চাষ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ যেমন পানির কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। তাই খাল খনন জরুরি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। এই খাল কাটাসহ যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যেন সফল হয়-সেজন্য দোয়া করবেন। এটা তো নিজের বাড়ি, ঘরের লোকজন। কয়েকদিন পর আবার আসবো ইনশাআল্লাহ।

এর আগে দুপুর ২টায় নিজ জন্মভূমি বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে পৌঁছালে খালের দুই পাড়ে অবস্থান নেওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

খাল খনন কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।