খুঁজুন
, ,

১ দিনে ১৩৫ টন বর্জ্য সরিয়ে রেকর্ড গড়লেন ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 9:06 pm
১ দিনে ১৩৫ টন বর্জ্য সরিয়ে রেকর্ড গড়লেন ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক জেলায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের প্রথম দিনেই ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে শনিবার (২৫ জুলাই) জেলাজুড়ে একযোগে চালানো এ অভিযানে অংশ নেন প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। জেলা প্রশাসনের হিসাবে, এক দিনে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে সম্পৃক্ত করে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণের মধ্য দিয়ে বড় পরিসরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে জেলার সরকারি দপ্তর, সরকারি আবাসিক এলাকা, উপজেলা পর্যায়ের ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে চলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা কারও ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা জোরপূর্বক এটি করাতে চাই না। আমরা পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে চাই।’

৩,২২৫ ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভিযানের আওতায়

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতায় রয়েছে ১৩১টি সরকারি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, আটটি সরকারি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, উপজেলা পর্যায়ের ৪০৬টি ভবন এবং ২ হাজার ২৯৫টি বিদ্যালয়। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ২২৫টি ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এসব ভবন ও বিদ্যালয়ের ছাদ, আঙিনা এবং আশপাশের জায়গায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রথম দিনের কার্যক্রমে সব মিলিয়ে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

অভিযানটি শুধু উদ্বোধনী দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। পুরো কার্যক্রম চলবে মাসব্যাপী। প্রতি শনিবার কোথা থেকে কী পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হলো, তার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবন ও এলাকার পরিচ্ছন্নতার আগের ও পরের ছবিও সংরক্ষণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কী পরিমাণ ময়লা অপসারণ ও সংগ্রহ করা হলো, তার প্রতিবেদন নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবনের আগের চিত্র কী ছিল এবং পরিচ্ছন্নতার পর কী পরিবর্তন হলো, সেই ছবিগুলোও আমরা সংগ্রহ করছি। সে অনুযায়ী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

শোভাযাত্রায় মেয়র, বিভাগীয় কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

দিনের কর্মসূচির শুরুতে সার্কিট হাউস থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। সেটি কাজীর দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার সার্কিট হাউসে এসে শেষ হয়।

পরে কোর্ট হিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আঙিনা, আইনজীবী ভবন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।

কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

‘সুস্থ জাতি গড়তে প্রয়োজন সুস্থ পরিবেশ’

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু ময়লা-আবর্জনা অপসারণ নয়। একটি সুস্থ জাতি ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার স্থায়ী অভ্যাস তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সুস্থ চিন্তার জন্য সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন প্রয়োজন। আর পরিবেশ যদি অস্বাস্থ্যকর হয়, সেখানে সুস্থ চিন্তা, সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন—কোনোটিই সম্ভব নয়।’

আগামী প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ বাংলাদেশ ও একটি সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে নিয়ে আমরা এই কার্যক্রম শুরু করেছি।’

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করে নয়, মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পৃক্ত করেই পরিচ্ছন্নতাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত করতে চান তাঁরা।

বিশ্বায়নের যুগে একটি দেশের পরিবেশ ও নাগরিক জীবনযাত্রা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেও যুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ চাই। আমরা বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে চাই। বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশের একটি দৃঢ় অবস্থান, একটি সুস্থ পরিবেশ এবং একটি সুন্দর সমাজের চিত্র তুলে ধরার জন্য আমরা কাজ করছি।’

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথম দিনের ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পরও অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাসজুড়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সরকারি আবাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতি শনিবার অপসারণ করা বর্জ্যের পরিমাণ এবং পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরের ছবি সংগ্রহের মাধ্যমে কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে।

Feb2
Feb2

ইরানের বন্দরে যাওয়ার পথে জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 12 August, 2026, 9:47 am
ইরানের বন্দরে যাওয়ার পথে জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের বন্দরে যাওয়ার পথে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অবরোধ ভাঙার চেষ্টার অভিযোগে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওমান উপসাগরে পানামার পতাকাবাহী ‘ভেলা নোভা’ নামের জাহাজটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাহাজটি ওমান উপসাগর দিয়ে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করছিল। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও জাহাজটির ক্রুরা তা উপেক্ষা করেন বলে দাবি করেছে সেন্টকম।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং এর স্টিয়ারিং ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় জাহাজটির কোনো ক্রু আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলকভাবে কমে এলেও নতুন এই হামলা পরিস্থিতিকে ফের উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। জুলাইয়ে ১৩ দিন ধরে চলা তীব্র সংঘাতের পর হামলা অনেকটাই থেমে যায়। এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে সেই উদ্যোগও ভেস্তে যায়।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের আওতায় এখন পর্যন্ত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল অকার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘অমান্যকারী’ হিসেবে চিহ্নিত তিনটি জাহাজকে অচল করা এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালানোর কথাও জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের পরও সক্রিয় সাজ্জাদ বাহিনী, চিন্তায় পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 12 August, 2026, 8:57 am
ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের পরও সক্রিয় সাজ্জাদ বাহিনী, চিন্তায় পুলিশ

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের আলোচিত মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হলেও স্বস্তি মেলেনি পুলিশের। বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পর ধারণা করা হয়েছিল, চট্টগ্রামে এই বাহিনীর চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতা কমবে। তবে সম্প্রতি হামজারবাগে একটি ভবনের গেটে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ার ঘটনায় সেই আশায় গুঁড়েবালি।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, নতুন এই হামলার পেছনেও সাজ্জাদ বাহিনীর হাত রয়েছে। ফলে একের পর এক সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পরও বাহিনীটি কীভাবে সক্রিয় থাকছে, তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কপালে।

সবশেষ সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাতে হামজারবাগের রুনা টাওয়ারে গুলি ছোড়ার আগে দুবাইপ্রবাসী এক ব্যবসায়ীর হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়। সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি পূরণের জন্য চাপ দেওয়া হয়। কথা না শুনলে লোক পাঠানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে দুই যুবক ভবনের গেটে গিয়ে পিস্তল দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি, এরপর স্থানীয় অস্ত্রধারীদের দিয়ে গুলি—এই কৌশল সাজ্জাদ বাহিনীর আগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিল রয়েছে।

চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ জুলাই ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ইমনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ইমন গ্রেপ্তারের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল, সাজ্জাদ বাহিনীর মাঠপর্যায়ের চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া ও হামলার ঘটনা কিছুটা হলেও কমবে। কিন্তু হামজারবাগের গুলির ঘটনায় উল্টো নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী গ্রেপ্তার হওয়ার পরও কীভাবে একই কায়দায় হুমকি দিয়ে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটছে? বিদেশে থাকা সাজ্জাদ কীভাবে তার বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, কেন তার নেটওয়ার্ক ভাঙা যাচ্ছে না—এখন এসব প্রশ্নই সামনে এসেছে।

তবে কয়েক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হলেও সাজ্জাদ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রায়হান আলমসহ কয়েকজন এখনো অধরা। ইমনের অনুপস্থিতিতে মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকাণ্ড রায়হানের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে। ফলে ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি রায়হানকে গ্রেপ্তার করাও এখন পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাজ্জাদ বাহিনীর চাঁদাবাজির বেশিরভাগ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী ও প্রবাসী চাঁদার টাকা দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও এ ধরনের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র অনেক সময় পৌঁছায় না। আগে তৎপরতা থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একেবারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সাজ্জাদ বাহিনী। ওই বছরের ২৯ আগস্ট বায়েজিদ বোস্তামী থানার অনন্যা আবাসিক ও কুয়াইশ এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে মো. আনিস ও মাসুদ কায়সার নামে দুই যুবককে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এর কয়েক সপ্তাহ পর ২১ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া এলাকায় চায়ের দোকানে বসে থাকা ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসীনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।

এরপর গত বছরের ২০ আগস্ট হাটহাজারীর উত্তর মেখল বড় দীঘির পাড় এলাকায় সুপার প্রপার্টিজ ও ইটভাটার মালিক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এর ১৫ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ডেভিড ইমনের নির্দেশনায় সন্ত্রাসীরা বাড়িটি লক্ষ্য করে ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এছাড়া গত ২ জানুয়ারি ও ২৯ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমানের বাসভবনে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই দফা হামলা ও অস্ত্রের মহড়া চালানো হয়। ১৪ জুন পাঁচলাইশ এলাকায় চট্টগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর ইসলামের সরকারি কার্যালয়ে ঢুকে টেবিলের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র রেখে হুমকি এবং মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে।

১৩ জুন নগরের বাকলিয়া এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের মালিকের কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না পেয়ে ডেভিড ইমনের নির্দেশনায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ ওঠে। এর এক মাস পর ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দীঘিরপাড় এলাকায় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় মামলা হলে সেখানে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। সর্বশেষ ১০ আগস্ট রাতে মুরাদপুরের হামজারবাগ এলাকায় এক প্রবাসীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে তার বহুতল ভবন লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হামজারবাগের ঘটনার পর সিএমপির উত্তর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোস্তফা স্বপন বলেছেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ প্রযুক্তিগত তদন্ত চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ‘বড় সাজ্জাদ’ নামে পরিচিত। নব্বইয়ের দশক থেকে চট্টগ্রামের অপরাধজগতে তার উত্থান। ২০০০ সালে চট্টগ্রামের আলোচিত এইট মার্ডার বা আট খুনের মামলায় তিনি আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে পলাতক রয়েছেন তিনি। তবে বিদেশে অবস্থান করেও নিজস্ব বাহিনীর মাধ্যমে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

সাভারে ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে ৯টি বিস্ফোরক উদ্ধার, আটক ১

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 12 August, 2026, 8:44 am
সাভারে ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে ৯টি বিস্ফোরক উদ্ধার, আটক ১

সাভারে ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে ৯টি বিস্ফোরক ও সরঞ্জাম সামগ্রী উদ্ধার করেছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বুধবার (১২ আগস্ট) ভোররাত ৪টার দিকে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে ৫টি বিস্ফোরকসহ আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তার কাছ থেকে ব্যাগ, চাকু ও লাইটার উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে আরিফের দেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকার আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন বাড়ি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে।

আটককৃত আরিফ হোসেনের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশের একটি সূত্রে জানায়, আটককৃত আরিফ হোসেনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কিশোরগঞ্জ থেকে অনুসরণ করছিল। পরে আরিফ সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় বাস থেকে নামলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছে তল্লাশি করে ৫টি বিস্ফোরক, একটি ব্যাগ, চাকু ও লাইটার উদ্ধার করা হয়। পরে আরিফের দেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে হেমায়েতপুরের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর প্রাইমারি স্কুলের পেছনে আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ওই বাড়ি থেকে ৯টি বিস্ফোরকসহ বিপুল পরিমাণ গান পাউডার ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, হেমায়েতপুর থেকে এক ব্যক্তিকে ৫টি বিস্ফোরকসহ আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই বাড়ি ঘিরে রেখে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রী ও ৯টি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি।