খুঁজুন
সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে স্বামী হত্যার বিচারের দাবীতে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০, ২:১৯ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে স্বামী হত্যার বিচারের দাবীতে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

২৪ঘণ্টা নিউজ ডেস্ক: সীতাকুণ্ডে অপু জলদাশকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার বলে প্রচার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মীর্জানগর জেলে পাড়ায় অপু বিশ্বাস (২২) হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পরিবার।

আজ মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্বেলনে নিহত অপু জলদাশের স্ত্রী মাধবী রানী জলদাশ লিখিত বক্তব্যে জানায় তার স্বামী অপু বিশ্বাসকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছে খুনিচক্র। মাধবী রানী জলদাশ বলেন, প্রয়াত ব্যবসায়িক পার্টনারের স্ত্রী সীমা ও তার প্রেমিকের অবৈধ পরকিয়া প্রেমের বলি হয়েছেন আমার নিরাপরাধ স্বামী অপু জলদাশ।

স্বামী হত্যার ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার স্বামী অপু জলদাশ (২২) সীতাকুণ্ড উপজেলা ৯ নং ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মির্জানগর, জেলেপাড়ায় গ্রামের নেপাল জলদাশের পুত্র আমার স্বামী দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে একই এলাকার মৃত রতন জলদাশের পরিবারের সাথে যৌথভাবে মাছের ব্যবসা করে আসছিল। এ কারণে রতন জলদাশের পরিবারের সাথে তার বেশ সখ্যতা গড়ে উঠে। রতন জলদাস গত বছর বজ্রপাতে মারা যাওয়ার পর তার তার স্ত্রী সীমা জলদাশ (মামলার ২ নং আসামী) তার মৃত স্বামীর ব্যবসা দেখাশুনা করিত এবং আমার স্বামী অপু জলদাশ সরল বিশ্বাসে তার সাথে পূর্বের ব্যবসায়িত তাকে নিয়মিত সাহায্য সহযোগিতা ও তার বাসায় যাতায়াত করতো। কিন্তু স্বামী রতন জলদাশের মৃত্যুর পর হতে তার (সীমার) আসল চরিত্র ধরা পড়ে। সে রতন জলদাশের আরেক বন্ধু (১নং আসামী) রুবেল জলদাশের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। আমার স্বামী তাদের অবৈধ সম্পর্কের কথা জেনে যায় এবং বিভিন্ন সময় তাদের আপত্তিকর, অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলে। আমার স্বামী ঘরে এসে এ নিয়ে আমার সাথে কথা বলতো। আমি তাকে এসব বিষয়ে এড়িয়ে যেতে বলতাম। কিন্তু প্রয়াত বন্ধু রতন জলদাশের সাথে সম্পর্কের বিষয় চিন্তা করে তাদের দুজনকে অনৈতিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দিলে তারা আমার স্বামীর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

তাদের অনৈতিক সম্পর্ক, কুর্কীতি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে তার ধারাবাহিকতায় আমার স্বামীর হত্যাকাণ্ডের দুদিন পূর্বে ১নং আসামী রুবেল জলদাশ ও ৩নং আসামী (সীমার মামাতো ভাই) আকাশ জলদাশ, আসামী সীমা জলদাশের উপস্থিতিতে আমার স্বামী অপু জলদাশকে তাদের সম্পর্কের বিষয়ে মুখ খুললে খুন করে ফেলিবে বলে হুমকি দেয়।

ঘটনার দিন ০৯/০২/২০২০ রাত সাড়ে ৭টার দিকে আমার স্বামী অপু জলদাশ তার নিজের ব্যবহৃত মোবাইল আইফোন ৫ (নাম্বার ০১৮৩৭-১১০৩৫৬) সাথে নিয়ে নিজের ব্যবসায়িক কাজে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। পরে আমি জানতে পারি আমার স্বামীকে আসামী রুবেল জলদাশ সীমা জলদাশের ঘরে ঢেকে নিয়া য়ায়। তখন ঘরে আগে থেকে আসামী আকাশ জলদাশ ও বালি জলদাশ উপস্থিত ছিল। তারা সবাই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে মুখ চেপে বিছানায় ফেলে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তারা এ হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে আসামী সীমা জলদাশের একটি শাড়ি আমার স্বামীর গলায় প্যাচিয়ে রুমের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে।

তখন খবর শুনে আমি ঘটনাাস্থলে গেলে তারা আমাকে আমার স্বামীর কাছে যেতে চাইলে তারা আমাকে বাধা দেয়। পরে আমি জোর করে সে ঘরে ঢুকে দেখতে পাই আমার স্বামী অপুর লাশ সীমা জলদাশের ঘরের ভিতর ফ্যানের সাথে ঝুলনো কিন্তু তার পা দুখানা একটু হাটু ভাঙ্গা ও ল্যাপ্টানে অবস্থায় ঝুলানো আছে। পরে ঘটনাস্থলে স্থানীয় মেম্বারের উপস্থিতিতে পুলিশ আমার স্বামীর মৃতদেহে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় এবং প্রাথমিক সুরতহাল তৈরী করেন। অপু জলদাশ বলেন, আমার স্বামী রুবেল দাশ আত্মহত্যা করেনি। তাকে অবৈধ প্রেমের কাটা মনে করে পরিকল্পতি সীমা জলদাশ ও রুবেল জলদাশ হত্যা করেছে। আমার বিশ্বাস আমার স্বামী আত্মহত্যা করতে পারে না। আর আত্মহত্যা করার মত কোন কারণও ছিল না। যদি আত্মহত্যাও করে তাহলে সীমার ঘরে কেন আত্মহত্যা করবে ? তাছাড়া ঘটনার দিন আমার প্রথমে সীমার বাড়ীতে গিয়ে দেখি ঘরের দরজা খোলা। যদি আত্মহত্যা করতো তাহলে দরজা ঘরের ভীতর থেকে বন্ধ থাকতো। মৃত্যুর আগে আমার স্বামী ঘর থেকে জিন্সের শার্ট পরে বেরিয়েছিল। কিন্তু তার যখন ঝুলন্তবস্থায় উদ্ধার করা হয় তখন তার শরীরে জিন্সের শার্টের পরিবর্তে গেঞ্জি ছিল। তাছাড়া তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন, স্বর্ণের আংটি, গলার স্বর্ণের চেইন কোথাই তার হদিস এখনো পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পরপরই পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্ত রুবেল জলদাশ, সীমার ভাই আকাশ পালিয়ে যায়। প্রায় ৫ মাস পলাতক থাকার পর গত জুলাই মাসে স্থানীয় ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার মাঈনুদ্দিনের সহযোগিতায় এলাকায় ফিরে আসে। তারা সহযোগীদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাা ধামাচাপা দিতে আমাদের নানাভাবে হামলা মামলা ভয়ভীতি চালিয়ে যাচ্ছে। স্বামী মারা যাওয়ার সময় আমি ৬ মাসের গর্ভবতী ছিলাম। পরে আমার সন্তান জন্ম হলেও তারমুখ দেখে যেতে পারিনি অপু দাশ। আমার ৩ বছরের আর একটি সন্তান রয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে দু সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে আমি এখন দিশাহারা।তার উপর স্বামী হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে আসামীরা উল্টো আমার আত্মীয় স্বজন অভিভাবকদের মিথ্যা জাল চুরি ও লুটপাটের মামলা দিয়ে হয়রানী করছে।

পুলিশ আমার স্বামী হত্যার মামলা না নিয়ে আমাদের থানা থেকে ফিরিয়ে দেয়। মাধবী জলদাশ আরও বলেন, পুলিশও প্রভাবশালীদের প্ররোচনায় আমার স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা নিয়ে আমার মৃত স্বামীর ভাইকে গ্রেফতার করেছে। স্বামীর হত্যার পর মামলা করার জন্য থানায় গিয়ে বার বার অনুনয় বিনয় করার পরও থানায় মামলা নেয়নি।

পরে আমরা হত্যার ১০ দিন পর ২০ শে ফেব্রুয়ারী-২০২০ ইংরেজিতে মাননীয় ২য় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত চট্টগ্রামে মামলা করেছি। (সি.আর মামলা নং ৭৫/২০২০)। আদালত মামলা তদন্তের জন্য সীতাকুণ্ড থানাকে নির্দেশ দিলেও এষনও পর্যন্ত এ মামলারও কোন অগ্রগতি নেই। আমি আমার নিরাপরাধ স্বামী অপু জলদাশ হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক বিচারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি এবং আদালতে দায়ের করা হত্যা মামলাটি র‌্যাব অথবা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই)কে তদন্তে দেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতি দাবী জানাচ্ছি।

২৪ঘণ্টা/এন এম রানা

Feb2

শিক্ষার্থী সাজ্জাদুলের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থী সাজ্জাদুলের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

মৌলভীবাজারের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবক সাজ্জাদুল ইসলামের উদ্ভাবনের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী সাজ্জাদুলের উদ্ভাবন সম্পর্কে অবগত হন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানিয়েছেন।

এসময় সাজ্জাদুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তিনি পচা ও পরিত্যক্ত সবজি থেকে পচনশীল পলিথিন এবং কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে ঢেউটিন, টাইলস ও বোর্ড তৈরি করেছেন।

দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব এসব উদ্ভাবনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি সাজ্জাদুল ইসলামের উদ্ভাবনী কাজে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তরুণ এই উদ্ভাবককে উৎসাহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাবেক আইজিপি বেনজীরকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
সাবেক আইজিপি বেনজীরকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের পুলিশ। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

বেনজীরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন। তাকে পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি মহান জাতীয় সংসদকে অবহিত করছি যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা কর্তৃক ইন্টারপোলে আবেদন করা হয়। গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে এটি পাঠানো হয়েছিল এবং আমরা বিষয়টি মনিটর করেছি। ইন্টারপোল ২০২৫/২৩৯ নম্বর ফাইল ও ৫৭৪/২০২৫ কন্ট্রোল নম্বরের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের প্রতি রেড নোটিশ জারি করে। উক্ত রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল কর্তৃক সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অনুরোধ করা হয়।

তিনি বলেন, আমি এ মহান সংসদের মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে জানাচ্ছি যে, গত ১২ জুন ২০২৬ তারিখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ, ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে প্রেরিত একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন।

মন্ত্রী আরও জানান, আমি এই মহান সংসদকে আরও অবহিত করছি যে, এনসিবি আবুধাবি জানিয়েছে, ইউএই ফেডারেল ল’ নাম্বার ৩৯ অব ২০০৬ অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (প্রত্যর্পণ প্রস্তাব) প্রেরণ করতে হবে। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ এবং ১০৯ সেকশন; ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ সেকশনের ৫(২), ২৬(২) এবং ২৭(১) ধারা; এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারার সেকশন ১১ অনুযায়ী মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই বিষয়ে এনসিবি ঢাকা ইন্টারপোলের চ্যানেলের মাধ্যমে রেড নোটিশ প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সমন্বয়, বিদেশি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ এবং গ্রেপ্তার পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল প্রস্তুত ও অনুমোদন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট প্রেরণ করে এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।

এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ। এর মাধ্যমে আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সরকার আমলের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ‘রেড নোটিশ’ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।

২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট নবায়ন ও জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।

বেনজীর ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন— পাসপোর্টের সাবেক পরিচালক ফজলুল হক, মুন্সী মুয়ীদ ইকরাম, টেকনিক্যাল ম্যানেজার সাহেনা হক ও বিভাগীয় পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ ২০২১০ সালের ১১ অক্টোবর ডিআইজি হিসাবে কর্মরত থাকাবস্থায় হাতে লেখা পাসপোর্ট সমর্পণ করে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ব্যতীত অফিসিয়াল মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এর জন্য আবেদন করেন। আবেদন ফরমে ‘অফিসিয়াল’ হিসেবে মার্ক করা হয়। তার আবেদনপত্রের প্রফেশন এর ক্রমিকে সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও জাল-জালিয়াতি, প্রতারণা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রাইভেট সার্ভিস উল্লেখ করা হয়। পরে র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায়ও পাসপোর্টের আবেদনপত্রে জালিয়াতি-প্রতারণা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ করেন। অন্যান্য সময়েও বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ব্যতীত মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)/ই-পাসপোর্ট (ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট) এর জন্য আবেদন করেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের আসামিরা বেনজীর আহমেদ-এর দাপ্তরিক পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জ্ঞাত থেকেও অন্যান্য আসামিরা বিভাগীয় অনাপত্তি সনদ সংগ্রহ না করে কিংবা যাচাই না করে স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে তার নামে সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ই-পাসপোর্ট ইস্যুর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দি বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩ এর ১১ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতি মামলাসহ মোট ৬টি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। যা বিচারাধীন।

বেনজীরের পাসপোর্ট সংক্রান্ত ইতিহাস

১৯৮৮ সালে চাকরিজীবন শুরু করেন বেনজীর। তিনি তার পুরোনো হাতে লেখা পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন ২০১০ সালের ১১ অক্টোবর। সে সময় নীল রঙের অফিশিয়াল পাসপোর্ট না নিয়ে নেন সবুজ রঙের সাধারণ পাসপোর্ট। আসল পরিচয় আড়াল করে নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী বলে পরিচয় দেন। আবেদন ফরমে পেশা হিসেবে লেখেন ‘প্রাইভেট সার্ভিস’।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ওই বছরের ১৪ অক্টোবর বেনজীরকে নবায়ন করা এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) দেওয়া হয়। যার মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছিল ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর। যদিও মেয়াদপূর্তির আগেই ২০১৪ সালে ফের বেনজীর পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন। কিন্তু এবারও যথারীতি নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী বলে পরিচয় দেন। ২০১৪ সালে বেনজীর ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তিনি অফিশিয়াল পাসপোর্ট নেননি।

দ্বিতীয় দফায় নবায়ন করা পাসপোর্টের মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পরে ২০১৬ সালে তিনি ফের পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন জমা দেন। সে সময় তিনি ছিলেন র‌্যাব মহাপরিচালক। সেবারও যথারীতি তিনি বেসরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেন তার আবেদনে। সে দফায় পাসপোর্টে বেনজীরের তথ্য গোপন ও জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে যায়।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরে সূত্র জানায়, র‌্যাব মহাপরিচালকের বেসরকারি পাসপোর্ট দেখে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। কর্মকর্তারা পরে বিষয়টি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালকের নজরে আনলে বেনজীরের আবেদনপত্র আটকে যায়। তখন বেনজীরকে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দাখিল করতে বলা হয়। কিন্তু এনওসি জমা না দিয়ে পাসপোর্ট নবায়নের চাপ দেন তিনি।

পরে সন্দেহজনক বিবেচনায় বেনজীরের বেসরকারি সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের পক্ষে যথাযথ ব্যাখ্যা চেয়ে র‍্যাব সদরদপ্তরে চিঠি দেয় পাসপোর্ট অধিদপ্তর। কিন্তু এতে কাজ হয়নি। চাপের মুখে একদিনের ব্যবধানে তাকে পাসপোর্ট দেয় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট বিভাগ (ডিআইপি)।

২০২০ সালে ৩০তম আইজিপি হিসেবে পুলিশ বাহিনীর প্রধান পদে দায়িত্ব নেন বেনজীর। নিয়মানুযায়ী সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হিসেবে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার কথা। কিন্তু বেনজীর মর্যাদাপূর্ণ লাল পাসপোর্টও নেননি। আইজিপি হয়েও তিনি ফের বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেন। সে সময় দেশে চালু হয় ই-পাসপোর্ট। বেনজীরের আবেদন নিয়েও দেখা দেয় জটিলতা। তা সমাধান করতে তিনি আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসে যাননি। অসুস্থতার কথা বলে পাসপোর্টের ডিআইপির মোবাইল ইউনিট চেয়ে পাঠান। পরে পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তার বাসায় গিয়ে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়াসহ সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। ২০২০ সালের ৪ মার্চ তার আবেদনপত্র জমা হয়ে যায়। ওই বছরের ১ জুন বেনজীরের নামে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।

 

টেকসই উন্নয়ন ও জনভোগান্তি কমানোর ওপর জোর দেবে সিডিএ : ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
টেকসই উন্নয়ন ও জনভোগান্তি কমানোর ওপর জোর দেবে সিডিএ : ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেছেন, চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনভোগান্তি কমানো এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে সিডিএ।

রোববার (১৪ জুন) ঢাকা থেকে ফিরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, সব সেবা সংস্থার একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত চট্টগ্রামকে আরও ভালো কিছু দেওয়া। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই নগরীর দীর্ঘদিনের সংকটগুলোর সমাধান সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম দেশের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড। কিন্তু জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সমন্বয়ের অভাব এই শহরের সম্ভাবনাকে ব্যাহত করছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), ওয়াসা, ওয়াপদা, গ্যাস বিভাগ, ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে সিডিএ আগামী দিনে কাজ করবে। চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনভোগান্তি কমানো এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, আমরা এমন একটি চট্টগ্রাম দেখতে চাই, যেখানে নাগরিক সেবা পাওয়া সহজ হবে এবং পাহাড়-প্রকৃতি সংরক্ষণ করে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সিডিএর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমি বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, নগরকে সাজাতে হবে বৈজ্ঞানিক ও যুগোপযোগী পদ্ধতিতে। এ জন্য তিনি নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশকর্মী ও গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে চান। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে সিডিএর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন উপকারের বদলে জাতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তা আর হতে দেওয়া হবে না। এই নগরকে ভালো কিছু দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য।