খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে স্বামী হত্যার বিচারের দাবীতে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০, ২:১৯ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে স্বামী হত্যার বিচারের দাবীতে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

২৪ঘণ্টা নিউজ ডেস্ক: সীতাকুণ্ডে অপু জলদাশকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার বলে প্রচার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মীর্জানগর জেলে পাড়ায় অপু বিশ্বাস (২২) হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পরিবার।

আজ মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্বেলনে নিহত অপু জলদাশের স্ত্রী মাধবী রানী জলদাশ লিখিত বক্তব্যে জানায় তার স্বামী অপু বিশ্বাসকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছে খুনিচক্র। মাধবী রানী জলদাশ বলেন, প্রয়াত ব্যবসায়িক পার্টনারের স্ত্রী সীমা ও তার প্রেমিকের অবৈধ পরকিয়া প্রেমের বলি হয়েছেন আমার নিরাপরাধ স্বামী অপু জলদাশ।

স্বামী হত্যার ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার স্বামী অপু জলদাশ (২২) সীতাকুণ্ড উপজেলা ৯ নং ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মির্জানগর, জেলেপাড়ায় গ্রামের নেপাল জলদাশের পুত্র আমার স্বামী দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে একই এলাকার মৃত রতন জলদাশের পরিবারের সাথে যৌথভাবে মাছের ব্যবসা করে আসছিল। এ কারণে রতন জলদাশের পরিবারের সাথে তার বেশ সখ্যতা গড়ে উঠে। রতন জলদাস গত বছর বজ্রপাতে মারা যাওয়ার পর তার তার স্ত্রী সীমা জলদাশ (মামলার ২ নং আসামী) তার মৃত স্বামীর ব্যবসা দেখাশুনা করিত এবং আমার স্বামী অপু জলদাশ সরল বিশ্বাসে তার সাথে পূর্বের ব্যবসায়িত তাকে নিয়মিত সাহায্য সহযোগিতা ও তার বাসায় যাতায়াত করতো। কিন্তু স্বামী রতন জলদাশের মৃত্যুর পর হতে তার (সীমার) আসল চরিত্র ধরা পড়ে। সে রতন জলদাশের আরেক বন্ধু (১নং আসামী) রুবেল জলদাশের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। আমার স্বামী তাদের অবৈধ সম্পর্কের কথা জেনে যায় এবং বিভিন্ন সময় তাদের আপত্তিকর, অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলে। আমার স্বামী ঘরে এসে এ নিয়ে আমার সাথে কথা বলতো। আমি তাকে এসব বিষয়ে এড়িয়ে যেতে বলতাম। কিন্তু প্রয়াত বন্ধু রতন জলদাশের সাথে সম্পর্কের বিষয় চিন্তা করে তাদের দুজনকে অনৈতিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দিলে তারা আমার স্বামীর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

তাদের অনৈতিক সম্পর্ক, কুর্কীতি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে তার ধারাবাহিকতায় আমার স্বামীর হত্যাকাণ্ডের দুদিন পূর্বে ১নং আসামী রুবেল জলদাশ ও ৩নং আসামী (সীমার মামাতো ভাই) আকাশ জলদাশ, আসামী সীমা জলদাশের উপস্থিতিতে আমার স্বামী অপু জলদাশকে তাদের সম্পর্কের বিষয়ে মুখ খুললে খুন করে ফেলিবে বলে হুমকি দেয়।

ঘটনার দিন ০৯/০২/২০২০ রাত সাড়ে ৭টার দিকে আমার স্বামী অপু জলদাশ তার নিজের ব্যবহৃত মোবাইল আইফোন ৫ (নাম্বার ০১৮৩৭-১১০৩৫৬) সাথে নিয়ে নিজের ব্যবসায়িক কাজে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। পরে আমি জানতে পারি আমার স্বামীকে আসামী রুবেল জলদাশ সীমা জলদাশের ঘরে ঢেকে নিয়া য়ায়। তখন ঘরে আগে থেকে আসামী আকাশ জলদাশ ও বালি জলদাশ উপস্থিত ছিল। তারা সবাই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে মুখ চেপে বিছানায় ফেলে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তারা এ হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে আসামী সীমা জলদাশের একটি শাড়ি আমার স্বামীর গলায় প্যাচিয়ে রুমের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে।

তখন খবর শুনে আমি ঘটনাাস্থলে গেলে তারা আমাকে আমার স্বামীর কাছে যেতে চাইলে তারা আমাকে বাধা দেয়। পরে আমি জোর করে সে ঘরে ঢুকে দেখতে পাই আমার স্বামী অপুর লাশ সীমা জলদাশের ঘরের ভিতর ফ্যানের সাথে ঝুলনো কিন্তু তার পা দুখানা একটু হাটু ভাঙ্গা ও ল্যাপ্টানে অবস্থায় ঝুলানো আছে। পরে ঘটনাস্থলে স্থানীয় মেম্বারের উপস্থিতিতে পুলিশ আমার স্বামীর মৃতদেহে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় এবং প্রাথমিক সুরতহাল তৈরী করেন। অপু জলদাশ বলেন, আমার স্বামী রুবেল দাশ আত্মহত্যা করেনি। তাকে অবৈধ প্রেমের কাটা মনে করে পরিকল্পতি সীমা জলদাশ ও রুবেল জলদাশ হত্যা করেছে। আমার বিশ্বাস আমার স্বামী আত্মহত্যা করতে পারে না। আর আত্মহত্যা করার মত কোন কারণও ছিল না। যদি আত্মহত্যাও করে তাহলে সীমার ঘরে কেন আত্মহত্যা করবে ? তাছাড়া ঘটনার দিন আমার প্রথমে সীমার বাড়ীতে গিয়ে দেখি ঘরের দরজা খোলা। যদি আত্মহত্যা করতো তাহলে দরজা ঘরের ভীতর থেকে বন্ধ থাকতো। মৃত্যুর আগে আমার স্বামী ঘর থেকে জিন্সের শার্ট পরে বেরিয়েছিল। কিন্তু তার যখন ঝুলন্তবস্থায় উদ্ধার করা হয় তখন তার শরীরে জিন্সের শার্টের পরিবর্তে গেঞ্জি ছিল। তাছাড়া তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন, স্বর্ণের আংটি, গলার স্বর্ণের চেইন কোথাই তার হদিস এখনো পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পরপরই পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্ত রুবেল জলদাশ, সীমার ভাই আকাশ পালিয়ে যায়। প্রায় ৫ মাস পলাতক থাকার পর গত জুলাই মাসে স্থানীয় ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার মাঈনুদ্দিনের সহযোগিতায় এলাকায় ফিরে আসে। তারা সহযোগীদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাা ধামাচাপা দিতে আমাদের নানাভাবে হামলা মামলা ভয়ভীতি চালিয়ে যাচ্ছে। স্বামী মারা যাওয়ার সময় আমি ৬ মাসের গর্ভবতী ছিলাম। পরে আমার সন্তান জন্ম হলেও তারমুখ দেখে যেতে পারিনি অপু দাশ। আমার ৩ বছরের আর একটি সন্তান রয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে দু সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে আমি এখন দিশাহারা।তার উপর স্বামী হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে আসামীরা উল্টো আমার আত্মীয় স্বজন অভিভাবকদের মিথ্যা জাল চুরি ও লুটপাটের মামলা দিয়ে হয়রানী করছে।

পুলিশ আমার স্বামী হত্যার মামলা না নিয়ে আমাদের থানা থেকে ফিরিয়ে দেয়। মাধবী জলদাশ আরও বলেন, পুলিশও প্রভাবশালীদের প্ররোচনায় আমার স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা নিয়ে আমার মৃত স্বামীর ভাইকে গ্রেফতার করেছে। স্বামীর হত্যার পর মামলা করার জন্য থানায় গিয়ে বার বার অনুনয় বিনয় করার পরও থানায় মামলা নেয়নি।

পরে আমরা হত্যার ১০ দিন পর ২০ শে ফেব্রুয়ারী-২০২০ ইংরেজিতে মাননীয় ২য় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত চট্টগ্রামে মামলা করেছি। (সি.আর মামলা নং ৭৫/২০২০)। আদালত মামলা তদন্তের জন্য সীতাকুণ্ড থানাকে নির্দেশ দিলেও এষনও পর্যন্ত এ মামলারও কোন অগ্রগতি নেই। আমি আমার নিরাপরাধ স্বামী অপু জলদাশ হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক বিচারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি এবং আদালতে দায়ের করা হত্যা মামলাটি র‌্যাব অথবা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই)কে তদন্তে দেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতি দাবী জানাচ্ছি।

২৪ঘণ্টা/এন এম রানা

Feb2

ফের বদলাচ্ছে পুলিশের পোশাক, রং নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ফের বদলাচ্ছে পুলিশের পোশাক, রং নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি

বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিফর্মের রঙ নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে আবারও পুরোনো ঘরানার রঙে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশের পোশাকে এখন থেকে গাঢ় নীল এবং হালকা অলিভ বা জলপাই রঙের সংমিশ্রণ দেখা যাবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস শাখা থেকে এই পরিবর্তনের সপক্ষে ‘পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫’ সংশোধনের একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, ইতিপূর্বে শার্টের রঙ লোহার মতো এবং প্যান্টের রঙ কফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এই রঙ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় এবং সাধারণ মানুষের মাঝেও এটি নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা শুরু হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুনরায় রঙ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেন।

পরিবর্তিত নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, দেশের সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের শার্টের রঙ হবে হালকা অলিভ বা জলপাই। অন্যদিকে এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি এবং র‍্যাব বাদে পুলিশের অন্যান্য সকল ইউনিটের জন্য শার্টের রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে গাঢ় নীল। তবে উভয় ক্ষেত্রেই প্যান্টের রঙ হবে খাকি (টিসি টুইল)। এই নতুন রূপরেখা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি বিধিমালা সংশোধনের খসড়া ইতিমধ্যই চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পুলিশের এই ইউনিফর্ম পরিবর্তনের ফলে সরকারের ওপর অতিরিক্ত কোনো আর্থিক চাপ পড়বে না। যেহেতু ইউনিফর্মগুলো নিয়মিত সরবরাহ ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রদান করা হয়, তাই বর্তমান বাজেটের মধ্যেই এই সমন্বয় করা সম্ভব হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন পোশাকের কার্যক্রম শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মূলত বাহিনীর সদস্যদের সন্তুষ্টি এবং পেশাগত গাম্ভীর্য বজায় রাখতেই এই রঙ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় আসন সংখ্যার অনুপাতে জোটটি মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তালিকাটি প্রকাশ করেন।

জামায়াতের আট নারী যাচ্ছেন সংসদে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজনকে নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হচ্ছে এই জোট থেকে।

প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী), সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা), ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ (কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, নারী অধিকার আন্দোলন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনিরা শারমিন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু (কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব) এনসিপি। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি, জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। সেই অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট ৩৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। দলের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের এরই মধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু জাবির। তার মায়ের এই মনোনয়নকে জোটের পক্ষ থেকে একটি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় হওয়ায় আজ রাতেই সব শরিক দল চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। খাল খনন করতে পারলে বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে চৌকিদহ খালটা কাটলাম। এখানে যদি কোনো মুরুব্বি থাকেন- যাদের বয়স ৬০-৭০ এর বেশি, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই খালটা আমার আব্বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে কেটেছিলেন। এই খালটা আমরা কাটলাম, প্রায় এক কিলোমিটার মতো লম্বা। এই খালটা কাটার ফলে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টিতে আশেপাশে যে পানি উঠে, তা এখানে জমা হবে। আবার শুকনা মৌসুমে যখন পানি পাওয়া যায় না, তখন এই খালে পানি থাকলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদের জন্য পানি পাবে। অর্থাৎ এলাকার মানুষের উপকার হবে।

স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলুন আমরা এই খালটা পুনঃখনন করি, পানি ফিরিয়ে আনি। খালের দুই পাশে গাছ লাগাই। খালের মধ্যে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হবে- যাতে এলাকার বেকার তরুণরা কাজ পায়। মা-বোনেরাও পাশে শাকসবজি চাষ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ যেমন পানির কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। তাই খাল খনন জরুরি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। এই খাল কাটাসহ যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যেন সফল হয়-সেজন্য দোয়া করবেন। এটা তো নিজের বাড়ি, ঘরের লোকজন। কয়েকদিন পর আবার আসবো ইনশাআল্লাহ।

এর আগে দুপুর ২টায় নিজ জন্মভূমি বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে পৌঁছালে খালের দুই পাড়ে অবস্থান নেওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

খাল খনন কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।