খুঁজুন
, ,

২ টাকার মাস্ক ৬৫ টাকা বালিশ-কভার ৩৪৫০!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 27 December, 2020, 12:32 pm
২ টাকার মাস্ক ৬৫ টাকা বালিশ-কভার ৩৪৫০!

২ টাকা দামের একটি সার্জিক্যাল মাস্কের দাম ৬৫ টাকা, ১৬ টাকা দামের এক জোড়া জুতার কভারের দাম ধরা হয়েছে ১১০ টাকা। আবার হ্যালেথেন ওষুধের দাম ১ হাজার ৩২৩ টাকা হলেও ঠিকাদার টেন্ডারে দাম ধরেছেন ১৮৯ টাকা। বেশি ব্যবহৃত পণ্য-ওষুধের কয়েকগুণ বেশি দাম আর কম প্রয়োজন হয় এমন ওষুধের অবিশ্বাস্য রকম দাম কমিয়ে চলছে টেন্ডার জালিয়াতি। তিন বছর ধরে এই জালিয়াতি পন্থায় জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউটে টেন্ডার বাগিয়ে নিচ্ছে মিস রোকেয়া ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু হানিফ বলেন, আমরা লক্ষ্য করি একটি কোম্পানি বারবার সর্বনিম্ন দরদাতা হচ্ছে। খতিয়ে দেখতে গিয়ে দরদাতার কৌশল বুঝতে পারি। নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতাকে টেন্ডার দেওয়া হয়। এটা বিবেচনা করা হয় লটের মোট দাম হিসেবে।

অনেকগুলো আইটেম মিলিয়ে একটি লট হয়। আলাদাভাবে প্রতিটি পণ্যের দাম খেয়াল না করলে দামের হেরফেরের চালাকি বোঝা যায় না।

তিনি আরও বলেন, এই ক্রেতা বেশি ব্যবহৃত পণ্যের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়েছেন আর কম ব্যবহৃত পণ্যের দাম কমিয়ে দরপত্র জমা দিয়েছেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা এবার যেসব আইটেমের দাম বাজার দরের চেয়ে অনেক কম সেগুলো বেশি করে কিনেছি এবং যেগুলোর দাম অনেক বেশি ধরেছে সেগুলো বাদ দিয়েছি।

এতে সরকারের অনেক অর্থের সাশ্রয় হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে বিশেষায়িত এই হাসপাতাল। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের জরিপে সব বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের মধ্যে প্রথম হয়েছে এই হাসপাতাল।

জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, এখানে কানের পর্দা লাগানো, নাকের পলিপ ও হাড়ের অপারেশন, সাইনাস ক্যান্সারের আধুনিক এনডোসকপিক অপারেশন, জিহ্বা, শ্বাসনালির ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রেন্ডের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের অপারেশন করা হয়। গলা না কেটে এনডোসকপির মাধ্যমে থাইরয়েড অপারেশন ব্যবস্থা এখানে আছে।

যারা জন্ম থেকে বধির (কানে শোনে না) ও কথা বলতে পারে না তাদের বিনামূল্যে কক্লিয়ার সংযোজন করা হয়। রয়েছে উন্নতমানের অডিওলজি বিভাগ। এই হাসপাতালের বহির্বিভাগে ২০১৮ সালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৪৪ জন, জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৯৮৬ জন। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৩ হাজার ১৮৬ জন। ২০১৯ সালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ১৭৮ জন, জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ৬৭১ জন। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৩ হাজার ৪৮৭ জন।

এ হাসপাতালে দরিদ্র রোগীর জন্য রয়েছে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও অপারেশনের ব্যবস্থা। মাত্র ১০ টাকার টিকিটে রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ১১২টি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে এ হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন বহির্বিভাগ, আন্তঃবিভাগ ও অপারেশনের রোগীদের সব ওষুধ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হয়। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পণ্য কেনা হয় দরপত্রের মাধ্যমে। হাসপাতাল বিজ্ঞপ্তি আহবান করে নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দিয়ে থাকে।

মিস রোকেয়া ইন্টারন্যাশনাল নামের প্রতিষ্ঠানটি গত তিন বছর ধরে টানা সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কার্যাদেশ পেয়ে আসছে। তাদের দেওয়া দামের তুলনায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য অনেক বেশি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নিলামে দেওয়া ওষুধের দামের হেরফেরে প্রতি বছর ভীষণ চতুরতার সঙ্গে টেন্ডার বাগিয়ে নিচ্ছে মিস রোকেয়া ইন্টারন্যাশনাল। বেশি ব্যবহৃত কম দামি পণ্য এবং ওষুধের দাম ধরা কয়েছে কয়েকগুণ বেশি। কিন্তু বেশি দামের খুব অল্প ব্যবহৃত হয় এমন ওষুধের দাম অবিশ্বাস্য কম রাখা হয়েছে। মোট যোগফল মিলিয়ে টেন্ডারে অর্থমূল্য কমে আসছে। কিন্তু আলাদাভাবে ওষুধ ও পণ্যের দাম খেয়াল করলেই ধরা পড়ে এ জালিয়াতি। ২ টাকা দামের একটি সার্জিক্যাল মাস্কের দাম ধরা হয়েছে ৬৫ টাকা, ১৬ টাকা দামের এক জোড়া জুতার কভারের দাম ধরা হয়েছে ১১০ টাকা। ৫৯০ টাকা দামের বালিশ ও কভারের দাম ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা।

এসব পণ্য প্রতিদিনই ব্যবহার হয়। তাই প্রয়োজনও হয় অনেক। হাসপাতাল এগুলো বেশি কেনায় ঠিকাদারের লাভ থাকে বেশি। কানের ড্রপ বেটামেথাসন ও নিওমাইসিনের বাজার মূল্য ৩৫ টাকা। অথচ টেন্ডারে দাম ধরা হয়েছে ৬৯ টাকা। একটা ড্রপেই ঠিকাদার লাভ রেখেছে ৩৪ টাকা। যা ওই ড্রপের দামের প্রায় সমান। গ্লাইকোপাইরোলেট ইনজেকশনের বাজার মূল্য ২০ টাকা। টেন্ডারে দাম ধরা হয়েছে ৯০ টাকা। একটা ইজকেশনে ৭০ টাকা দাম বেশি ধরা হয়েছে। ফ্লুক্সাসিলিন ৫০০ এমজি ইনজেকশনের দাম ৪৫ টাকা, টেন্ডারে দাম উল্লেখ করা হয়েছে ৫৩ টাকা। প্রতিটি ইনজেকশনে লাভ রাখা হয়েছে ৮ টাকা।

এই ওষুধ এবং ইনজেকশনগুলো নাক, কান, গলার রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। অথচ এগুলোতে বড় অঙ্কের লাভ রেখে জমা দেওয়া হয়েছে টেন্ডার। এদিকে খুব কম ব্যবহার হয় কিন্তু দামি এমন ওষুধের দাম কমানো হয়েছে। ওষুধের গুণগত মান নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। অজ্ঞানের কাজে ব্যবহৃত হ্যালেথেন প্রতি বোতলের পাইকারি দাম ১৩২৩ দশমিক ৬১ টাকা। ঠিকাদার দাম নির্ধারণ করেছেন ১৮৯ টাকা। গুলাটার এলডিহাইট (সাইডেক্স, যন্ত্রপাতির জীবাণুনাশক) প্রতি বোতলের পাইকারি দাম ১ হাজার ১০০ টাকা, ঠিকাদার দাম ধরেছেন ৪৫০ টাকা। কিন্তু এসব ওষুধ খুব অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয় হাসপাতালে।

এ বছরও টেন্ডারে এমন চতুরতা করলে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। অন্য দরদাতাদের সঙ্গে বিশাল পার্থক্য এবং বারবার একই প্রতিষ্ঠান টেন্ডার পাওয়ায় সন্দেহ আরও দানা বাঁধে। নিলামে উল্লেখ করা প্রতিটি পণ্যের দাম মেলাতে গিয়ে ধরা পড়ে এই জালিয়াতি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। নিলামে ওষুধ কেনার ব্যাপারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়।

এ বছর নিলামে অন্য দরদাতাদের সঙ্গে মিস রোকেয়া ইন্টারন্যাশনালের দেওয়া দরে বিশাল ব্যবধান আমাদের নজরে আসে। এই প্রতিষ্ঠান গত তিন বছর ধরে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে টেন্ডার পেয়ে আসছে। বিষয়টি খটকা লাগায় প্রতিটি পণ্য এবং ওষুধের দাম মেলাতে গিয়ে উঠে আসে দামের হেরফেরের এই চিত্র। দরদাতার এই চালাকি বুঝতে পেরে বেশি দাম উল্লেখ করা ওষুধ ও পণ্য না কিনে কম দামে পাওয়া ওষুধ বেশি করে কিনেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এতে সরকারের প্রায় ১১ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে মিস রোকেয়া ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক ফারুক ভুইয়ার দরপত্রে উল্লেখ করা মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। দরপত্রে দেওয়া রাজধানীর মগবাজারের ওয়্যারলেস রেলগেট এলাকার ঠিকানায় গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।

Feb2
Feb2

যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 10:31 pm
যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে নতুন যুগ্ম-সচিবদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর বা অনলাইনে ই-মেইলে (sa1@mopa.gov.bd) পাঠাতে পারবেন।

পদোন্নতির আদেশে উল্লেখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনরকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে, তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে আরও ৭ জনকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একদিনে মোট ১৭৯ জন এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো।

বর্তমানে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিবের সংখ্যা হলো এক হাজার ৬১ জন। এ পদোন্নতির মূল বিবেচ্য ছিল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচ। এছাড়া ইতোপূর্বে বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছেন।

‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’-এ বলা হয়েছে, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের উপসচিব পদে কর্মরতদের বিবেচনায় নিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে কমপক্ষে ৫ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বা উপ-সচিব পদে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরিসহ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো কর্মকর্তা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন।

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 12:27 pm
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া আজ ভোরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

চকরিয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম জানা যায়নি। ভোরবেলায় মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ তাদের মা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে বান্দারবানের লামায় আজিজনগরে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত পাঁচজন হলেন- মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান (৫)। অপর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাহাড়ধসের পর এলাকার মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।