খুঁজুন
বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকাতির পর পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিতেন ওরা ১১ জন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৯, ৬:০০ অপরাহ্ণ
ডাকাতির পর পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিতেন ওরা ১১ জন

ছবি সংগৃহিত

ওরা এগারো জন। দেশের স্বার্থে বড় কোন অসাধারণ কর্মযজ্ঞে এদের কোন ভুমিকা না থাকলেও এ ১১ জনের রয়েছে মানুষ থেকে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার প্রতিভা। বাস ও ট্রেন যাত্রীদের নিঃস করে পথে বসিয়ে তার মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে পাহাড়ের গুহায় আত্মগোপনে থাকাটা ছিলো তাদেও কৌশল।

চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস, পাহাড়তলী ও জেলার সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, লাকসাম, ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সুযোগ বুঝে বাস ও ট্রেনযাত্রীদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যরা। যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ও ল্যাপটপসহ দামী জিনিসপত্র লুট করে নিমিষেই পাহাড়ের গুহায় জাদুকরের মতোই হারিয়ে যায় এ ডাকাত চক্রটি।

ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানা অভিযানেও তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। তবে গত ২ থেকে আড়াই মাস আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া এ ডাকাতচক্রের কয়েকজন সদস্যের কাছ থেকে পুলিশ বেশ কিছু তথ্য পায়। তথ্যের ভিত্তিতে গত দুমাসে জামিনপ্রাপ্ত ডাকাত দলের সদস্যদের উপর পুলিশ নজরদারি বাড়ায়।

আর পুলিশের নজরদারির জালে আটকা পড়ে চক্রের ১১ সদস্য। শনিবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার টাইগার পাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওরা ১১ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের মধ্যে দুইজন ‘গরীবের ডাক্তার’ খ্যাত সীতাকুণ্ডের আলোচিত চিকিৎসক শাহ আলম হত্যার আসামী।

এসময় তাদের কাছ থেকে কাঠের বাটযুক্ত লোহার তৈরী দুটি দেশীয় এলজি, দুটি কার্তুজ, ২ টি কালো রংয়ের টিপ ছোরা, ১ টি লোহার তৈরী ছেনি, ৬ টি কাঠের বাটযুক্ত কিরিচ, ১ টি সাদা রংয়ের পিকআপ (ঢাকা মেট্রো-ঠ- ১১-২১৯১) ও ১টি সিলভার রংয়ের প্রাইভেট কার (চট্টমেট্রো-খ-১১-০১৫০) জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সীতাকুণ্ড জলিল টেক্সটাইল কুতুব মেম্বার বাড়ির শো. শফির ছেলে মো. সালাউদ্দিন (২৪), ভোলা জেলার চরফ্যাশন গোর আলা মুক্ষি বাড়ির নুরনবী সিকদারের ছেলে মো. রাজু (১৯), কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম বাসন্ডা পশ্চিম পাড়ার মৃত মো. ফরিদের ছেলে ইসরাফিল হোসেন আলম (২২), নোয়াখালী জেলার সোনাইমুরি নাটোর শহরের মৃত আলী আহাম্মদের ছেলে মো. আকবর হোসেন (২২), জি বাড়িয়া নবীনগর জাফরপুর জব্বার পুলিশের বাড়ির মো. কামালের ছেলে মো. সেলিম (২৮), নোয়াখালী মাইজদি নালা নগরের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. টিটু (২৫), সীতাকুণ্ড উপজেলার ইমাম নগরের কাশেম মাস্টার বাড়ির ইব্রাহিমের ছেলে মো. ইয়াসিন (২৩), কুমিল্লা চান্দিনার জোয়ার হালাল বাড়ির মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে মো. ফজর আলী (৩৫), নগরীর আকবর শাহ থানা মিরপুর আবাসিকের রাজা কমিশনারের ভাড়াটিয়া আব্দুল মালেকের ছেলে মো. সুমন (২৫), নোয়াখালি সুধারামপুর সুন্দরপুরের চেয়ারম্যান বাড়ির মো. মানিকের ছেলে মো. রহিম প্রকাশ হৃদয় (২২) ও কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোটের দাউদপুর মজুমদার বাড়ির মৃত আবুল কালামের ছেলে মো. পলাশ হোসেন (২৫)।

শনিবার দুপরে নগরীর মোমিন রোডে মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য তুলে ধরেন নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-দক্ষিণ) শাহ মো.আব্দুর রউফ, এসি কোতোয়ালি নোবেল চাকমা। এর আগে শনিবার সকালে নগরীর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মোহসিন ওরা ১১ জনের গ্রেফতার তথ্যটি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, গ্রেফতারের পর ওরা ১১ জনই চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকায়, সীতাকুণ্ডের পন্থিছিলায়, মিরসরাই, ফেনীর মহিপালে, নোয়াখালী, লাকসাম ও কুমিল্লাসহ অন্তত দুশটি ডাকাতির ঘটনার কথা স্বীকার করেছে।

তিনি বলেন, ডাকাতরা প্রতিদিন ভোরে প্রাইভেট কার ও পিকআপ ভ্যান নিয়ে নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতো। দোকান ও প্রতিষ্ঠান টার্গেট করতো। দোকান ভাঙার বিভিন্ন সরঞ্জাম সাথে নিয়ে রাতে টার্গেটকৃত দোকান বা প্রতিষ্ঠানের তালা কৌশলে ভেঙ্গে সব লুট করে পালিয়ে যেতো।

এছাড়াও এ ডাকাত দলের সদস্যরা বাস বা ট্রেনের সময়সূচি টার্গেট করে পাহাড়ের কাছাকাছি অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অবস্তান করতো। সময় সুযোগ বুঝে ঝাপিয়ে পড়ে যাত্রীর সর্বস্ব লুটে নিয়ে আবার পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিতেন।

পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী বলেন, আড়াই বছর জেল কেটেছে এদের দলনেতা মো. সালাউদ্দিন। সম্প্রতি সে জামিনে বেরিয়ে ফের ডাকাতি চক্রের লিড দিচ্ছে। কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিচক্ষনতায় অস্ত্র ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান এবং প্রাইভেটকারসহ এ চক্রের ১১জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মোহসিন জানান, সশস্ত্র ডাকাত দলটি ডাকাতির উদ্দ্যেশে পিকআপ ও একটি প্রাইভেটকার নিয়ে নগরীর টাইগারপাস এলাকার জসিমের চায়ের দোকানের সামনে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ খবরে দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার সময় অভিযানে যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম। এসময় পুলিশের গাড়ি দেখে ডাকাতদল তাদের ব্যবহৃত গাড়িসহ পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ঘেরাও করে গাড়িসহ তাদের গ্রেফতার করে।

ওসি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা শুধু ডাকাতি নয় তারা ছিনতাই কাজেও খুব পারদর্শী। এরা প্রতিদিন ভোরে বাস ও ট্রেন যাত্রীদের কাছ থেকে ছিনতাই করে থাকে। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন নির্জন সড়কে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের রিকশা ও সিএনজি আটকে তাদের দামী জিনিসপত্র হাতিয়ে নেন। এমনকি তাদের সাথে থাকা পাসপোর্ট ও ভিসাও হাতিয়ে নিয়ে পরবর্তীতে তা ফেরৎ নিতে বিকাশের মাধ্যমে টাকাও আদায় করেছে বলে অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছে।

ওসি মো. মোহসিন বলেন, সম্প্রতি নগরীর টাইগারপাস মোড়ে প্রাইভেট কার ব্যবহার করে দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনার সূত্র ধরে শনিবার মধ্যরাতে চক্রটির অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালিয়ে ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

এদের মধ্যে সীতাকুণ্ড জলিল টেক্সটাইল কুতুব মেম্বার বাড়ির শো. শফির ছেলে মো. সালাউদ্দিন (২৪) ও নোয়াখালী মাইজদি নালা নগরের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. টিটু (২৫) সীতাকুণ্ডের আলোচিত ডা. শাহ আলম হত্যাকাণ্ডের আসামি। সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের বরাতে এ তথ্যটিও নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মোহসীন।

Feb2

মমতার বাড়িতে সিআইডি অভিযান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
মমতার বাড়িতে সিআইডি অভিযান

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে সিআইডি। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন-সংক্রান্ত চিঠিতে, বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনযায়ী, মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে কলকাতার ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি রোডে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অভিযান চালায় সিআইডির একটি দল।

একইদিন দলের সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়েও চলে অভিযান। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা সব্যসাচী দত্ত।

এ সময় তৃণমূল কর্মীরা গোয়েন্দাদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে মমতার বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালায় সিআইডির সদস্যরা। একইদিন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের কার্যালয়েও অভিযান হয়েছে।

এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ও অন্যান্য বৈঠকের জন্য তারা দিল্লিতে আছেন। সেটা জানার পরও আজকের দিনে তাদের অনুপস্থিতিতে কেন সিআইডি তাদের বাসায় অভিযান চালাল সেটাই বিস্ময়কর।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারকে ৮০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেননি বলে দাবি করেন কয়েকজন বিধায়ক।

জালিয়াতির অভিযোগ তুলে মামলা করেন বিধানসভার প্রধান সচিব। সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি ও সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে অভিযান চালায় সিআইডি।

এদিকে মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে হওয়া প্রশাসনিক বৈঠকে অভিনেতা ও তৃণমূল সাংসদ দেবসহ বেশ কয়েকজন বিরোধী বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন।

গত কয়েক দিনে যেভাবে একের পর এক নেতা মমতার হাত ছাড়ছেন, তাতে দেবও একই পথে হাঁটছেন কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আমার ভালোবাসা সারাজীবন থাকবে। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে আছেন ততদিন তার সঙ্গেই আছি।

দলের এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যেই বড় ধাক্কা খেয়েছেন তৃণমূলের আরেক দাপুটে নেতা ও বিধাননগর পুরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। সোমবার গভীর রাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলার সময় ক্ষুব্ধ জনতা তার দিকে ডিম, টমেটো ও গোবর ছুড়ে মারে।

 

লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে যেয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে যেয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত

ময়মনসিংহে আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকা-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নিতে গিয়ে রেলওয়ের একটি রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর কলেজ রোড এলাকার একটি রেলক্রসিংয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি কলেজ রোড রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে এর একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার পরপরই ঢাকা-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তবে লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের সময় ময়মনসিংহ স্টেশনের আউটার এলাকায় একটি রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত হয়।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইনচ্যুত বগিগুলো দ্রুত উদ্ধার করে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। তবে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতায় তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যেসব কর্মকর্তার অবহেলা বা গাফিলতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয় কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিনের সভায় মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, একনেক সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে কোন কর্মকর্তার কারণে এই প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়াতে হচ্ছে, তাকে চিহ্নিত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় তিনি সব ধরনের প্রকল্পের খরচ কমানোর এবং রেট সিডিউল একীভূত করার নির্দেশ দেন। এলজিইডি ও পিডাব্লিউডিসহ বিভিন্ন বিভাগের রেট সিডিউল আলাদা হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব বিভাগের রেট সিডিউল একই কাঠামোতে নিয়ে আসতে হবে।

উন্নয়নের নামে গাছ কাটার বিষয়েও নিজের দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একনেক সভায় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এক সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অনেক গাছ ছিল যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত, কিন্তু এখন ঢাকা-বগুড়া সড়কেও তেমন গাছ নেই। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, তিনি সব এলাকাকে শহর বানানোর পক্ষে নন, বরং গ্রামীণ পরিবেশ বজায় রাখাই তার পছন্দ। সড়কের পাশে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস বা ইপিল-ইপিল গাছ না লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বিনা কারণে গাছ কেটে ফেলা মানুষ হিসেবে তাকে ব্যথিত করে।

এদিনের সভায় অনুমোদিত ১০টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়), সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ এবং আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প। এছাড়া বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঠাকুরগাঁওয়ে লিফট সংযোজন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ, ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (২য় পর্যায়), মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট, দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকা ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড) প্রকল্পটির জট অবশেষে খুলতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি মাসের ২৩ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত চার দিনের চীন সফরের আগেই এই অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প একনেকের এজেন্ডায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ‘ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার’ এবং ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা’ করার প্রতিশ্রুতিরই অংশ। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এই অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলা হচ্ছে, যা বঙ্গবন্ধু টানেল থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বিশেষ এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীনা ঋণ এবং বাকি অংশ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। চীনের ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (সিআরবিসি) জিটুজি ভিত্তিতে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করবে। এই প্রকল্পের আওতায় সেতুসহ সংযোগ সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস পাইপলাইন, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ স্টেশন, ২০ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন এবং ১২ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সরকারের অনীহা, ডিপিপি অনুমোদন ও অর্থায়ন জটিলতায় প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরকে কেন্দ্র করে এই প্রক্রিয়া গতি পায় এবং বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে নিয়ে আসে। এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর বছরভিত্তিক ব্যয়ের খাতও চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে নিজস্ব তহবিল ও ঋণের অর্থ খরচ করা হবে।