খুঁজুন
, ,

আওয়ামী লীগ সরকারে আছে বলেই দেশ স্বনির্ভর ও উন্নত হয়ে গড়ে উঠছে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 11 January, 2021, 10:44 pm
আওয়ামী লীগ সরকারে আছে বলেই দেশ স্বনির্ভর ও উন্নত হয়ে গড়ে উঠছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, জনগণের ভোটে আওয়ামী লীগ দীর্ঘকাল দেশ পরিচালনার সুযোগ পাওয়াতেই বাংলাদেশ আজ মর্যাদাপূর্ণ, স্বনির্ভর এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়ে উঠছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগের প্রেক্ষিতে একটা বিষয় সুস্পষ্ট হয়েছে যে, সমগ্র বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখছে; যেটি অতীতে ছিলনা এবং বাংলাদেশ নাম বললেই ঝড়, বন্যা আর দারিদ্রের দেশ বলে বিশে^ অনেকে মনে করতো।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বে এই বাংলাদেশ দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ মানুষের জীবন মান উন্নয়নে আজকে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে যা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সভাপতিত্বকালে দেয়া প্রারম্ভিক ভাষণে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বস্তুত ইংরেজী নতুন বছর ২০২১ সালে এটাই ছিল মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক।

তাঁকে চতুর্থবারের মত ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করায় দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে বলেই স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী যেমন উদযাপন করেছি তেমনি সরকারে থেকেই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের এবং দেশের জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সীমিত সম্পদ এবং বিশাল জনসংখ্যাকে কাজে লাগিয়েই তাঁর সরকার দেশকে আত্মমর্যাদাশীল করে গড়ে তুলতে চায়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যতটুকু আছে তা নিয়েই দেশের যে বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে তাঁদের কর্মক্ষম করে তুলবো।’

‘আমাদের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে নিজেদের আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে,’বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবানা’- নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান করতে পারায় আজকে বিশ্বে সেটা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি এবং স্বপ্লোন্নত দেশ থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে আসীন হয়েছি।

তিনি বলেন,‘নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করবে বাংলাদেশ- এই একটি সিদ্ধান্তই সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পরিবর্তন করে দিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ আর পরনির্ভরশীল নয়।

এ সময় পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রের জন্য তিনি নাম উল্লেখ না করে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসের প্রতি অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করে তার গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ আঁকড়ে থাকার প্রচেষ্টাকে দায়ী করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মাসেতু প্রকল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পেছনে আমাদের দেশেরই স্বনামধন্য কিছু লোক জড়িত, যেটা আমাদের দুর্ভাগ্য।’

তিনি বলেন, ‘একটি ব্যাংকের সামান্য একটি এমডি পদের লোভে একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে যেটি বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে, যে পদ্মা সেতু আমাদের দক্ষিণের ২২টি জেলার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধি শতকরা ২ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে সেটি বন্ধের ব্যবস্থা নিয়েছিল।’

‘যাহোক একটি আঘাত আসলে হয়তো মানুষ সচেতন হয় এবং নিজের কাজ করা শেখে, আমরা সেটাই শিখেছি,’যোগ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘ঐ আঘাতটা আসাতে আমরা হতাশ না হয়ে বরং সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার ঘোষণা দেই এবং যেটা আজকে বাস্তবে রূপ নিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় কোভিড-১৯ এর জন্য চলমান জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘটা করে পালন করতে না পারলেও দেশের সকল জনগণকে একটি ঘর করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সকল ভূমিহীন, নি:স্ব, হতদরিদ্র পরিবারকে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাংলাদেশে আর একটি মানুষও গৃহহীন থাকবেনা, সকল ঘরে বিদ্যুতের সেবা পৌঁছে দিয়ে প্রত্যেক ঘরে আমরা আলো জ¦ালবো।’

তিনি আরো বলেন, জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে মৌলিক চাহিদাগুলো তাঁর সরকার পূরণ করে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে এবং সেভাবেই দেশকেও এগিয়ে নিয়ে গিয়ে জাতির পিতার ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা দেশ স্বাধীনের পরে যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ পুনর্গঠনকালে সেই যে বলেছিলেন-এই দেশের মাটি এবং মানুষ রয়েছে, তা দিয়েই তিনি দেশকে গড়ে তুলবেন- সেকথা মাথায় রেখেই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সকলকে ইংরেজী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে নতুন বছরে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন চলমান থাকার পাশাপাশি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী সমাগত হওয়ায় এটিকে জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

Feb2
Feb2

সব ধর্মাবলম্বীর উৎসব নিরাপদ ও উৎসবমুখর করতে কাজ করছে বিএনপি: শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 24 July, 2026, 7:50 pm
সব ধর্মাবলম্বীর উৎসব নিরাপদ ও উৎসবমুখর করতে কাজ করছে বিএনপি: শামীম

রথযাত্রা বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুবের রহমান শামীম।

তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে বিএনপি কাজ করছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে নগরের ডিসি হিল থেকে শুরু হওয়া শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির ও নন্দনকানন ইসকন রাধামাধব মন্দিরের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, হাজারো ভক্তের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চেতনায় বিশ্বাসী। ধর্মীয় বিভাজনের মাধ্যমে যাতে সমাজে কোনো বিভেদ সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাই।

তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য জেলা ও উপজেলায় বিএনপির পক্ষ থেকে সমন্বয় টিম গঠন করা হয়েছে। রথযাত্রা সফল করতেও দলের নেতাকর্মীরা কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও সব ধর্মাবলম্বীর উৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

উল্টো রথযাত্রা উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসকন নন্দনকানন মন্দিরের অধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্পাদক শ্রীপাদ পন্ডিত গদাধর দাস ব্রহ্মচারী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসকন প্রবর্তক মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ দারুব্রহ্ম জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী। স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ আশির্বাদক হিসেবে ছিলেন ইসকনের আন্তর্জাতিক প্রধান কেন্দ্র শ্রীধাম মায়াপুরের সিনিয়র ভক্ত শ্রীপাদ কমলাপতি দাস ব্রহ্মচারী ও মায়াপুর একাডেমির সহ পরিচালক শ্রীপাদ তারক কৃষ্ণনাম দাস ব্রহ্মচারী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদেও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ। বিশেষ অতিথি ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ট্রাষ্টি শ্রীযুত দীপক কুমার পালিত, ইসকন কমিউনিকেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হৃষীকেশ গৌরাঙ্গ দাস, সাবেক কাউন্সিলর এম এ মালেক,মুকুন্দ ভক্তি দাস ও সুমন চৌধুরী প্রমুখ।

পরে অতিথিরা আরতি নিবেদন ও বেলুন উড়িয়ে উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধন করেন। বিকেলে নগরের ডিসি হিল থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। আয়োজকদের দাবি, শোভাযাত্রায় অর্ধলক্ষাধিক ভক্ত অংশ নেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।

স্পিকারের দায়িত্বে কায়সার কামাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 24 July, 2026, 7:33 pm
স্পিকারের দায়িত্বে কায়সার কামাল

শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তিনি পদত্যাগ করেন।

রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী, দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছি। যদি প্রয়োজন হয়।’

একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও শপথের সময় স্পিকারের শপথ নিয়ে রাখেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস তালুকদারসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 24 July, 2026, 6:12 pm
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। যা জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরপরই সংবিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

এর আগে মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-এর নিকট পদত্যাগপত্র জমা দেন।

স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।

তিনি আরও লিখেন, এ অবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে।

আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রোববার তাঁর ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন।