খুঁজুন
, ,

আজ জেল হত্যা দিবস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 3 November, 2019, 12:00 am
আজ জেল হত্যা দিবস

আজ ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস। পচাঁত্তরের পনেরই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলংকজনক অধ্যায় এই দিনটি।

পনেরই আগষ্টের নির্মম হত্যাকান্ডের পর তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এর আগে এই চার জাতীয় নেতাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করবে। আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন ও দল সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে পালিত হবে শোকাবহ এই দিবস।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলের কন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণ। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জমায়েত এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে জাতীয় চার নেতার কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত।

একই ভাবে রাজশাহীতে জাতীয় নেতা কামারুজ্জামানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়াও এ দিন বিকাল ৩ টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (খামারবাড়ি, ফার্মগেইট) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী সভার সবচাইতে ঘৃণিত বিশ্বাসঘাতক সদস্য হিসেবে পরিচিত এবং তৎকালীন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ এবং বঙ্গবন্ধুর দুই খুনি কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান এবং লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশীদ জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার এ পরিকল্পনা করেন। এ কাজের জন্য তারা আগে ভাগে একটি ঘাতক দলও গঠন করে।

এ দলের প্রধান ছিলেন রিসালদার মুসলেহ উদ্দিন। তিনি ছিলেন ফারুকের সবচেয়ে আস্থাভাজন অফিসার। ১৫ আগস্ট শেখ মনির বাসভবনে যে ঘাতক দলটি হত্যাযঞ্জ চালায় সেই দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিল মুসলেহ উদ্দিন।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থনী মাসকারেনহাস তার ‘বাংলাদেশ অ্যা লিগ্যাসি অব ব্লাড ”গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরপরেই জেল খানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনাটি এমন ভাবে নেয়া হয়েছিল পাল্টা অভ্যুথান ঘটার সাথে সাথে যাতে আপনা আপনি এটি কার্যকর হয়। আর এ কাজের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি ঘাতক দলও গঠন করা হয় ।
এই ঘাতক দলের প্রতি নির্দেশ ছিল পাল্টা অভ্যুথান ঘটার সাথে সাথে কোন নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তারা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করবে।

পচাঁত্তরের ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ পাল্টা অভ্যুথান ঘটানোর পরেই কেন্দ্রীয় কারাগারে এই জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার পর পরই পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে জাতির জনককে তাঁর ঐতিহাসিক ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। পরে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময় সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের সমধিক পরিচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কোটি কোটি বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বঙ্গবন্ধুর অপর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এএইচএম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

গোলাম মুরশিদ তার ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’ গ্রন্থে লিখেছেন মোশতাক জেল হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন কেবল ফারুক আর রশিদকে নিয়ে। তিনি ঠিক করেছিলেন যে, যে কোন পাল্টা অভ্যুথান হলে কেন্দ্রিয় কারাগারে আটক তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী এবং কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হবে। যাতে নতুন সরকার গঠিত হলেও এই নেতারা তাতে নেতৃত্ব দিতে না পারেন।

অন্যদিকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্য এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতা হত্যার তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল লন্ডনে।

এসব হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন ও বিচারের প্রক্রিয়াকে যে সমস্ত কারণ বাধাগ্রস্ত করেছে সেগুলোর তদন্ত করার জন্য ১৯৮০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই তদন্তকমিশন গঠন করা হয়

Feb2
Feb2

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ড্র: দেখে নিন পিএসজি, রিয়ালসহ ৩৬ দলের কে কার প্রতিপক্ষ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 28 August, 2026, 10:30 am
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ড্র: দেখে নিন পিএসজি, রিয়ালসহ ৩৬ দলের কে কার প্রতিপক্ষ

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে বেশ কঠিন সূচি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ৩৬ দলের লিগ পর্বের ড্রতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা মুখোমুখি হচ্ছে কোচ লুইস এনরিকের সাবেক ক্লাব বার্সেলোনার বিপক্ষে (হোম ম্যাচ)।

পাশাপাশি ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি এবং ইউরোপা লিগ বিজয়ী অ্যাস্টন ভিলার মাঠে গিয়ে খেলতে হবে তাদের। ২০১৭ সালের মার্চে সেই ঐতিহাসিক ৬-১ গোলের হারের পর বার্সেলোনার মাঠে শেষ তিনটি ম্যাচেই জিতেছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা, যার মধ্যে রয়েছে গত অক্টোবরে লিগ পর্বের ২-১ গোলের জয়।

​সেস্ক ফেব্রিগাসের কোচিংয়ে খেলা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন দল কোমোর মাঠেও সফর করবে পিএসজি। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের আটটি ম্যাচের এই অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। গত আসরের ফাইনালিস্ট আর্সেনালও এক কঠিন লিগপর্বের মুখোমুখি হচ্ছে। রেকর্ড ১৫ বারের বিজয়ী রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়াও তাদের খেলতে হবে জার্মান দুই পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখ এবং বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে।

ফ্রান্সের মোনাকোয় বৃহস্পতিবারের ড্রতে পাওয়া অন্যান্য বড় ম্যাচের মধ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দুই বছর পর এই প্রতিযোগিতায় ফিরে বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে, যা ১৯৯৯ সালের তাদের সেই ঐতিহাসিক ফাইনালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে।

চলতি গ্রীষ্মে রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে আসার পর, কোচ হোসে মরিনহো আরও একটি পরিচিত প্রতিপক্ষ ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হবেন, যে ক্লাবটিকে তিনি ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছিলেন এবং তারপর বার্নাব্যুতে যোগ দিয়েছিলেন।

রিয়াল মাদ্রিদ লন্ডনে দুটি সফর করবে, আর্সেনাল এবং শাখতার দোনেৎস্কের বিপক্ষে। ইউক্রেনের চ্যাম্পিয়নরা তাদের হোম ম্যাচগুলো খেলবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে।

​অন্যদিকে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা আতিথ্য দেবে দুই ইংলিশ ক্লাব ম্যানসিটি এবং অ্যাস্টন ভিলাকে। বার্সার থাকবে তাদের প্রাক্তন খেলোয়াড় ফেব্রিগাসের দল কোমো। এ ছাড়া বাকুতে এসে অভিষেক হওয়া দল সাবাহর মুখোমুখি হতে আজারবাইজানে এক দীর্ঘ সফর করতে হবে তাদের।

​লিভারপুলের আটটি ম্যাচের সূচি তুলনামূলকভাবে কিছুটা সহজ মনে হচ্ছে। তারা ইন্টার মিলান এবং ফেনারবাচের মাঠে গিয়ে খেলবে। অন্যদিকে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ আবারও অ্যানফিল্ডে আসবে। যেখানে গত সেপ্টেম্বরে লিভারপুল ৩-২ গোলে জয় পেয়েছিল।

​অ্যাতলেটিকো দুটি নরওয়েজিয়ান দলের বিপক্ষেও খেলবে এবং বোডো/গ্লিমটের কৃত্রিম ঘাসের মাঠে খেলতে আর্কটিক সার্কেলের ভেতরে সফর করা চার দলের একটি হতে যাচ্ছে তারা। ডর্টমুন্ড, লিল এবং নবাগত এলএএসকে-কেও এই দুর্গম এলাকায় সফর করতে হবে। এর মধ্যে একটি দলকে জানুয়ারির হাড় কাঁপানো শীতে খেলতে যেতে হবে।

​এবারের ড্রতে চারটি নতুন দল অভিষেক করছে-ইতালির কোমো, অস্ট্রিয়ার এলএএসকে, নরওয়ের ভাইকিং এবং আজারবাইজানের চ্যাম্পিয়ন সাবাহ।

অন্যদিকে ​কোমোর স্পেন সফর দুটি, বার্সেলোনার পাশাপাশি রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে। আর তাদের মনোরম হ্রদের পাশের স্টেডিয়ামে তারা পিএসজি এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে স্বাগত জানাবে।

​সাবাহ আতিথ্য দেবে ডর্টমুন্ড, নাপোলি এবং স্লাভিয়া প্রাগকে। আজারবাইজান থেকে তাদের সমর্থকদের ইংল্যান্ডের মাটিতে আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হতে দুটি দীর্ঘ যাত্রা করতে হবে।

​উয়েফার ড্র সফটওয়্যার প্রতিটি দলের জন্য ৮টি প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করেছে (৪টি হোম ও ৪টি অ্যাওয়ে ম্যাচ)- যেখানে ৪টি আলাদা সিডিং পট থেকে ২টি করে প্রতিপক্ষ নির্বাচন করা হয়েছে। বিগত পাঁচ বছরের ইউরোপীয় ফলাফলের ভিত্তিতে র‍্যাংকিং অনুযায়ী সিডিং নির্ধারিত হয়। একই দেশের দুটি দলকে একে অপরের মুখোমুখি হওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।

​প্রথম পর্বের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে ৮-১০ সেপ্টেম্বর, আর ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে প্রথম ছয়টি পর্ব। জানুয়ারিতে লিগ পর্ব পুনরায় শুরু হবে এবং ২৭ জানুয়ারি শেষ বা অষ্টম পর্বের খেলা হবে। প্রতিটি দলের ম্যাচের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি শনিবার প্রকাশ করা হবে।

​চূড়ান্ত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ ৮টি দল সরাসরি মার্চ মাসের রাউন্ড অব ১৬-এ পৌঁছে যাবে। ৯ থেকে ২৪তম স্থানে থাকা দলগুলো ফেব্রুয়ারিতে প্লে-অফ নকআউটে খেলবে, যা রাউন্ড অব ১৬-এর বাকি ৮টি দল নির্ধারণ করবে। আর ২৫ থেকে ৩৬তম স্থানে থাকা দলগুলো বাদ পড়বে।

​প্রতিযোগিতার ৩৬টি দল প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ইউরো (২.৯ বিলিয়ন ডলার) প্রাইজমানি ভাগ করে নেবে।

পট-১ এর দলগুলোর প্রতিপক্ষ

বায়ার্ন মিউনিখ

প্রতিপক্ষ: আর্সেনাল (হোম), অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ (অ্যাওয়ে), রিয়াল বেতিস (হোম), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (অ্যাওয়ে), বোডো/গ্লিমট (হোম), লিল (অ্যাওয়ে), স্লাভিয়া প্রাগ (হোম), ভাইকিং (অ্যাওয়ে)।

আর্সেনাল

প্রতিপক্ষ: রিয়াল মাদ্রিদ (হোম), বায়ার্ন মিউনিখ (অ্যাওয়ে), বরুসিয়া ডর্টমুন্ড (হোম), রিয়াল বেতিস (অ্যাওয়ে), লিল (হোম), নাপোলি (অ্যাওয়ে), সাবাহ (হোম), স্লাভিয়া প্রাগ (অ্যাওয়ে)।

লিভারপুল

প্রতিপক্ষ: অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ (হোম), ইন্টার (অ্যাওয়ে), পোর্তো (হোম), ক্লাব ব্রুগ (অ্যাওয়ে), ভিয়ারিয়াল (হোম), ফেনারবাচে (অ্যাওয়ে), লেন্স (হোম), এলএএসকে (অ্যাওয়ে)।

পিএসজি

প্রতিপক্ষ: বার্সেলোনা (হোম), ম্যানচেস্টার সিটি (অ্যাওয়ে), রোমা (হোম), অ্যাস্টন ভিলা (অ্যাওয়ে), গ্যালাতাসারে (হোম), ভিয়ারিয়াল (অ্যাওয়ে), স্লোভান ব্রাতিস্লাভা (হোম), কোমো (অ্যাওয়ে)।

অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ

প্রতিপক্ষ: বায়ার্ন মিউনিখ (হোম), লিভারপুল (অ্যাওয়ে), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (হোম), পিএসভি (অ্যাওয়ে), ফেনারবাচে (হোম), বোডো/গ্লিমট (অ্যাওয়ে), ভাইকিং (হোম), স্টুটগার্ট (অ্যাওয়ে)।

বার্সেলোনা

​প্রতিপক্ষ: ম্যানচেস্টার সিটি (হোম), পিএসজি (অ্যাওয়ে), অ্যাস্টন ভিলা (হোম), স্পোর্টিং (অ্যাওয়ে), ফিয়েনুর্ড (হোম), গ্যালাতাসারে (অ্যাওয়ে), কোমো (হোম), সাবাহ (অ্যাওয়ে)।

ইন্টার মিলান

প্রতিপক্ষ: লিভারপুল (হোম), রিয়াল মাদ্রিদ (অ্যাওয়ে), ক্লাব ব্রুগ (হোম), বরুসিয়া ডর্টমুন্ড (অ্যাওয়ে), শাখতার (হোম), ফিয়েনুর্ড (অ্যাওয়ে), স্টুটগার্ট (হোম), স্লোভান ব্রাতিস্লাভা (অ্যাওয়ে)।

ম্যানচেস্টার সিটি

প্রতিপক্ষ: পিএসজি (হোম), বার্সেলোনা (অ্যাওয়ে), স্পোর্টিং সিপি (হোম), পোর্তো (অ্যাওয়ে), নাপোলি (হোম), আরবি লাইপজিগ (অ্যাওয়ে), এইকে এথেন্স (হোম), লেন্স (অ্যাওয়ে)।

রিয়াল মাদ্রিদ

প্রতিপক্ষ: ইন্টার (হোম), আর্সেনাল (অ্যাওয়ে), পিএসভি (হোম), রোমা (অ্যাওয়ে), লাইপজিগ (হোম), শাখতার (অ্যাওয়ে), এলএএসকে (হোম), এইকে এথেন্স (অ্যাওয়ে)।

সপরিবারে আত্মগোপনে থাকা চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস আটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 28 August, 2026, 9:29 am
সপরিবারে আত্মগোপনে থাকা চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস আটক

চাঁদপুরের আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে আটক করেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি ও ২ ছেলে তার সঙ্গে ছিলেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই কালামের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে।

জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কালাম জানান, দুই দিন অভিযানের পর অবশেষে সফল। মূলত ঋণের চাপেই তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে যান। আটকের পর তাকে চাঁদপুরে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্যের জন্য পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কাদা থেকে একের পর এক বেরিয়ে আসছে লাশ, মৃত্যু ছাড়াল ৪০০

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 28 August, 2026, 8:30 am
কাদা থেকে একের পর এক বেরিয়ে আসছে লাশ, মৃত্যু ছাড়াল ৪০০

হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৩৯০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এক হাজার ৪০০ জনের বেশি। আকস্মিক বন্যায় নদীর পানির সঙ্গে কাদা ও পাথরের স্রোত নেমে এসে স্থানীয় শহর, জনপদ ও উপত্যকাগুলো লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উদ্ধারকারীরা কাদার মধ্যে নেমে নিখোঁজদের সন্ধান চালান। নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটিতে অন্তত ৩৮৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। প্রতিবেশী চীনের তিব্বত অঞ্চলে নিহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্যোগের একদিন পর বৃহস্পতিবার বিকালে তিব্বতের ভূমিধসকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং। সেখানে তিনি জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

নেপালের পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটিতে নিখোঁজ ৯১০ জনের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক। দুই ডজনের বেশি দেশের পর্যটক ও নাগরিক নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন রয়েছেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ১০০ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন।

অন্যদিকে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।

দুর্যোগকবলিত এলাকায় পৌঁছানোই উদ্ধারকারীদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মিনেল ফার্নান্দেজ জানান, সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছে জীবিতদের উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছে। এসব হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকা থেকে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে পাঁজর ভেঙে যাওয়া এবং ত্বকে দগ্ধ হওয়ার মতো গুরুতর আঘাত রয়েছে।

নেপালে উদ্ধারকারীরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে জীবিতদের সন্ধান এবং জরুরি সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে পড়া হাজারো মানুষকে উদ্ধারে এই অভিযান চলছে। এলাকাটি তিব্বতের লাসা থেকে কাঠমান্ডু যাতায়াতকারী পর্যটক, ট্রেকার ও তীর্থযাত্রীদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়।

বুধবারের ভিডিও ফুটেজে দ্রুতগতির পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে গিরং সীমান্তবর্তী এলাকায় কয়েক ডজন মানুষ ভেসে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। সংবাদ সংস্থাগুলো ফুটেজটি যাচাই করেছে। নেপালের দিকে নদীর নিম্নপ্রবাহে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।

নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার স্থানে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি বাড়ছে এবং যেকোনো সময় সেটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, প্রতিবেশী ভারত সরবরাহ করা তাঁবু, খাবার ও ওষুধ হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে পাঁচ হাজারের বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন।

বন্যার কারণে ভারতের নেপাল সীমান্তবর্তী বিহার, উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড রাজ্য থেকেও হাজারো মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কারণ বন্যার পানি গান্ডাক নদীর অববাহিকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি নুয়াকোটের বিদুরের পরিস্থিতি দেখতে সড়কপথে রওনা হয়েছেন বলে তার কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে।

যেভাবে শুরু হলো বিপর্যয়

প্রাথমিকভাবে নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্পের কারণে হিমবাহের নিচের অংশ ধসে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, শুরুতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে যে কম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল, সেটি আসলে হিমবাহের পাথর ও বরফ আকস্মিকভাবে ধসে পড়ার ফলে সৃষ্ট ভূকম্পনজনিত শক্তি। এর পরপরই ব্যাপক ধ্বংসাবশেষের তীব্র স্রোত বানের মতো নেমে আসে।

প্ল্যানেট ল্যাবসের প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, বরফ ও পাথরের একটি ভূমিধসের কারণে লেন্দে নদীতে ধ্বংসাবশেষসহ প্রবল স্রোত তৈরি হয়। ঘটনাস্থলটি নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়াগাড়ি সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।

দুর্যোগকবলিত উপত্যকাগুলোতে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও যানবাহন ঘন কাদায় ঢেকে গেছে। আকাশ থেকে ধারণ করা ছবিতে ধসে পড়া বাড়ি, পানিতে ডুবে থাকা গাড়ি এবং প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া একটি ধাতব সেতু দেখা গেছে।

রাসুওয়ার স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বিকি বলেন, যেদিকেই তাকাই, ধ্বংসযজ্ঞ।

নদীর পাশের বসতিগুলো পুরোপুরি ভেসে গেছে। আমার নিজের পাঁচজন আত্মীয় নিখোঁজ।

দুর্যোগের সময় তিব্বতের কৈলাস পর্বত ও মানসসরোবর হ্রদে তীর্থযাত্রায় থাকা লোকজনও বিপদের মধ্যে পড়েছেন। হিন্দু, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছে উচ্চভূমির এসব স্থান পবিত্র হিসেবে বিবেচিত।

আন্তর্জাতিক সহায়তা

ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, তারা একজন দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ক পরামর্শককে নেপালে পাঠাচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি সহায়তা হিসেবে ৫ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বন্যাকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কানাডার কর্মকর্তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দফতরের প্রধান টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, নেপালের ত্রাণ কার্যক্রমে জাতিসংঘের বৈশ্বিক জরুরি তহবিল সিইআরএফ থেকে ২০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এর আগে জানিয়েছিলেন, নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও সহায়তাকর্মী পাঠানো হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, দুর্গম এলাকায় স্থানীয় অবকাঠামো ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জলবায়ু ঝুঁকি বাড়ছে

এই ভয়াবহ বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপালের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে বলে মনে করেন জলবায়ু ও জননীতি বিশেষজ্ঞ সুনীল আচার্য।

কাঠমান্ডু থেকে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি অনির্দেশ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; জলবায়ু সংকটের সম্মুখসারিতে বসবাসের বাস্তবতা এই বিপর্যয়ের মাধ্যমে নির্মমভাবে ফুটে উঠেছে।

তার মতে, এমন দুর্যোগ ঠেকাতে নেপাল একা সীমিত পরিসরে কাজ করতে পারে। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় দেশটির পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।